৩ মার্চ, ২০১১

তারাক্লাবের প্রথম পিকনিক, ২০শে ফেব্রুয়ারি ২০১১


সেদিন ছিল একটা সজনেফুলের গন্ধ সকাল । নলবনের পাশে ওয়েষ্টবেঙ্গল ফিশারিজ প্রজেক্টের পিকনিক স্পটে আমাদের " তারা ক্লাবের " প্রথম পিকনিক হয়ে গেল । দিনটা ছিল ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ , রবিবার । আমরা যে যার মত পৌঁছে গেছিলাম চড়ুইভাতি-চত্বরে ।  কেউ বোসপুকুর, কেউ বারাসাত , কেউ  উলোটোডাঙা থেকে । অনেকেই চিনতাম একে অপরকে আবার অনেকেই ছিল অপরিচিত ।  ঠিক যেমন শীতের পরিয়ায়ী পাখিরা আসে লেকের ধারে । কেউ কাউকে চেনে না কিন্তু মিলেমিশে গলা ছেড়ে ডাকতে শুরু করে যেন কত চেনা তারা একে অপরের । আমের মুকুল এসে গেছে তখন নলবনের গাছে । কোকিল গলা ছেড়ে গাইতেও শুরু করেছিল সে সকালের ভৈরবী ।   পলাশের কুঁড়ি ঝরা মিষ্টি সেই সকালে আমাদের প্রাতরাশ খেতে যাওয়া হল ছোট্ট সাঁকো পেরিয়ে তারার বনভোজন দফতরে । লুচি, তরকারি, মিষ্টি আর চা খেতে খেতে জনপ্রিয় টেলিভিশন এন্কর রিনির সাথে  কথা হ'ল ।

তারা মিউজিকের ভাইস প্রেসিডেন্ট রেশমি রায়  আর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ডা: ছন্দা গুহ আমাদের সাথে ছিলেন সেদিন । 

   সেদিন সকলে যে যার মত " যেমন খুশি পারো " এই ভাবে কত কিছু করল । কেউ নাচল, কেউ গান করল, কেউ আবৃত্তি করল  স্বরচিত কবিতা । ক্যুইজ হল খানিকক্ষণ |  ততক্ষণে ছোটরা ক্রিকেট ম্যাচ শুরু করে দিয়েছে । সূর্য তখন মধ্য গগনে কিন্তু আগের রাতের মেঘ-বৃষ্টির টানাপোড়েনে মাঝেমাঝেই ধাকা পড়ে যাচ্ছিল মেঘের মধ্যে । পাশের ঝিল আর মাছের ভেড়ির ওপর দিয়ে তখন ব‌য়ে চলেছিল বসন্তের হাওয়া । আমার কয়েকজন সেই হাওয়া গায়ে মাখতে মাখতে কোথায় যেন পাড়ি দিয়েছিলাম সে দিন ! মাঝখানে এল গরমাগরম স্ন্যাকস । তার কিছুপরেই দুপুরের খাওয়া । গরম ভাত, সুক্তো, ডাল, বেগুনি, পাঁঠার মাংস, বাঁধাকপি আর চাটনী ;
খাওয়ার পর অন্ত্যাক্ষরী ।   আর তারপর গানের সাথে জমাটি নাচ । রেশমি আমাকে ছড়া লিখে পড়তে বলেছিল । সেটাও ছিল আমার কাছে অনেক পাওয়ার মধ্যে একটা । 
হাতের মুঠোয় সজনেফুল, কোকিল সুরভাসি 
নলবনের বনভোজনে তারার পাশাপাশি  ।
মেঘপিওনের জল-লেফাফা, ভোরের রাতে হ'ল সাফা 
তারার ডাকে পেলাম সাড়া, বৃষ্টিগায়ে সারাপাড়া ।
মাছের ভেড়ি, দামী শাড়ি, মেঘে ঢাকা সূয্যিবাড়ি
চড়ুইভাতি চড়ুইভাতি আজকে শুধুই মাতামাতি
উড়ছে ফাগুন্, জ্বলছে পলাশ, শীতের বাড়ি করছি খালাস ।
ঘটিবাটি, রান্নাছুটি মেঘের কোলে খেলনাবাটি ।
পিকনিকে তোর ধূলোমুঠি , রোদের সাথে খুনসুটি ।
আজ আমাদের ছুটিছুটি হৈহৈ,গান লুটোপুটি ।
" মনের কথা মন খুলে বল " দেখনা কেমন আলো সকাল ।
মন দিয়েছে স্বপ্নপাড়ি, ওলো স‌ই তোর আমার বৃষ্টি শাড়ি !
ঝাঁকঝাঁক উড়ো মিতেনী, ও ভাই আমরা কি তোরে চিনি?
নে না চিনে বন্ধু আমার তারার আলোয় দেখ একবার !
স‌ই পাতালাম ! বন্ধু হলাম ! কথা দিলাম! বৃষ্টিকথার শব্দ নিলাম ।

বিকেলের চায়ের পর আমরা যে যার মত বাড়ি ফিরেছিলাম সে বিকেলে । এই প্রথম কোনো টিভি চ্যানেলের ক্লাব মেম্বার হয়ে পিকনিক যাওয়ার সৌভাগ্য হ'ল আমার ।

বেশ সুন্দর অনুভূতি ! নতুন বসন্তের গন্ধের মত, নতুন শীতের ওমের মত, নতুন বৃষ্টির ছন্দের মত ! নতুন করে ফিরে পাওয়া কলেজ জীবনের ছোঁয়া  যেন লেগে র‌ইল মনের মধ্যে । 

২টি মন্তব্য:

mausumi বলেছেন...

Indira
lekhata porte porte abar jeno sei dintate phire giyechhilam. khub khub ananda korechhi sobai mile. jader chintam sudhu golar aoyaje tader chinlam chokher alote--sojonye Tara Muzik.sudhu dhonyobad dile moner puro bhab ta prakash korte parbo na tai cholo sobai mile gola chhere boli--ASCHHE BOCHHOR ABAR CHAI TARAR PICNIC!!!

Barnali বলেছেন...

bah! Bhalo laglo Indira tomar godyo-podyo sob mile Tara-r picnic-er akta misti chh(n)owa dile, ami jete pari ni, sei dukkho kichhuta bholale (:-D)