২১ জুলাই, ২০১১

হালফিল



ব্রিগেডে ২১শে জুলাইয়ের শহীদ তর্পণ হল মহা সমারোহে । একই মঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয় উত্সব পালন হল । দিনটা ছিল শ্রাবণের কোলকাতার ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘের একটা বৃষ্টিদিন । তবুও ব্রিগেড ভেঙে পড়েছিল জনজোয়ারে । আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা বৃষ্টি উপেক্ষা করে পৌঁছে গেছিলেন সেই সমাবেশে । সমাজের সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন । রাজ্যসভার এমপি থেকে বিধানসভার এমএলএ , চিত্রশিল্পী থেকে সঙ্গীতশিল্পী, সিনেমার কলাকুশলী থেকে কবি এবং সাহিত্যিক সকলেই হাজির হয়েছিলেন । সাড়া দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে । নচি থেকে কচি, দেব থেকে দেবী কেউ বাদ ছিলেন না । দশভুজা দিদির মাহাত্ম্যকীর্ত্তনে সকলের হৃদয়ের অলিন্দ-নিলয়ে বিগলিত প্রবাহ চলছিল । কেউ দিদি, কেউ বেটি, কেউ রাণী সম্ভাষণে দিদির গুণগান করলেন । ব্রিগেড এ যাবতকাল এমনটি দেখতে অভ্যস্ত নয়; সেদিন যেন দিদি এবং তাঁর ব্যাটেলিয়নকে যারপরনাই ব্যাতিবস্ত করবার জন্যই শ্রাবণের আকাশ বামেদের আদেশ অমান্য করেনি । দু হাত ভরে ঝরো ঝরো বর্ষেছে তার অকৃপণ বর্ষণ । কিন্তু অতিরিক্ত বর্ষণে দূর্বাদলরাজি সবুজ থেকে সবুজতর হয়ে উঠেছে প্রাণের স্পন্দনে । ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাইয়ের শহীদরক্ত বৃষ্টি দিয়ে ধুইয়ে সেই মাহেন্দ্রক্ষণে দেবশ্রী ফুলে ফুলে ঢলে পড়েছেন তাঁর নৃত্যশৈলীতে । শতাব্দী মাদলের তালে তালে ধিতাং ধিতাং বোল দিয়েছেন পায়ে । নচিকেতা গাইলেন পৃথিবী শান্ত হবার গান । দিদির আদেশে সমবেত স্বরে শান্তি ফিরিয়ে দেবার অঙ্গীকার নিয়েছে সকলে । শান্তনু আনন্দের বাঁধ ভেঙে গাইলেন রবীন্দ্রসঙ্গীত । অনুপ ঘোষাল উদত্তকন্ঠে "দিনের আলোয় কাটে অন্ধকার"। চিরঞ্জিত "মাঝেমাঝে প্রাণে তোমার পরশখানি দিও' যেন দিদির ছোঁয়ায় তাঁর এই আজ্ঞাবহেরা রাতারাতি ম্যাজিক দেখাবেন বলে প্রস্তুত । প্রবীণ শিল্পী বিশ্বজিত ছুটে এসে গাইলেন বাংলামায়ের কোলে ফেরার গান । তাপস পাল উজাড় করে দিলেন গুরুদক্ষিণা । প্রণাম জানালেন গুরুকে ।
মহাশ্বেতা দেবী লাখ কথার এক কথা কয়ে দিলেন । বাংলার মানুষরাই সোনার বাংলা গড়ার আসল রূপকার । তাই কেবল মনে হতে লাগল যাদের নিয়ে দিদির কাজ কারবার , যারা দিদিকে বাংলার মসনদে বসিয়ে দিয়েছে তাদেরই তো নতুন করে বাংলা গড়ার জন্য অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে । দিদিতো তাঁর দু মাসের কর্মসূচীতে পাহাড় থেকে জঙ্গল, কৃষিজমি থেকে যুগপত্ভাবে শিল্প ও ফসল ফলানোয় পক্ষপাতী কিন্তু দিদি কি পারবেন পশ্চিমবাংলার ওয়ার্ক কালচারের আমূল পরিবর্তন ঘটাতে ? তবেই তো ভোল পালটাবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং উন্নয়নের পরিকাঠামো । বাংলার রাজনীতি প্রেমী মানুষ দিদি দিদি করে পাগলু হল । বদলের দিনে পালাবদলের গান গাইল । দিদির জন্য যাত্রাপালার স্ক্রিপ্ট হল । এতসবের পরে আবার দীর্ঘ তিনদশক ধরে বাংলার মানুষ শুধু দিদির পুজো নিয়েই ব্যস্ত থাকবে না তো ? নয়ত আবার সরকারি হাসপাতালে বেঘোরে মরবে শিশু । রোগীর খাদ্য চেখে দেখবে পাড়ার টমি । গাঁয়ের প্রাথমিক স্কুলে শিশু রোজ যাবে আসবে কিন্তু নিজের নাম লিখতে বললে বানানে ভুল করবে । আবার জয়েন্টে ভালো rank করে বাংলার ছেলেগুলো শিবপুর না গিয়ে অন্য রাজ্যে পাড়ি দেবে । ঘর পোড়া গোরুর মত সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরাই। তাই মনে মনে বলি " আবার আসিব ফিরে, ধান সিঁড়িটির তীরে , এই বাংলায় " যেদিন অন্যরাজ্যের মত উন্নয়নে বাংলায় বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসবে পাঁচটা ব্লু চিপ কোম্পানি । চন্ডীদাসের সেই কথা "সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই " মাথায় রেখে দিদি এগিয়ে চলুন তাতে ক্ষতি নেই । কিন্তু আবার সেই ভোটের রাজনীতি আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করছে না তো !!!

১৭ জুলাই, ২০১১

কন্ট্রোল সি, কন্ট্রোল ভি, কন্ট্রোল এক্স



প্রথমে অর্কূটে, তারপর ফেসবুকে, আর সবশেষে বিবাহ ডট কমের সূত্র ধরে তিথির সাথে আলাপ, রাজের দিদি রাণীর ।
ফলে বছর দুয়েকের ডিজিটাল ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে তিথির সঙ্গে রাণীর । কারণ একটাই ; একমাত্র ভাই রাজের জন্য উপযুক্ত পাত্রী বলে মনে হয়েছিল তিথিকে। আজকাল যে হারে ডিভোর্সের ঘটনা কাগজে কলমে পড়ছে রাণী, তার চেয়ে বাবা কয়েকবছর ধরে বাজিয়ে নিয়ে তারপর না হয় বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া যাবে। সেইমত দুবছরের ঘনিষ্ঠ আলাপচারিতার পর ঠিক হল উভয় পক্ষের পরিবারের সাথে ভেট হওয়ার প্রয়োজন; কারণ পাত্র রাজ তখন বিদেশে পাঠরত। ছবি ও ইমেলের বিনিময়ে তিথিকেও পছন্দ করল রাজ এবং তিথিও রাজকে ।
আরো একটা বছর রাজ আসতে বাকী |তাই রাণীর মধ্যস্থতায় দুইবাড়ির মধ্যেও ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠল। যাওয়াআসা, খাওয়াদাওয়া সবকিছু সামাজিকতার সাথে তিনজনের স্ক্র্যাপ আর ফেসবুক মেসেজরা বেঁচে র‌ইল সুখেদুখে, হাসিকান্নায়, ছন্দে গানে। আর দোল-দুর্গোত্‌সব, জন্মদিন, ক্রিসমাসের রামধনুতে রেঙে উঠল রাজ, তিথি আর রাণীর মেলবক্স। আর তাছাড়াও আছে ফোন আর এসেমেস । তিথি আর রাজের প্রেমপর্বের অনুঘটক হিসেবে রাণীও রয়ে গেল জি-টকের ছোট্ট কুঁড়েতে...
হঠাত অনুষ্টুপ-গায়ত্রী ছন্দের বিদায় ! হল অপ-ছন্দের আবির্ভাব।

অনেক দিন রাণী আর রাজকে তিথি না করে স্ক্র্যাপ, না পাঠায় কোনো ইমেল....না কোনো এসেমেস না মেসেজ । ফেসবুকেও কখনো সবুজ আলো জ্বলেনা তার ছবিঘরে... সোশ্যালনেটে তাদের কমন বন্ধুদেরো এই বিয়ে থা নিয়ে কিছু জানায়নি ওরা । অতএব ওদের জিগেস করে লাভ হবেনা ।

তিথির বাড়ির ফোন বলে "মজুত নেহি হ্যায়" আর মোবাইল বলে "সুইচড্‌-অফ্‌"। অগত্যা রাণী একদিন তিথির বাড়ি গেল । সেখানে গিয়ে সে তো স্তম্ভিত! বাড়িটাই নেই ।
ভাঙা হয়েছে । নতুন ঘটনা নয়; যে হারে দেশে প্রোমোটার রাজ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তাতে বিচিত্র কিছু নয় । কিন্তু রাণীর খুব আশ্চর্য লাগল যে এসব তো তিথি কিছুই জানায়নি তাদের । এখন কি করবে রাণী? রাজের ফাইনাল ডিসার্টেশন, পিএইচডি সাবমিশন কয়েকদিনের মধ্যেই । প্রচন্ড কাজের চাপ, থিসিস সাবমিট করার সময় নাকি এমনই হয় সকলের ।তাকে জানালে সে তো যারপরনাই মর্মাহত হবে । বাড়ি ফিরে মাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে গিয়ে সব জানাল।
আর রাজকে বলল তিথির কি একটা গানের রেকর্ডিং আছে, তাই সে দিন কয়েক ব্যস্ত আছে আর তার মোবাইলটা হারিয়ে ফেলেছে, পরে নতুন নাম্বার পাঠাবে। নেট-কানেকশনও খারাপ তাই স্ক্র্যাপ্, ইমেল, চ্যাট, মেসেজ কোনোটাই কিছুদিন সম্ভব নয় তিথির পক্ষে, এসব যেন তিথি নিজেই জানিয়েছে রাণীকে ।
এদিকে রাজ তো ব্যস্ত তার পড়াশুনো নিয়ে আর রাণী শুধু উলটে পালটে দেখে নীল বালুচরীটা যেটা তিথির জন্য কিনেছিল সে বিষ্ণুপুর থেকে, দুধে-আলতা কাঁথাস্টীচের সালোয়ার-কামিজের পিস, পৌষমেলার ডোকরার দুল, টেরাকোটার পেন্ডেন্ট ...ভেবেছিল খুব মানাবে তিথিকে ।
তিথি বলেছিল রাজের জন্য সে একটা পাঞ্জাবীতে ফেব্রিক করবে ... ফোকের মোটিফ ; আর তাদের তো আর কদিনের মধ্যেই বিয়ে, তাই ফুলশয্যার বেডকভারে সে ফোঁড় তুলছে... যামিনীরায়কে নিয়ে। মেহেদী হাসানের গজল, শিবকুমার শর্মা, আর ওদিকে নাসিরুদ্দীন শাহ্‌-শাবানা আজমী, হেমন্ত-মান্নার চির কোঁদল, রবীন্দ্রসঙ্গীত বনাম বাংলাব্যান্ড, চাইনিজ না কন্টিনেন্টাল এই নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা গ্রুপচ্যাটে তর্কের তুফান তুলতো তারা তিনটি মিলে । রাণীর খুব মনে ধরে ছিল, অন্তত: তিথি আর রাজের ওয়েভ-লেন্থটা তো ম্যাচ করেছে !তিন জনেরই প্রিয় খাবার লুচি আর আলুভাজা আর সাথে মচমচে করে ভাজা শুকনো লঙ্কা ।
বেশ তো চলছিল সব | হঠাত একটা দমকা বাতাস এসে সব যেন উল্টেপাল্টে দিয়ে গেল রাণীকে ।
মনে মনে রাণী ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল ।
কিন্তু কোনো সত্য উদ্ঘাটন করতে পারলো না । হাঠত একদিন গুগল সার্চে গিয়ে রাণীর কি যেন মনে হল সার্চ করল তিথির নাম, পদবী দিয়ে... দেখে পার্সোনাল ব্লগ বেরিয়ে এল যা
তিথি নামের একটি মেয়ের...হতেই পারে, তিথি নামতো কত মেয়েরই হয় ! কিন্তু এতো অস্ট্রেলিয়ার ঠিকানা, আর ফ্যামিলি এলবাম প্রথম পাতায় ... ক্লিক করল রাণী, বিয়ের রেজিস্ট্রেশানের ছবি, ...এই তো নীল বালুচরী পরে তিথি..আর রেজিস্ট্রি বিয়ের তারিখটি হল আজ থেকে বছর খানেক আগে ।
রাগে, অভিমানে, লজ্জায় ফেটে পড়ল রাণী।
তারপরেই কম্পোজ মেল "ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো"
অর্কুটে স্ক্র্যাপ "কনগ্র্যাচুলেশনস এবং সেলিব্রেশনস"
আর ব্লগের রেজিস্ট্রি বিয়ের ছবিটা, রাইটক্লিক...সেভ এজ...
...

অনেক বছর কেটে গেছে , তিথি, রাজ আর রাণী নিজের নিজের জায়গায় প্রতিষ্ঠিত । সকলেই এখন থাকে কলকাতায় । রাণীর বিয়ে হয়ে গেছে এক ডাক্তারের সাথে । নিজস্ব ফ্ল্যাট । একটি ফুটফুটে মেয়ে তার । তিথি একটি হায়ার সেকেন্ডারি প্রাইভেট স্কুলের টিচার |তার স্বামী কর্পোরেট সেক্টারে উঁচু
পোষ্টে কাজ করে । প্রায়শ‌ই খবরের কাগজ ও টেলিভিশনে নাম শোনা যায় তার । প্রচুর ফরেন ট্যুর করেন তিনি । তার পেছনে মিডিয়া ছোঁক ছোঁক করে তার ইন্টারভিউ নেবার জন্য । সুপুরুষ, সুবক্তা আর প্রচুর কানেক্সান তার । তিথির নিজের কেরিয়ারের পেছনে দৌড়তে গিয়ে
পিএইচডি, বিএড এই সবে সময় চলে গেছে । ছেলেপুলে হবার ব্যাপারে আদৌ সে কোনো মাথা ঘামায়নি । যার পরিণতি স্বরূপ কোলকাতার নামজাদা ডাক্তার বাবুরা, কনসালট্যেন্ট গায়নোকোলজিস্টরাও হার মেনেছে তার সন্তান সম্ভাবনায় । দুজনেরই নাকি কিছু জটিলতা আছে । একে তো বয়স হয়ে গেছে তিথির, তা প্রায় তেত্রিশের কাছে আর তার স্বামীর অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন .. সিগারেট ও বিলিতি লিকারের প্রভাবে | এ ডাক্তার সে ডাক্তার ঘুরে অবশেষে তিথি আর তার স্বামি রণ এসে পৌঁছায় কোলকাতারই আর এক খ্যাতনামা ফার্টিলিটি ক্লিনিকে । সেখানে ডক্টর শ্রীরূপ রয়ের সাথে এপয়েন্টমেন্ট তাদের । ঘরে ঢুকে ডাক্তার বাবুর টেবিলে তিথির চোখে পড়ল রাণীর ছবি ; ডাক্তার বাবু রাণি আর তাদের ফুটফুটে মেয়ে রাধার বাঁধানো ছবি । ডক্টর শ্রীরূপ রয় রাণির হাসব্যান্ড ; সৌম্য, সুদর্শন, স্বল্পভাষী সার্জেন । প্রকৃতির এমনই খেয়াল যে পাকেচক্রে তিথিকে আবার সেই রাজের দিদি রাণীর স্বামীর কাছেই আসতে হয়েছে । আর এই কথাটা ভেবেই তিথির হাত-পা যেন অবশ হয়ে গেল । আর আজ এমন এক পরিস্থিতি সেখান থেকে পালাবার পথ নেই । টেস্ট শুরু হল, হল অনেক কথাবার্তা । ফাইনালি যা বোঝা গেল তা হল রণর যা স্পার্মকাউন্ট তাতে এই বয়সে তিথি কোনোদিন মা হতে পারবে না । যদি ডোনার কেউ হন তাহলে ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন ট্রাই নিয়ে দেখা যেতে পারে । যদিও তা ব্যয়বহুল কিন্তু এই মূহুর্তে তিথি আর রণ সে ব্যাপারে দ্বিমত নয় । অঢেল টাকা রণর আছে । এটা তো জীবনমরণ সমস্যা ।
যদি সত্যি তিথি মা হতে পারে রণর চেয়ে আর কেই বা খুশী হতে পারে!
এবার ফরমালিটির পালা; কাগজ কলম, কন্ট্র্যাক্ট, স‌ইসাবুদ ইত্যাদি । রণ আর তিথির প্রশ্ন একটাই স্পার্মডোনার যেন ভাল পেডিগ্রির হয় । নিম্ন মধ্যবিত্ত বেকার যুবক আজকাল এই ডোনেশানে মোটা অঙ্কের টাকা পায় আর তাতো কিছু অসম্মানেরও নয় বরং কোনো কাজে লেগে যদি সত উপায়ে রোজগার করা যায় তাতে তো ক্ষতি নেই কিন্তু ভাল ফ্যামিলির শিক্ষিত কোনো চাকুরে ব্যক্তি কে এ ব্যাপারে রাজী করানো তো মুশকিল; ডাক্তারবাবুর হঠাত মনে পড়ে গেল তার শ্যালক রাজের কথা । রাজ এখনও অবিবাহিত । একটি সরকারি কলেজে সিনিয়র প্রফেসর । বিয়ে করেনি রাজ । মানে হয়ে ওঠেনি । তিথির কাছ থেকে সেই আঘাত সে কখনো ভোলেনি । আর তাই বোধ হয় "বিয়ে" নামক এই সামাজিক প্রহসনকে সে ঘেন্না করতে শুরু করেছে । সেই ঘটনার পর থেকে বিয়ের কথা উঠলেই রাজ এড়িয়ে চলে দিদি আর জামাই বাবুকে । আর মা-বাবা মারা গেছেন অনেকদিন, তাই সেই অর্থে কেউ এর চেয়ে বেশি জোরাজোরি করেওনি তার বিয়ের ব্যাপারে । রাজ দিব্য আছে তার অধ্যাপনা, রিসার্চ আর কলেজ স্টুডেন্ট, সেমিনার, সিম্পোশিয়াম আর মাঝেমধ্যে ছোটখাট বিদেশ ট্যুর নিয়ে । সেই ঘটনার পর থেকে তিথির সাথে কোনো যোগাযোগও রাখেনি সে এমন কি মন থেকেই কন্ট্রোল সি, কন্ট্রোল ভি, কন্ট্রোল এক্স...ভুলে গেছে জীবনের মত সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, বিদায় জানিয়েছে অর্কুট-ফেসবুককে চিরদিনের মত |
ফোন ঘোরালেন ডক্টর শ্রীরূপ রায় , রাজের জামাইবাবু ।
"আসতে হবে আমার ক্লিনিকে এখুনি , পারবে ? না ক্লাস আছে ?" শ্রীরূপদা রাজের ফ্রেন্ড-ফিলোজফার-গাইড ।
আর কেনই বা তা হবে না একমাত্র দিদির বর, বাবা মায়ের অবর্তমানে এরাই তো তার অভিভাবক, শুভাকাঙ্খী আর আত্মীয় ।
রাজ বলল "না, না ক্লাস তো এখুনি শেষ হল"
প্রায়ই ডাকেন এই ভাবে শ্রীরূপ তাকে; রাণীকে আসতে বলে, বিকেলে ক্লাবে টাবে গিয়ে তারা একসাথে চা-টা খায় । এমএসসি স্টুডেন্টদের প্র্যাকটিকাল ক্লাস জুনিয়র এক রিসার্চ স্কলারকে বুঝিয়ে দিয়ে রাজ বিরিয়ে এল সায়েন্সকলেজ থেকে | রাজ বলল "আসছি শ্রীরূপদা আধঘন্টার মধ্যে" গাড়ি করে রাস্তায় অনবরত ট্র্যাফিক সিগন্যাল আর ওয়ান ওয়ের চক্কোরে পড়ে ও রাজাবাজার সায়েন্সকলেজ থেকে মিন্টোপার্কে আধ ঘন্টার মধ্যে সে পৌঁছে গেল ডক্টর রায়ের ফার্টিলিটি ক্লিনিক । চেম্বারে ঢুকে স্তম্ভিত ।
একি তিথি না ? এক ঝলক তাকে দেখে নিয়েই জামাইবাবুর পার্সোনাল ঘরে ঢুকে গেল রাজ । সে তো ডাক্তার বাবুর পেশেন্ট নয় আত্মীয় । তাতে আবার একমাত্র শ্যালক । কিন্তু মনের ভেতর তিথি-প্রসঙ্গ তাকে খালি বিরক্ত করতে লাগল । কি ভারীক্কি চেহারা হয়ে গেছে তিথির । আগের সেই লালিত্য আজ অনুপস্থিত তার চেহারায় । তার দিদি রাণী তো মাত্র পাঁচ ছ' বছরের বড় তিথির চেয়ে, কিন্তু সে তো এমন বুড়িয়ে যায়নি । বরং মা হবার পর দিদির আরো রূপ হয়েছে, অনেকটা তাদের মায়ের মত দেখায় দিদিকে । মা এত সুন্দরী ছিলেন যেন বয়স মোটে বোঝা যেতে না মায়ের ।
তিথি আর তার স্বামী রণ সেই মূহুর্তে রাজের কৃপাপ্রার্থী । যেন রাজ অমত না করে , ডোনার হয়ে এ জন্মের মত তিথিকে মা হাওয়ার আনন্দ থেকে বঞ্চিত না করে । রাজ তো কিছুই জানেনা সেই মূহুর্তে ... আলাদা ঘরে ডেকে নিয়ে গিয়ে জামাইবাবু শ্রীরূপদা তিথির সন্তানের ভ্রূণের জন্য স্পার্ম ডোনার হবার রিকোয়েস্ট করল ।
তার শ্রীরূপদার সাথে কথা বলে রাজ সেই ঘরের সংলগ্ন দরজা দিয়ে বেরিয়ে গাড়িতে ষ্টার্ট দিল । তখন গাড়ির রেডিও তে কোন একটা এফ এম চ্যানেলে বাজছে রাজের ফেভারিটা বাংলা ব্যান্ড ফসিলস এর গান "আমি কিছুতেই ভাববনা তোমার কথা বোবা টেলিফোনের পাশে বসে ... এই একলা ঘর আমার দেশ, আমার একলা থাকার অভ্যেস.... আর জ্যামে আটকে থাকা গাড়িটায় বসে বসে মনে হল দিদিকে একটা ফোন করি ।
তারপর দিদিকে বলল "বড্ড খিদে পেয়েছে রে, কিছু বানিয়ে রাখ দিদি, আজ তোর সাথে বসে চা খাব" রাণি বললে "কি খাবি বল চাইনিজ না কন্টি? তাহলে ক্লাবে ফোন করে দি, তোর শ্রীরূপদা আসার সময় নিয়ে আসবে"
রাজ বললে "না রে, আজ শুধু তোর হাতে বানানো লুচি আর আলুভাজা খাব, আর সাথে মচমচে করে ভাজা শুকনো লঙ্কা "
তিথির ততক্ষণে প্যালপিটেশন মাত্রা ছাড়িয়েছে । ক্লিনিকের এসিঘরের মধ্যে বসেও ঘামছে সে দরদর করে আর কিসের জন্যে যেন তার মনের চোখদুটি বেয়ে বয়ে চলেছে অবিরাম ধারা বর্ষণ ।

দিদির বাড়ি পৌঁছেই দিদির স্টাডিরুমে গিয়ে রাজ ল্যাপটপ অন করে দিল আর দিদি গেল লুচি ভাজতে । ট্যুইটারে, ফেসবুকে আর অর্কুটে রাজ সেদিনের স্টেটাস আপডেট করতে লাগল । 
কন্ট্রোল সি, কন্ট্রোল ভি.....কন্ট্রোল সি, কন্ট্রোল ভি, কন্ট্রোল এক্স.... 


  banglalive.com এর  বিশেষ সংখ্যা "২৫শে বৈশাখ , আজ মম জন্মদিনে" ২০১১ তে প্রকাশিত   

use Internet Explorer -9  to view Bangla Font in Banglalive. 

১ জুলাই, ২০১১

রঞ্জনা আমি আর আসব না - একটি রিভিউ

আর সরকার প্রযোজিত এবং অঞ্জন দত্ত পরিচালিত ” রঞ্জনা আমি আর আসব না ” ছবিটি একটি মিউজিকাল বা গীতিনাট্যের মত । স্টোরি লাইনটিও নিঁখুত আর নীল দত্তের পরিচালনায় এই সিনেমার গান আবার বহুদিন মনে রাখবে আশির দশকের সুরস্রষ্টা এবং গীতিকার অঞ্জন দত্তকে । ছবির দুটো ঝাঁ চকচকে  দিক রয়েছে ; এক হল কলাকুশলীদের অভিনয় আর দুই হল নতুন শিল্পী সোমলতা আচার্যর রক সঙ্গীতে সাবলীলতা ।  উপরি পাওনা অতিথি শিল্পী মমতাশংকর এবং কবীর সুমনের উপস্থিতি । রঞ্জনার ভূমিকায় পার্ণো মিত্র তার অভিনয়ে, চালচলনে, এবং সর্বোপরি রকষ্টার রূপে নিজেকে মঞ্চে ঠিকঠাক চেহারার সাথে সাযুজ্য রেখে উপস্থাপন করেছে এবং আগামীদিনে বড় পর্দায়  পার্ণো  যে জ্বলজ্বল করবেন সে বিষয়ে সন্দেহ নেই । ২০০৮ এ মুক্তি পেয়েছিল হিন্দী   মিউজিকাল ছবি রক-অন । কিন্তু তা বোধ হয় অনেক কাঁচা হাতের কাজ বলে মনে হয় । RAAAN দেখে মনে হল শুধুমাত্র বাণিজ্যিক সাফল্যের নিরিখেই ছবিটি বানাননি অঞ্জন দত্ত । ছবি বানানো তাঁর নেশা এবং সেখানে তাঁর বানানো সঙ্গীতকে ঠিকমত শ্রোতার কানে পৌঁছে দেবার জন্যই এই ক্রিয়েটিভ মানুষটি চেষ্টা করে চলেছেন । বেছে নিয়েছেন উপযুক্ত কলাকুশলীদের এবং সঙ্গীত শিল্পী সোমলতাকে যারা এই ছবিটির জন্য তাদের কেরিয়ারে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়তে পারবে ।

সিনেমাটি শুরু হয় অঞ্জন দত্তের অসাধারণ গায়কীতে মেইন টাইটেল ট্র্যাকটি ” রঞ্জনা আমি আর আসব না ” দিয়ে আর শেষ হয় সোমলতার প্রাণ  উজাড় করে গাওয়া “তুমি আসবে বলে তাই ” গানটি দিয়ে । এই দুটি গানের জন্যই দর্শক ছুটে যাবে  সিনেমা হলে …এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস ।  তবে রক সঙ্গীত বলতে আক্ষরিক অর্থে আমরা যা বুঝি তা “গানস এন্ড রোসেস”, “মেটালিকা”  কিম্বা “ডেথ মেটাল”  ব্যান্ডের মত হার্ড রক নয় । বাংলাভাষার ওপর পক্ষপাতিত্ব না করেই বলছি, অঞ্জন দত্ত এবং নীল দত্ত যে বাংলা রক সঙ্গীত যা সৃষ্টি করেছেন তা অনেক শ্রুতিমধুর এবং সংবেদনশীল ।
ছবির মুখ্য চরিত্র অবনী সেন যিনি বিগত ২৫ বছর ধরে দাপিয়ে মঞ্চে গেয়ে বেড়ান,  দস্তুর মত নিজে গান লেখেন এবং সুর করেন ।  স্ট্যানলি ওরফে কবীর সুমন অবনীর মৃত পত্নীর দাদা । উঠে এসেছে সেই সম্পর্কের ভিত্তিতে এবং গান বাজনার সান্নিধ্যে অঞ্জন্- কবীর সুমনের চিরাচরিত বন্ধুত্বের দাবী । অবনী বেপরোয়া, উত্শৃঙ্খল, মদ্যপ  এবং চেইন স্মোকার । ঠিক আর পাঁচটা ক্রিয়েটিভ রকষ্টারের মত । গান্, সুরা আর সিগারেট তার জীবন ঘিরে । আসন্নপ্রসবা স্ত্রীকে নার্সিংহোমে ভর্ত্তি করতে গেছিল মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে । যার ফল স্বরূপ মর্মান্তিক   দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছিল স্ত্রী সহ শিশুটিকে । সেই থেকে অবনী নিজের চরিত্রকে সংশোধন করতে তো পারেননিই বরং তার হাতেই স্ত্রীর মৃত্যু বলে  স্ত্রীর শোকে হয়ে উঠেছেন আরো লম্পট এবং বেপরোয়া গোছের ।  এরমধ্যে কনসার্টে গিয়ে উদ্বোধন সঙ্গীত শিল্পী রঞ্জনার সাথে যেচে আলাপ করেন । তাকে রেকর্ডিংয়ের প্রলোভন দেখিয়ে, বাড়িতে থাকতে দিয়ে  ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দেন যে তার সাথে গান নিয়ে কাজ করতে হলে দুটি সম্পূর্ণ পৃথক জীবন যাপন করতে হবে একটি হল যখনতখন তিনি মেয়েটিকে ভোগ করতে পারেন এবং অন্যটি গান নিয়ে এক্সপেরিমেন্টেশন । এদিকে রঞ্জনার এক মাসী ছাড়া আর কেউ নেই এবং নিজে গান লিখে বড় হবার আশা সে না করলেও অবনী তা প্রমাণ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ । কিন্তু অবনীর পার্সোনাল ইগো এবং নতুন শিল্পীর গানের লিরিককে ছোট করে দেখা,  আর সর্বোপরি তার মনের কোণের প্রচ্ছন্ন বেদনা তার স্ত্রীকে হারানো এর টানাপোড়েনে মানুষটি ক্রমশ ক্ষিপ্র থেকে ক্ষিপ্রতম হয়ে ওঠে । যার স্বীকার হয় বাড়ির সার্ভেন্ট এলভিস ওরফে কাঞ্চন মল্লিক এবং নবাগতা রঞ্জনা ওরফে পার্ণো ।  প্রত্যহ আকন্ঠ মদ্যপান এবং তার সাথে ড্রাগস এর হাতে চলে যাওয়া অবনী সেন মানুষটির হঠাত হঠাত সংজ্ঞা হারানো এবং বাড়িতে আর কেউ না থাকায় রঞ্জনাও একসময়ে অবনীর প্রতি দয়াশীল হয়ে ওঠে । অবনী সে কথা বুঝতেও পারে আর মেয়েটিকে অযথা শারীরিক প্রলোভন দেখানোও বন্ধ করে । বরং তার লেখা গানের লিরিককে আরো উন্নত মানের করে তাতে সুর বসিয়ে কেমন করে ভালো করে গাওয়ানো যায় সেই কথাই অবনীর একমাত্র ধ্যান জ্ঞান হয়ে ওঠে । এই প্রসঙ্গে বলি  “আমি বৃষ্টি দেখেছি” গানটিও বড্ড মিষ্টি লাগল শুনতে ।
অবনীর রকব্যান্ডের অনুষঙ্গ শিল্পীমন্ডলীর ভূমিকায় নন্দন বাগচী, প্রখ্যাত গিটারিস্ট অমিত দত্ত এবং লিউ হিল্ট ..এদের সকলের সাথেই রঞ্জনার গড়ে ওঠে একটা ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্ক । রঞ্জনা এবং তার গান তরতরিয়ে উঠে চলে অবনীর হাত ধরে । পার্কস্ট্রীটে একটি নাইটক্লাবে অবনী নিয়ে গেল রঞ্জনাকে । পারফর্মেন্স হল কিন্তু দর্শক-শ্রোতার হাততালি কুড়োতে পারলনা সে ।  কিন্তু অবনী তাকে দমিয়ে দিল না । কলকাতার রাস্তায় বেরিয়ে গানকে কেমন করে গান করে তুলতে হবে কেমন করে মানুষের মনে ছাপ ফেলতে হবে এই সব খুঁটিনাটি শিক্ষায় রঞ্জনার হাতেখড়ি শুরু হল । রেকর্ড কোম্পানীর সি.ই.ও মিঃ বক্সী ( আবীর চ্যাটার্জি) একটি মাত্র গানের সিঙ্গল এলবাম ও প্রযোজনা করেন রঞ্জনার মত অনাম্নী নবাগতা রকস্টারের জন্য । স্টার আনন্দ চ্যানেলের দীপাণ্বিতা অবনীর অনুরোধে এবং কাকুতিমিনতিতে সেই এলবামের প্রোমোশানের ব্যবস্থাও করে দেয় শুধু অবনী সেনের একনিষ্ঠ ফ্যান বলে । এইভাবে অবনী সেন নামক নামী রকষ্টারের ছত্রছায়ায় বাড়তে থাকে রঞ্জনা নামে উদীয়মান রকশিল্পী । কিন্তু একএকসময় সহ্যাতীত হয়ে ওঠে মদ্যপ অবনীর স্বেচ্ছাচারিতা । রঞ্জনা আশ্রয় নেয় একটি মেটাল ব্যান্ডে এবং মনস্থ করে সেখানেই গান  গাইবে । অবনীর লোকজন একটি মারপিটের মাধ্যমে ধরে আনে রঞ্জনাকে । এই মারপিঠটি বড্ড অহেতুক ও হাস্যকর লেগেছে ।
অবনী রকষ্টার হয়েও তার রবীন্দ্র প্রীতি থেকে সরে আসেন নি । সোমলতার কন্ঠে ” জাগরণে যায় বিভাবরী” গানটি আলাদা মাত্রা যোগ করেছে । মেটাল ব্যান্ডের ভোকালিষ্ট সানিকে রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইতে বলে তিনি প্রমাণ করলেন যে রবীন্দ্র সঙ্গীতে হাতেখড়ি না হলে বাঙালীর সঙ্গীতসাধনা অসম্পূর্ণ থেকে যায় ।
অবনীর স্বাস্থ্যের অবনতি হতে শুরু করেছে আরো দ্রুত । ইতিমধ্যে ডাক্তারের কাছ থেকে একঘন্টার জন্য ছুটি নিয়ে বন্ধু কবীর সুমনের সাথে দেখা করতে গিয়ে তাকে না দেখতে পাবার শকটি হজম করতে পারল না অবনী । সবশেষে এক কনসার্টে নাম দেবার পরও যেতে পারলনা অবনী । তখন তার শেষ সময় । রঞ্জনা সেই কনসার্টে ” তুমি আসবে বলে তাই ” গেয়ে মাত করছে । অবনীর শেষ নিঃশ্বাস পড়ল চিরকালের মত । রঞ্জনার দুচোখে তখন অন্তঃসলিলা ফল্গু নদীর ধারা । আজ যার জন্য সে এত বড় হয়ে উঠেছে সেই নামকরা অবনী সেন ততক্ষণে তাকে ছেড়ে বিদায় নিয়েছে ।
এইভাবে ছবির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একজন সঙ্গীত প্রেমীর সঙ্গীতশিল্পী হয়ে ওঠার পেছনে অনেক টানাপোড়েনের গল্প থাকে , থাকে অনেক জীবনযুদ্ধের করুণ কাহিনী । দর্শকাসনে   বসে আমরা কেবল ঝকঝকে উপস্থাপনা দেখি, আলোর নীচে উদ্ভাসিতা শিল্পীটির আত্মপ্রকাশ আর নিজেকে ফুটিয়ে তোলার অদম্য চেষ্টা দেখি কিন্তু অনেককিছুই চাপা পড়ে যায় রূপোলী স্টেজ পারফর্মেন্সের ঝলকে যেগুলি সফল পরিচালক অঞ্জন দত্ত তুলে ধরেছেন “রঞ্জনা আমি আর আসবনা”য় । অন্যথায় একজন প্রথিতযশা শিল্পী কেমন করে উঠতি গায়িকাকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেবার নাম করে কেমন করে তার সুযোগ নেন সেটিও চমতকার ভাবে ফুটে উঠেছে ।