২৭ মে, ২০১২

শ্রীমান তীর্থরাজ এবং জলপরি


  (আনন্দবাজার পত্রিকা, শনিবার, ২৬শে মে ২০১২, ওয়ানস্টপ ভ্রমণের কলমে প্রকাশিত)  
বিলাসপুর থেকে ভাড়ার গাড়িতে উঠে যাত্রা শুরু মধ্যপ্রদেশের অনুপপুর জেলার অমরকন্টকের উদ্দেশ্যে । মন্দিরময় পুরোণো শহর অমরকন্টক যার আরেক নাম তীর্থরাজ । যেখানে ভারতের দুই উল্লেখযোগ্য পর্বত বিন্ধ্য এবং সাতপুরা মিলিত হয়েছে মৈকাল পর্বতের সাথে । আর সেই অমরকন্টক হল নর্মদা এবং শোন নদীর উত্পত্তি স্থল ।
এই সেই নর্মদা নদী যে নাকি মৈকাল পর্বতের কন্যা । ভরা বর্ষায় তার জল থৈ থৈ রূপলাবণ্য নিয়ে পূব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হয়ে গাল্ফ অফ খাম্বাতে গিয়ে তার আত্ম সমর্পণ । তার এই যাত্রাপথের সঙ্গী হয়েছে কত কত উপনদী, মিলিত হয়েছে তার সাথে হিরণ, তিন্ডোনি, কোলার, হাথনী, গোয়ী, তাওয়া, এবং গাঞ্জাল.. বন্ধুনদী হয়ে তার কোলে এসে পড়েছে । স্থান দিয়েছে তার তীরে কত কত কোল-ভীল-কিরাট-ব্যাধ উপজাতিদের । যাদের লালনে শিবমহিমা ব্যাপ্ত হয়েছে নর্মদার তীরে তীরে । মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়েছে সেই অমরকন্টককে ঘিরে । নর্মদা যার উত্পত্তিস্থল । মহাকবি কালিদাসের রচনায় অমরকন্টককে "অমরকূট" বা যে পাহাড়ের শৃঙ্গের বিনাশ হয়না কিম্বা "আম্রকূট" বা যে পাহাড়ের চূড়া আমগাছের প্রাচুর্য্যে সমৃদ্ধ বলে আমরা জানি । নর্মদার একরাশ পাহাড়ী ঝোরায় মাঝেমাঝেই লুকিয়ে পড়া আর হঠাত হঠাত তার কলকল শব্দে গহিন জঙ্গলে বয়ে চলা দেখে মনে হল পাহাড় আর নদীর এই লুকোচুরি, নর্মদার তিরতির করে ঝরে পড়া কিম্বা দুধ-সাদা ফেনিল জলরাশির মধ্যে যে আনন্দ তা কিশোরী বালিকা বা যুবতীর হাসির মতই স্বতস্ফূর্ত এবং সাবলীল ।
অমরকন্টকের প্রাচীন মন্দিরগুলি পুরোণো ভারতীয় মন্দিরের ঐতিহ্য বহন করছে । অসাধারণ সুন্দর তার স্থাপত্য । কলচুরি মহারাজ কর্ণের আমলে তৈরী এই মন্দিরগুলি । সপ্তরথের আকৃতি বিশিষ্ট একটি শিব মন্দির রয়েছে যার তিনটি গর্ভগৃহ । একে বলে কর্ণ মন্দির । অমসৃণ লাল পাথরের তৈরী । কর্ণমন্দিরের উত্তরে ১৬টি স্তম্ভ বিশিষ্ট মাছেন্দ্র নাথ মন্দির । এছাড়া রয়েছে পঞ্চরথের আকৃতি বিশিষ্ট পাতালেশ্বর মহাদেও মন্দির । কেশব নারায়ণ মন্দির । ঠিক পাশেই রয়েছে সূর্যকুন্ড । কথিত আছে, একসময় নর্মদা এই স্থান থেকে উত্সারিত হত এবং তাই মহারাজ কর্ণদেব মহাভারতের ৩০০০বছর পর এই সূর্যকুন্ডটি এবং সংলগ্ন পাতালেশ্বর শিবমন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। কুমারী নর্মদাকে আশ্রয় দেবার জন্য একটি প্রাসাদ তৈরী করা হয় যার নাম রঙমহল ।
পুরোণো মন্দির দেখে এবার গন্তব্য নর্মদা উত্সস্থল বা নর্মদা-উদ্‌গম এবং যাকে ঘিরে রয়েছে একটি বিশাল কুন্ড ও তার আশেপাশে একরাশ নতুন মন্দির । রাজকীয় প্রবেশদ্বার এই মন্দিরের। এখন নর্মদার উত্সমুখ জলের ১২ফুট নীচে যেখানে নর্মদেশ্বর শিবলিঙ্গ রয়েছেন । মহাদেবের স্বেদগ্রন্থি থেকে সৃষ্ট এই নর্মদা । বছরে দু-একবার কুন্ডের পিছনে দরজা খুলে জল ছেঁচে ফেলে দিয়ে আবার কুন্ড ভর্তি করে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় । সেই সময় নর্মদেশ্বর এবং তার মন্দিরে প্রবেশ করা যায় ।
নর্মদার উত্তরতীরে কপিলধারা জলপ্রপাত যেখানে মহামুনি কপিল তপস্যা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন । কপিলধারা থেকে ১কিমি পশ্চিমে রয়েছে দুগধারা জলপ্রপাত । ঋষি দুর্বাসা এখানে তপস্যা করেছিলেন । এছাড়াও রযেছে ঘন জঙ্গলের মধ্যে শম্ভূধারা এবং দুর্গাধারা জলপ্রপাত । ঝরণার অবলীলায় ঝরে পড়া আর পাহাড়-মাটী-নদীর এত সুন্দর সখ্যতায় অমরকন্টক যেন হয়ে উঠেছে চির নবীন । নদীর উচ্ছলতায় পাহাড় যেন কথা বলে ওঠে এখানে ।
ভার্জিন নর্মদা সুন্দরীর যৌবনপ্রাপ্তি এই অমরকন্টকে । কুমারী নর্মদা তখনো মা নর্মদা হয়ে ওঠেনি । প্রাচীন মন্দিরের কিছু দূরেই পড়ে মাই-কি-বাগিয়া যেখানে রয়েছে চর্ণোদক কুন্ড । ঘন অরণ্যের মধ্যে ফল ও ফুলগাছের ছায়া সুনিবিড় ইকোসিস্টেমে কুমারী নর্মদা স‌ই পাতিয়েছিল গুল--বকোয়ালি ফুলের সাথে । অসাধারণ সুন্দর দেখতে এই ক্যাকটাসের ফুল । নর্মদার জোলো হাওয়ায় গভীর অরণ্যে ফুটে থাকে এই ফুল যার বৈজ্ঞানিক নাম এপিফাইলাম অক্সিপেটালাম। হিন্দীতে বলে নিশিগন্ধী বা গুল--বকোয়ালি । এটি একটি অত্যাশ্চর্য বনৌষধি ।
যাইহোক আমরা হলাম পরিদর্শক । কুমারী নর্মদা আর গুল--বকোয়ালির সখ্যতায় গড়ে ওঠা মা-কি বাগিয়া দেখে নিলাম চটপট । হোম, যজ্ঞ, পূজোপাঠ চলছে মহা ধূমধাম করে । খুব নাকি জাগ্র্ত এই স্থান ।
কিন্তু শীতে ফুলবন্ধুটির দেখা পেলাম না । মার্চমাসে আবির্ভাব হয় তার ।
মা কি বাগিচার ১ কিমি দক্ষিণে যাওয়া হল শোনমুডা বা শোন নদীর উত্সমুখ দেখতে । এটিকে অমরকন্টকের স্বর্গ বলা হয় । ব্রহ্মার বরপুত্র শোন । রাস্তা থেকে কিছুটা নেমে গিয়ে দেখা গেল একটি হনুমান মন্দিরের গায়ে শোনমুডা বা শোন নদীর উত্পত্তিস্থল । এখান থেকে অতি শীর্ণকায় শোন পাহাড়ের গা বেয়ে কিছুটা এগিয়ে তারপর প্রেসিপিসের ওপর দিয়ে পাহাড় থেকে লাফ মেরে নীচের উপত্যকায় জলপ্রপাত হয়ে ঝরে পড়ে বেরিয়ে চলে গেছে উত্তর দিকে সুদূর গঙ্গার সাথে মিলিত হবার জন্য । আশ্চর্যের ব্যাপার হল যে দুটি বড় নদী এত নিকটবর্তী স্থান থেকে উত্সারিত হয়ে দুটি দুদিকে বয়ে চলে গেছে । নর্মদা আরব্যসাগরের দিকে আর শোন উত্তরদিকে গঙ্গার মধ্যে দিয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে । প্রকৃতির এই ভৌগোলিক খেয়ালকে পুরাণে এক বেদনাদায়ক কাহিনীর মধ্যে লিপিবদ্ধ করা আছে । সেখানে বলা হয় নর্মদার সাথে শোনের বিবাহ নাকি কোনো কারণে বাঞ্চাল হয়ে যায় । আজীবনকাল এইভাবে নর্মদা ও শোন একে অপরের থেকে মুখ ঘুরিয়ে রয়েছে ।
ছোটবেলা থেকে যে মান্ধাতার কথা আমরা শুনে আসছি সেই পৌরাণিক সূর্যবংশীয় রাজা মান্ধাতা আনুমানিক ৬০০০ বছর পূর্বে অমরকন্টকের নিকটবর্তী ঋক পর্বতের গায়ে রাজত্ব করতেন । এও শোনা যায় যে মান্ধাতার পুত্র পুরুকুত্সার রাণী নদী নর্মদার নামকরণ করেছিলেন । তবে ইতিহাসে এর কোনো উল্লেখ নেই । 
 

১৩ মে, ২০১২

"রাজা লিয়র"



 "ভগবান আপনাদের কি বার্ধক্য আসেনা না আপনারা বৃদ্ধলোকেদের কষ্ট দেখতে পান না" ....রাজা লিয়র ( নাম ভূমিকায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় )
গতকাল, মধুসূদন মঞ্চে দেখে এলাম সুমন মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় শেকসপিয়ারের নাটক  "রাজা লিয়র" 

অনবদ্য অভিনয় এবং দেবজ্যোতি মিশ্রের vibrant যন্ত্রানুষঙ্গ শেক্সপিয়ারিয়ান নাটকের আবহ তৈরী করেছিল । মেতে উঠেছিল মধুসূদন মঞ্চের নাট্যমঞ্চ । বিশ্বজিত চক্রবর্তী এবং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়ের তারিফ না করে থাকা যায়না । সুমন মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় এই নাটক আরো চলুক বাংলা তথা ভারত তথা সারা বিশ্বের নাট্যমঞ্চে । টানটান সংলাপ । পোশাক-পরিচ্ছদে একশো শতাংশ ইউরোপিও ঘরাণা । যুদ্ধের বাতাবরণ সৃষ্টিতেও সমান পারঙ্গম পরিচালক । 
সর্বোপরি বৃদ্ধ পিতা রাজা লিয়রের সংলাপগুলি ভাবিয়ে তুলেছে আমাকেও । সত্যি কি বৃদ্ধ মানুষকে তাঁর সন্তানেরা শুধু চাটুকারিতার দ্বারা বশ করে যাবে চিরকাল পিতার সম্পত্তির লোভে? আর পিতার স্মৃতিভ্রম, বালখিল্য আচরণ , খিটখিটেপনা,মুড স্যুইং কি তাঁর রক্তের সম্পর্কের কাছেও  "ভীমরতি" বলে আখ্যা পাবে  ? এই চিন্তার জটগুলি আমাকেও কুরে কুরে খাচ্ছে প্রতিনিয়ত । 
"দাদাসাহেব" পুরষ্কার প্রাপ্ত সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের দীর্ঘ এবং সুস্থ জীবন কামনা করি ! তিনিও একজন পিতা বলেই  বোধহয় এত সুন্দর ফুটিয়ে তুলযে সক্ষম হলেন রাজা লিয়রের চরিত্রটি; 
" ভুল করোনা পিতাগণ , কেউ তোমাকে চিনবেনা , এমন কি তোমার নিজের সন্তান ও " এরূপ সংলাপ এত বাস্তবিক ! মনটাকে একটা ঝাঁকুনি দিল !  
আর সকল কলাকুশলী এবং সহশিল্পীদেরো অভিনয় চমতকার লেগেছে ।
আরো এগিয়ে চলো কিং লিয়র্! চরৈবেতি! বৃদ্ধ হয়েছ বলেই আমরা তোমাকে এখনো সেলাম জানাই ! তিনি আশি ছুঁই ছুঁই ! তবুও তাঁর দাপুটে অভিনয় অনেক তাবড় জোয়ানকেও হার মানাবে । তাই আবারো বলি বৃদ্ধ বলে কারোকে ঠাট্টা নয় । 

শেষের সেদিন কি ভয়ঙ্কর মনে কর !

৮ মে, ২০১২

রবিঠাকুর তোমাকে.......

তোমার ভাবনাগুলো আজ আমার সুরে গাইছে । যখন সেই ছোট্টটি ছিলেম তখন থেকে শুনেছি তোমার নাম । আমাদের পুরোণো বাড়ির সেই তাকের ওপর তোলা ঢাউস রেডিও থেকে, মায়ের কাছে আর স্কুলের রচনার  খাতায় । সেই থেকে হাতে খড়ি ।  তারপর হোঁচট খেয়েছি ব‌ইয়ের পাতায় তোমার সাথে । সাহিত্যের ধারাপাত অধরা তখনো । তারপর বড় হওয়ার সাথে সাথে মেঘের কোলে রোদ আর রোদের  উঠোনে কথা-কাহিনীর বৃষ্টি মেখেছি। তখন আমি মাধ্যমিক । জীবনস্মৃতি আমার ভালোলাগায়, মন্দলাগায়  আমার হয়ে উঠেছে । নতুন বছর আর বোশেখ মানেই তোমার পথ চাওয়া ।  কালবোশেখির বিকেল গড়িয়ে আমার গীতবিতানের পাতায় গানভাসি সাঁঝ  । আমারো সদ্য টিন-পেরোনো জীবনসিঁড়ি । ওঠানামা , স্কুলের নবীনবরণ, নতুন বর্ষার সবুজ উত্‌সব, আবার তোমার সাথে, যেন মরুবিজয়ের আনন্দ বুকে.............

কিছুদিন ধরে পড়ছিলাম; একটি ব‌ই, অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য্যের সম্পাদনায় “দশজন নারীকে লেখা রবীন্দ্রনাথঠাকুরের শ্রেষ্ঠ পত্রগুচ্ছ ”

আজ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনের পুণ্যলগ্নে আমার পাঠকবন্ধুদের জন্য সেই ব‌ইটি থেকে কবির লেখা এক খানি পত্রের কিছু অংশ তুলে ধরলাম । চিঠিটি লেখা কবি অনুরাগী হেমন্তবালা দেবীকে এবং তারিখ হল ২৩শে বৈশাখ :
জন্মদিনের প্রভাতে ঘুম থেকে উঠতেই নানা লোকের কাছ থেকে নানা উপহার এসে পৌঁছ্ত । তখন জীবনের প্রভাতের আকাশ ছিল উজ্জ্বল, স্নিগ্ধ, স্বচ্ছ; মন ছিল সুকুমার সরস , স্নেহের ছোঁয়া লাগলেই বেজে উঠত মনোযন্ত্রের তার ; তখন জন্মদিনগুলির সমস্ত দিনই গুঞ্জরিত হয়ে থাকত তার রেশ থামতে চাইত না। কারণ তখন পৃথিবী প্রায় ছিল আমার সমবয়সী, পরস্পর এক সমতলে ব‌ইত হৃদয়ের আদানপ্রদানের প্রবাহ; এখনকার জন্মদিন তো আর কাঁচা নয়, কচি নয় ,মন তার সকল প্রত্যাশার শেষসীমায় এসে পৌঁচেছে । সেই আমার অল্প বয়সের ২৫শে বৈশাখের স্নিগ্ধ ভোরবেলাটা মনে পড়ছে ….
শোবার ঘরে নিঃশব্দচরণে ফুল রেখে গিয়েছিল কারা প্রত্যুষের শেষ ঘুম ভরেগিয়েছিল তারি গন্ধে, তার পরে হেসেছি ভালবাসার এই সমস্ত সুমধুর কৌশলে, তারাও হেসেছে আমার মুখের দিকে চেয়ে,
সার্থক হয়েছে এই পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ । 

৬ মে, ২০১২

"Hate Story"


"কাব্যকৃষ্ণা" ওরফে বাংলার পাওলি দামের ইনটেলেকচ্যুয়াল ব্যান্ড উইডথের ব্যাপ্তি টলিউড থেকে বলিউডে ছড়ানোর প্রয়োজন ছিল এবং "হেটস্টোরি" তা প্রমাণ করেছে । 
মূলচরিত্র কাব্যকৃষ্ণার উদীয়মান জার্নালিষ্ট থেকে কোম্পানির এক্সিকিউটিভ ও সেখান থেকে বিতাড়িত   হয়ে শহরের নামকরা কলগার্ল হয়ে সেই কোম্পানিরই বোর্ড অফ মেম্বারর্সএ উত্তরণ   --  সত্যি সত্যি নিখুঁত স্টোরিলাইনের প্রশংসা কুড়োতে সক্ষম ।
এই গল্পে কেউ কারোকে ভালোবাসেনা  বরং ঘৃণাই করে । কেবল কাব্যর ফোটোগ্রাফার বন্ধু ভিকি ছাড়া ।  একসময় সেও ঘৃণা করতে শুরু করেছিল কাব্যকে তার গতিবিধি দেখে ।কিন্তু ভিকিই শেষ পর্যন্ত কাব্যের সাথে থেকে যায় । তাকে সাহায্য করে ।   
কাব্য কেন ঘৃণার পাত্রী তা বুঝতে দেখতে হবে হেটস্টোরি । "হেট" করা তো দূরের কথা, দেখেই তাকে ভালোবাসতে ইচ্ছে হবে  ।  
একটি বুদ্ধিদীপ্ত মেয়ের বদলা নিতে নিতে সবশেষে জিতে যাওয়া দেখতে দেখতে বেশ পজিটিভ এটিটিউড প্রমাণ করে । প্রথম দিকে ঐ মেয়ে বেশ কয়েকবার ভুলও করে ঠকে যায় যেমন আমরাও মানুষকে বিশ্বাস করে ঠকি । 

মানুষ মাত্রেই ভুল করে । শুরুতে সেও ভুল করেছে । আর টানটান চিত্রনাট্যে একা পাওলি রক্ষা করে আসল ছবিঘর ! মাঝেমাঝে দু একটা আলগা সূতো থাকলেও টেনশানের পাল্লাই বেশি ।
  জেন-এক্স এর তুখোড় জার্নালিষ্ট কাব্যকৃষ্ণার  সিমেন্ট কোম্পানির করাপশানের ফর্দাফাঁস দিয়ে গল্পের শুরু । প্রশ্ন জাগে সেই তুখোড় মেয়ে কি করে আবার নিজেই সেই কোম্পানির ফাঁদে পা দিয়ে সেখানে চাকরি নেয় ! সেটাই আপত্তিকর । আবার বলি  টু আর ইজ হিউম্যান ! 
ফেঁসে যায় সেই চৌখশ মেয়ে অবাঞ্ছিত মাতৃত্বে? এত বোকা হয় এখনকার জার্নালিষ্ট? এমন দু একটা আলগা বল আছে । তারপর সেই অবাঞ্ছিত মাতৃত্বের বিনাশ হয় সেই কুকর্মের ভিলেনের দ্বারা যে পুরোপুরি তাকে সারাজীবনের মাতৃত্বের স্বাদ থেকে বঞ্চিত করে । তা জানতে পেরে কাব্যের আবার বদলা নেওয়া । সমাজ ও লোকলজ্জার ভয়ে কাব্যের বাবা মাও তাকে ঘৃণার চোখে দেখতে শুরু করে  । তাই আবার তা "হেট স্টোরি"  ।

 শিল্পপতি  বাবার ওপর ছেলের জড়সড় ভাব ।এহেন অপারগ ছেলের ওপর ভরসা করে কোম্পানির দায়িত্ত্ব দিয়ে কোম্পানিকে ডুবিয়ে দেওয়া দেখে  বাবার কাছে একমাত্র ছেলে ঘৃণার পাত্র । বাবা ঠকেছে ছেলেকে বিশ্বাস করে । তাই আবার "হেটস্টোরি" । বাবা বারবার ছেলেকে বোঝাতে চেষ্টা করে  যে বদলা নেওয়াই কোম্পানির উন্নতি নয় বা ভবিষ্যত লক্ষ্য নয় কিন্তু ছেলে ( সিদ্ধার্থ) কাব্যকৃষ্ণার ওপর প্রতিশোধ নেওয়াই জীবনের মূল উদ্দেশ্য । বিজনেস রসাতলে ততক্ষণে ।    
এদিকে কাব্যও তার সিদ্ধান্তে অটল । আর কেনই বা হবেনা ? উইমেন এমপাওয়ারমেন্টের যুগে বিদ্যা বালান কহানীতে যদি পারে পাওলিই বা পারবে না কেন? আর? এই উপমহাদেশের রাজনৈতিক মহলের সাথে শিল্পপতিদের ওঠাবসা -- কত কত  কোটিটাকার কেলেঙ্কারি! ঠিক যেমন হয়! আমাদের প্রতিদিনের "হেটস্টোরি"! খুব বাস্তব  চিত্র ।  
আবার কত কত কোম্পানির এজিএমএ আমন্ত্রিত শেয়ারহোল্ডারদের সামনে ডিভিডেন্ডের বড়সড় অঙ্ক দেখিয়ে, উপহারের প্রলোভন দেখিয়ে কোম্পানির উন্নতি দেখানোর চেষ্টা, আদপে যা ভুয়ো, আসলে যা মিথ্যের রূপোলী মোড়কে আবৃত । খাতায় কলমে সে কোম্পানির কোনো অস্তিত্ত্বই নেই । লাভের অঙ্ক খাতায় কলমে বেড়েই চলে ঠিক যেমনটি হয়ে থাকে । 
 ভিকির সাথে কাব্যকৃষ্ণার বন্ধুত্ব একবার কানে কানে বলে দেয় ট্রু লাভ স্টোরির কথা । 
তবে সবশেষে কাব্যর শরীর বুলেটে ঝাঁঝরা হ'ল কেন? তা জানতে হলে দেখতে হবে " হেটস্টোরি"!
 কাব্য মরিয়া প্রমাণ করিল যে সে মরে নাই । বঙ্গতনয়া বলিউডে বাঁচিয়া থাকিবেই !