২১ জুলাই, ২০১১

হালফিল



ব্রিগেডে ২১শে জুলাইয়ের শহীদ তর্পণ হল মহা সমারোহে । একই মঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয় উত্সব পালন হল । দিনটা ছিল শ্রাবণের কোলকাতার ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘের একটা বৃষ্টিদিন । তবুও ব্রিগেড ভেঙে পড়েছিল জনজোয়ারে । আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা বৃষ্টি উপেক্ষা করে পৌঁছে গেছিলেন সেই সমাবেশে । সমাজের সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন । রাজ্যসভার এমপি থেকে বিধানসভার এমএলএ , চিত্রশিল্পী থেকে সঙ্গীতশিল্পী, সিনেমার কলাকুশলী থেকে কবি এবং সাহিত্যিক সকলেই হাজির হয়েছিলেন । সাড়া দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে । নচি থেকে কচি, দেব থেকে দেবী কেউ বাদ ছিলেন না । দশভুজা দিদির মাহাত্ম্যকীর্ত্তনে সকলের হৃদয়ের অলিন্দ-নিলয়ে বিগলিত প্রবাহ চলছিল । কেউ দিদি, কেউ বেটি, কেউ রাণী সম্ভাষণে দিদির গুণগান করলেন । ব্রিগেড এ যাবতকাল এমনটি দেখতে অভ্যস্ত নয়; সেদিন যেন দিদি এবং তাঁর ব্যাটেলিয়নকে যারপরনাই ব্যাতিবস্ত করবার জন্যই শ্রাবণের আকাশ বামেদের আদেশ অমান্য করেনি । দু হাত ভরে ঝরো ঝরো বর্ষেছে তার অকৃপণ বর্ষণ । কিন্তু অতিরিক্ত বর্ষণে দূর্বাদলরাজি সবুজ থেকে সবুজতর হয়ে উঠেছে প্রাণের স্পন্দনে । ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাইয়ের শহীদরক্ত বৃষ্টি দিয়ে ধুইয়ে সেই মাহেন্দ্রক্ষণে দেবশ্রী ফুলে ফুলে ঢলে পড়েছেন তাঁর নৃত্যশৈলীতে । শতাব্দী মাদলের তালে তালে ধিতাং ধিতাং বোল দিয়েছেন পায়ে । নচিকেতা গাইলেন পৃথিবী শান্ত হবার গান । দিদির আদেশে সমবেত স্বরে শান্তি ফিরিয়ে দেবার অঙ্গীকার নিয়েছে সকলে । শান্তনু আনন্দের বাঁধ ভেঙে গাইলেন রবীন্দ্রসঙ্গীত । অনুপ ঘোষাল উদত্তকন্ঠে "দিনের আলোয় কাটে অন্ধকার"। চিরঞ্জিত "মাঝেমাঝে প্রাণে তোমার পরশখানি দিও' যেন দিদির ছোঁয়ায় তাঁর এই আজ্ঞাবহেরা রাতারাতি ম্যাজিক দেখাবেন বলে প্রস্তুত । প্রবীণ শিল্পী বিশ্বজিত ছুটে এসে গাইলেন বাংলামায়ের কোলে ফেরার গান । তাপস পাল উজাড় করে দিলেন গুরুদক্ষিণা । প্রণাম জানালেন গুরুকে ।
মহাশ্বেতা দেবী লাখ কথার এক কথা কয়ে দিলেন । বাংলার মানুষরাই সোনার বাংলা গড়ার আসল রূপকার । তাই কেবল মনে হতে লাগল যাদের নিয়ে দিদির কাজ কারবার , যারা দিদিকে বাংলার মসনদে বসিয়ে দিয়েছে তাদেরই তো নতুন করে বাংলা গড়ার জন্য অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে । দিদিতো তাঁর দু মাসের কর্মসূচীতে পাহাড় থেকে জঙ্গল, কৃষিজমি থেকে যুগপত্ভাবে শিল্প ও ফসল ফলানোয় পক্ষপাতী কিন্তু দিদি কি পারবেন পশ্চিমবাংলার ওয়ার্ক কালচারের আমূল পরিবর্তন ঘটাতে ? তবেই তো ভোল পালটাবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং উন্নয়নের পরিকাঠামো । বাংলার রাজনীতি প্রেমী মানুষ দিদি দিদি করে পাগলু হল । বদলের দিনে পালাবদলের গান গাইল । দিদির জন্য যাত্রাপালার স্ক্রিপ্ট হল । এতসবের পরে আবার দীর্ঘ তিনদশক ধরে বাংলার মানুষ শুধু দিদির পুজো নিয়েই ব্যস্ত থাকবে না তো ? নয়ত আবার সরকারি হাসপাতালে বেঘোরে মরবে শিশু । রোগীর খাদ্য চেখে দেখবে পাড়ার টমি । গাঁয়ের প্রাথমিক স্কুলে শিশু রোজ যাবে আসবে কিন্তু নিজের নাম লিখতে বললে বানানে ভুল করবে । আবার জয়েন্টে ভালো rank করে বাংলার ছেলেগুলো শিবপুর না গিয়ে অন্য রাজ্যে পাড়ি দেবে । ঘর পোড়া গোরুর মত সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরাই। তাই মনে মনে বলি " আবার আসিব ফিরে, ধান সিঁড়িটির তীরে , এই বাংলায় " যেদিন অন্যরাজ্যের মত উন্নয়নে বাংলায় বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসবে পাঁচটা ব্লু চিপ কোম্পানি । চন্ডীদাসের সেই কথা "সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই " মাথায় রেখে দিদি এগিয়ে চলুন তাতে ক্ষতি নেই । কিন্তু আবার সেই ভোটের রাজনীতি আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করছে না তো !!!

২টি মন্তব্য:

সুশান্ত কর বলেছেন...

শতাব্দিও তৃণমূল! চিরঞ্জীবও তৃণমূল!...। ইন্দিরাদিও তৃণমূল!!

indira mukerjee (ইন্দিরা মুখার্জি) বলেছেন...

lekhata sampurno porechhen to?