২৮ ফেব, ২০১০

WISHING YOU ALL A VERY "HAPPY HOLI"


বসন্ত মানেই কৃষ্ণচূড়া , পলাশ, শিমূল ও অশোকের রেঙে ওঠা প্রকৃতি। বসন্ত মানেই সেই আগুণে মেতে ওঠা, দখিনা বাতাসের উড়নী গায়ে জড়িয়ে আবীরে মাখামাখি, বসন্ত মানেই মনের দোলা, ফাগুনের সকালে দোল খেলার পালা। আজ আমাদের দোল একটু ভিন্ন স্বাদের । একালের দোল আর সেকালের দোলে আকাশ্-পাতাল তফাত। আজ আমাদের দোলে পাড়ার কচি-কাঁচারা দোল খেলেনা,বরংএকটু ছুটির আমেজে দেরি কোরে ঘুম থেকে উঠে হোমওয়ার্ক করার প্রস্তুতি নে য়। কারন এখনকার দোলে সব স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলতে থাকে। তাই তাদের কোন উপায় থাকে না। ছোট বেলায় বাড়ীতে সত্যনারায়্ণ পূজো হতে দেখেছি। ভোর থেকেই পূজোর গোছগাছ, স্নান সেরে ফাঁকে ফাঁকে একেওকে আবীর দেয়া, গুরুজনদের পায়ে আবীর দেয়া ও গৃহদেবতার ছবিতে আবীর দিয়ে প্রণাম করা ..

কিন্ত কোথায় আজ আমাদের দোল? আমদের দোলে আজ ফুট্-কড়াই-মুড়কি-মঠ এর স্থান নেই; ছেলেরা বাজারে গিয়ে রঙীন মঠ কেনার বায়না করে না। বরং এগরোল, বার্গার বা পিত্জা চায়।

আজ আমাদের দোলে সান্ধ্য অধিবেশনে ফাগফাগুয়ার খেলা চলার পর সাদা পাথরের গ্লাসে সিদ্ধির সরবতের বদলে স্থান করে নিয়েছে সুদৃশ্য কাট্-গ্লাসের সুরাপাত্রের রেড্-ওয়াইন। আমাদের প্রজন্ম দোলের মাহাত্ম্য বোঝে কিনা জানিনা তবে বিশ্বায়নের আবীর গায়ে মেখে কেবল্ টিভি , মোবাইল ফোন্, আইপড্, এফ্-এম রেডিও এবং যন্ত্রজালে  প্রচুর গবেষ
ণা চালিয়ে যচ্ছে।

এখন আবীরের রং এর বিভিন্নতা ও প্লাস্টিক পিচকারির বৈচিত্র্য দেখে ছোটোবেলার জন্য মন কেমন করে কিন্ত আমাদের রং এ ছিল আরো উজ্জ্বলতা ও গন্ধে ছিল আরো মাদকতা।

আমরা ছোট ছোট নিউক্লিয়ার পরিবারের সদস্য, দোল উপভোগ করবই বা কার সংগে ? র্ংই বা দেব কার গায়ে? আমার গায়ে রং দেবে এমন সময়ই বা আছে কার্? র্ং খেলে সময় নষ্ট না করে কিশোররা এখন নেট সার্ফিং করে, "সোশাল নেটওয়ার্কিং" সাইটে ঢুকে র্ং খেলে, বন্ধুকে ই-গ্রিটিংস পাঠায় দোলের জন্য ; বা এস্-এম্-এস্-এ হোলির শুভেচ্ছা জানায়। আরো পাকা-পোক্তো হলে মাল্টিপ্লেকসে ঘুরে বেড়িয়ে চাড্ডি ফাস্ট ফুড খেয়ে দেয়ে দিব্যি করে বাড়ী ফেরে। দোল কেবলই ছুটির দিন একটা।

যেসব বাড়ীতে দোলের বৈঠকী বসে তারা অবশ্যই এর ব্যতিক্রম। সেখানে গানের আড্ডা বসে সকাল থেকে, যেখানে ব্রজগোপীদের র্ং খেলা থেকে শুরু করে গৌর আবির্ভাব্, পুরাতনী, রবীন্দ্র্নাথ্, নজরুল সকলকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়ে। আজ আমাদের দোলের আগের রাতে ন্যাড়া-পোড়া হাতে গোনা যায়। পর্যাপ্ত প্লাসটিক পূর্ণ পরিবেশে ন্যাড়া-পোড়া নিষিদ্ধ। বিদায়ী বসন্তের সাথে সাথে পুরানো আবর্জ্জনার দহন পরিবেশকে কিছুটা মুক্ত করে "মুছে যাক্ গ্লানি" , ঘুচে যাক্ মলিনতার সংগে নতুন বছরকে "এসো হে বৈশাখের" বার্তা শোনাতে পারত, কিন্ত আজকের দিনে ন্যাড়া-পোড়া আযোজন করবে কে? কোথায় বা আছে খোলা মাঠ?

এখনকার ট্রেন্ডি-টিনরা এসব নিয়ে মোটেই মাথা ঘামায়না। আমরা কত উন্নত ও যান্ত্রিক হয়েছি আজ। Motion-এর চাপে সব Emotion উবে গেছে কর্পূরের মত ।দোল প্রতি বছর পরিযায়ী পাখীর মত আসবে আবার চলেও যাবে। কিন্ত দোল খেলায় থাকবেনা মাতামাতি, রং খেলায় হবে না কোন চ চাঞ্চল্য । বরং পরিশীলিত এবং মার্জিত রূচিবোধের অভাবে রং খেলা হলে , হবে খুনোখুনি কিংবা রংএর বদলে রক্ত গঙ্গা বইবে। মোটর সাইকেলে ট্রিপল ক্যারি করে বন্ধুকে নিয়ে কানে আই-পড লাগিয়ে বিকট চিত্কার করে দোল খেলা চলবে বহুত রাত অবধি, কো-এড কলেজে আবীরের বদলে সিঁদুর চলবে, অথবা দোলখেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধু-বন্ধুতে ঝগ্ড়া এমন পর্য্যায় চলে যাবে যা থেকে অয্থা প্রাণ হারাবে একটি বন্ধু অপর বন্ধুর গুলিতে। কত স্বামী-স্ত্রী তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদের পরে স্মরণ করবে তাদের একটুকরো দোলের "একটুকু ছোঁয়া লাগে"র সুখস্মৃতি;

আজকের কালের আবর্তণে ঘুরন্ত পৃথিবীর ছুটন্ত মানুষের উত্তেজনা, উদ্দীপনা-বহুল দোল মানে হাতে বিয়ারের ক্যান কিংবা শপিংমলে কিছুক্ষণ !!!

২৪ ফেব, ২০১০

তুলনাহীনা রে

 (পর্ব ৪)

আমার কল্পনাট্যের কুশীলব শ্রেয়সী- সোহম সে ফাগুনের এক ভোরে 
বায়ুপথে পাড়ি দিল ডালাস থেকে নিউইয়র্ক 
সেখান থেকে একটা গাড়ি নিয়ে সোজা ওয়াশিংটন ডিসির রাজপথে.. 
ডিসির রাজপথ হোয়াইট হাউসের রাজকীয় শুভ্রতায় কি অসাধারণ শন্তিময়তা 
বাইরের সবুজ লনে কি সুন্দর সজীবতা সাথে গেরুয়া মরশুমি ফুলের উজ্জ্বলতা 
এই তিন রঙ মনে করিয়ে দিল শ্রেয়সী কে তার নিজের দেশমাতৃকার কথা, 
মনে মনে সে প্রনাম জানাল তার নিজের ত্রিরঙা কে 
ক্যাপিটল হিলের কাছে লিংকন মেমোরিয়াল 
চির শুভ্রতায় জ্বাজ্জল্যমান  এব্রাহাম লিংকনের স্মৃতি নিয়ে,  
সেখান থেকে তারা গেল ন্যাশানাল মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে 
সেই বহু বিতর্কিত এবং অভিশপ্ত হোপ ডায়মন্ড দেখে আসে তারা 
ন্যাশানাল গ্যালারি অফ আর্ট থেকে এয়ার এন্ড স্পেস মিউজিয়ামে এল 
তারা ঝুলন্ত ছোট বড় কত কত উড়োজাহাজের মডেল, আর তার বিবর্তন 
তার মধ্যে থেকেই উঠে এল স্মৃতির মণিকোঠা থেকে 
রাইট ব্রাদার্সের হাতে তৈরী প্রথম প্লেনের মডেল 
ক্লাস নাইনের ফিসিক্স ব‌ইয়ের সেই ছবি 
আজ ত্রিমাত্রিক মডেল হয়ে ঝুলছে চোখের সামনে 
শ্রেয়সী-সোহম বাকরূদ্ধ হয়ে যায় " এও দেখা হয়ে গেল তাহলে!"
ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশানাল গ্যালারী অফ আর্ট এ এসে পৌঁছায় তারা 
সোহমের বহু প্রতিক্ষীত ভাবনালোকের রূপসাগর
সোহমের মুখ থেকে শুনে শুনে শ্রেয়সীও ডুব দিল সেই রূপসাগরে 
ইম্প্রেশানিস্ট, স্যুরিয়ালিস্টিক সবরকমের পেন্টিংয়ের সাথে হাতেখড়ি হল তার ! 
Matisse, Rennoir, Claude Monet, Van Gogh, Paul Gauginর গল্পে 
মাত হয়ে গেছিল আর্ট গ্যালারির প্রতিটি করিডোর ! 
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হোল Da Vinciর আর এক বিরল সৃষ্টি দেখে 
যা মোনা লিসার থেকে কোন অংশে কম নয় 
মোনালিসার হাসি নেই তাতে কিন্তু সেই ভয় মিশ্রিত গাম্ভীর্য্য 
অনবদ্য লাগল তাদের 
বিদায়ের সময় শ্রেয়সীর মনে হল 
ডিসি তুমি দিগবসনা, সবুজ আঁচল শুভ্ররাজবেশে ছড়িয়ে দিয়েছো নীলের দিগন্তে 
সৌন্দর্য তোমার অলংকার, রাজকীয়তা তোমার মজ্জাগত, নিয়ম শৃঙ্খলা তোমার সহজাত, 
বেঁচে থাকো ডিসি তোমার অমলিন স্বর্গীয় রাজকীয়তা নিয়ে

১৩ ফেব, ২০১০

প্রেমের দীপাবলী

এই তো সেদিন তোমার সাথে লুভার মিউজিয়ামের করিডোরে লুকিয়ে,
ভার্সাই প্যালেসের প্রতিটি দরজা, কাঁচ ছুঁয়ে,
এই তো সেদিন পৌষমেলায় টেরাকোটার চাঁদের হাটে...
আমার সবকিছু আজ দেব তোমায় আমার সব অহংকারের বোঝা, 
পাগলামি, পাপপুণ্যের ফিরিস্তি, ধোপা-কাগজওয়ালার হিসেব থেকে শুরু করে সব কিছু,

আমার অভিশপ্ত যৌবনের অঙ্গীকার,
আমার অস্পষ্ট কৈশোরের আবছায়ায় তুমি ছিলে একদিন
আজ আমার যা কিছু তা তোমার জন্যে  

প্রেমের দীপাবলী জ্বলছে চেয়ে দ্যাখো,
নানাদেশের বিচিত্র সব প্রেমের দেবদেবীরা
সেই প্রেমের যজ্ঞে আহুতি দিলেন ভ্যালেন্টাইন !
হৃদয়ের একূল ওকূল সব উজাড় করে দিলেন
আর দিলেন শীতের ওম্‌, বসন্তের কোকিলের গান
প্রেমের শতদলেরা জেগে উঠল....
ছাড়পত্র পেল তোমার ঘরে যাবার

যে নীল এতদিন খুঁজেছিলাম ল্যাবটারির কপার সালফেটের কাঁচের শিশিতে
সেই নীল আজ আমার,
যে সবুজ এতদিন ছিল ফেরাস সালফেটের ক্রিস্টালে
তা এখন আমার মনে,
সেন্ট্রাল লাইব্রেরীর ধূলোপড়া জার্নালে খুঁজেছো আমায়,
খুঁজেছো ব্যস্ত কফি হাউসের নিঃস্ব টেবিলে 
আজ আমি শুধুই তোমার,
দূর থেকে দন্ডায়মান ভ্যালেন্টাইন আশির্বাদ করুণ !
বেঁচে থাকুক সব প্রেম-অপ্রেম, সব স্মৃতি-বিস্মৃতি
রডোডেন্ড্রণের উদ্ধত শাখার শিখর আলোকিত করে 

বেঁচে থাক প্রেমের কবিতারা
সেই সব অমিত লাবণ্যেরা, মালতীবালা স্কুলের সেলাই দিদিমণিরা
আর বেচারা বেণীমাধবেরা