১৬ নভেম্বর, ২০১০

অণুগল্প -- "লিভ টুগেদার"


অণুগল্প -- "লিভ টুগেদার"  ই-ম্যাগাজিন "কর্ণিকা" য় প্রকাশিত 


নীল আর লেখার ছোট্ট ঘরবাঁধার স্বপ্ন।

নীলের নাকে বাবলাফুলের ঘ্রাণ, লেখার আত্মসমর্পণ;
নীলের ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি চাওয়া, লেখার এলোচুল;
নীলের চোখে ক্রেসেন্টমুন, লেখা সেই জ্যোত্‌স্নায় ভিজে সারা ;
নীলের ঠোঁটে সিক্ত উষ্ণতা আর লেখার অবগাহন।

এভাবেই চলছিল...

একদিন নীল বলল "আর কেন ? চল্‌ এবার সেরে নি বিয়েটা"
লেখা বলল "এই তো বেশ ভালো তুই-আমি"

নীলের বুকে মাথা গুঁজে লেখা বলল, "চল্‌ একটা নতুন জায়গায়, চিত্রকূট পাহাড়ের গায়ে শ্বেতসাগরের মধ্যে অভ্রকূট দ্বীপে...অনেক মানুষের ভীড়ে"
নীল বলল, "বিয়েই যদি না হয় কি হবে গিয়ে? এই বেশ থাক তোর-আমার প্রতিদিনের সহমরণ, প্রতিমূহুর্তের সমব্যথা"
লেখা বলল, "তবে তাই হোক! তুই বলবি, আমি শুনব ;
তুই দিবি আমি নোব।
তুই চাইবি, আমি দোব ;
তুই আছিস তাই বেঁচে থাকব তোর লেখা হোয়ে।
বেঁচে থাকবে তোর-আমার "লিভ-টুগেদার"

একদিন নীলের চোখে ভেসে উঠল একটা অন্যমুখ...
তার নাম স্বপ্না | অলস শীতের দুপুরে, ক্লান্ত চড়ুইয়ের পায়ে পায়ে, বসন্ত কোকিলের গানে গানে, নীল স্বপ্নাকে নিয়ে ভাবতে শুরু করল ; সাথে র‌ইল কাঠবেড়ালির খুনসুটি, হঠাত্‌ ভর দুপুরে শিলাবৃষ্টি, আরো কত কি !

এদিকে লেখার দিন কাটেনা, রাত কাটেনা ...

সে একা একা বাঁশঝাড়ের পাশে দাঁড়িয়ে স্টীম ইঞ্জিনের ধোঁয়া দেখে ; পাক খেয়ে খেয়ে ধোঁয়া কেমন আকাশে উঠে যায় দূর দিগন্তে গিয়ে মেশে আর সেখানে মেঘেরা ঢাকনা খুলে দেয় ...নীল আকাশে গিয়ে মেশে তার চোখ। ভেসে চলে একা একা নীলের দেশে... রাতের নীল নক্ষত্র গুনতে থাকে সে।

হঠাত্‌ একদিন বনে জ্বলে উঠল দাবানল স্বপ্নার ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হোল, স্বপ্নাও শেষ ।

নীল খুব ভেঙে পড়ল, আবার লেখার কথা মনে পড়তেই লেখাকে নিয়ে ভাবতে শুরু করল । লেখা "লেখা" হল তখন...

বর্ষার থৈথৈ, অন্তহীন রাতের আকাশ, অগুন্তি তারা, লাফিয়ে ওঠা ভাদ্রের নদী, আকাশ কালো করা ট্রেনের ধোঁয়া আরো কত কি তাকে পেয়ে বসল । সবকিছুর মাঝে ভেসে চলল একটা মুখ নীল, নীল আর শুধু নীল। নীল দিল সব কিছু উজাড় করে লেখাকে ; আর লেখাও নিল সব কিছু প্রান ভরে, "আজ যা কিছু আমার দিতে পারি সব‌ই ..."
সাদা পাতায় সঞ্চারিত হোল নীল-লেখার ভ্রূণ ।
বেঁচে র‌ইল তাদের "লিভ টুগেদার"


নীল আর লেখার ছোট্ট ঘরবাঁধার স্বপ্ন।

নীলের নাকে বাবলাফুলের ঘ্রাণ, লেখার আত্মসমর্পণ;
নীলের ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি চাওয়া, লেখার এলোচুল;
নীলের চোখে ক্রেসেন্টমুন, লেখা সেই জ্যোত্‌স্নায় ভিজে সারা ;
নীলের ঠোঁটে সিক্ত উষ্ণতা আর লেখার অবগাহন।

এভাবেই চলছিল...

একদিন নীল বলল "আর কেন ? চল্‌ এবার সেরে নি বিয়েটা"
লেখা বলল "এই তো বেশ ভালো তুই-আমি"

নীলের বুকে মাথা গুঁজে লেখা বলল, "চল্‌ একটা নতুন জায়গায়, চিত্রকূট পাহাড়ের গায়ে শ্বেতসাগরের মধ্যে অভ্রকূট দ্বীপে...অনেক মানুষের ভীড়ে"
নীল বলল, "বিয়েই যদি না হয় কি হবে গিয়ে? এই বেশ থাক তোর-আমার প্রতিদিনের সহমরণ, প্রতিমূহুর্তের সমব্যথা"
লেখা বলল, "তবে তাই হোক! তুই বলবি, আমি শুনব ;
তুই দিবি আমি নোব।
তুই চাইবি, আমি দোব ;
তুই আছিস তাই বেঁচে থাকব তোর লেখা হোয়ে।
বেঁচে থাকবে তোর-আমার "লিভ-টুগেদার"

একদিন নীলের চোখে ভেসে উঠল একটা অন্যমুখ...
তার নাম স্বপ্না | অলস শীতের দুপুরে, ক্লান্ত চড়ুইয়ের পায়ে পায়ে, বসন্ত কোকিলের গানে গানে, নীল স্বপ্নাকে নিয়ে ভাবতে শুরু করল ; সাথে র‌ইল কাঠবেড়ালির খুনসুটি, হঠাত্‌ ভর দুপুরে শিলাবৃষ্টি, আরো কত কি !

এদিকে লেখার দিন কাটেনা, রাত কাটেনা ...

সে একা একা বাঁশঝাড়ের পাশে দাঁড়িয়ে স্টীম ইঞ্জিনের ধোঁয়া দেখে ; পাক খেয়ে খেয়ে ধোঁয়া কেমন আকাশে উঠে যায় দূর দিগন্তে গিয়ে মেশে আর সেখানে মেঘেরা ঢাকনা খুলে দেয় ...নীল আকাশে গিয়ে মেশে তার চোখ। ভেসে চলে একা একা নীলের দেশে... রাতের নীল নক্ষত্র গুনতে থাকে সে।

হঠাত্‌ একদিন বনে জ্বলে উঠল দাবানল স্বপ্নার ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হোল, স্বপ্নাও শেষ ।

নীল খুব ভেঙে পড়ল, আবার লেখার কথা মনে পড়তেই লেখাকে নিয়ে ভাবতে শুরু করল । লেখা "লেখা" হল তখন...

বর্ষার থৈথৈ, অন্তহীন রাতের আকাশ, অগুন্তি তারা, লাফিয়ে ওঠা ভাদ্রের নদী, আকাশ কালো করা ট্রেনের ধোঁয়া আরো কত কি তাকে পেয়ে বসল । সবকিছুর মাঝে ভেসে চলল একটা মুখ নীল, নীল আর শুধু নীল। নীল দিল সব কিছু উজাড় করে লেখাকে ; আর লেখাও নিল সব কিছু প্রান ভরে, "আজ যা কিছু আমার দিতে পারি সব‌ই ..."
সাদা পাতায় সঞ্চারিত হোল নীল-লেখার ভ্রূণ ।
বেঁচে র‌ইল তাদের "লিভ টুগেদার"


১২ নভেম্বর, ২০১০

শান্ত-স্নিগ্ধ শঙ্করপুরের সমুদ্রতটে











The Sandy Bay Hotel : Excellent place to stay when you are here



একটা বিকেল নেবে তুমি?
যার নোনা জলের সাদাফেনায় ছুটে আসা জলের ফোঁটার রঙ সাদা
যার সাদা উড়নি নোনতা স্বাদের ঢেউয়ের পরে ঢেউয়ের
আনাগোনায় আছড়ে পড়া বালির চরে আসর বসায়
মুঠো মুঠো ঝিনুক তারা মাছ, শঙ্কর মাছেরা,
দলবেঁধে আসা বকের সারি উড়ে যায় ক্যাসুরিনার ফাঁক দিয়ে,
খেয়ে যায় বাঁশপাতা মাছ সমুদ্রের তট থেকে,
ঢেউ এসে নিয়ে যায় বিকেলের সূর্যাস্তের রং ।
সব মনখারাপের দুপুরগুলো আছড়ে পড়ে সেই ঢেউতে ।
ক্লান্ত সূর্য তখন আপন মনে রঙ ছড়িয়ে চলে পশ্চিম আকাশের গায়ে,
রং ছড়াতে ছড়াতে অবসর নেয় ঠিক আমার মত
যখন আমার ইচ্ছেডানায় ভর করে সাগর-স্বপ্নেরা...



৯ নভেম্বর, ২০১০

"মেঘ-মেল"

আটলান্টার পুজো ম্যাগাজিন "অঞ্জলি"২০১০ এ প্রকাশিত রম্য রচনা

মেঘ-মেল
গল্পের নায়ক যীশু একজন বিরহী যক্ষ । সে সফট্‌ওয়ার কনসালটেন্ট। বছরের মধ্যে তিনভাগ থাকে দেশের বাইরে আর একভাগ থাকে তার হোমটাউন আলিপুরের অলকাপুরীতে। সবেমাত্র বিয়ে করেছে অনন্যাকে। বিয়ের পর প্রথম বর্ষা অনন্যাকে ছাড়া যীশু ভাবতে পারছে না, তাই মেঘের উদ্দেশ্যে তার এই মেল লেখা।
পূর্বমেঘ
"মেঘ", এবারের বরষা আমার জীবনে অভিশাপ । আমি জানিনা তোমার এবারের গতিপথ, জানিনা তোমার ট্রাভেল-আইটিনারি। কোলকাতায় "মেঘমৌসুমী" তুমি হাজির হওয়া মাত্রই আমায় সঙ্কেত দিও। আলিপুরের অলকাপুরীতে আমার প্রিয়া অনন্যা অপেক্ষমানা। সে আমার শোকে কাতর কিনা জানিনা তবে আমি তার বিরহে বড় কষ্টে আছি। তাকে বোলো গিয়ে একটিবার, যে সকল প্রোষিতভর্তৃকারাই এরূপে আছে, তাদের সকলের স্বামীও শীঘ্র ফিরবে । সে যেন মন খারাপ না করে।"মেঘ", উদাসী দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমিবায়ুর আনুকুল্যে ভেসে চলেছ তুমি ; পথে শুনবে দলে দলে চাতকের সুখ শ্রাব্য বর্ষা মঙ্গল, নববর্ষার আগমনী বার্তা তুমি ঘোষণা করবে তোমার গুরু গুরু গর্জন দিয়ে। উত্সুক রাজহংসেরা নবকিশলয়ের মত গ্র্রীবা উঁচিয়ে তোমাকে অভিবাদন করবে। শোন মেঘ, আমার প্রিয়াকে অভিবাদন কোরো তোমার শিলাবৃষ্টি দিয়ে, মুছিয়ে দিও তার উষ্ণ অশ্রুবিন্দু আর তাকে শুনিও আমাদের দুজনার সম্ভাব্য মিলনগান, রবিঠাকুরের গানই শুনিও পারলে, "এমন দিনে তারে বলা যায়" অথবা "আজি ঝরঝর মুখর বাদরদিনে" । শ্রান্ত হলে পাহাড়ের ঢালে পা ফেলে জিরিয়ে নিও, পিছলে পড়ে অন্যকোথাও চলে যেও না, তাহলেই কোলকাতায় পৌঁছান হবেনা তোমার । নদীর জল পান কোরোনা যেন জন্ডিস হতে পারে । মিনারাল ওয়াটার সাথে রেখ।গরমে বাইরের খাবারই তোমার খেতে হবে । হলদিয়া বন্দর হয়ে, ডায়মন্ডহারবারের দিক দিয়ে, রায়চকের রেসর্টে দুদন্ড জিরিয়ে নিও; তারপর দক্ষিণ কোলকাতার সাউথসিটিমলের মাথায় ধাক্কা না খেয়ে ভেতরে গিয়ে ফুডকোর্টে একটা ধোসা আর একটু হিমশীতল টকদৈ খেও | যদি পেটে জায়গা থাকে তবে আইসক্রিম খেতে পারো । যা খাবে সব কিছুই যাতে তোমায় ঠান্ডা রাখে দেখো। আমপান্না, লস্যি এজাতীয় পানীয়ই তোমার পক্ষে আদর্শ এখন । হাজরা পার্কে ফুচকা খেও খুব সুস্বাদু ! তবে দেখো যেন মিনারাল ওয়াটারে বানায় । দূষণ এখন কোলকাতার ভূষণ তাই চমকে উঠনা । নিজেকে বাঁচিয়ে রেখ একটু, শুকিয়ে যেও না যেন । উর্বর কোরো কৃষিভূমি আর কোলকাতায় মাত্রাতিরিক্ত জলবর্ষণ করোনা যেন, তাহলে অনন্যার মত সকল প্রোষিতভর্তৃকাদের জলমগ্ন হয়ে কালাতিবাহিত করতে হবে ।
উত্তরমেঘ
আলিপুরের প্রাসাদোপম অলকাপুরী এপার্টমেন্টের টপফ্লোরে আমার ফ্ল্যাট । দেখো গিয়ে অনন্যা বোধ হয় বাড়ি থাকেনা সব সময় । তবে কোনো একটা শপিংমলে তাকে তুমি পেয়ে যাবে নিশ্চয়‌ই । শোনো মেঘ, তুমি উড়ে গিয়ে দেখ একটিবার কোথায় আমার অনন্যা? কার কন্ঠলগ্না হয়ে কোন ক্লাবে বসে আছে নাকি বক্ষলগ্না হয়ে ডিস্কোথেকে, তন্ত্রে মন্ত্রে মেতে আছে ! আমার সাথে তার যোগাযোগ বিছিন্ন, মেলের উত্তর দিচ্ছেনা নেট খারাপ বোধ হয়, ট্যুইয়াটেরো বহুদিন ট্যুইট নেই, অর্কুটের আইডি ডিলিট করেছে, জি-টকেও আসে না আজকাল। সেল ফোনটা সব সময় ব্যস্ত তার |
কি জানি অনন্যা এখন বসে আছে যোগাসনে না জিমনেসিয়ামে ! নাকি কোনো বিউটিস্যালনে অথবা মায়া নাকি ছায়া সুশীতল কোনো ক্লিনিকে কুড়চি-কদম্ব-কেতকী প্রলম্বিত স্পা এর অবগাহনে অলকাপুরীর বেডরুমে তো সর্বদা শীর্ষাসনে থাকত সে, মেদশূন্যতার আশায় । যাবার সময় তার জন্য কিছু টাটকা কচি শশা অথবা অমৃততুম্বী এবং মেদনিবারক পাকা পেঁপে নিয়ে যেও অনন্যা আমার আর কিছুই খায়না সাথে সুশীতল বরফকুচি দিও তাকে, তার প্রসাধনে কাজে লাগবে তোমাকে এককপি ছবি এটাচ করে দিলাম এই মেলের সাথে যাতে আমার অনন্যাকে তুমি চিনতে পারো সহজেই । তার রূপের কথাতো তোমাকে বলিনি এখনো। একলহমায় দেখো মনে হবে অপরূপা, অসমান্যা, অতুলনীয়া ! সে চলনে বিপাশা বসু, বলনে বরখা দত্‌, ভূষণে সেনকো গোল্ড, বসনে মোনাপালি । চোখদুটোয় ল্যাকমে-কোহলের চিরায়ত ইশারা, তিলফুলের মত নাসারন্ধ্রে সানিয়ার ছোঁয়া, কর্ণপটহের উপর থেকে নীচ অবধি পাঁচটি ছিদ্রে পঞ্চরত্ন খচিত, ওষ্ঠাধারে ম্যাটফিনিশ!কেশরাজি ? কালো নয় বারগ্যান্ডি বর্ণের... এই ঠিক তোমার গায়ে পড়ন্ত সূর্যের আভা লাগলে যেমনটি হয় তেমনি।
ময়শ্চারাইসড নিটোল বাহুপেশী আর মণিবন্ধে ট্যাটু আঁকা তার, তুমি দেখলেই চিনতে পারবে। সুন্দর করে ম্যানিকিওর্ড হাতের অনামিকায় নক্ষত্রের মত জ্বলজ্বলে হীরকের দ্যুতি আর সাথে এক্সপ্রেস মিউজিক, সুন্দর পেডিকিয়োর্ড পদযুগলের পাঁচজোড়া নখ, দুষ্প্রাপ্য নখরঞ্জনীর বিচিত্রতায় তোমার দিকে প্রকট ভাবে তাকিয়ে আছে । দেখা মাত্রই তুমি বলবে "দেহি পদপল্লবমুদারম্‌" । ভাইটাল স্টাটিস্টিকস্‌ ৩৬-২৪-৩৬ ! মিস কোলকাতা হতে পারতো !
মেঘ , তুমি দেখ, আমার বিদ্যুতলতার মত অনন্যা যেন আমাকে শুধু ভুলে না যায়। আমি কেবলই তার চকিত হরিণীর মত নয়নের স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছি। তোমার ধারাবর্ষণে তাকে সিক্ত করে তুমি ফিরে এস আমার কাছে ।
ভলো থেকো মেঘ। আবার দেখা হবে আমাদের !
ইতি
আমার বাউল মন 

৭ নভেম্বর, ২০১০

"লালমাটির পথে পাঁচ সতীপিঠ "

দৈনিক স্টেটসম্যান ৭ই নভেম্বর ২০১০, রবিবারের ক্রোড়পত্র বিচিত্রায়  ভ্রমণ কাহিনী
"লালমাটির পথে পাঁচ সতীপিঠ "  


১৯১৪ সালে পূজোর ছুটির পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গয়া থেকে বেলা যাবার পথে রেলওয়ে ওয়েটিংরুমে বসে লিখলেন পথের গান
"পান্থ তুমি পান্থজনের সখা হে,
পথে চলাই সেই তো তোমায় পাওয়া
যাত্রাপথের আনন্দগান যে গাহে
তারি কন্ঠে তোমারি গান গাওয়া"
রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত বীরভূম-রাঙামাটির অমোঘ আকর্ষণে বেশ কয়েকবার পা বাড়িয়েছি । কখনো বিদায়ী ফাগুণের ভোরে, কখনো শ্রাবণী পূর্ণিমার মেঘমালাদের সঙ্গী করে, কিম্বা শীতের অলস দুপুরে |শেষ বসন্তের রেশ নিয়ে চোখঝলসানো চৈতী আগুণই হোক বা পৌষালির কনকনানি কাঁপুনিই হোক কিম্বা শরতের সোনালী রোদ ঝলমলে আকাশ ; বোলপুরের প্রকৃতির রঙ এক এক সময় এক এক রকম । ফুলের বৈচিত্রে পাতাবাহারের রঙিনতায় গ্রামবাংলার এই রাঙামাটি বোধহয় একসময় কবিগুরুকে আকৃষ্ট করেছিল ।আর শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী না থাকলে সাধারণ মানুষ এই অঞ্চলের প্রতি টান অনুভব করত না । শান্তিনিকেতন-শ্রীনিকেতনের আশপাশগুলিও বুঝি এত জনপ্রিয়তা পেত না । এই লালপাহাড়ির দেশ, রাঙামাটির বেশে আমাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছে তার শক্তিপীঠের পাঁচ-পাঁচটি বরণ ডালা ।কিংবদন্তী সতীপীঠের সত্যতা যাচাই করার ধৃষ্টতা আমার নেই তবে যেমন বৌদ্ধধর্মের মহাপুরুষের রেলিকস ও তাকে কেন্দ্র করে স্তূপ তৈরী হয় হিন্দুধর্মের সতীর দেহত্যাগের পর সতীর দেহাবশেষকে কেন্দ্র করে ৫১টি শক্তিপীঠ রয়েছে | আর বীরভূমে রয়েছে এই ৫১ পীঠের পাঁচটি| বীরভূমের এই পাঁচটি সতীপীঠ হল কঙ্কালিতলা, নলহাটি, ফুল্লরা, সাঁইথিয়া আর বক্রেশ্বর ।তারাপীঠও বীরভূমের একটি পুণ্য শক্তিপীঠ কিন্তু এটি সতীপীঠ নয় ।শান্তিনিকেতন ছাড়াও এই পীঠের আকর্ষণে বারবার ছুটে বেরিয়ে যেতে ইচ্ছে করে কোলকাতা থেকে বোলপুরের পথে... "তোমায় নতুন করে পাবো বলে" | দেখা হয়েচে বহুবার চোখ মেলে, তবুও ঘর থেকে দু'পা ফেলেই আবার হাঁটি চেনা পথে, আবার নতুন করে আবিষ্কার করি গ্রামবাংলাকে। সবথেকে ভালো হয় যদি বোলপুর থেকে প্রথমে প্রান্তিক হয়ে কঙ্কালিতলা, তারপর ফুল্লরা ও সাঁইথিয়া দেখে তারাপীঠে গিয়ে রাতে কোনো হোটেলে থাকা যায় । পরদিন সকালে তারাপিঠ মন্দির ঘুরে, পুজো দিয়ে নলহাটি ও সেখান থেকে বক্রেশ্বর দেখে বোলপুরে ফিরে আসুন । যদি সময় থাকে তবে নলহাটি থেকে আকালিপুরও ঘুরে আসা যাবে ।

পথের আকর্ষণে বেরিয়ে পড়ি বারবার, কালের গাড়ি আরোহন করে। লিখে চলি পথের পাঁচালী । দু'চারদিন ছুটি চাই শুধু ।হাওড়া থেকে গণদেবতা, শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস, শহীদ এক্সপ্রেস,, ইন্টার সিটি এক্সপ্রেস, বিশ্বভারতী এক্সপ্রেস, আর সরাইঘাট এক্সপ্রেস ; এই এতগুলি ভিন্ন সময়ের ট্রেন আছে বোলপুর বা প্রান্তিক পৌঁছবার জন্য । আর কোনো অপরিকল্পিত ছুটির পিকনিক হলে শীতকালে গাড়ি নিয়ে সদলবলে বেরিয়ে পড়লেই হল । শেরশাহ সুরীর মধ্যযুগীয় রাস্তার ওপর ইংরেজ তৈরী করেছিল গ্র্যাণ্ড ট্র্যাঙ্ক রোড এবং সেটিকে এনএইচ-২ আখ্যা দিয়ে ভারত সরকার গোল্ডেন কোয়াড্রিল্যাটারালের কোলকাতা দিল্লী শাখা তৈরী করে।
স্বর্ণালী-চতুর্ভুজ-সড়ক-যোজনার সার্থকতায় ভ্রমণের আনন্দ ছাপিয়ে যায়। মনে হয় কে বলে বাংলা আমার নি:স্ব? মানুষ রীতিমত টোল ট্যাক্স দিয়ে গাড়িতে ভ্রমণ করছে এখন । ধন্যবাদ বিশ্বায়ন ! ন্যাশানাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া(NHAI) মেন্টেন্যান্স করছে ! ধন্যবাদ NHAI ! চারলেনের রাস্তায় স্রোতের মত নিয়ম মেনে গাড়ি চলছে ঠিক বিদেশের মত ; মাঝখানের ডিভাইডারে দৃষ্টিনন্দন বোগন-ভোলিয়া, করবী আর কলকে ফুলের বাতাসীয়া দোলা দেখে কৃতজ্ঞতা জানাই NHAI ইঞ্জিনিয়ারের রুচিশীলতাকে । গাড়িতে যাবার কথা বললাম এই কারণে । আর বললাম এভাবে গেলে কোনো প্ল্যান ছাড়াই বেরোনো যায় । ট্রেনের টিকিট কাটা, স্টেশন যাওয়া, সময় মত ট্রেন ধরার হ্যাপা নেই । আর ব্যস্ততার জীবনে হঠাত মনে করলেই বেরিয়ে পড়া যায় এইসব কাছে পিঠের জায়গায় । কোলকাতা থেকে গাড়ি করে গেলে বোলপুর পৌঁছতে সময় লাগে মাত্র সাড়ে তিন ঘন্টা । ভোর ভোর বেরুলে অনেক বার ঘন্টা তিনেকের মধ্যেও পৌঁছে গেছি ।  মাঝে শক্তিগড়ে দাঁড়িয়ে প্রাতরাশ সেরে নেওয়া যায় গরম কচুরি আর চা দিয়ে । এন এইচ-২ ধরে সোজা যেতে হবে পানাগড় অবধি|পানাগড়ের ভাঙা ট্রাকের সারি পেরিয়ে তারপর ডান দিকে পানাগড়-মোরগ্রাম হাইওয়ের বাঁকে ঘুরে, অজয় নদী পেরিয়ে পেরোতে হয় শাল ইউক্যালিপটাসের জঙ্গল | ইলামবাজারের ঘন জঙ্গলমহল | পথের সাথী সকালের মিষ্টিরোদ এসে পড়ে তখন শালবনের মাথায়, কচি সবুজপাতায় ।চেনাপথ যেন আরো নবীন সজীবতায় ভরে ওঠে । বৃক্ষরাজির এভ্যিনিউ সুসজ্জিত গভীর অরণ্যের করিডোর |শিল্পায়নে ব্রতী হয়ে আমরা "অরণ্যমেধ" যজ্ঞে সামিল হয়েছি তবুও বাংলার সবুজ এখনো যা আছে তা অনেক রাজ্যের ঈর্ষা আর আমাদের গর্ব | তারপরেই কবিগুরুর কর্মভূমিতে, ছাতিম, শিমূল, পলাশের শহর শান্তিনিকেতনে। শ্র্রীনিকেতন, বিশ্বভারতীর আশ্রম পেরিয়ে রতনপল্লী, বনপুলক, শ্যামবাটি, তালতোড়কে সরিয়ে রেখে দুপুর সূর্যকে মাথায় নিয়ে বোলপুর বা প্রান্তিক পৌঁছে সেরে নেওয়া যেতে পারে দুপুরের খাওয়া।বোলপুর বা প্রান্তিকে অনেক হোটেলে আছে থাকার ব্যাবস্থা। কলকাতা থেকে বুক করে এলেই হল ।
শ্যামবাটির মোড়ে সেচ দপ্তরের ক্যানালের জল বয়ে চলেছে । ভরাবর্ষায় এই জলের অমোঘ আকর্ষণ আমাকে আরো টানে। প্রতি শনিবারে ক্যানালের ধারে খোয়াইয়ের হাট বসে । এটি আর কোথাও দেখিনি। সূর্যাস্তের ঠিক ঘন্টা দুয়েক আগে থেকে বসে এই হাট। কত শিল্পীরা নিজ নিজ শিল্পের পসরা সাজিয়ে বসেন সেখানে আর সাথে থাকে বাউলের গান । রাঙামাটির পথ ধরে আমরাও পৌঁছে যাই সেখানে । ডোকরার গয়না, কত রকম ফলের বীজ দিয়ে তৈরী গয়না, কাঁথার কাজের বাহার, পটশিল্প, বাউলগানের আনুষাঙ্গিক বাদ্যযন্ত্র, তালপাতা, পোড়ামাটির কাজ, বাটিকের কাজ আরো কত কিছু এনে তারা বিক্রি করে । কিন্তু অন্ধকার হবার পূর্বমূহুর্তেই পাততাড়ি গোটাতে হয় তাদের । সোনাঝুরির ছায়ায় প্রান্তিকের বনবীথি যেন ঘুরে ফিরে নতুন করে ধরা দেয় আমার কাছে। প্রান্তিকের অনতিদূরে বোলপুর থেকে ৯কিমি দূরে বোলপুর-লাভপুর রোডের ওপর কংকালিতলায় মাকালীর মন্দিরের আকর্ষণও দুর্নিবার । দক্ষযজ্ঞের সময় সতীর খন্ড দেহাংশের কাঁখাল অর্থাত কোমরের অংশ বিশেষ পতিত হয় এখানে ...একটি কুন্ডে। আর পাশে উত্তরমুখে প্রবাহিনী কোপাই নদী সংলগ্ন এলাকায় শ্শ্মশান । আমি এই জায়গায় এলে কিছু মাহাত্ম্য অনুভব করি।কঙ্কালিতলার মায়ের মন্দিরের সামনেই রুরু-ভৈরব শিবের মন্দির । অগণিত বাউলের গানের মূর্ছনায় জমজমাট কঙ্কালিতলার প্রাঙ্গণ । ঐ পথেই অনেক দূর এগুলেই পড়বে ময়ূরাক্ষী নদীর সমতলে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মস্থান লাভপুর যার অনতিদূরে অবস্থিত ফুল্লরা বা সতীপীঠ অট্টহাস । এখানে সতীমায়ের অধর ওষ্ঠ পড়েছিল । মন্দিরের পাশে বিরাট পুকুর । কথিত আছে রামচন্দ্র যখন দুর্গাপুজো করেছিলেন তখন হনুমান ১০৮টি নীলপদ্ম এই পুকুর থেকে সংগ্রহ করে দিয়েছিলেন রামচন্দ্রের পূজার জন্য । অট্টহাসে দেবী ফুল্লরার ভৈরব হলেন বিশ্বেশ ।সেখান থেকে ঘুরে আসা যায় অপর একটি পীঠ সাঁইথিয়া যেখানে সতীর গলার গহনা পড়েছিল । সাঁইথিয়ার নন্দীকেশ্বরী মায়ের অপর নাম নন্দিনী ।ভৈরব হলেন নন্দীকেশর । সাঁইথিয়া স্টেশন থেকে দেড় কিমি দূরে এই মন্দির ।এরপর রামপুরহাট থেকে ৬কিমি দূরে দ্বারকা নদীর ধারে তারাপীঠও ঘুরে আসা যেতে পারে । একদিকে কিংবদন্তীর সাধক বশিষ্ঠ মুনির তপস্যায় আর অন্যদিকে ইতিহাস খ্যাত সাধক বামাখ্যাপার তন্ত্রসাধনায় "তারাপীঠ" আজ একটি জাগ্রত পীঠ । বামাখ্যাপা তারাপীঠের মহাশ্মশানে তন্ত্র সাধনা করে তারামায়ের দর্শন পেয়েছিলেন । ভোর চারটের সময় তারাপীঠের মন্দির খোলে ।রাতে এখানে একটি হোটেলে থেকে, ভোরে পুজো দিয়ে মন্দির দর্শন করে চা জলখাবার খেয়ে পরদিন বেরিয়ে পড়া যেতে পারে পানাগড়-মোরগ্রাম হাইওয়ের ধারে নলহাটির পথে যেখানে সতীপীঠ "নলহাটেশ্বরী"র মন্দির । এখানে সতীমায়ের গলার নলী বা ভোকাল কর্ড পতিত হয় ।ছোট্ট টিলার ওপরে রাণি ভবানীর তৈরী নলাটেশ্বরী মন্দির রামপুরহাট থেকে ১৬কিমি দূরে এবং শান্তিনিকেতন থেকে ৯১ কিমি দূরে । নলাটেশ্বরী দেবীর নাম কালিকা আর তাঁর ভৈরব হলেন যোগেশ । সেখানে সকালে পৌঁছে গেলে মায়ের ভোগের ব্যাবস্থাও পাওয়া যায় । পানাগড়- মোরগ্রাম হাইওয়ের থেকে বেরিয়ে ঘুরে আসা যায় বক্রেশ্বরে যেখানে সতীর "মন" পড়েছিল । বক্রেশ্বর নদীর ওপর "নীল-নির্জন" ড্যাম যা একটি ট্যুরিষ্ট স্পটও বটে | এই জলাধারটি বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুত কেন্দ্রের জল সরবরাহ করে । এবার আসি বক্রেশ্বরের মাহাত্ম্যে । সত্যযুগে লক্ষ্মী-নারায়ণের বিবাহের সময় ইন্দ্র সুব্রত নামে এক মুনিকে ভীষণ অপমান করেছিলেন । যার ফলে সেই সুব্রত মুনির শরীরে আটটি ভয়ংকর ভাঁজ পড়ে যার জন্য তার নাম হয় "অষ্টাবক্র" মুনি । এই অষ্টাবক্র মুনি বহুদিন শিবের তপস্যা করার পর শিবের আশীর্বাদে মুক্তি পান । তাই এই বক্রেশ্বর শিব খুব জাগ্রত । এখানে দশটি উষ্ণ প্রস্রবণ আছে যাদের জল গড়ে ৬৫ থেকে ৬৬ডিগ্রি সেলসিয়াস । সতীর "মন" বা ভ্রুযুগলের মধ্যবর্তী অংশ পতিত হয় । আপাত অনাড়ম্বর মহিষমর্দিনি মায়ের মন্দিরে দাঁড়ালে বেশ ছমছমে অনুভূতি হয় । আর সাথে বক্রেশ্বরের শিবমন্দিরটিও দেখে ঘোরা যায় । কত প্রাচীন এইসব মন্দির তা মন্দিরের চেহারা দেখলেই বোঝা যায় । বক্রেশ্বরের উষ্ণপ্রস্রবণে স্নানের ব্যাবস্থাও আছে । সেখান থেকে সময় থাকলে যাত্রা করা যায় আকালিপুর ভদ্রপুরের উদ্দেশ্যে । এটি রামপুরহাট থেকে ২৫কিমি দূরে । মহারাজা নন্দকুমারের প্রতিষ্ঠিত কালীমন্দির আছে এখানে ।
অসাধারণ সুন্দর এই ছয়কোণা মন্দিরের স্থাপত্য । আর সুন্দর প্রতিমার বিগ্রহ । আকালীপুর যাওয়ার পথে পড়বে "একচক্রাগ্রাম" যেখানে নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর জন্মস্থান । কথিত আছে মহাভারতের পান্ডবরা তাদের অজ্ঞাতবাসের সময় এখানে কিছুদিন বাস করেছিলেন ।
কেন্দুলি এবং নানুর এই দুটি জায়গার জন্যও বীরভূম প্রসিদ্ধ। গীতগোবিন্দের রচয়িতা জয়দেবের জন্মস্থান কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি আর বৈষ্ণবপদাবলীর রচয়িতা চন্ডীদাসের জন্মস্থান নানুর । শান্তিনিকেতন থেকে মাত্র ১৮ কিমি দূরে অজয় নদী ও ময়ূরাক্ষী নদীর মধ্যবর্তী সমতলে অবস্থিত নানুর । পানাগড় থেকে গেলে ইলামবাজারের একটু পরেই বাঁদিকে ঘুরে কেঁদুলির পথে যাওয়া যায়।মকর-সংক্রান্তির সময় বিরাট মেলা বসে কেঁদুলিতে ।গ্রামবাংলার চালার অনুকরণে তৈরী অত্যন্ত সুন্দর সব মন্দিরের হাট এই কেঁদুলি | অপূর্ব সুন্দর টেরাকোটার ভাস্কর্যের রাধাবিনোদ মন্দির যা আবারো মনে করিয়ে দেয় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে, পোড়ামাটির নিখুঁত স্থাপত্যে রামায়ণের কাহিনী লিপিবদ্ধ করা আছে মন্দিরের গায়ে ।
কাজেই শুধু বিশ্বভারতী পৌষমেলা বা বসন্ত উতসব নয় পুজোর ঠিক পরথেকেই রাঙামাটির বাতাসে থাকে মৃদু ঠান্ডার স্পর্শ যার রেশ চলে বসন্তের শেষ অবধি । ঐসময়গুলি বাদ দিলেও ক্ষতি নেই । নিরিবিলিতে আর শান্তিতে ঘুরে আসা যায় দর্শনীয় স্থানগুলি । তিন থেকে চারটি দিন বার করে নিলে একটু আরামে দেখা যায় সব ক'টি জায়গা । আর কোলকাতার এত কাছে এতগুলি জায়গা থাকতে পুজোর পর মনখারাপ কাটাতে সস্তায় ঘুরে আসা যেতেই পারে বোলপুর ।আর যদি উইকএন্ডে যান তবে ভুলে যাবেন না যেন শনিবারের খোয়াই হাটের কথা |
ফুলেদের সাথে কথা বলে, পাখিদের সাথে গান গেয়ে যাই । আর খবর নিয়ে যাই সবুজ আর নীলের | ভালো থাকতে বলি , বেঁচে থাকতে বলি বাউলকে আর মনের একতারায় বেঁধে নিয়ে যাই বাউলের দোতারার সুর |আবার আসি ফিরে গ্রামছাড়া ঐ রাঙামাটির পথের ধূলায় সতী মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে ।