২০ অক্টোবর, ২০১৭

"ভাইবোনফোঁটা"

ছবি সূত্রঃ গুগল

* সূর্যের ঔরসে সংজ্ঞার গর্ভে যম এবং যমী নামে একজোড়া পুত্র কন্যা হয়। মাতৃজঠরে একত্রে প্রতিপালিত ভ্রাতা যমের জন্য দেহের বাইরে এসে ভগিনী যমীর খুব কষ্ট হত। সে যত বড় হতে লাগল তত তার কষ্ট বাড়তে লাগল। অন্যথায় বিমাতা ছায়া দুজনকে পৃথক করে রাখতে চাইলেন। ছায়ার কুমন্ত্রণায় সূর্য নিজ পুত্র যমকে নরকে এবং কন্যা যমীকে মর্ত্যে পাঠিয়ে দেন। বহুদিন অতিবাহিত হলে যম এবং যমী উভয়ে একে অপরের বিচ্ছেদে কাতর হলেন। যম দেখা করতে গেলেন যমীর সঙ্গে। আর সেদিনটি ছিল কালীপুজোর দু-দিন পর কার্তিক অমাবস্যার শুক্লাদ্বিতীয়া তিথি যা আজো ভ্রাতৃদ্বিতীয়া বা যমদ্বিতীয়া নামে খ্যাত। ভাইয়ের জন্য যমী ঘর সাজিয়ে, নানাবিধ খাদ্যদ্রব্যের আয়োজন করে উপহার সাজিয়ে নাকি বসেছিলেন তাই ঐদিনে বোনেরা ভাইদের জন্য এভাবেই পালন করে থাকে। কারণ একটাই। ভাইয়ের মঙ্গলকামনায়, ভাইয়ের পরমায়ু কামনায়। এটি বলে পুরাণ।
* ঋগ্বেদ বলে যম আর যমী মায়ের শরীরের বাইরে এসেও নাকি মাতৃজঠরের একত্র অবস্থানকে ভুলতে পারেনা। তাই যমী যমকে কামনা করে বসেন। বলেন, আমাকে তোমার সন্তান দাও। যম কিন্তু নিরুত্তর। প্রত্যাখ্যান করেন আপন সহোদরা যমীকে।
* অথর্ববেদে বলে যমুনা নাকি যমকে বলেছিলেন মায়ের পেটে তো তাঁরা একসাথেই দশমাস পাশে শুয়ে ছিলেন অতএব এখনো তিনি সেভাবেই যমকে শয্যাসঙ্গিনী রূপে কামনা করেন কিন্তু যম বোনের মুখে এমনটি শুনে যেন তড়িতাহত হলেন। বলেন, জন্মসূত্রে এক পরিবারের হলে যৌনসম্পর্ক স্থাপন করা গর্হিত কর্ম।
* যদিও প্রাকবৈদিক যুগে ভাই-বোন বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হয়েছে তাই যমীর এরূপ ধারণা অমূলক নয়। কিন্তু যম সেই ধারণাকে এক্কেবারে আমল না দিয়ে চলে যান।
আজ আমাদের শরীরবিজ্ঞান বলছে ভাই-বোনে বিবাহ হওয়াটা সত্যি সত্যি যুক্তিযুক্ত নয় ।
জিনগত সমস্যা এই বিবাহকে নিরাপদ করেনা অনেকাংশেই। সুস্থ মাতৃত্ব আসেনা। এলেও জিনগত ত্রুটি নিয়ে সন্তান আসে তাদের যা পরবর্তী জীবনে দুর্বিষহ। ভয়ানক সব রোগের স্বীকার হয় ভাইবোনের মিলনের ফলস্বরূপ সন্তানটি। সে যুগে এত বিজ্ঞান ছিলনা। ছিলনা হেমাটোলজির পরীক্ষানিরিক্ষা। মানুষ বুঝতনা জিনতত্ত্ব ও জৈবরহস্য। সেই বিয়ের ফলশ্রুতি মোটেই সুখকর হয়নি তাই বুঝি ধীরে ধীরে বিদায় নিয়েছে সহোদর-সহোদরার বিবাহ। আর তাই বুঝি যমীর ভাইকে বিবাহের আবেদন ও বোনকে বিবাহে যমের এই প্রত্যাখানের লোকায়ত কাহিনীটি প্রচার করে ধীরে ধীরে মর্যাদার আসনে বসানো হয়েছে ভাইফোঁটাকে আর সমাদর করা হয়েছে ভাইবোনের মধুর সম্পর্কটিকে।

যা হয়েছে তা সমাজের ভালোর জন্যেই। যম-যমীর সুস্থতার জন্যেই। আর ধীরে ধীরে লুপ্ত হয়েছে ভাইবোনের বিয়ে। তাই বুঝি যমী মনকে বুঝিয়ে বলে, যমের অখন্ড পরমায়ু আশা করে। বোনেরা এখনো ভাইয়ের কপালে চুয়া-চন্দনের ফোঁটা দিতে দিতে বলে ওঠে

ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁট৷ ।
যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা।
ঢাক বাজে, ঢোল বাজে আর বাজে কাঁড়া।
আজ অবধি ভাই তুমি যেওনা কো যমের দক্ষিণ পাড়া।

সেই সময় কেউ বোধহয় যমীকে বুঝিয়েছিল যে এই বিয়েতে ঠিক হবেনা। তুমি যদি সত্যি সত্যি ভাইকে ভালোবাসো তবে তার সুস্থ পরমায়ু কামনা করো। তাকে পেট পুরে তার মনের মত পদ রেঁধেবেড়ে খাওয়াও, তাকে উপহার দাও..শুধু এই বিয়ে থেকে শতহস্ত দূরে থাকো।
কালের স্রোতে ধুয়েমুছে সাফ হল ভাইবোনের যৌনতার গন্ধ মাখা সম্পর্ক। আর ঠাঁই পেল স্বর্গীয় সুন্দর এক অমলিন, পবিত্র সম্পর্ক। যম যমীর ফোঁটা নিয়ে পরম তৃপ্তি পেলেন। আর সমাজ স্বীকৃতি দিল ভাই-ফোঁটা, ভাই-দুজ, ভাই-বীজ, ভাই-টীকা বা ভাই-তিলকের মত পবিত্র উত্সবকে।

*তাই আবহমান কাল ধরে বোনেরা ভাইদের মঙ্গল কামনা করে ফোঁটা দেয় ভাইয়ের শত পরমায়ু, উন্নতি কামনা করে।
কিন্তু কখনো কি শুনেছি আমরা এর উল্টোটা? অর্থাৎ ভাই তার বোনকে ফোঁটা দিয়ে বোনের সুস্থতা, সুরক্ষা এবং সার্বিক উন্নতি চাইছে? সকালে ধোপদুরস্ত হয়ে মাঞ্জা দিয়ে, ধুতির কোঁচা দুলিয়ে ভাইরা যুগে যুগে বলে এল, "ভাইফোঁটা নিতে যাচ্ছি"। কিন্তু "বোনফোঁটা দিতে যাচ্ছি" ও তো বলতে পারত তারা।
তাই এস আমরা চালু করি সামগ্রিক "ভাইবোনফোঁটা"। দু-তরফের পক্ষ থেকেই ফোঁটা চালু হোক!

১৯ অক্টোবর, ২০১৭

দীপাণ্বিতার স্মৃতিকণা



মার স্মৃতিতে ছোটবেলায় কালীপুজোর প্রদোষে দীপাণ্বিতা লক্ষ্মীপুজোর স্মৃতি অমলিন। সব ঘটিবাড়িতেই এই পুজো হবার কথা। আমাদের কোজাগরী পুজো নেই তাই এই পুজোয় মহা ধুম হত। সকাল থেকেই সাজো সাজো রব পড়ে যেত বাড়িতে। মা, ঠাম্মা উপোস থাকতেন। আর সারাদিন ধরে বিকেলের পুজোর জোগাড় যন্ত্র চলত। আগেরদিন বাজার হয়ে যেত। নারকোল নাড়ু মা আগের দিন করে রাখতেন। ঠাম্মা বসে নাড় পাকাতেন। আখের গুড়ের গন্ধে বাড়ি ঘর ম ম করত। স্কুল ছুটি থাকায় পড়াশুনো শিকেয় তখন। বারান্দার গ্রিলে মোমবাতি, ছাদের প্যারাপেটে মোমবাতি জ্বালানো নিয়ে কত এক্সপেরিমেন্ট চলত আমার আর ভাইয়ের। পুজোর দিন সকালে বাগানের ফুল তোলা ছিল আমার কাজ। একটাও কুঁড়ি না ছিঁড়ে শিউলি, জবা অপরাজিতা ফুল, স্থলপদ্ম তুলে সাজি ভরে আনতাম। ভাই ব্যস্ত তার বাজী নিয়ে। বাজি রোদে শুকনো, কড়মড়ে করে তবে তার শান্তি। আর ক্যাপ ফাটানো নিয়ে তার কত উত্তেজনা। একবার বম্বে থেকে বাবা তার জন্য নিয়ে এলেন স্পেশ্যাল এক ক্যাপ ফাটানোর স্টীলের বন্দুক। তার সঙ্গে আবার কিছু ক্যাপ ফ্রি ছিল। সেই দেখে আমিও উত্তেজিত। যদিও হাতে খেলনা বন্দুক দেওয়া মায়ের নাপসন্দ তবুও ভাইয়ের ইচ্ছে কে বেশ ভালোই প্রশ্রয় দেওয়া হত বাড়িতে।আমাদের বাড়ীতে পুত্র সন্তান ছোট থেকেই বেশ অগ্রাধিকার পায়, দেখেছি এমনটি। কিন্তু আমি
আমার ন'বছরের ভাকে এতটাই স্নেহ করতাম যে তার আনন্দে আমার আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে যেত। ভাবতাম এটাই যেন হওয়া উচিত। ও তো কত ছোট আমার থেকে। সেই ফুল দিয়ে মা দীপাণ্বিতা লক্ষ্মীর জন্য মালা গাঁথতেন দেখবার মত। এবার পুজোর ভোগ রাঁধার প্রস্তুতি। বড় হয়ে মা আমাকে বঁটিতে ভোগের ভাজাগুলি কাটতে বলতেন। পাঁচভাজার মধ্যে আলু, পটল, ফুলকপি, বেগুণ, আর রাঙা আলু ভাজা। মা ভাগ করে দিয়ে ভোগের খিচুড়ি বসাতেন। আমি মন দিয়ে ভাজা কাটতাম। ভাই ঠিক সময়ে এসে আমাকে বলত দিদি, বেশী করে গোল গোল চাকা চাকা আলুভাজা কেটে দে প্লিজ। মা যা আলু দিয়েছে তার প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ আলু কাটিয়ে নিত, যাতে না কম পড়ে। এবার মায়ের সেই আলুভাজতে প্রাণান্ত হত। নিয়মিত বাড়িতে এমন আলুভাজা হত না। তাই বুঝি ওর এমন আসক্তি ছিল ঐ স্পেশ্যাল আলুভাজায়। মা ভোগের জন্য সোনামুগ ডাল আর গোবিন্দভোগ চালের অপূর্ব খিচুড়ি, ঘিভাত, ফুলকপির ডালনা, রাঁধতেন। এরপর সুজির পায়েস বসত পেতলের কড়ায়। তাতে কাজু, কিশমিশ দিয়ে গার্ণিশ করার দায়িত্ব পড়ত আমার ওপরে। আর হত একটা স্পেশ্যাল চাটনী। এটা সারাবছরে আর হত না বাড়িতে। পালংশাক ভাজা হয়ে যেত আগেভাগে। সদ্য ওঠা মূলো, রাঙা আলু, বেগুণ আর মটর ডালের ছোট্ট ছোট্ট বড়ি দিয়ে সেই চাটনী।সরষে, ফোড়ন আর নামানোর ঠিক আগে একাটু ময়দা গোলা আরা কাঁচা তেঁতুলের ক্বাথ। সে যে কি অপূর্ব রসায়ন!
সব শেষে চাপত ছোট্ট ছোট্ট গোল গোল ঘিয়ের লুচির খোলা। সে গন্ধ আর পেতুম না সারা বছর।বছরের একটি দিনেই লুচির ময়দা কি করে শক্তপোক্ত করে, কম জল দিয়ে মাখতে হয় শিখে গেছিলাম সারা জীবনের মত। ভাই পাশ থেকে এসে বলত দিদি, বেশী করে ময়দা টা মেখেছিস তো? তারপর পাহাড় প্রমাণ সেই লুচি ভাজতে উপোসী মা হিমশিম খেতেন।
ভোগ রান্নার সময় মা একটিও কথা বলতেন না। পাছে ভোগের মধ্যে থুতু পড়ে যায়।
এবার মা লক্ষ্মী পাততেন। ধানের মধ্যে লক্ষ্মী আর তাঁর পেঁচার আসন গ্রহণ সুচারু আলপনা দেওয়া জল চৌকি তে। ঠাকুমার লক্ষ্মীর হাঁড়ি পেয়েছিলেন মা। সেই ধান প্রতিবছরে বদলানো হত পৌষ মাসে নতুন ধান উঠলে। এবার লক্ষ্মীর পা, ধানের শীষ এঁকে মা পিটুলি গোলা দিয়ে সারা বাড়ি আলপনা দিতেনা। লক্ষ্মীর কুনকে ভর্তি ধান আর ধান, পাশে সিঁদুর কৌটোখানি। মা লক্ষ্মীর ছবিতে পুজোই আমাদের রীতি।
লক্ষী, নারায়ণ আর ধনপতি কুবেরের পুজো হয় । পিটুলি বাটা দিয়ে মা তাঁর নিপুণ হাতে তৈরী করেন তিন পুতুল.... সিঁদুর দিয়ে পিটুলির তৈরী লালরঙের লক্ষ্মী পুতুল, নীলের গুঁড়ো দিয়ে নীল নারায়ণ পুতুল, আর অপরাজিতা পাতা বাটা দিয়ে সবুজ কুবের পুতুল । কলার পেটোতে সেই পুতুল তিনটিরই আসলে পূজো হয় ঐদিন । আর একটি কলার পেটোতে মাথা থেকে আঁচড়ানো চুলের নুড়ি, একটু গোবর আর একটা ভাঙা মোমবাতি রেখে তৈরী হয় অলক্ষী । চাটাই পিটিয়ে, মোমবাতি জ্বেলে অলক্ষীকে বাড়ির বাইরে বের করে পূজো করে, লক্ষী, নারায়ণ আর ধনপতি কুবেরকে শাঁখ বাজিয়ে বরণ করে প্রতিষ্ঠা করা হয় ।
চাটাই বাজাতে বাজাতে বলা হয়,
"অলক্ষ্মী বিদেয় হোক, ঘরের লক্ষ্মী ঘরেই থাক্'
আসলে কুললক্ষ্মী তথা ভাগ্যলক্ষ্মীর পুজো এই দীপাণ্বিতা লক্ষ্মীপুজো। সূর্যাস্তের আগেভাগে প্রদোষকালে হয় অলক্ষ্মীর পুজো। তারপর শুরু হয় দীপাণ্বিতা লক্ষ্মীর পুজো। ব্রতকথা অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানলাম ঈশ্বর, মানুষ, পুজোআর্চা এসবকিছুই তো মানুষের মনগড়া। এই অনুষঙ্গগুলি জীবনযাপনের উপলক্ষ্যমাত্র। উপযুক্ত চেষ্টা এবং ভাগ্যের জোরে মানুষের সংসারে শ্রীবৃদ্ধি হয়। যাকে আমরা বলি লক্ষ্মীর আগমন। তাই ভাগ্যলক্ষ্মীকে বরণ করা হয় দীপাণ্বিতার দিনে।

২ অক্টোবর, ২০১৭

ধান্যলক্ষ্মী বা ধনলক্ষ্মী কোজাগরী


এইসময়, ২রা অক্টোবর ২০১৭


দুর্গা পুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই ধুমধাম করে আশ্বিনমাসের পূর্ণিমাতে কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর রীতি মূলত পূর্ববাংলার মানুষদের। তবে এখনো বর্ধমানের ঘরে ঘরে এই পুজো লক্ষ্য করা যায়। কারণ দেশভাগের পর বহু মানুষ বর্ধমান জেলাতেও এসে ঘর বেঁধেছিলেন।এঁরা কেউ মাটীর সরায় রঙীন লক্ষ্মী মূর্তি এঁকে অথবা কেউ মাটীর প্রতিমা এনে পুজো করেন ঘরেই। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাংলার ব্রত ব‌ইতে আছে, দেবীর কাছে খেতের ভাল ফলনের আশায় মানুষ পুজো দেয়। বর্ধমান জেলাটি আমাদের রাজ্যের শস্যভান্ডার। তাই কোজাগরী পুজোর উপাচার হিসেবে ফলমিষ্টি ছাড়াও ধানজাত দ্রব্যাদি অর্থাত খ‌ই, চিঁড়ে, মুড়কি, মুড়ি ইত্যাদির মোয়া অবশ্য‌ই নিবেদিত হয়। তাই কোজগরী লক্ষ্মী পুজো বর্ধমনের এই লৌকিক কৃষি উত্সবও বটে। আকাশে পূর্ণচাঁদের রূপোলী জ্যোত্স্নায় ঘরে ঘরে সোনার ধানের গোলা। তাই সম্বচ্ছর যেন ধনের ফলন নিয়ে গৃহস্থ কে চিন্তা করতে না হয়, তাদের পরিবার যেন থাকে দুধেভাতে। আউস ধানে পরিপূর্ণ মাঠঘাট। লক্ষ্মী তাদের ধান্য তথা ধনদেবী।

মানুষের বিশ্বাস কোজাগরীর রাতে ঘুমোনো চলবেনা। তাহলেই লক্ষ্মী তাকে ছেড়ে চলে যাবে। মা লক্ষ্মীর হাতে ধানের শীষের গুচ্ছ। চৌকাঠে পিটুলিগোলার আলপনা, সারা বাড়ীময় লক্ষ্মীর পদচিহ্ন এই বিশ্বাসে...তিনি ঠিক আসবেন প্রত্যেক ব্রতীর ঘরে। পুরাণে বলে সমুদ্রমন্থনের সময় ক্ষীরসাগর থেকে পদ্মফুল হাতে লক্ষ্মীদেবী‌ই উঠে এসেছিলেন হাতে রাশিরাশি সোনাদানা, মণিমাণিক্য নিয়ে।
সমুদ্রমন্থনের সময় উঠে এসেছিলেন বলে লক্ষ্মীর অপর নাম সমুদ্রকন্যা। কেউ আবার ডাকে ভূদেবী অর্থাত সারা পৃথিবীর, সমগ্র প্রকৃতির পালনকর্ত্রীরূপে।
শারদপূর্ণিমা তাঁর যে ভীষণ প্রিয়। আশ্বিনের এই পূর্ণিমার সময় বর্ষা ঋতু ফিরে যায় একবছরের মত। মৌসুমীবায়ু বিদায় নেয়। শস্যশ্যামলা মাটি থেকে সোনা রঙের নতুন আউস ধানের গন্ধ ওঠে। ভক্তের ঘরে পরব আর লক্ষ্মী তখন কোজাগরী। এটি তাঁর কৌমুদী-উত্সব। চাঁদের আলোয় তখন রাত পরিক্রমার শুরু। কোজাগরী হয়ে তিনি নজর রাখেন কে তাঁকে চায়। কে তাঁর পালন করে। কে তাঁকে বেঁধে রাখে আজীবন।
অবনীন্দ্রনাথের মতে কোজাগরী লক্ষ্মী হলেন আদিম অনার্য লক্ষ্মী। আর কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর ব্রত কথাটিও সেই অনার্যা কন্যা কে ঘিরেই।
উজ্জয়িনীর এক ধার্মিক রাজা তাঁর প্রজাপালনের জন্য খুব সুখে কাল যাপন করতেন। একবার তিনি ঢেঁড়া পিটিয়ে জানিয়ে দিলেন যে তাঁর রাজ্যের হাটে কোনো অবিক্রিত জিনিষ যেন না পাড়ে থাকে। দিনের শেষে তিনি‌ই সেই জিনিষটি কিনে নেবেন দোকানীর কাছ থেকে। রটে গেল খবর। জানা গেল এক কামারের কাছে এক ভয়ানক চেহারার বিশ্রী নারীমূর্তি পড়ে রয়েছে। কামারকে জিগেস করতেই সে বলল, মহারাজ এটি নাকি অলক্ষ্মী মূর্তি তাই কেউ কিনতে চাইছেনা। মহারাজ বললেন, তিনি যখন কথা দিয়েছেন তখন সেটি কিনে নিয়েই বাড়ি ফিরবেন। নয়ত অধার্মিক রাজা হিসেবে তাঁকে রাজ্যের মানুষ চিনে যাবে। রাজা অগত্যা সেই লোহার মূর্তিটি কিনে এনে নিজের ঠাকুরবাড়িতে তাকে আশ্রয় দিলেন। মাঝরাতে নিজের রাজপুরীর মধ্যে মেয়েলি কান্নার কন্ঠস্বর শুনে রাজা দেখতে পেলেন এক ক্রন্দনরতা নারীমূর্তিকে।
রাজা তাকে জিগেস করলেন "তুমি কাঁদছো কেন মা?'
সেই নারী বললে," মহারাজ, আমি আপনার রাজলক্ষ্মী, আজ আপনার বাড়ি থেকে চলে যাচ্ছি'
রাজা বললেন, কেন মা? আমি কি অন্যায় করেছি? জানতে পারি?'
সেই নারীমূর্তি বললে," আপনি রাজবাড়িতে অলক্ষ্মীকে ঠাঁই দিয়েছেন। অতএব আমি আর এখানে থাকতে পারবনা।' এই বলে তিনি অন্তর্হিতা হলেন। আবার কিছুপরে রাজা দেখলেন আরেক সুন্দরী, সুশীলা নারী প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। সে হল ভাগ্যলক্ষ্মী। তার কিছুপরেই যশোলক্ষ্মী, কুললক্ষ্মী, সকলেই একে একে রাজপুরী থেকে বিদায় নিল। রাজার সেরাতে ঘুম এলনা। এবং সকলেরি বিদায় নেবার কারণ হল সেই অলক্ষ্মীমূর্তিটি যেটি রাজা কিনে এনেছিলেন।

এভাবেই তাঁর দিন কাটে।

তবুও শিল্পীর হাতে বানানো সেই অলক্ষ্মীমূর্তিটি ফেলে দিতে রাজার মন চায়না। শিল্পী তো আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে তৈরী করেছে তাকে।

শিল্পীর শিল্পীসত্তায় আঘাত করতে মন চায়না রাজার। তাই প্রাসাদ থেকে একটু দূরেই সরিয়ে রাখেন তাঁকে কিন্তু ফেলতে পারেন না। ক্রমে তিনি দরিদ্র হতে থাকলেন। ধন, মান, যশ, সাফল্য ভাগ্য তাঁকে ছেড়ে চলে যায়। একদিন রাজা দেখতে পেলেন ধর্মরাজ তাঁকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। রাজা তখন নিরূপায় হয়ে ভাবলেন এটা মেনে নেওয়া যায়না। ধর্ম তাঁকে ত্যাগ করলে তিনিতো অধার্মিক রাজা রূপে পরিগণিত হবেন। রাজা তখন ধর্মকে পুরো ব্যাপারটা বুঝিয়ে বললেন।

ধর্মরাজা রাজার যুক্তি শুনে খুব খুশি হলেন। ধর্মরজের কথায় আশ্বিনমাসের পূর্ণিমায় রাণীকে কোজাগরী ব্রত পালন করতে বললেন । রাণী সারারাত জেগে বসে র‌ইলেন। আর নিষ্ঠাভরে লক্ষ্মীর পুজো করে রাজা সব ফিরে পেলেন। আবার আগের মত তাঁর রাজবাড়ি ভরে উঠল জাঁকজমকে, ধনসম্পত্তিতে।

আর ঠিক সেখানেই যেন মানব সংসারে ভাল এবং মন্দ মেয়ের টানাপোড়েনের গল্পটি উঠে আসে। লক্ষ্মী এবং অলক্ষ্মীর পুজোর তাই বুঝি চল। কারোকে ফেল না। সব মেয়েই পূজ্য। দোষে গুণে গড়া মানুষ। লক্ষ্মীকে বরণ করলেও অলক্ষ্মীকেও ফেলে দেওয়া চলবেনা...ইহজগতের মানুষের জন্য সেই শিক্ষামূলক বার্তা আজো পাই এই পুজোর থেকে। লক্ষ্মী সুরূপা আর অলক্ষ্মী কুরূপা। লক্ষ্মী শান্ত আর অলক্ষ্মী চঞ্চলা। তারা তো আমাদের ঘরের আর পাঁচটা মেয়েরি মতন। তাই অলক্ষ্মীর পুজো করে নিয়েই লক্ষ্মী পুজোর রীতি।

কুমারীপুজো এবং



এইসময় ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৭
বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলার মন্দির তিনশো বছরেরও পুরোনো এক তীর্থস্থান। এটি অবিভক্ত বাংলার প্রথম নবরত্ন মন্দির। এখানে দেবী মূর্তি কষ্ঠি পাথরের অষ্টাদশভুজা সিংহবাহিনী, মহিষমর্দিনী, মহালক্ষী রূপিণী । মায়ের ঘট প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে এখানে শারদোতসবের সূচনা হয়। মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদে কৃষ্ণসায়র থেকে রূপোর ঘটে জল ভরে শোভাযাত্রা বের হয় মন্দিরের উদ্দেশ্যে।ঘোড়ায় টানা রথে বাদ্যযন্ত্র, ঢাক সহকারে বিশাল শোভাযাত্রায় অংশ নেন শহরবাসীরা। শহরের রাজপথের দুই ধারে মানুষের ভিড় উপচে পড়ে । অবশেষে শোভাযাত্রা এসে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে শেষ হয় এবং ঘট প্রতিষ্ঠা হয়।

সারাবছর এখানে দেবীর নিত্যপুজো ছাড়াও মহাষষ্ঠীতে বিল্ববৃক্ষে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস, মহাসপ্তমীতে নবপত্রিকা পূজা, মহা অষ্টমীতে কুষ্মান্ড বলিদান, আরতি ও সন্ধিপূজা হয় । মহানবমীতে হয় কুমারী পুজো, হোমযজ্ঞ। মহা দশমীতে বিহিত পুজোর পর অপারাজিতা পূজা ও ঘট বিসর্জন হয় ।
বর্ধমানের কোথাও আবার পালকি চেপে কুমারীকে ঘোরানো হয় সারা শহর। সেখানেও ঐতিহ্য মেনে নবমীর দিন কুমারী পুজো হয়।
বর্ধমানের সাবেকী বাড়ির পুজোগুলি খুব প্রাচীন। কোনোটি বা পাঁচশো বছরেরো পুরোনো। বুদবুদের মানকরের বড় কবিরাজ বাড়ির পুজো প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের। বর্ধমান রাজার কাছে জমিদারি পাওয়ার পরে এখানে বাস শুরু করেন পূর্বপুরুষেরা। তখন থেকেই এই পুজো চলছে।
কাঁকসার ত্রিলোকচন্দ্রপুরের মণ্ডলবাড়ির পুজো প্রায় তিনশো বছরের পুরনো। নবমীর দিন গ্রামের বাইরে তিলুইচণ্ডী তলায় পুজো হয়। এই তিলুইচণ্ডী নাকি লক্ষ্মণ সেনের আমলের। এখানে নবমীর দিন কুমারীপুজো হয় দেখবার মত। এছাড়া আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশন ও কাটোয়ার রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমে ধুম করে হয় কুমারী পুজো।

কুমারী কন্যার শুদ্ধ আত্মাতেই নাকি ভগবতী দেবী দুর্গার প্রকাশ সবচেয়ে বেশী। তন্ত্রসার মতে ১ থেকে ১৬ বছর পর্যন্ত অরজঃস্বলা বালিকারা কুমারী পূজার উপযুক্ত । যে কোনো জাতের কন্যাকেই মাতৃজ্ঞানে দুর্গাপুজোর অষ্টমী কিম্বা নবমী তিথিতে পুজো করা হয়। বেদ পুরাণের যুগে মুনি ঋষিরা প্রকৃতিকে কুমারী জ্ঞানে পুজো করতেন।
স্বামী বিবেকানন্দ ১৯০১ সালে বেলুড়মঠে দুর্গাষ্টমীতে পুনরায় কুমারীপুজো চালু করেছিলেন। ভারতবর্ষের দুটি স্থানে, মাদুরাইয়ের মীনাক্ষী মন্দিরে এবং কন্যাকুমারীতে দেবীশক্তিকে কুমারী জ্ঞানে পুজো করা হয়।

বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে যে ত্রিশক্তির বলে প্রতিনিয়ত যে সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় ক্রিয়া অনবরত চলছে সেই ত্রিবিধ শক্তিই বীজাকারে কুমারীতে নিহিত। কুমারী প্রকৃতি বা নারী জাতির প্রতীক ও বীজাবস্থা। তাই কুমারী বা নারীতে দেবীভাব আরোপিত করে দেবীরূপে তার সাধনাই হল কুমারী পূজা । এ সাধনপদ্ধতিতে সাধকের নিকট বিশ্বজননী কুমারী নারীমূর্তির রূপ ধারণ করে । তার নিকট নারী ভোগ্যা নয়, পূজ্যা।দুর্গাপুজো কে কলিকালের অশ্বমেধ যজ্ঞ বলা হয়। আর রামায়ণ্-মহাভারতে আমরা যত যজ্ঞের কথা শুনি কুমারীপুজো হল দুর্গাপুজোর মধ্যে আরো একটি বিশেষ যজ্ঞ।
বৃহদ্ধর্মপুরাণ-এ রামের জন্য ব্রহ্মার দুর্গাপূজার বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়। তখন শরৎকাল, দক্ষিণায়ণ। দেবতাদের নিদ্রার সময়। তাই, ব্রহ্মা স্তব করে দেবীকে জাগরিত করলেন। দেবী তখন কুমারীর বেশে এসে ব্রহ্মাকে বললেন, বিল্ববৃক্ষমূলে দুর্গার বোধন করতে। দেবতারা মর্ত্যে এসে দেখলেন, এক দুর্গম স্থানে একটি বেলগাছের শাখায় সবুজ পাতার রাশির মধ্যে ঘুমিয়ে রয়েছে একটি তপ্তকাঞ্চন বর্ণা বালিকা। ব্রহ্মা বুঝলেন, এই বালিকাই জগজ্জননী দুর্গা। তিনি বোধন-স্তবে তাঁকে জাগরিত করলেন। ব্রহ্মার স্তবে জাগরিতা দেবী বালিকামূর্তি ত্যাগ করে চণ্ডিকামূর্তি ধারন করলেন।

মনু সংহিতা অনুসারে
যত্র নার্যন্তু পূজ্যন্তে রমন্তে তত্র দেবতাঃ
যত্রৈতান্তু ন পূজ্যতে সর্বান্তুত্রাফলাঃ ক্রিয়া’।।

এর অর্থ হল, যেখানে নারীরা পূজিত হন সেখানে দেবতারা প্রসন্ন। যেখানে নারীরা সম্মান পান না, সেখানে সব কাজই নিষ্ফল। আর তাই তো নারীর সম্মান প্রদানে ব্রতী হয়ে স্বামীজি এই কুমারী পুজো চালু করেন।

আবার মহাদেব যোগিনী শাস্ত্রে বলেছেন,
কুমারী পূজনং ফলং বক্তু নার্হামি সুন্দরী।
জিহ্বাকোটি সহস্রৈস্তু বস্তুকোটি শতৈরপি’।

এর অর্থ শতকোটি জিহ্বায় কুমারী পূজার ফল ব্যক্ত করতে পারব না। কুমারীরা শুদ্ধতার প্রতীক হওয়ায় মাতৃরূপে ঈশ্বরের আরাধনার জন্য কুমারী কন্যাকে নির্বাচন করা হয়।

তবে অরজ:স্বলা কুমারীদেরই কেন পুজো করা হবে সেই নিয়ে আধুনিক ভাবনাচিন্তায় দ্বিমত। কন্যা ঋতুমতী হলেই কি অশুদ্ধ হয়ে যায় ? আর অরজস্বঃলা কন্যাই কি অপাপবিদ্ধ? তাহলে অম্বুবাচীর দিনে কামাখ্যা মন্দিরে এত ভীড় কিসের হয়?

যোগিনীতন্ত্রে বলে ব্রহ্মার শাপে বিষ্ণুর দেহে পাপ সঞ্চার হলে সেই পাপ থেকে মুক্ত হতে হিমাচলে মহাকালীর তপস্যা শুরু করেন। বিষ্ণুর তপস্যায় মহাকালী খুশি হন। দেবীর সন্তোষ মাত্রেই বিষ্ণুর হৃদ পদ্ম হতে সহসা ‘কোলা’ নামক মহাসুরের আবির্ভাব হয়। সেই কোলাসুর ইন্দ্রাদি দেবগণকে পরাজিত করে অখিল ভূমণ্ডল, বিষ্ণুর বৈকুণ্ঠ এবং ব্রহ্মার কমলাসন প্রভৃতি দখল করে নেয়। তখন পরাজিত বিষ্ণু ও দেবগণ ‘রক্ষ’ ‘রক্ষ’ বাক্যে ভক্তিবিনম্রচিত্তে দেবীর স্তব শুরু করেন। দেবতাদের স্তবে প্রসন্ন হয়ে দেবী চণ্ডিকা কুমারী কন্যারূপে দেবতাদের সামনে দেখা দিয়েছিলেন।সন্তুষ্টা দেবী বলেন, ‘হে বিষ্ণু! আমি কুমারীরূপে কোলানগরী গমন করে কোলাসুরকে সবান্ধবে হত্যা করব।’ দেবী কথামতো কাজ করেন। সেই থেকে দেব-গন্ধর্ব, কিন্নর-কিন্নরী, দেবপত্নীগণ সকলে সমবেত হয়ে কুসুম-চন্দন-ভারে কুমারীর অর্চনা করে আসছেন।
আজকের সমাজের নারী নির্যাতনের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কন্যাভ্রূণ হত্যা, ধর্ষণ, ইভটিজিং ইত্যাদির মত নৃশংস ঘটনায় মনে হয় প্রতিদিন যদি এভাবেই মন্দিরে মন্দিরে এক একজন জ্যান্ত কুমারীকে পুজো করা হয় তবে বুঝি কিছুটা হলেও এই কদর্য এবং বিকৃত রুচির কাজগুলির হাত থেকে মেয়েরা মুক্তি পেত। যে কুমারী কন্যাশ্রীদের দেবীজ্ঞানে পুজো করা হচ্ছে ধর্ম ভীরু সেইসব পুরুষরা পথেঘাটে তাদের স্পর্শ করতে অন্ততঃ একবার ভাববে।

১ অক্টোবর, ২০১৭

শারদীয়া অক্ষর প্রসব ১৪২৪

শারদসাহিত্যে ২০১৭

আবাপ ডিজিটাল, আনন্দ উতসব : লাইট-ক্যামেরা-একশন (রম্য)http://www.anandabazar.com/events/puja-parikrama/special-write-up-on-durga-puja-dgtl-1.679653?ref=puja-parikrama-new-stry
ভ্রমণ (আলাস্কার তিমি )
নিবোধত (কাশ্মীর মন্দির সোপান তলে)
পুরুলিয়া দর্পণ (বড়গল্প জন্মান্তর)
উত্তরবঙ্গসংবাদ শারদঅর্ঘ্য (ছোটগল্প পূর্বপুরুষ)
দৈনিক যুগশঙ্খ ( ছোটগল্প পিতৃত্ব)
একান্তর ( ছোটগল্প তিন কন্যা)
সপ্তপর্ণ ( ছোটগল্প বদলা)
মালিনী ( ছোটগল্প নিয়মভঙ্গ)
ম‌উল ( ছোটগল্প ডিলিট)
শৈলজা ( ভ্রমণ অরুণাচল প্রদেশ)
যুগসাগ্নিক (রম্য রচনা)
তিস্তা নন্দিনী (অণুগল্প লাবণ্যময়ীর স্বর্গ লাভ)
স্মরণিকা ( প্রান্তিক )

অনুভব (রম্যরচনা, শিব দুর্গার আধার কার্ড )
ইচ্ছামতী (ভ্রমণ ভিক্টোরিয়া, কানাডা)
ম্যাজিক ল্যাম্প (সহজে দুর্গা কথা)
কলকাতা ২৪x৭ (পুরাণ কথা)
শব্দের মিছিল (পুজোর স্মৃতি, পত্রসাহিত্য)
ঐহিক (ছোটগল্প দেবী)