৩০ এপ্রিল, ২০২০

লকডাউন নামচা


হুরে পটের বিবিরা আজ বেশ পটু হয়ে গেছে ঘরকন্নায়। সংসার বেঁধে ফেলেছে তাদের আষ্টেপিষ্টে। সকাল সন্ধে খাটুনি তো কম হচ্ছেনা তাদের। সেইসঙ্গে মনোরঞ্জনের খামতি তো আছেই। এই কথায় কথায় সেজেগুজে বেরিয়ে যাওয়া। ছুতোয়নাতায় নিদেনপক্ষে গড়িয়াহাট কিম্বা শপিংমল। মানে দিদিমা ঠাকুমারা যাদের বলতেন সংসারে মন বসেনা তারাও বুক বেঁধে, মন দিয়ে নিত্যনতুন রান্নাবাড়া করে সংসারের সবার মন ভোলাচ্ছেন। 
বুড়ো বাবা মায়েরা দিন পনেরো হয়ে গেলেই অস্থির হতেন, কবে আসবি, কখন  আসবি করে মাথা খেতেন কিম্বা এটা দিয়ে যা, সেটা এনে দে করে। তারাও এখন মাথা খাচ্ছেন না। কপচাচ্ছেন না। 
সিরিয়াল প্রেমীরা? কোথায় গেল তাদের নেশা? আগে জিগাইলে ক‌ইতেন, ও বাবা! ঐ টাইমে আমি কারোর ন‌ই। ঐ এপিসোড মিস হলেই যেন জীবন শেষ তার। তাঁরা এখন বই পড়ছেন, খবর শুনছেন। 
কথায় কথায় চিকেন মাটন প্রেমীরা? বেশ তো পারছেন বাপু দিনের পর দিন ননভেজাসক্তি পরিত্যাগ করে।শুধু ডিম নিয়ে জীবন কাটাতে। 
গেলাসপ্রেমীরা? কথায় কথায় বোতল খুলে বসেন যারা? তাঁরাও তো বেশ আছেন ঘুমিয়ে, ভুঁড়ির ওপর হাত বুলিয়ে? 
আর ছোটোরা? তাদের নিয়ে তো মায়েদের জ্বালার শেষ ছিলনা এদ্দিন। তারাও তো দিব্য সোনা হেন মুখে ডাল ভাত তরকারি যা দিচ্ছেন গিলে নিচ্ছে। 
এদ্দিন যাদের বলতাম হাতে ক্যাশ মাইনে দেবনা। তারা বলত মরে যাব।মাইনের টাকা নাকি হাতে করে নিতেই হয়। তারা দূর থেকে এখন দিব্যি ফোনের মধ্যেই টাকা পাঠিয়ে দিতে বলছে। 
আর এই যে "জুম" অ্যাপে ভিডিও কোরোনা বলে বলে থকে যাওয়া পাবলিকরা? তাদের কথাও সেই ধর্মের কল বাতাসে নড়ার মত সত্যি হয়ে ফিরে এসেছে টিভির পর্দায়। এখন দিব্যি জীবন "জুম-বিহীন"হয়ে গেছে তাদের। অভ্যেস আর শিক্ষেয় কি না হয়। এই যে অশিক্ষে আর কুশিক্ষেয় দীক্ষিতরা আজ একবার পুলিশকে পেটায় তো একবার ডাক্তারবাবুদের পেটায় তারা তো জীবনেও মানুষ হবেই না।যারা ঘুরে ঘুরে বাজার করতে ভালোবাসে তারাও ঠিক এমনি। 
কিন্তু আমরা? মানে যারা পোড় খেতে খেতে, ঘষটে ঘষটে এদ্দূর জীবনটাকে কচলালাম মানে যারা কাছেপিঠে বেড়াতে গেলেও ওডোমস কিম্বা মশার ধূপ সঙ্গে রাখি? কলেরা, জন্ডিস বা আন্ত্রিকের ভয়ে মিনারেল ওয়াটার ছাড়া ফুচকা খাইনা কক্ষনো, অথবা আজন্মকাল ম্যালেরিয়ার ভয়ে আটতলার ওপরেও মশারী টাঙিয়ে শুই? 
সত্যিসত্যি করোনার অশৌচকালে অনেক কিছু লেসেন নিলাম যেগুলি মনে রাখবার মত। তবে যারা শুনবেনা তারা অন্য ধাঁচের, ভবি ভোলার নয়।

২৪ এপ্রিল, ২০২০

পত্রলেখা



মুক্তি

তোমায় অনেকদিন দেখিনি। এই ভিডিও কলে যেমন দেখছি তেমন নয়। তোমার ছোঁয়া পেতে চাইছে মন। আজকাল বড়ো মন কেমন করে তোমার জন্য। সেই কবে যেন ছুঁয়েছিলে আমায়।দুজনে পাশাপাশি বসে একে অপরের শ্বাসে-প্রশ্বাসে, হাসি-কান্নায়, সুখের প্রলাপে দুঃখের ঘায়ে একসঙ্গে মলম লাগিয়ে ঠান্ডা হতাম মনে পড়ে তোমার? সেই কাঠি আইসক্রিম নিয়ে নন্দনে গাছের নীচে? কিম্বা মাল্টিপ্লেক্সে মুভি দেখে হতাশ হয়ে কফিশপে ঢুকে? আমার হাত থেকে সিগারেটের বাট টা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে তোমার রাগ দেখানো? অথবা আমার গল্পলেখার সময় তোমার খুনসুটি?কতবার গল্পটা টাইপ করে শোনাতেই ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলে? মনে পড়ে? কপট রাগ দেখিয়ে কথা বন্ধ করে দিনের পর দিন থেকেছি আমরা। তবুও পাশাপাশি তো থাকতাম। এক বিছানা, এক মাদুর, এক সোফা শেয়ার করে রাগে অনুরাগে আড়িআড়ি ভাবভাব খেলেছি আমরা দিনের পর দিন। হোয়াটস্যাপে তোমার বাড়ি ফেরার দেরীতে রাগের ইমোজি দেখিয়েই মনে করিয়েছি রাতে ডিনারের পরে সেই আইরিশ ক্রিম খোলার কথা?ব্যালকনিতে বৃষ্টির ছাঁট এলেই তুমি কেমন গান ধরতে মুক্তি! কতদিন তোমার সামনে বসে গান শুনিনি।কতদিন তোমার সঙ্গে লেকে হাঁটতে যাইনি।তোমার পেটে এক পেগ ভদকা পড়লেই তুমি বলতে এমনি বেঁধে বেঁধে থাকবে আমার সঙ্গে কিন্তু আজ কতদিন হয়ে গেল মুক্তি, আমরা দুজন দুজনকে ছেড়ে ছেড়ে রয়েছি। আমি ভালো নেই মুক্তি। কবে আবার সেই বিদ্যাপতির ভরা বাদর শোনাবে আমায়? কবে আবার তোমার হাতে খাব আমার প্রিয় সেই বালিনিজ কফি? ওপরে ফেনার পরে ফেনা আর নীচে দুধ। আর সেই আলতো হাতে তুমি তার ওপর স্প্রিংকল করে দেবে কোকো পাউডার? আমি লোভ সামলাতে না পেরে একটা ছবি তুলেই ফেসবুকে পোস্ট করে দেব আর উন্মাদের মত গরম সেই কফিতে চুমুক দিয়েই আমার জিভ পুড়িয়ে ফেলব। তুমি তখন সেই জিভ কে আরাম দেবে নিজের মুখের ভেতর পুরে। কিন্তু এখন তা আর হবেনা মুক্তি। এভাবে অনেক দিন তোমায় ছেড়ে আমাকে থাকতে হবে। সেই হ্যারি বেলাফন্টের গানের সেলরের মত। আমার লিটল প্রিন্সেস আমার কাছে আবার কবে আসবে জানিনা কিন্তু আমি তাকে খুব মিস করছি।

" বাট অ্যাম স্যাড টু সে... অন মাই ওয়ে... আই উইল বি ব্যাক ফর মেনি অ্যা ডে...”
আবার আমাদের পাহাড় চুড়োয় সোনাগলা রোদ উঠবে রোজ আর আমি আবারো সেই পালতোলা জাহাজটা নিয়ে তোমার কাছে ফিরবই মুক্তি। বৃষ্টির পর শহরের গোধূলি আকাশে আবারো বিশাল রামধনু দেখব দুজনে একসাথে, শুধু তুমি যদি আমার পাশে থাকো। অনেক দিনের জন্য আমরা একে অন্যের কাছে ফিরব না ঠিকই তবুও তোমায় তেমন করেই ভালোবেসে যাব।
আবার আমরা একসঙ্গে ভীড় বাজারে যাব। মাছ মাংস কিনব। ফিরে এসে রান্না করব দুজনে। হাওয়াতে তখন ফুলের গন্ধ ছড়িয়ে পড়বে ঠিক আগের মতন, দেখো মুক্তি।সবাই আবার হাসবে, নাচবে, গাইবে। নন্দনে আবারো আমি গল্প কবিতা পড়তে যাব। তুমি ছবি তুলে দেবে। গড়িয়াহাটের ফুটপাথে হকারদের সঙ্গে তুমি বচসা করে বারগেইন করে জিতবে। আমি আওয়াজ দেব তোমায়। দেখো আবার সব পারব আমরা এক সঙ্গে মিলে।
ভালো থেকো মুক্তি। এই চিঠি কোন ঠিকানায় উড়িয়ে দিলাম জানিনা। তবে আপাততঃ প্রযত্নে ফেসবুকে র‌ইল। তোমার উত্তরের অপেক্ষায়।

ইতি
তোমার


২০ এপ্রিল, ২০২০

লকডাউন মনোলোগ


কটা জিনিষ খুঁজতে গিয়ে আজ আলমারি খুলেছিলাম অনেকদিন বাদে। কেমন সুগন্ধী আবেশে যেন আবিষ্ট হয়ে গেলাম মূহুর্তের মধ্যে। প্রিয় শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে কিসের যেন মাদকতা! পরতে পরতে চেনা চেনা সব গন্ধ। সাহিত্য আড্ডা থেকে শপিংমল, বিয়েবাড়ি থেকে মাল্টিপ্লেক্স, পিকনিক থেকে আউটিং...সর্বত্র মাড়িয়ে আসা, আমাকে আদরে লেপটে জড়িয়ে রাখা শাড়িগন্ধ আমায় কেমন যেন এক মূহুর্তের জন্য আনমনা করে দিল। আমার জীবন্মৃত আত্মার ভেতর থেকে কেউ যেন বলে উঠল, এমনটা কি ভেবেছিলে কোনোদিনো? জীবনে অনেকবার নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছি কিন্তু দিন দশেকের মধ্যে বাড়ি ফিরে আলমারি খুলে মনে হত আমি বেঁচে আছি। আজ হঠাত মনে হল, কি হবে এমন বেঁচে থেকে? শাড়িগুলো, ম্যাচিং ব্লাউজগুলো আর হরেক কিসিমের হ্যান্ডব্যাগ, পার্স, ক্লাচ সব যেন গিলে খাচ্ছে মনে হল। ওরা কেন এমন কটমট করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে?  সত্যি‌ই তো নশ্বর আমাদের এই তুচ্ছ জীবনটা। শেষসময়ে শুধুই পড়ে থাকবে একমুঠো ছাই। তার জন্য এত্ত আয়োজন আমাদের্? বেশ তো চলছে একমাস ধরে । আমাদের চাহিদার লেখচিত্র হঠাত করেই নিম্নমুখী তাই নয় কি? আমরা শাড়ি-জামা-কাপড়-বেডশিট-পর্দা আরো আরো কতকিছু থেকে নিজেদের সরিয়ে রেখেছি। এখন শুধুই চোখ যাচ্ছে চালের কৌটো, ডালের ডাব্বার দিকে। ফ্রিজে ক'টা ডিম বা দুধের প্যাকেট পড়ে আছে, আলু-পিঁয়াজের ঝুড়িতে ক'টা আরো আনতে হবে কিম্বা আদা-কাঁচালংকা? নাহ্! এতেই চালিয়ে নেব এই সপ্তাহটা। অথবা হঠাত করে ফ্রিজের কোণায় কুঁকড়ে, অবহেলায় পড়ে থাকা  এক প্যাকেট খেঁজুর কিম্বা একটা স্যুপের প্যাকেট মনটা কে খুশিতে ভরিয়ে দিচ্ছে। এখনো, মানে এই যুদ্ধের ঠিক একমাস আগেও যেমনটি দিচ্ছিল। এই একমাসে কোনোকিছুর পট পরিবর্তন হয়নি আমাদের। শুধু কয়েকটা মৃত্যু ছাড়া। নতুন সংক্রমণ? না কি গোষ্ঠীতে ছড়ালো ফাইনালি? চোখ এখন সেইদিকে শুধু সীমাবদ্ধ।কি হয়, কি হয়! 
পশুপাখিদের জীবনটাই বেশ|আহার, নিদ্রা, মৈথুন ছাড়া অন্য কোনও চিন্তা নেই তাদের। তাদের অতীত স্মৃতি নেই। ভবিষ্যতের চিন্তা নেই | আছে শুধুই বর্তমান। কিন্তু মানুষ তো আমি। তাই বুঝি আলমারি আজ বন্ধ না করে পাখা চালিয়ে হাওয়া খাওয়ালাম বেশ করে। আমার তো ভবিষ্যৎ আছে না কি!    

১৮ এপ্রিল, ২০২০

Lockdown Story - 1 / এভাবেও ফিরে আসা যায় ( ছোটোগল্প )

photo: https://unsplash.com/s/photos/lockdown

শুধু কালো দীঘির মত টলটলে চোখের মণি দুটো বের করা পেমলার । মাথা থেকে মুখ অবধি মুখটা দোপাট্টায় আষ্টেপিষ্টে মুড়ে নিয়েছে সে। নিজেদের কুঁড়ে সংলগ্ন একফালি জমি থেকে সেদিনের মত কি আনাজপাতি পাওয়া যায় খুঁজতে বেরিয়েছে। । আগের দিন রাতেই তার মা বলে রেখেছে, পরের দিনের রসদ বলতে ঘরে শুধু এক কুনকে চাল আর দুটো আলু পড়ে আছে। সরকার থেকে নাকি প্যাকেট বেঁধে সবেমাত্র চাল, ডাল, নুন, তেল আর আলু দেওয়া শুরু হচ্ছে। তারাও পাবে দু একদিনের মধ্যেই। তাই আশায় বুক বেঁধে বসে আছে বাড়ির চারজন। ফ্রি তে রেশন দেবে বলেছে। কবে দেবে তা জানেনা তারা। 
পেমলার খুব গোছ তাই রক্ষে। তার মা দুঃখ করে করোনার বাজারেও বলে উঠছে তা দেখে "অতি বড় ঘরুণী, না পেল ঘর"। টিভির খবরে ঘরবন্দীর কথা শুনেই রোজ বাঁচিয়ে বাঁচিয়ে রাঁধাবাড়া করছে মেয়েটা। ধানজমিও আছে একটু। তবে সেটা তাদের ঘর থেকে বেশ অনেকটা দূরে। এখন পেমলা তার বাবা কে যেতে দিতে চায়না । 
নিদাঘ তাতে সব বোরো ধান জ্বলে হেজে গেল রে। ভালো ধান রুইয়ে ছিলুম এবার। দামী বীজ ছিল। পেকে ওঠার সময় হয়ে গেল তো। 
ধানচারার যা হয় হোকগে। তুমি যাবে না। একেই তোমার বয়েস হয়েছে তায় টিভিতে বলেছে হাঁপানি থাকলে এই রোগ নাকি চট করে ধরে যায়। পেমলার ছোট্ট মেয়ে আদুরী শ্লেট পেন্সিল নিয়ে দাদুর কোলের কাছে গিয়ে বসে বলে, মা একটুও মুড়ি নেই আর? না রে মা, বলে ওঠে পেমলার বাবা। পেমলা অমনি এক সানকি মুড়ি এনে বাবার কাছে দিয়ে বলে বাবা এই যে, কিছুটা তুলে রেখেছিলাম, তুমি আর আদুরী খাও দিকিনি। এই বলে শাকপাতার খোঁজ করতে বেরুচ্ছিল পেমলা।  

বাপ মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে হেসে বলে হ্যাঁ রে মা, আমাদের লালীটা আজ ঠিকমত দুধ দিল তো
 হ্যাঁ বাবা, আমাদের জন্যে রেখে বাকীটা পাশের ঘরে দিয়ে এসেছি। ওদের ঘরে চারটে বাচ্ছা। অনেকদিন হল তো লালীটার। বাছুরটাও বড় হয়ে গেল। দুধ কমে এসেছে। আর খোল, চুনি, ভুষি সব শেষ যে। খাবার বলতে বাড়ির মাড়, নুন দিয়ে। আনাজের খোসাও নেই যে দেব একটু।   

সেদিন নিজেদের জমি থেকে লকলকে কুমড়োশাক, দুটো পোকালাগা বেগুণ আর ক'টা কাঁচালংকা নিয়ে আসে পেমলা। গাছগুলোয় জল দিয়েও এল। বৃষ্টি এখন হবেনা। আরও দু চারটে ডগা বেরোলে কদিন বাদে আবার খেতে পারবে তাঁরা। ঝুড়িতে দুটো মোটে আলু পড়ে আছে। একটা চচ্চড়ি হয়ে যাবে সেদিনের মত।

চারটে মুরগী রয়েছে ওদের । তাদের ডেরায় উঁকিঝুঁকি মেরে লাভ হলনা। ডিম নেই সেদিন ওদের ভাগ্যে। 
পুকুরটাও একটু দূরে। নয়ত গামছা ফেললেই চুনোচানা মাছ পাওয়া যেত। অনেক লোক ঘাটে জড়ো হওয়া বারণ এখন।আগেরমত জটলা করা যাবেনা। খবর পেল পাশের বাড়ির জানলা দিয়ে। পুলিশ এসে মাঝেমাঝেই টহল দিচ্ছে পুকুড়পাড়ে। এইসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে শাকপাতাগুলো নিয়ে ঘরের দিকে আসতেই আদুরী চেঁচিয়ে উঠে মায়ের দিকে এসে বলল, দাদু দেখ, মা আজকেও কত্ত বাজার এনেছে। পেমলা বলল, খুব মজা না? ইশকুল নেই, মিড ডে মিলের গরম ডিম ভাত নেই, অঙ্ককষা নেই, নামতা পড়া নেই। আজ আমি বানান ধরব কিন্তু । টিভি তে দেখ শহরের বাচ্চারা ঘরে বন্দী হয়েও কেলাস করছে কেমন! 
মা আজ রাতে কি খাব আমরা? আদুরী বলে ওঠে। 
সস্নেহে মেয়ের মাথায় হাত রেখে পেমলা বলল, কেন? কাল যে বললি পেয়াজকুচি দিয়ে গোলা রুটি ভালো লেগেছে তোর। 

ঘরের ভেতর থেকে পেমলার মায়ের সন্ধে দেবার শাঁখের ক্ষীণ শব্দ ভেসে আসতেই পেমলার বাবা দুহাত জোড় করে মাথায় ঠেকালো। জয় মা শেতলা ! কবে এই রোগের থেকে মুক্তি হবে মানুষের! মা বলে ওঠে, আমি মানত করেছি গো। সব মিটলে দশটাকার বাতাসা দেব বসন্ত বুড়ীর থানে। নদীর জল তুলে এনে দণ্ডী কাটব মা। হরির লুঠ দেব হরিসভায়। সবাই কে সুস্থ রাখো। 

পেমলার বাবা চোখে একটু কম দেখে আজকাল। ছানি পড়ছে বোধহয়। সন্ধের আলো আঁধারিতে তবুও দূর থেকে একটা সাইকেল দুবার ক্রিং ক্রিং করে এসে ওদের বেড়ার ওপারে থামল দেখে বলে উঠল, কে ওখানে? কে রে? এখন লোকজনের আসা যাওয়া বারণ জানো না? সাইকেলারোহী নেমে সেখানে দাঁড়িয়েই বলল, আজ্ঞে আমি রতন। 
অনেকদিন পর গলাটা চেনা লাগল পেমলার। আদুরী হবার পর রতন তাকে ছেড়ে চলে গিয়ে আরেকটা বিয়ে করেছিল। বেদম নেশা করে মারধোর করত খুব। দিনের পর দিন অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে একদিন সে মেয়ে কোলে করে চলে এসেছিল বাপ-মায়ের কাছে। মাধ্যমিক পাশ পেমলা টিউশান পড়ানো ধরেছিল গ্রামের বাচ্চাদের। 

এইবার পেমলা মুখ খুলল। ঝাঁঝিয়ে উঠে বলল, কি মনে করে এদ্দিন বাদে আমাদের এখানে? 
রতন বলল, আদুরীটার জন্যে বড় চিন্তা হচ্ছিল। আর সত্যি বলতে কি তোমার জন্যেও। তাই সাইকেল চড়েই এতটা পথ এসে গেলুম। ঢুকতে দেবেনা? পেমলা বলল, টিভিতে দেখোনি? পাশের গ্রামে দূর থেকে এমন কত লোক এসে গাছের ওপর দু'হপ্তা ধরে রয়েছে? 
রতন বলল, আমার হাঁচি, কাশি, জ্বর কিছুই হয়নি। সত্যি বলছি, মা কালী। মা শেতলার দিব্যি। 
কেন তোমার বৌ? 
রতন ঘাবড়ে গিয়ে বলল, বউটা বোধহয় বাঁচবে না আর। যে কাজের বাড়িতে ঠিকের কাজ করে সেখান থেকে রোগ এনেছে। তেনারা  নাকি  বিদেশ থেকে এসেছিল কবে একটা। সরকারী গাড়ী এসে পরশু তুলে নে গেছে হাসপাতালে। দোহাই, তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দাও। 
ও তাই বলে এখানে দিতে রোগ এসেছো বুঝি? 
পেমলা তার বাবা আর মেয়েকে নিয়ে মুখের ওপর দড়াম করে দরজা বন্ধ করে দিল।  

১৩ এপ্রিল, ২০২০

লকডাউন নামচা

ই লকডাউনের দুঃসময়ে গতকাল সংবাদপত্রের খবরে আমাদের পন্ডিতিয়া আবার সেই ত্রাসের খপ্পরে যেন। আমাদের ডে ওয়ান থেকেই  ধর ধর ঠেকা ঠেকা অবস্থা। সেই  ছোটো বাচ্ছা প্রথম হাঁটতে শিখলে যেমন হয় আর কি।  এই পড়ে গেল।  মাথায় চোট লাগল। কোকিয়ে উঠল কেঁদে।  হটস্পট হয়ে গেল তবে? কে জানে বাপু? কি হবে তবে? নীলের পুজো? বেল যে চাই-ই। পাঁচটা অথবা তিনটে ফল যে দিতেই হয়। আর আকন্দফুল মাস্ট যে! মিস্টি? নিদেন বাতাসা?   
আরে ধুর মশাই উচিত তর্পণে গাঙ শুকোচ্ছে আর আপনি কিনা পাঁচ ফল, তিনফল আর আকন্দফুলে পড়ে রয়েছেন। যত্তসব! নিকুচি করেছে নীলষষ্ঠীর পুজো। সবটাই তো মনে। এই হটস্পট না হলেই তো আপনারা ভোরবেলায় ছুটতেন বাজারে। কোথায় বেল, কোথায় ফুটি, কোথায় ক্যাঁটালি কলা...সব্বো উপাচার চাই আপনাদের। বলি যখন যেমন তখন তেমন, জানেন না? মিষ্টির দোকান? আমি বাপু টোটালি বয়কট করেছি তাদের। আর ফুল? হ্যাঁ তাকেও। মানবো তো ভালো করে মানবো নয়ত বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ব এই বলে দিলুম সাফ।  জানেন? আজ সকালে বাসি ঘর ঝাঁটপোঁছ করে, নেয়েথুয়ে দুধের প্যাকেট কেটে দুধ (মানে যেটায় আমার সকালের চা হবে সেটার থেকেই)নিয়ে, তার মধ্যেই ঘরে পাতা টক দৈ (মানে যেটা আমরা খাব সেটার থেকেই), মধু( মানে যেটা আমার কাশি হলে খাই, সেটাই), ঘি (মানে যেটা আমরা খাই বা রান্নায় দি‌ই) আমার নীলের পুজো করেছি। বাগানে যা ফুল ছিল তাই দিয়ে। বেলপাতা নেই, তো কি করব! একে মা, ভাত দেয়না তায় আবার তপ্তা আর পান্তা!  নীলকন্ঠ কে বলেছি, তুমি যেমন করেছ, তেমনি আয়োজন। নো এঁটোকাঁটার বাছবিচার বস!। মুয়ে খেঁদির বে হয়না, তার চার পায়ে আলতা! হ্যাঁ, ছিল শুধু আসল জিনিষ।  বোতল থেকে ঢেলে নিয়েছি। না, না ইথাইল নেই এই বাজারে। কৈলাস-মানস সরোবরের জল, গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর সব গঙ্গার জল ঢেলে বলেছি পরেরবার বৃষোতসর্গ করব করোনার, যদি বেঁচে থাকি। কাল হটস্পট ঘোষণার আগেই ভোরবেলায় সেফ ডিসট্যান্স মেনে যা হোক করে বেল, কলার জোগাড় করেছি। লেবু দিতে গিয়ে বারেবারে সেই থুতুর ভিডিও মনে পড়েছে। বলেছি, সাবান জলে ধোয়া, আবার সাদা জলে ধোয়া, তারপর রোদে ফেলে রাখা, এবার তোমার যদি করোনা হয় তখন বুঝবো আপদ বিদেয় হল। জানো? কাল দুধ-ডিম-আলু-পিঁয়াজ পাঁউরুটি, নুডলস, চিঁড়ে সব পাড়ার দোকান থেকে নিয়ে স্যানিটাইজ করে, রোদ খাইয়ে ঘরে তুলে পরাণ আঁটুপাটু। রান্না করব না ঘর পরিষ্কার, ওয়াশিং মেশিনের কাপড় মেলবো না দৈ পাতব? রাতের তরকারি, ডালের সঙ্গে ভাজা...এসব করতে না করতেই পুলিশী লালবাত্তির হুংকার। বাজারে যাবেন না। পন্ডিতিয়া সিলড হচ্ছে। টিভিতে হাওড়ার ভিডিও। ব্যারিকেড পড়ছে। নীচ থেকে লোকাল মুদীর ফোন, ভাবি, আউর কুছ লে লিজিয়ে, কাল নেহি আনে দেঙ্গে ও লোগ। মানে? কি চাই কি চাই? আবার ভাবনা। এই করে বাদাবন হারভেস্টিং, কেভেন্টর...আছে মশাই? দেবেন আজ বিকেলের মধ্যে? সবাই আপনারা খুব ভালো। কি প্রচন্ড সহযোগিতা করলেন পন্ডিতিয়াবাসীর সঙ্গে তা বলার কথা নয়। আমি কেঁদে ফেলেছি গতকাল বড়, ছোট, মেজো, সব ব্যাবসায়ীদের কথা ভেবে। বলতে না বলতেই আবার বাদাবনের মেসেজ। দিদি, বারুইপুরের ফল আছে। জিরো পেস্টিসাইড, জিরো কার্বাইড। 
বলেন তো আবারো যেতে পারি। কি ভালো আপনারা ভাই! কে বলে বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী চলে গেচে বাংলা থেকে? বাঙালী জাগো। আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের আদর্শে মন দাও দিকিনি। ভাবতে ভাবতে আবারো পুলিশের গাড়ীর টহল আমাদের রাস্তায়... ঘরে বসে বাচ্চাদের নিয়ে ইনডোর গেম খেলুন। বাড়ির সবার সঙ্গে চা খেতে খেতে আড্ডা দিন। বই পড়ুন... ছেলের হোয়াটস্যাপ... মা এখানে অনলাইন গ্রসারি অর্ডার নিচ্ছেনা...কি করব তবে? এভাবেই বাঁচব আমরা জানেন? ঠিক পারব... 
ছোট্ট বৌটা  আমার পাশ থেকে বলে উঠল... নিয়েছে অর্ডার কাছের একটা স্টোর... বড় ই-কমারস সাপ্লাই দিয়ে উঠতে পারছেনা তাই নিচ্ছেনা... তুমি কেন সব কথা মামামাম কে জানিয়ে আগেভাগে টেনশন বাড়িয়ে দাও, বুঝিনা... ম্যাচিওরড মেয়েটা আমার... ভালো থকিস তোরা দুটিতে... ঘর বন্দী হয়ে।

৬ এপ্রিল, ২০২০

করোনার গান

https://www.facebook.com/359880721279005/posts/586797121920696/

সুর - গৌতম চট্টোপাধ্যায় 
কথা- ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় 

এতটুকু এক চীনা ভাইরাস দুনিয়া কাঁপিয়ে মানুষকে আজ ঘরের মধ্যে করে ফেলে দিল বন্দী আহা হা হা, আহা, আহা হা 
সারাবিশ্বের মানুষ কে আজ করোনা বীজাণু গ্রাস করে দিয়ে মানুষ কে কাবু করে ফেলার এক ফন্দী আহা হা হা হা হা
ভেবে দেখেছো কি? শারীরিকভাবে আমরা কত যে দূরে, অনেক দূরে পাশাপাশি মোরা এক মিটার আজ ছেড়ে?
দেশকাল আজ ভালো নেই আর বিদেশের বুকে আত্মীয়েরা সত্যি সবাই বড় অসহায় আজকে আহা হা আ হা আহা হা 
ঘরে বসে বসে নিজের হবি কে কাজে লাগিয়েছি তবু একা একা দিন যাপনের নামতা গুলোকে পড়ছি আহা হা আ হা আহা হা
ভেবে দেখেছো কি? সামাজিকভাবে সবাই কত যে কাছে, বড়োই কাছে শারীরিকভাবে তবু দূরে দূরে আছে ...
দুঃসময়ের দুর্দিনে আজ, বন্ধু সবাই পাশে থেকো আজ, মনে মনে সব পাশেপাশে আছি আমরা, আহা হা হা হা হা ...
ভেবে দেখেছো কি? একদিন ঝড় আবার থেমেই যাবে, ঠিকই  যাবে, আগের মতোই ভালো হয়ে সব উঠবে...
দুনিয়া শুদ্ধু লকডাউন আজ, এটাই সবার ভালো থাকবার, পাসওয়ার্ড শিখে রাখাবার খুব দরকার আহা হা হা হা হা…
ভেবে দেখেছো কি? একদিন ঝড় আবার থেমেই যাবে, ঠিকই  যাবে, আগের মতোই ভালো হয়ে সব উঠবে... 

করোনার যুগে ভরসার রান্না

সবার সুবিধের জন্য এক ডজন সহজ রেসিপি রইল করোনার এই দুর্দিনে 

৩ এপ্রিল, ২০২০

লকডাউন মোনোলোগ

ভিশপ্ত বসন্ত পেরিয়ে চৈত্রের প্রখর রৌদ্রে আমাদের নিভৃতবাস গালভরা ইংরেজী নাম কোয়ারেন্টিন। সীতার বন্দীদশা বা যক্ষের রামগিরি পর্বতের অভিশপ্ত নির্বাসনের মতোই এ এক ভয়ংকর জীবন দুনিয়া জুড়ে। তফাত শুধু একটাই সীতা বা যক্ষের ছিল একাকী নিভৃতযাপন আর আমাদের পারিবারিক গৃহবন্দী দশা। তাঁদের ছিলনা সোশ্যালমিডিয়া আর আমাদের বন্দীদশায় সেই খুপরিটুকুনি এক পশলা সুবাতাস। শারীরিক দূরত্বে আমরা  একটু বেশীই সামাজিক হয়ে পড়ছি বরং। পৃথিবী তথা দেশ তথা রাজ্য জুড়ে করোনার জন্য আমাদের সমবেত অশৌচপালন এই লকডাউন। এবছর চৈত্রে চড়কে ঢাকে কাঠি পড়লনা আর। হাম-বসন্তের জন্য শীতলার জন্য মানতের পুজো তুলে রাখতে হল কারোর। যারা চলে গেলেন তাদের শ্মশানযাত্রায় কেউ সামিল হলেন না। এমন কি ফুলের একটি পাপড়িও জুটলনা তাঁদের। একটা সর্বগ্রাসী চিন্তা সারাক্ষণ কুরেকুরে খেল মানুষকে। তার মধ্যেও শিক্ষিত মানুষদের আচরণ অবাক করে দিল আমাদের। ততক্ষণে মহামারী অতিমারীতে পরিণত হল। সীমিত শস্য, সীমিত খাদ্যদ্রব্য তবুও আমাদের ঘরভর্তি করার এক অদম্য তাড়না তৈরী হল। আর যারা পেলনা? তাদের কথা ভুলে গেলাম না তো আমরা? স্বার্থপর মানুষ এর এই বাজারেও পঞ্চব্যঞ্জন চাই‌ই চাই। ভাতের পরে রুটি, রুটির পরে দুধ, দুধের পরে আবার ভাত, এভাবেই চলবে তবে? আসুন যে যার সাধ্যমত ত্রাণ নিয়ে জমা করি তাদের জন্য।
শরীরে, মনে খুব ক্লান্তি রয়েছে। অ-সুখ এমন অবস্থাকেও বলে বুঝি। আক্ষরিক অর্থে ব্যাধি নেই তবে আধি আছে যা ব্যাধির চেয়েও মারাত্মক। সংবাদের স্রোত নজরে আসতেই দুপুরের সোহাগী বিশ্রাম আপাত নিদ্রা কেড়ে নিচ্ছে। রাতে তাড়াতাড়ি বিছানায় গেলেও তন্দ্রা ও নিদ্রার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে হাত-পা আপাত জিরেন নিচ্ছে বটে কিন্তু স্বপ্নের ভেলায় ভাসিয়ে নিয়ে চলেছে দোদুল্যমান জীবনের অজানা ঘূর্ণিপাকে। 
আমরা স্বার্থসর্বস্ব মানুষ যাদের সরকারী নির্দেশিকা মেনে বিধিসম্মতভাবে হোম আইসোলেশনে থাকার কথা তারাও কি ঠিকঠাক পালন করলাম? যাদের বিদেশ থেকে ফিরে ঘরবন্দী থাকার কথা ছিল তারা? যারা এর মধ্যেই বিয়েবাড়ি গিয়ে সংক্রমিত হয়ে আবারো দূর থেকে দূরে, ছড়িয়ে দিলেন সংক্রমণ, ধর্মীয় সম্মেলনে একে অপরকে দূর থেকে দূরান্তের মানুষকে আক্রান্ত করলেন। কেউ কেউ প্রাণ‌ও দিলেন এই মারণ ভাইরাসের প্রকোপে তাঁদের দেখেও সচেতন হবনা? রোগ চেপে রাখব? আড়াল করব নিজেকে? তারপর এক্সপোজড হলে সেই মুখ দেখাতে পারবো তো সমাজে? কেউ দেখলাম খুব নোংরা রাজনীতি করছেন। এটা কি সেই সময়?  একেই তো এখন আমরা সবাই আমাদের গৃহ পরিচারিকাদের অনির্দ্দিষ্টকালের জন্য ছুটি দিয়েছি। নিজেদের কাজ নিজের হাতে করার অভ্যেস শহরের মানুষদের নেই তার মধ্যেও অনেকে কাজের লোক ছাড়া বাঁচতে পারছেন না। এবার ভাবুন সেই কাজের লোকটি রোজ তার ঘরে ফিরে যাচ্ছে। সে কার স্অঙ্গে মিশছে কোথায় যাচ্ছে আমাদের তা অজানা। এবার সেই এসে আমাদের দিতেই পারে সেই রোগ। আমরা হয়ত বুঝলাম না। সে ছিল নীরব এক বাহক। যাকে দেখে বোঝা যাবেনা। নিজের চাহিদা, ইচ্ছেগুলো সীমিত রাখা এই মূহুর্তে খুব জরুরী। সে খাবারদাবারেই হোক আর কাজের লোকের ব্যাপারেই হোক। আরো কত ঘটনা দেখছি। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে সারাক্ষণের কাজের লোকের শরীরখারাপ হলে তাকে বাড়ির বাইরে বের করে দেবার মত অমানবিক ঘটনা। সে কোথায়  যাবে? পরিবহন নেই। তাকে ডাক্তার দেখিয়ে ব্যাবস্থা করুন তবে। করোনা অনেক কিছু শেখাচ্ছে প্রতিমূহুর্তে। আমরা একদিকে অমানবিক আচরণ করে ফেলছি আবার চূড়ান্তভাবে মানবিক হয়ে গৃহ পরিচারিকার খোঁজ নিচ্ছি। সে ত্রাণ পাচ্ছে কিনা। সে ঠিক আছে কিনা। নিজেদের একাহাতে সব  কাজকর্ম করতে হচ্ছে বলে হাড়েহাড়ে বুঝছি তাদের কদর। কথায় বলে দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বোঝা যায় না। ঠিক তেমনি ব্যাপার । আমরা সামান্য ডাল ভাত, সেদ্ধ ভাত, খিচুড়ি, ডিম ভাতে দিনের পর দিন অভ্যস্ত হচ্ছি। ঘরের বাচ্ছারাও সোনা হেন মুখ করে খেয়ে নিচ্ছে তা। মা ঠাকুমার পুরনো, অত সাদামাটা কেজো রান্নাবান্না কে মান্যতা দিয়ে ঝালিয়ে নেবার সুযোগ দিল এই লকডাউন। এই ফাস্টফুডের্, ট্রান্সফ্যাটের রমরমায় সেটাও কম কথা নয়। হঠাত করেই প্রকৃতি দেখছি। ঘর থেকে দু' পা না ফেলেই চোখ রাখছি নীল আকাশে,পাখীর ডাকে, সবুজে, ফুলের রঙে। পরিবেশের দূষণমাত্রা ঝাঁ করে একধাক্কায় নেমে গেছে অনেকটাই। সারা বিশ্বজুড়েই। আমরা শিখলাম যে ধর্মের কল‌ও বাতাসে নড়ে। আমরা শিখলাম when resources are limited unlimited creativity দিয়ে সংসার করতে হয়। পরিবারের সবার জন্য খাদ্যবন্টন করতে হয়।