১৪ এপ্রিল, ২০১১

বাতিঘর এক সবুজ : মেঘ



সবুজ আলোর ফুটকি।
অপার্থিব সেই আলোই ছিল মাধ্যম।
পরস্পরকে চিনেছি আমরা এভাবেই। ধীরে ধীরে ভাবতে শিখেছি, এই আলোকবিন্দুর মধ্য দিয়েই একে অপরের সুখ-দুঃখকে ভাগাভাগি করে নিচ্ছি। দু'জনের কাছে দু'টো আলোকবিন্দু, যাকে আমরা ডাকতাম সবুজ ফুটকি। আমাদের একটা নদীও ছিল। নদীর কাছাকাছি থাকতে ভীষণ ভালো লাগত আমার, মন খারাপ করা সন্ধ্যেগুলো সেই নদীটার কাছেই কাটিয়ে দিয়েছি। কে না জানে মন ভালো করে দিতে নদীর মত বড় বন্ধু আর কে আছে! নদীর কাছে গেলেও সবুজ ফুটকিগুলো কিন্তু আমাদের পাশে পাশেই চলত। তবুও হঠাৎ একদিন একটা সবুজ ফুটকি নিভে গেলো। ওর কি হয়েছে জানা গেল না। আর তারপর থেকে তুমিও নিরুদ্দেশ। কোথাও তোমাকে আর পাই না। পাই না সেই সবুজ বিন্দুটিও। ওকে আর তোমাকে কোথায় কোথায় না খুঁজেছি আমি। খানাখন্দে পড়তে পড়তেও রাস্তাটা ধরে সোজা একা হেঁটে গেছি। কোথাও যখন পেলাম না তোমাদের কাউকে তখনই আমি একটা ছায়া খুঁজেছি।

পেলাম ঠিক কিন্তু সেখানে আবার হরেক রকমের ছায়া পাওয়া যায়। কালো ছায়া, ধুলো ছায়া, বেটে-লম্বা, লাল-নীল, সাদা-কালো, আনন্দ-বিষাদ সব ধরনের ছায়া সেখানে। প্রথমে বুঝে উঠতেই পারিনি কোনটা নেব। পরে ভেবে দেখলাম প্রত্যেককেই আমি দেখতে চাই। যদি দেখি ওদের কারো মধ্যে সবুজের বদলে সামান্য হলুদ আভাও আছে তাহলেই সেই ছায়াকে সঙ্গী করে নেব। নাহ্, কোন ছায়াই আমার পছন্দ হলো না। কারও মধ্যেই সবুজ বা হলুদ রঙা আলোর ফুটকি পেলাম না। আবার আমি ছায়া সন্ধানে বেরোলাম। এপথ-ওপথ ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে যখন বুঝে গেলাম কোনো ছায়াই তোমার পরিপূরক নয়, ঠিক তখনই আমি ফিরে এলাম নিজের কাছে।

হ্যাঁ, বলছিলাম আমার সেই সবুজ আলোর ফুটকির কথা, আমি সযত্নে রেখেছি রাধাকৃষ্ণের মূর্তিটার পাশে। রোজ জল দিই, রোজ রোদ খাওয়াই । তারপর সন্ধ্যেবেলা আবার ঘরে তুলে রাখি। এই আলোকবিন্দুটি যাকে আমি সবুজ ফুটকি বলছি সে একসময় সত্যিই নাজুক ছিল ভারি। ওকে যত্ন না করলে কবেই মরে যেত। আমি জানতাম এই বিন্দুটিকে সাথে সাথে রাখতে হবে। জানি, ওকে সাথে করে আমি পৌঁছে যেতে পারি আমাদের ছায়াপথে। আমি জেনে গেছি এইসব বিন্দুগুলোকে আগলে রাখতে জানলে কেউ যেমন হারে না তেমন হারায়ও না। নিজের অবস্থানটি চিনে নিয়ে সে নিজের মত করে বেঁচে থাকতে শিখে যায়!

আমি জানি তুমি কেমন আছ! তুমি এখন চেনা গন্ডির সীমানা ছুঁয়ে, আটপৌরে হয়ে, চাঁদ দেখে দেখে বাঁচো। এও জানি সূর্যপীড়িত তুমি সবার দৃষ্টি আড়াল করে রুমালে মুছে নাও মুখ। তোমার মুখে ঘামের বদলে লেগে থাকা তোমার যাবতীয় আবেগ ও মুখে লেগে থাকা ঝুরোকুচি প্রেম তুমি মুছে ফেলতে চাও । আবার সেইসব পূর্ণিমা রাত এলেই তুমি অসহায় হয়ে মাটি খামচে পড়ে থাকো। স্মৃতি নামক যে অংশটি তোমার মাঝে বসবাস করে সে এসে আঁচড়ে দেয়, কামড়ে দেয়, ক্ষতবিক্ষত করে তোমাকে।

আমার দিকে তাকাও।
দেখ,
কীরকম সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আমি!
আমাকে কোনো আড়াল খুঁজতে হয় না।
ধূসর হয়ে, অদৃশ্য হয়ে লুকিয়ে পড়তে হয় না!
আমার গড়ে তোলা পৃথিবীতে বেশ আছি। আমি আমার মত করে আছি, জানি তুমিও ফিরবে একদিন সেই সবুজ ফুটকি হাতে আমার সত্যের কাছে, সুন্দরের কাছে।

তোমাকে ফিরতেই হবে হে সবুজ আলোর ফুটকি!

 মেঘ
পেশা- গ্রাফিক ডিজাইনার
নেশা- ব্লগিং, বই পড়া, ভ্রমণ










[ ১ম পাতায় ফেরত ] ..

৭টি মন্তব্য:

সৈয়দ আফসার বলেছেন...

আপা,
নববর্ষের শুভেচ্ছা।

indira mukerjee (ইন্দিরা মুখার্জি) বলেছেন...

আরো এমন লিখে চল মেঘ!

শঙ্খশুভ্র Shankha Shubhra বলেছেন...

খুব সুন্দর।
আরো লিখুন।

alok বলেছেন...

সুন্দর হোয়েছে । একেবারে প্রণ খোলা লেখা এবং গতিময় ।

nm বলেছেন...

ধন্যবাদ সবাইকে।

Mahasweta বলেছেন...

জিটকের সবুজ ফুটকিটাকে মনে করিয়ে দিলেঃ)

nm বলেছেন...

মহশ্বেতা হা হা ভালো বলেছ তো...