১৭ মার্চ, ২০১১

১২য়ারি বসন্তের কবিতা," দোলছুট-২০১১"


আমরা সকলেই কবিতা বা ছড়া লিখি । প্রায়ই দেখি অর্কুট বা ফেসবুকের আঙিনায় ফুটে ওঠে সেই কবিতা বা ছড়ার ফুল আর অচিরেই কালের স্রোতে ভেসে যায় সেই সৃষ্টি, আর শুকিয়ে যায় সেই ফুল। এবার দোলে আমার সেই সব বন্ধুদের নিয়েই  না হয় ভাসিয়ে দিলাম আমার ছিন্নপাতার খেয়া খানি । সোনার তরীর পালে এবার বসন্তের হাওয়া বয়ে আনল একরাশ বন্ধুত্বের দোলা । আর যন্ত্রজালে ভাসতে ভাসতে খেয়াখানি পাড়ি দিল কোন্‌ সুদূরে !!!  
ফন্ট সাইজ ছোট লাগলে Ctrl++  করুন আর ফায়ারফক্স বা গুগ্‌ল ক্রোমে দেখুন





রেখা মিত্র
উত্তরপাড়া

মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক
বেঙ্গল স্টুডিও 
লাগলো যে দোল  (১)

পলাশ দেখে থেকে থেকে কেমন করে মন
অনেক পলাশ ঘর করেছে শান্তিনিকেতন,
সেই নিকেতন অনেক দূরে, পলাশ থেকো ভালো!
দোলের দিনে মনে আমার পাঠিও রঙের আলো।
তোমার আমার মাঝখানেতে পথটা যে দুস্তর
কেমন করে পার হবো এই কঠিন তেপান্তর !
একটু সবুর পলাশ তুমি, একটু বাঁধো মন
পরের বারে আমার বাসা হবে পলাশ বন।

লাগলো যে দোল  (২)

কে যেন চমকে দ্যায় 'এসেছি রে আঁখি তোল'
দেখি চেয়ে আঁখি মেলে "স্থলে জলে বনতলে"
লাগলো লাগলো দোল !
আবার হৃদয় ছুঁলো কানে তার কলরোল
"রাঙা হাসি রাশি রাশি অশোকে পলাশে
রাঙা নেশা মেঘে মেশা প্রভাত আকাশে
নবীন পাতায় লাগে রাঙা হিল্লোল
দ্বার খোল দ্বার খোল "


হোলি

আজ তো হোলি,রঙ খেলব না আমরা? তুমি খেলবে?
আর বাকীরা খেলবে না বুঝি -রবি,কানু,বালা,বাকী সব্বাই
হঠাৎ করে ছুঁড়ে দেবে মুঠো মুঠো রঙ? চমকে দেবে বুঝি?
চোখ বন্ধ করে নিতে হবে?

কি রঙ খেলবে ওরা ? লাল,গোলাপী,সবুজ?
কতটা সবুজ?
আর মিষ্টি? মিষ্টি আনবে না বুঝি আমাদের জন্য?
রঙমাখা হাতেই মিষ্টি খাব,
তুমি বকবে জানি,তবুও

আজ মিশে যাব আমি আর তুমি
কানু, বালা, টিপু, আমরা সব্বাই
খেলা তবু থামবে না, ঢেউ খেলব ছলাৎ ছল
দেখব, তুমি কত ঢেউ তুলতে পার
তবু খেলব, হার মানব না তো আজ -

আমি তো রঙ চিনি না
তবে তুমি যখন বল, তখন আমি ঠিক বুঝতে পারি
কালো রঙ ছাড়াও অন্য রঙ আছে
ভালদাদু, আমি কবে রঙ দেখতে পাব?
আমরা সবাই কবে রঙ দেখতে পাব?


অভ্র পাল
কলকাতা

সফ্যটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার
টাটা কনসাল্টেন্সি সার্ভিসেস 

মধুমিতা ভট্টাচার্য
তেজপুর

হোমমেকার, লেখিকা

পলাশ বনে একা (১)

পলাশেরা গান গায় বসন্তের পূর্নিমা রাতে
ভোর এলে ঝরে যায় কঠিন ভূমিতে,
সে গানের কিছু রেশ থেকে যায় মনের গভীরে
তবু ওরা প্রতিদিন গান গায়,
ঝরে যায় সবার অগোচরে...
আজ পলাশের রাগ হয়েছে তাইতো ধুলোয় শুয়ে,
মাথার দিব্যি, বলছি আমি তোর গায়ে হাত দিয়ে
আর যাবনা শিমুল বনে, সবার সাথে আড়ি-
করব এবার, কেবল তোকেই ডাকব আমার বাড়ি

পলাশ বনে একা (২)

মর্মে যে রং আছে
সে রং ছড়িয়ে দিয়ে বনে
আকাশে বাতাসে আর
পৃথিবী প্রাঙ্গনে..
সে রং নিও আপন করে
তোমার বাউল মনে
যে রং ছড়িয়ে ছিল বনে 
পলাশ বিলাস আমার মনে
হালকা হাওয়ায় ঋতু ফাল্গুনে
বন্ধু এসো আমার ঘরে
যে আছো দূরে অনেক দূরে


রক্ত-পলাশ আমার ঘরে....

আয়না পলাশ আমার ঘরে 
ধুলোয় কেন আছিস পড়ে!
সাজিয়ে ডালি রং ফাগুনে
রাখব তোকে মনের কোণে,
যতন করে আবির লালে
মাখাবো তোর লাজুক গালে
কিম্বা আকাশ নীলের সাথে
মেঘ দেবো এক সুপ্রভাতে
তোর আঁচলে রক্ত-পলাশ
ছোঁয়াবো আজ রঙ্গিন আভাস,
চল মেতে যাইকাজ ভুলে যাই
নাচের তালে মাদল বাজাই
পাগলা হাওয়ার ঘোড় সওয়ারে             
আয়না পলাশ আমার ঘরে... 
আয়না পলাশ আমার ঘরে...!


জার্ণাল    


(১)
 শীতের ছোঁয়া মিলিয়ে গেল আস্তে
ফাগুন এলো আবার ভালবাসতে
হাসছে পলাশ রঙিন হাসি হাসছে
আনলো খবর হোলির দিন যে আসছে
(২)
যেই না আমার পড়লো মনে সেই সে ফাগুন
সে'জন বলে, কি কাজ হবে অতীত ভেবে?
আজকেও সে একই চোখে আমায় দ্যাখে
হয়তো আমায় একই ভাবে ফাগ মাখাবে
হয়তো আমার কানে-কানে গান শোনাবে
মুগ্ধ হয়ে তার চোখেতে যেই তাকাবো
চাউনি আমার তার মনেতে পথ হারাবে
(৩)
এই নাও রঙ",বললো পলাশ মলিন মুখে
অনেক ব্যথার শেল বিঁধেছে ওদের বুকে
খবর দিলো বাতাস তাদের আজকে প্রাতে
দশটা পলাশ-ভাই মরেছে অপঘাতে
চায় না যারা দেখতে পলাশ রঙের ধারা
পলাশ মেরে বসতবাড়ি তুলছে তারা
পলাশের কবিতারা ঘাসের 'পরে,
একটু-একটু করে শুধুই ঝরে।
(৪)
সেই কবিতায় চোখ রেখেছে আকাশ,
কাব্যে বিভোর আজ তার অবকাশ।
পলাশের কবিতায় কে গো দেবে সুর ?
হবে তার প্রাঙ্গণ গানে ভরপুর।


কল্যাণবন্ধু মিত্র
উত্তরপাড়া

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের 
 বিধি নির্দেশক দফতরের বিশেষ দায়িত্ত্বপ্রাপ্ত অফিসার 

শুভেন্দু দাস
ভবানীপুর

কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট, আইবিএম  করপোরেট কমিউনিকশন 

বসন্ত আবার জাগ্রত

বসন্ত আবার জাগ্রত এই ডামাডোলের বাজারে,
পলাশের দাম কমছে, কমছে শিমূলেরও লাল
তুচ্ছ আজ পুচ্ছ নেড়ে মস্তানি করে
"দলদাস" হয়ে ঐতিহ্যেরা গুমরে মরে
প্রেমিকার জন্য রঙ নয়, টাকা চায় থলে ভরে
তবুও বসন্ত জাগ্রত !!
বসন্ত আবার জাগ্রত কি ভীষণ রূপে,
এত ভয় করে লাল আগুণের গ্রীষ্মের আগে শুধু
শুধু কিছুটা দখিণা হাওয়া আপাত শান্ত এ রাজ্যে ,
কি জানি কারা আবার ছড়িয়ে দেবে ঘুরে ঘুরে,
আমি থাকতে চাই, তোমরাও চাও,
আমরা সবাই চাই শান্তিতে থাকতে
কিন্তু সন্ত্রাসবাদী বসন্ত শুনলে তো সে কথা !!
বসন্ত , আবার জাগ্রত
ছোট্ট মেয়েটা, মিষ্টি মেয়েটা, কালো গভীর চোখে
দুটো হাত যার অঞ্জলি ভরে
পলাশ একটা ধরে রেখেছে প্রত্যাশা নিয়ে ,
কেউ যদি ... কেউ যদি ভয় না দেখায় ,
তাহলে উচ্ছ্বাসে মাতবে
হে পলাশ, হে শিমূল, হে বসন্তের দূত তেরা
"পচা লাশ" আর বয়ে এনোনা, গন্ধে পৃথিবী গেছে ভরে
এখন ছোট্ট মেয়েটা না হয় "রাজ" করুক !!!



বসন্ত-বন্দনা

চলার পথের ধারে দেখি লালফুলের বাহার
শুধাই আমি, নাম জানো কি তার?
উত্তর না পাই, নামটি থাকে অজানাই
তবু তার রং মনে-প্রাণে আনে বসন্ত
আকাশে-বাতাসে ছড়ায় যেন আবিরের সুগন্ধ
বসন্ত আর প্রেম কোনো এক নিবিড় সুত্রে বাঁধা
গাছের ডালে কোকিলের তাই কুহুস্বরে গলা সাধা
আমিও এবার শোনাতে পারি বসন্ত-বন্দনা
গলা ছেড়ে গাইব তবে বাহার রাগে তারানা
তাইতো আমায় ঠাই দিও ভাই আনন্দ-সভার মাঝে
এলাম আবার বার্তা নিয়ে বসন্ত-সভার মাঝে
মন যে আমার অশোক, পলাশ, শিমুল রঙ্গে সাজে




বর্ণালী কর
কলকাতা 

ইঞ্জিনিয়ার,
গেস্ট ফ্যাকাল্টি,
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়  

সংঘমিত্রা নাথ
গড়িয়া

ইংরেজি শিক্ষিকা ,
গড়িয়া হরিমতি দেবী 
উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় 

আজ বসন্ত

শুষ্ক,জীর্ণ ঝরা মাঘ বেয়ে
তুমি যে নিঃশব্দে চলে এসেছ -
সে কথা তো বলে গেছে
উতল ফাল্গুনি হাওয়া।

একটা কোকিল এসে সেদিন-
দিয়ে গেছে তোমার চিঠি,
গেয়ে গেছে তোমার গান
আম ডালে দোল খেয়ে।

নিশান উড়েছে তোমার চারদিকে
আম পেয়ারা লেবুর ডালে ডালে,
পেয়েছি তোমার বার্তা
সবুজের, নবীনের জয়সাজে।

সজ্‌নের ফুলে আমের বোলে
তোমার গন্ধে আসে সব পাখি,
বলে যায় ‘এসেছে বসন্ত,
শীতকে দিয়েছে ছুটি’।


আবার বসন্ত

পথের ধারে হলুদ হয়ে ওঠা গাছগুলো
জানিয়ে দিয়েছে তুমি এসেছ মহাসমারোহে-
পলাশ,কৃষ্ণচূড়া ঝুঁটিতে বেঁধে,
আবীর মেখেছ লাল,মেতেছ বসন্ত নৃত্যে।

বনে বনে আজ জীবনের নবদোলা,
ফুলের পাপড়িতে রঙেরই আলপনা
এসেছে রঙের উৎসব আবার
দুয়ার রুদ্ধ আর রেখো না।




দোল লাগে মনে 

বাইরেটাকে রাঙিয়ে দিলে 
তোমার রাঙা আবীরে, 
ভিতরটাকে ছুঁয়ে গেলে 
মনের অনেক গভীরে! 
ফাগুণ তো আজ আগুণ রঙীন 
মনে  জাগায় সাড়া, 
বাইরে দোল, ভিতরে দোলা 
মন যে পাগলপারা !!





ডাঃ অমরজ্যোতি গুপ্ত
বারাসাত

মেডিক্যাল অফিসার,
ওয়েষ্ট বেঙ্গল হেলথ সারভিস

সুশান্ত কর
 তিনসুকিয়া

বাংলার অধ্যাপক,
 তিনসুকিয়া কলেজ, আসাম



দোল কারে কয়?

কেউ কি এবারে পলাশ দেখেছো, ফাগুন মাসে ফোটে?
যেদিকে তাকাই ভোটের পতাকা আকাশ ফুঁড়ে ওঠে।
কেউ কি শুনেছো দোল কারে কয় ? সাজিয়ে থুয়েছো আবির?
রাজীব ভবনে বোমা ফুটেছে, মরে গেছে মিঞা সাবির।
কৃষ্ণ গেছে কুরুক্ষেত্রে , রাই হয়েছে বুড়ি।
কত বসন্ত ফিরে গেছে এসে, হিসেব রেখেছে থুড়ি!


হোলি


এক একটা দিন যেন
সুর্য্যের থেকেও লাল,
সুড়কির রাস্তা অথবা
 তোমার সিঁদুরের চেয়েও ।
এইসব দিন নিয়ে রাতভোর ঘুমোই ......
 ঘুমের ভেতর হেঁটে যাই
শাড়ীর আঁচল থেকে অসহায়ের মত
খুঁটে ফেলি কিছু লোহিতকণিকা।
সব চোরকাঁটা বেছে তোলা
বোধহয় সহজ নয়।
কিছু কিছু চিরকাল বিঁধে থাকে অগোচরে
ক্যালেন্ডার মাফিক বসন্ত চলে এল আবারও
ফাগুন হাওয়ায় কাঁপে শিরা উপশিরা
এবার নিদেনপক্ষে কিছু শিমূল কিংবা
পলাশ ফোটানো যাক্‌ ।




সুতপা ভট্টাচার্য বারুই
যাদবপুর

নেশা -- লেখালেখি
পেশা -- ব্যবসা [বুটিক]



ইন্দিরা মুখার্জি
খড়গপুর

ব্লগার 

আজ দোল

দোল ছিল এক পশলা আটপৌরে ভালোলাগা
ফুটকড়াই-মুড়কি-মঠের ছোট্ট ভাঙা আগা
রঙনিকোনো মনের উঠোন উপচে চাঁদের আলো
লুকোনো প্রেম, রঙীন বুকে ছবি আঁকার ভাল
দোল এখন পোশাকি প্রেম, মন্দবাসার পিঁড়ি
দোল আজকে ভালোবাসার শপিংমলের সিঁড়ি !
এসেমেসের ঠান্ডা বাতাস, দু এক কুচি কলি
চ্যাট, ই-মেল ইনবক্সে  বোঝাই গ্রিটিংস খুলি|

যাই হোক আজ দোল !

প্রতিপক্ষের সেই একসূতো চাঁদ আজ ষোলকলা পূর্ণ করল
ফাগুণের পাতাঝরায়, কৃষ্ণচূড়ার লালে.. দোল ফিরে এল
সাথে কত রঙ !  মোরামের রাস্তায় ঝরা পলাশের কুঁড়ি
আমের মুকুল, বাদাম গাছের পাতাঝরা  গুঁড়ি!
নীলচে আকাশ, কমলা অশোক সবাই ঘুরে এল
শিমূল তলার সেই মেয়েটা  কোথায় জানি গেল !
শিমূল-তলায় মেয়ের বাড়ি, পলাশ-উঠোন ভরা
অশোক-দালান পেরিয়ে পাবে কৃষ্ণচূড়ার সাড়া
মেয়ের ছিল  পলাশ উঠোন থৈ থৈ লাল বন্যা
শিমূল তলা পেরিয়ে গেলে  দোলকে পেত কন্যা
সজনেফুলের গন্ধ বাতাস, শিমূলরাঙা মাটি
পলাশবৃষ্টি  মেঘের বাড়ি, রঙীন ধূলোমুঠি !
ফাগ উড়িয়ে মেয়ে চলল দোলের খেলাঘর
রামধনু রং, আসমানি রং, পিচকারি তুই ভর ।

সেই মেয়েটার দোল

মেয়েটার একটা রঙীন ফাল্গুন ছিল বুকে ।
কবিতার খাতা নিয়ে ঝুঁকে পড়েছিল,
শিমূল-বারান্দা তখন স্বপ্নময় ।
ভাবনার পাতা উলটে চলেছিল একে একে..
পলাশ ঝরেছিল কার্নিশে,
কমলা রঙের পলাশ, বাদামী তার বোঁটা,
উঁকি দিয়ে চলে গেছিল
বসন্তের একচিলতে রোদগোলা সকাল ।
মেয়েটার মনের ধারাপাতে তখন বসন্ত এসেছিল ।
সেদিনও ঝরেছিল একমুঠো পলাশ ,
কমলা রঙের পলাশ, বাদামী তার বোঁটা,
পাতা ছিল না একটাও তার আশেপাশে ।



 ফিরে এস

তোমার ঐ খর-দৃষ্টি সহজ হয়না
ভস্ম করবে কি এই দহন যন্ত্রণা?
মুক্তির আশায় ছুঁতে যাই অন্যখানে
হয়ত তোমারি অমোঘ আকর্ষণে..
মেঘ  জমেছিল,  মনের আকাশে
তোমায় খুঁজেছিলাম, ছিলেনা পাশে
সবাই এল, চলেও গেল
ক‌ই তুমি এলেনা তো!
হিমেল হাওয়া, ঝরে পড়া ধান
এই বুঝি তোমার দান?
আজ স্বীকার করার সময় এসেছে
ধূসর মেঘে আলোর ছোঁয়া লেগেছে
আমি শুনেছি তোমার আসার শব্দ
অনুভবে জেনেছি  তুমি অনন্য
তুমি এসো বসন্ত, তোমায় দরকার বড়
আমাকে ভরিয়ে তোলো, আমায় পূর্ণ কর
রিক্ত আমায় সাজিয়ে তোল রক্ত পলাশে
আনমনা চাই থাকতে অশোকের পাশে
আমি সাজব তোমার স্পর্শে,
সবটুকু আবেগ নিয়ে ভরা উচ্ছ্বাসে
তুমি ফিরে এসো বসন্ত, তুমি অনন্ত,
তুমি চির সুন্দর, আমি তোমার অনুগত
দাও না আমায় রেখে শুধু তোমারি করে
কক্ষনো ফিরে না যাবার আজীবন অঙ্গীকারে!





 অদিতি ভট্টাচার্য 
কলকাতা 

কনসাল্টেন্ট  
আইবিএম, কলকাতা 




মহাশ্বেতা রায়
কলকাতা

ওয়েব ডিজাইনার, 
কন্টেন্‌ট্‌ রাইটার আর
ইচ্ছামতীর দেখাশোনা করি

কলকাতায় বসন্ত

গড়িয়াহাটার মোড়ে,
মহানাগরিক ভীড়ে,
একটা পলাশ গাছ,
হটাত ফাগুন ভোরে,
ধূসর নীল আকাশ
(আর )মৃদু দখিনা বাতাস
পটভূমিতে রেখে,  আঁকে
লাল-কমলা আভাস।
বাসে  বা  ফুটপাথে
ব্যস্ত চলার পথে,
বসন্তরাজ সহযাত্রী
নতুন পাতার রথে।
সাত রঙা বেলোয়াড়ি
ফাগুন-ফেব্রুয়ারি,
ইচ্ছেমতন সাজিয়ে তোলে
ধূলি ধূসর নগরী।




দোল-ফাগুণে

 দে দোল দোল, দে দোল দোল
সকল মনের দুয়ার খোল;
রামধনুতে রঙিয়ে দিয়ে
মন আঙিনার আগল খোল
রঙ বেরঙের আবীরে আজ
বুকের মাঝে বাজুক মাদল !
শিমূল, পলাশ কৃষ্ণচূড়ায়
ভালোবাসার আগুন লাল...
পূর্ণ চাঁদের আলোক ধারায়
খুশির বানে দুঃখ ভোল ।










ছন্দা নন্দী
কলকাতা

হোমমেকার


১১ মার্চ, ২০১১

"ইতি কৃষ্ণা"



দৈনিক জনকন্ঠ , করিমগঞ্জ আসামের এই পত্রিকায় ২০শে ফেব্রুয়ারি ২০১১ তে " ইতি কৃষ্ণা" কবিতাটি প্রকাশিত হয়েছে । 

৯ মার্চ, ২০১১

গতকাল, ৮ই মার্চ ছিল মেয়েদের দিন

নারী, তোর জন্য দেখল জীবন কত পুরুষ
তোর জন্য ছেলেপুলেরা হ'ল মানুষ
তোর জন্য পুরুষ সাজাল শক্তিপুজোর ডালি
আমার দেশকে তুই কত কিছু শেখালি,
কত কিছু করলি !
কিন্তু বলতে পারিস তুই কেন আজো পেছনে রয়ে গেলি?
আজো পথে পড়ে থাকে মৃত মেয়েটা ,
সদ্যোজাতা, পরিত্যক্তা, ধর্ষিতা, লাঞ্ছিতা ।
আমি বলি তুই শুধু বেঁচে থাক "নারী" হয়ে
বেঁচে থাক তোর মত , তোর জন্যে শুধু ।


সুমঙ্গলী বধূ, তোমার মঙ্গলের জন্য দেখ,
সুমঙ্গলী কন্যা, তোমার শান্তির জন্য ভেব
সুমঙ্গলী নারী , তোমার সুখের জন্য বাঁচো একটু
যদি আকাশ থাকে তবে বেঁচে থাকবে নারী তুমি
যদি বাতাস থাকে তবেও বেঁচে থাকবে তুমি,
যদি পুরুষ থাকে তবেও বেঁচে থাকবে নারী
শুধু নারী হয়ে বেঁচে থেকো 
শুধু নিজের জন্যে, নারীর জন্যে, তোমার জন্যে 

৮ মার্চ, ২০১১

কচি-কাঁচার ওয়ার্কশপ, ৬ই মার্চ ২০১১




৬ই মার্চ ২০১১ কচিকাঁচা তথা "দিয়ালা" ওয়েব ম্যাগাজিনের আয়োজনে দক্ষিণ কলকাতার কৌশিক হলে হয়ে গেল ছোট ছোট কচি-কাঁচাদের পেন্টিং এবং মাস্ক মেকিং ওয়ার্কশপ  । 

প্রদীপ জ্বালিয়ে  অনুষ্ঠানের সূচনা করলেন ডায়রেক্টরেট অফ টেকনিকাল এডুকেশানের ডিরেক্টর ডাঃ সজল দাশগুপ্ত । তাঁর সুচিন্তিত বক্তব্যে আমরা ঋদ্ধ হলাম ।ছোট শিশুদের পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে ক্রিয়েটিভিটির জোয়ারে ভাসানোর উদ্দেশ্যে দিয়ালা ওয়েবজিনের কর্মকান্ডের ভূয়সী প্রশংসা করলেন তিনি ।

দিয়ালার দুই সম্পাদক অনন্যা ব্যানার্জি এবং সঞ্জীব শিকদার দিয়ালার সক্রিয় সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন । ছোটদের মাস্ক মেকিং ওয়ার্কশপ কন্ডাক্ট করলেন শ্রীমতি মধুছন্দা মজুমদার এবং পেন্টিং ওয়ার্কশপ কন্ডাক্ট করলেন আর্ট কলেজের প্রাক্তন ছাত্র   শ্রী স্নেহাশিস মাইতি । আমার সাথে দিয়ালা ওয়েব ম্যাগাজিনের অন্য লেখক লেখিকারাও উপস্থিত ছিলেন ঐ অনুষ্ঠানে । অন্যতম কবি শ্রী সুবীর বোস, গল্পকার অতনু ব্যানার্জি,  শ্রী কল্যানবন্ধু মিত্র , শ্রীমতী রেখা মিত্র,  শ্রী উতপল চক্রবর্তী  এবং ঋত্বিকা ভট্টাচার্য ছিলেন ঐদিনের অনুষ্ঠানে । 

১৬ বছরের অনুর্দ্ধ কিশোরদের জন্য ত্রৈমাসিক দ্বিভাষিক ওয়েব ম্যাগাজিন হিসেবে দিয়ালা ইতিমধ্যেই অনেক প্রতিষ্ঠা পেয়েছে  । ভবিষ্যতে এর আরো সাফল্য  কামনা করি আর সমাজমূলক কাজকর্মে কচিকাঁচার এই প্রয়াসকে কুর্ণিশ জানাই ।




৩ মার্চ, ২০১১

তারাক্লাবের প্রথম পিকনিক, ২০শে ফেব্রুয়ারি ২০১১


সেদিন ছিল একটা সজনেফুলের গন্ধ সকাল । নলবনের পাশে ওয়েষ্টবেঙ্গল ফিশারিজ প্রজেক্টের পিকনিক স্পটে আমাদের " তারা ক্লাবের " প্রথম পিকনিক হয়ে গেল । দিনটা ছিল ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ , রবিবার । আমরা যে যার মত পৌঁছে গেছিলাম চড়ুইভাতি-চত্বরে ।  কেউ বোসপুকুর, কেউ বারাসাত , কেউ  উলোটোডাঙা থেকে । অনেকেই চিনতাম একে অপরকে আবার অনেকেই ছিল অপরিচিত ।  ঠিক যেমন শীতের পরিয়ায়ী পাখিরা আসে লেকের ধারে । কেউ কাউকে চেনে না কিন্তু মিলেমিশে গলা ছেড়ে ডাকতে শুরু করে যেন কত চেনা তারা একে অপরের । আমের মুকুল এসে গেছে তখন নলবনের গাছে । কোকিল গলা ছেড়ে গাইতেও শুরু করেছিল সে সকালের ভৈরবী ।   পলাশের কুঁড়ি ঝরা মিষ্টি সেই সকালে আমাদের প্রাতরাশ খেতে যাওয়া হল ছোট্ট সাঁকো পেরিয়ে তারার বনভোজন দফতরে । লুচি, তরকারি, মিষ্টি আর চা খেতে খেতে জনপ্রিয় টেলিভিশন এন্কর রিনির সাথে  কথা হ'ল ।

তারা মিউজিকের ভাইস প্রেসিডেন্ট রেশমি রায়  আর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ডা: ছন্দা গুহ আমাদের সাথে ছিলেন সেদিন । 

   সেদিন সকলে যে যার মত " যেমন খুশি পারো " এই ভাবে কত কিছু করল । কেউ নাচল, কেউ গান করল, কেউ আবৃত্তি করল  স্বরচিত কবিতা । ক্যুইজ হল খানিকক্ষণ |  ততক্ষণে ছোটরা ক্রিকেট ম্যাচ শুরু করে দিয়েছে । সূর্য তখন মধ্য গগনে কিন্তু আগের রাতের মেঘ-বৃষ্টির টানাপোড়েনে মাঝেমাঝেই ধাকা পড়ে যাচ্ছিল মেঘের মধ্যে । পাশের ঝিল আর মাছের ভেড়ির ওপর দিয়ে তখন ব‌য়ে চলেছিল বসন্তের হাওয়া । আমার কয়েকজন সেই হাওয়া গায়ে মাখতে মাখতে কোথায় যেন পাড়ি দিয়েছিলাম সে দিন ! মাঝখানে এল গরমাগরম স্ন্যাকস । তার কিছুপরেই দুপুরের খাওয়া । গরম ভাত, সুক্তো, ডাল, বেগুনি, পাঁঠার মাংস, বাঁধাকপি আর চাটনী ;
খাওয়ার পর অন্ত্যাক্ষরী ।   আর তারপর গানের সাথে জমাটি নাচ । রেশমি আমাকে ছড়া লিখে পড়তে বলেছিল । সেটাও ছিল আমার কাছে অনেক পাওয়ার মধ্যে একটা । 
হাতের মুঠোয় সজনেফুল, কোকিল সুরভাসি 
নলবনের বনভোজনে তারার পাশাপাশি  ।
মেঘপিওনের জল-লেফাফা, ভোরের রাতে হ'ল সাফা 
তারার ডাকে পেলাম সাড়া, বৃষ্টিগায়ে সারাপাড়া ।
মাছের ভেড়ি, দামী শাড়ি, মেঘে ঢাকা সূয্যিবাড়ি
চড়ুইভাতি চড়ুইভাতি আজকে শুধুই মাতামাতি
উড়ছে ফাগুন্, জ্বলছে পলাশ, শীতের বাড়ি করছি খালাস ।
ঘটিবাটি, রান্নাছুটি মেঘের কোলে খেলনাবাটি ।
পিকনিকে তোর ধূলোমুঠি , রোদের সাথে খুনসুটি ।
আজ আমাদের ছুটিছুটি হৈহৈ,গান লুটোপুটি ।
" মনের কথা মন খুলে বল " দেখনা কেমন আলো সকাল ।
মন দিয়েছে স্বপ্নপাড়ি, ওলো স‌ই তোর আমার বৃষ্টি শাড়ি !
ঝাঁকঝাঁক উড়ো মিতেনী, ও ভাই আমরা কি তোরে চিনি?
নে না চিনে বন্ধু আমার তারার আলোয় দেখ একবার !
স‌ই পাতালাম ! বন্ধু হলাম ! কথা দিলাম! বৃষ্টিকথার শব্দ নিলাম ।

বিকেলের চায়ের পর আমরা যে যার মত বাড়ি ফিরেছিলাম সে বিকেলে । এই প্রথম কোনো টিভি চ্যানেলের ক্লাব মেম্বার হয়ে পিকনিক যাওয়ার সৌভাগ্য হ'ল আমার ।

বেশ সুন্দর অনুভূতি ! নতুন বসন্তের গন্ধের মত, নতুন শীতের ওমের মত, নতুন বৃষ্টির ছন্দের মত ! নতুন করে ফিরে পাওয়া কলেজ জীবনের ছোঁয়া  যেন লেগে র‌ইল মনের মধ্যে । 

১ মার্চ, ২০১১

মহাভারতের হিড়িম্বার পূজিতা কালী

খড়গপুর থেকে ইন্দার পথে পুবদিকে গেলে পড়বে খড়্গেশ্বরের মন্দির ।  
সেখান থেকে আরো কিছুদূর গ্রামের পথ ধরে স্থানীয় মানুষদের জিগেস করতে করতে পৌঁছনো যায় হিড়িম্বেশ্বরী মন্দিরে  ।  


বড় বড় দীঘি পরিবেষ্টিত  ইন্দার এই  গ্রামটির নাম বামুনপাড়া । কথিত আছে মহাভারতে পঞ্চপান্ডবের অজ্ঞাতবাসের সময় ভীম ঘুরতে ঘুরতে  এসে স্থানীয় এক অনার্য নারী হিড়িম্বাকে বিবাহ করেন  ;এই আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলটির নাম ছিল " হিড়িম্বা ডাঙা "    এই অঞ্চলে হিড়িম্বার আরাধ্যা একটি অত্যন্ত জাগ্রত কালীমূর্ত্তি ছিল যা কালাপাহাড়ের অত্যাচারে,   কালের স্রোতে ভেসে যাওয়া এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল ।

এখনো গাছের নীচে সেই অতি প্রাচীন পাথরের মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় 


আর সেইখানেই বাংলার ১৩৭৫ সালে নতুন করে মন্দির স্থাপন করেন বামুনপাড়ার স্থানীয় মানুষ জন । মন্দিরের মধ্যে ধাতব কালীমূর্ত্তির পাশে শীতলার ও ধাতব মূর্ত্তি পূজো হয় ।