৩১ ডিসেম্বর, ২০০৯

হে নূতন !


কাল রাত বারোটা ;
সেন্টপলস্‌ ক্যাথিড্রালের ২০০৯ এর শেষ ঘন্টাধ্বনির
অনুরণন এখনো যেন লেগে র‌ইল কানে,
ভিক্টোরিয়ার পরী থমকে গেল কয়েক মূহুর্তের জন্যে,
সেকেন্ড হুগলী ব্রিজের সার সার গাড়ি নেমে এসে দাঁড়াল সিগন্যালে,
আলোর মালায় সাজানো পার্কস্ট্রীটে তখনো চলছে লেটনাইটের উদ্দামতা,
কোলকাতার আকাশে জমকালো ফায়ার ওয়ার্কস, বাজির শব্দ,
যেন সকলের ততপরতায় একটু তড়িঘড়ি...
বর্ষবিদায় আর নতুন বছরের আগমনীবার্তা ঘোষণা ....
আমরা সম্মোহিত ;
আমরা আবেগ তাড়িত হয়ে কুলো-বরণডালা সজিয়ে সকলে

দূর থেকে দেখি দেবশিশু আসে ছুটে নিয়ে রঙমশাল ।
খিলখিল হাসি ঠোঁটে আলোর কণা চোখের কোণে তার;
নতুন ইশারা চোখের মাঝে ভুলিয়ে দেয় কতকিছু,
ব্যথার গায়ে সুখের প্রলেপ লাগিয়ে দিল তার নরম চাহনি,
কত কান্নাহাসির দোলদোলানো স্রোতে,
অচিরেই ভেসে চলে গেল ২০০৯য়ের আবর্জনা, জঞ্জালপূর্ণ,
একখানা ডিঙিনৌকো; ক্লান্ত তার চেহারা, করুণ তার চাহনি;
নতুন ভোরের নতুন সূর্য তখনো নবদিগন্তে উদিত হয়নি
অন্ধকারের উত্সারিত আলো দিশা দেখালো,
আমরা দেখতে পেলাম ২০১০ কে উঁকি দিছে জানলা দিয়ে,
পা রাখলাম নতুন বছরের দরজার চৌকাঠে;
কত চাওয়া পাওয়ার শেষ হল,
কত বেগ-আবেগের টানাপোড়েনের পরিসমাপ্তি ঘটল ।
কত না বলা কথারা আজও গলার কাছে দলা পাকিয়ে রয়ে গেল;
আবার নতুন করে পাওয়ার প্রত্যাশায় আমরা জাগি নতুন ভোরে,
খুলে দিই পূবের বদ্ধ জানলা, জাগি নতুন ভোরে,
এক কলসী জল ঢেলে দিই চৌকাঠে, আমরা যেন নতুন যুগের ভোরে,
শেষ ট্রেন চলে গেছে কাল রাতে, আবার উঠি নতুন ট্রেনে।


২৫ ডিসেম্বর, ২০০৯

"অবতার বরিষ্ঠায়"

২০০৯ শেষের মুখে... বিগত বছরের অনেক ঘটনার মত আরো একটি ঘটনা নাড়া দিল মনকে। ক্রিসমাস ইভ বর্নময় হয়ে উঠল,নতুন করে আবিষ্কার করলাম জেমস ক্যামেরুন কে। যখন টাইটানিকের ভরাডুবির মধ্যে যে মানুষটি বাঁচিয়ে তুলেছিলেন অনবদ্য এক প্রেমকাহিনী কে সেই মানুষটি আবার নতুন করে রচনা করলেন ইতিহাস। "অনেক কথা যাও যে বলে কোনো কথা না বলি" সেই রবীন্দ্র সঙ্গীতের সাহায্য নিয়ে বলি এক‌ই অঙ্গে এত রূপের মত অনেক কিছু পেলাম "অবতার " ছবিতে । নেই সস্তার মেলোড্রামা, নেই অহেতুক নাচাকোঁদা । নির্ভেজাল, সংক্ষিপ্ত, "একটুকু ছোঁয়া লাগা" প্রেমকাহিনী । অরণ্য-মঞ্জিলমাঝে একদল উপজাতির প্রকৃতির বুকে স্বাধীন ভাবে বাঁচা, প্রকৃতির অকৃপণ সম্পদকে আঁকড়ে ধরে স্বতন্ত্র অথচ সঙ্ঘবদ্ধভাবে জীবনযাপন এবং ঠিক তার পরেই ঘটমান বর্তমানে যা প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে অর্থাত কোথা থেকে তাদের সুস্থ জীবন যাপনে এল এক ঘূর্নিঝড় ...একদল শত্রুপক্ষ চাইলো তাদের শেষ করে উদ্ধার করবে তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ আর একদল মিত্রপক্ষ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার সাহায্যে একজন প্রতিবন্ধী মানুষের মধ্য দিয়ে অবিকল সেই উপজাতির মত অবতার তৈরী করে সেই জঙ্গলমহলে প্রেরণ করলো । রোবটের সাহায্য নিল শত্রুপক্ষ আর একধার থেকে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের সাহায্যে অরণ্যের সবকিছু শেষ করতে চাইলো। অন্যথায় মিত্রপক্ষ যে অবতার কে প্রেরণ করলো সে অতি অনায়সেই মন জয় করে নিল সেই উপজাতিগোষ্ঠীর ... সহজ কয়েকটি পরীক্ষায় রাজা বলে ঘোষিত হল সেই বীরপুরুষ, প্রেমেও পড়ে গেল একটি মেয়ের | নাতিদীর্ঘ অথচ মনছোঁয়া এক রোমান্স | তবে সব থেকে মনকে নাড়া দিল এই অবতারটিকে যেখানে সে একটি পূর্নাঙ্গ মানুষ, নেই তার কোনো প্রতিবন্ধকতা , তার হৃদয়ের সকল কোমল মনোবৃত্তি তে সাড়া দিল সেই অরণ্য-তনয়া । কিন্তু কি করে হল তার এই অবতারত্বে পদার্পণ? একি সত্যি সফটওয়ারের খেলা নাকি সনাতন ভারতের আদি অকৃত্তিম প্রবাদ পুরুষ শঙ্করাচার্যের "পরকায়া প্রবেশ" ? যা এই ব্রহ্মচারী প্রমাণ করে দেখিয়েছিলেন দক্ষিণের পন্ডিত মন্ডন মিশ্রের স্ত্রী উভয়াভারতী কে । নিজের আত্মিকসত্ত্বা কে এক রাজার দেহে ধারণ করেছিলেন এবং নাবালক, ব্রহ্মচারী শঙ্কর গৃহীর মত তাঁর অনভিজ্ঞ অনাবিষ্কৃত যৌনজীবনকে বুঝে সেই বিষয়ে সম্যক জ্ঞান লাভ করে মন্ডন মিশ্রের স্ত্রী উভয়াভারতীকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন | কারণ মাত্র বার বছর বয়সে সকল শাস্ত্রে তিনি পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন ঐ একটি বিষয় ছাড়া ; তিনি হার স্বীকার করতে রাজী নন অথচ সেক্স সম্বন্ধে কোনো জ্ঞান নেই ; তার উপায় বার করেছিলেন যা জেমস ক্যামেরুনের সফটওয়ারের ভাষায় "অবতার" আর শঙ্করাচার্যের "পরকায়া প্রবেশ" । শঙ্কর যা পেরেছিলেন ঐশ্বরিক মায়ার সাহায্য নিয়ে ক্যামেরুন তা প্রমাণ করেছেন বিজ্ঞানের সাহায্যে। মূল কথা "আত্মা অবিনশ্বর" ঠিক যেমন ছোট থেকে আমরা শুনে আসছি কৃষ্ণের দশ অবতারের গল্প । এক এক বার এক একটি কাজের জন্য এই ধরাধামে অবতীর্ণ হন তাঁরা । ভাগবত গীতার সেই বিখ্যাত উক্তি "পরিত্রাণায় সাধুনাম বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম ধর্ম সংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে" আবার মনে করিয়ে দিল স্থান-কাল-পাত্র ভেদে তার যৌক্তিকতা ।

১৯ ডিসেম্বর, ২০০৯

গীতাঞ্জলি শতবর্ষ পুরষ্কার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের শতবর্ষ পূর্ত্তি উপলক্ষে দ্বাদশ বেহালা ব‌ইমেলা প্রাঙ্গণে বাংলা কবিতা আর্কাইভের পক্ষ থেকে সদ্যপ্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ "মোর ভাবনারে" শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ রূপে নির্বাচিত হ'ল । গত ১৫ই ডিসেম্বর বড়িশা হাইস্কুলে ব‌ইমেলা প্রাঙ্গণে কবি বিষ্ণু দে-কথা সাহিত্যিক সুবোধ ঘোষ উপমঞ্চে ইন্দিরা মুখার্জি কে এই পুরষ্কার প্রদান করা হল।



১২ ডিসেম্বর, ২০০৯

রেখোনা আঁখিজলে



মনোরম উদ্যান, ম্যাডক্স স্কোয়ার, লিচুপার্ক যাই বলো তোমরা ।
প্রতিদিনের মর্নিংওয়াকের আর কেতাদুরস্ত সান্ধ্যভ্রমণের,
কিম্বা নিরিবিলির কিশোরপ্রেমের অথবা একান্ত আপনজনের প্রতীক্ষার বেঞ্চিপাতা;
কিছুটা গোলাপের কেয়ারি করা, কিছুটা রেলিং দিয়ে ঘেরা মরশুমি ফুল।
ঘিরে দিলেই মনে হয় প্রোটেক্টিং ইন্ডিয়া ফ্রম ইন্ডিয়ানস!
দম আটকে আসে, আবার খোলা হাওয়ায় দম নেয় অনেকে।

আমি এক অর্বাচীন! বুড়ো হাবড়াদের দলে,
তোমাদের কলরব মুখরিত এই পার্কের একপাশে, মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ ;
আজ শোকস্তব্ধ আমি !
বুঝি আমি রাত পোহালো, বুঝি যে পূবের আলো,
আমাকে তোমরা দিলে শহরের নরম মাটি, আভিজাত্যের আস্তানা
আমি তোমাদের দিয়েছি সন্ধ্যাফুলের মিষ্টি মধু,
দুপুর পাতার ঠান্ডা ছায়া, আর নিশুতরাতের স্তব্ধ মায়া ;
আমি স্বজাত্যের অহমিকা আঁকড়ে ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে পার্কের এককোণে,
যেন দারিদ্রের অহঙ্কারে জর্জরিত ভিখিরী বুড়ির লোটা কম্বল সম্বল করে পড়ে থাকা ।
তবে এক লহমায় দেখে নিলে নজর কাড়ি সকলের ।
কিন্তু কথা ছিল ভেসে যাবো এই বাটে, তোমাদের কলকাকলিতে, হাসিতে,
পাখির গানেতে, পথের ধূলোতে, ধোঁয়াতে ;
আর তোমাদের খালি দিয়ে যাবো একরাশ প্রাণবায়ু,
আর হাত ভর্তি করে একমুঠো সবুজ ।

বিগত কত শতকের দোল-দুর্গোত্সব, কত মেলা, চড়ুইভাতি, সভা, মিটিং,
কত না বলা প্রেম, কত অপেক্ষার সাক্ষী হয়ে র‌ইল আমার মৌনতা !
আমি কাঁদলাম আর হাসলাম ;
জীবনপুরের পথিকের পসরা নিলাম ভাগ করে ।
আজ বৃষ্টি এসে মেশে আমার চোখের জলে, আজ শিশির এসে পড়ে আমার শুকনো ফলে,
একদিন নিষ্ঠুর নিয়তি এসে করাত চালাল আমার শরীরে, নবকিশলয় আজো আমার অঙ্গের ভূষণ ।
আমি পুরোটাই বাঁচতে চেয়েছিলাম তোমাদের মধ্যে,
আজ আমার একহাতে মুষ্ঠিবদ্ধ লোহার রেলিং আর এক হাতে আমার অঙ্গীকার !

ওগো তিলোত্তমা ! তোমার রূপের বড় অহংকার !
চেয়ে দেখ একটিবার !
আষ্টেপিষ্টে বেঁধেছি নিজেকে,
জড়িয়েছি ম্যাডক্সের মায়ায়, স্কোয়ারের কোণায়,
শুধু একটু বাঁচতে দাও আমায় !


২ ডিসেম্বর, ২০০৯

তুমি এলেনা


############################################################



ফোনটা বেজে গেল একবার, দুবার, তিন বার...
কেটেও গেল নিজে নিজে, তুমি ছুটে গিয়ে ধরলে না তো!
আমার ছেঁড়া ক্যানভাসে আমি নীরবে আজ এঁকে চলি
আমার অধরা প্রেমের মাধুরী ;
পথ আমাকে বয়ে নিয়ে চলে একঘেয়েমির রাস্তা,
সময়ের খেয়া আমাকে পার করে দেয়,
উল্টে দেয় ক্যালেন্ডারের পাতা,
প্রকৃতির ঋতুবৃত্ত সমাপ্ত হয় ঠিক সময়ে,
আমার কালের মন্দিরা আমি একলা বাজিয়ে চলি,
প্রতিদিনের রোজনামচার ফাঁকে ফাঁকে,
তুমি এসে ধরা দাও একবার করে ;
আনমনা বর্ষায়, উদাসী বসন্তে,
কখনো স্বপ্নের সূতো ছিন্ন করে ঘুম ভাঙা ভোরে,
কখনো কল্পনার ঘুঁড়ির সূতোয় রাতজাগা ঘরে,
আমি শেষ হেসেছিলাম,
যেদিন তোমার আকাশ আমার আকাশে
মিশিয়েছিল তার নীল,
আমি সাগরের সব জলটুকু দিতে চেয়েছিলাম তোমায় ;
ঘাসের সব সবুজটুকু দিয়ে হতে চেয়েছিলাম নতুন কবি,
শুধু তোমার জন্য।
ধানক্ষেতের সব হলুদটুকু জমিয়ে,
একখানা আটপৌরে শাড়ি কিনেছিলাম তোমার জন্যে,
দেওয়া হল না...
ফোনটা বেজে গেল একবার, দুবার বহুবার....

##############################################

Photograph by Ajoy De

২৭ নভেম্বর, ২০০৯

জয় গোস্বামীর নতুন ব‌ই "জলঝারি"


জয় গোস্বামীর নতুন ব‌ই "জলঝারি" পড়লাম। প্রথমবার জলঝারির ক'ফোঁটা জল আমার গায়ে পড়তে না পড়তে ই বাস্প হয়ে মিশে গেল হাওয়ায়। পরের বারে ঠান্ডা জলে সিক্ত হয়ে আমার একটু কাঁপুনি এল! শেষ বারের সবজলটুকু চেঁচে পুঁছে নিয়ে আমি মেখে নিয়েছি আমার মনের গায়ে । জলঝারির জল পড়ে ঝরাপাতা আজ নড়ে উঠেছে! হোক না সে বাগানের ঝোপের কোণে
পড়ে থাকা ফেলে দেওয়া এক জলঝারি, থাকনা তার মরচে পড়া বিবর্ণতা ! আমাদের মতো ঝরাপাতাদের দলে যারা তাদের জন্য এই জলঝারির পড়ে থাকা জলটুকু অনেক । কবি মুখবন্ধে নিজেই বলেছেন, যেসব সম্পর্ক নারী-পুরুষ কে প্রকাশ্যে আনতে পারেনা অথবা প্রকাশ্যে এলেই ঝড়-তুফানে তা ধ্বংসেই বিলীন হয়ে যায় সেই সব সম্পর্ক নিয়েই কিছুটা গদ্যে এবং কিছুটা পদ্যে লেখা এই "জলঝারি" ব‌ইটিতে জলঝারি কবিতাটি অনবদ্য! আমাদের মত যারা জীবনকে খানিকটা এযাবত্কাল দেখে এসেছে, বিশ্বাসের ভেলায় চড়ে ভেসে ভেসে খানিকটা উপলব্ধি করে এসেছে, সম্পর্কের টানাপোড়েনে যারা জীবনের জলছবি আঁকতে গিয়ে থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছে তাদের জন্য এই জলঝারি ।

প্রথম গল্প "ভুলভুলাইয়া" নি:সন্দেহে শিউলির নস্টালজিয়াকে মনে করিয়ে দেয় নতুন করে, কিন্তু তার চেয়ে ও সুন্দর লেখকের শব্দ নিয়ে ভেলকি দেখানো, যেখানে তাঁর একদিকে প্রকৃতি প্রেম অন্যদিকে প্রেমের জোয়ারে ভাসমান অবস্থায় কিশোরীটির একদিকে ঝগড়া করতে পারা অন্যদিকে "শিউলি পারা", "উঠোন পারা", "ভোর পারা" এই ভাবে ভালোলাগা গুলিকে বর্ণনা করা খুব নতুন ধরনের । তারপরে যখন মেয়েটি আরো বড় হয়েছে সেই প্রেম তার ততদিনে উধাও। তাই সে বলে "আজ আমার ভোরও ঘটেনা, শিউলিও ঘটেনা, উঠোনও ঘটেনা" অর্থাত কিশোর প্রেমে এই গুলি ঘটতো | সে ও তখন প্রেম কে আঁকড়ে ধরে ভোর, শিউলি এবং উঠোন কে চাইতো ; এখন প্রেম না থাকায় তার জীবন ননরোম্যান্টিক জীবনে পর্যবাসিত হয়েছে ।

"আমাদের পাখিগুলি হবে" তে রাগ-রাগিনীর মধ্য দিয়ে যাত্রাপথের বর্ণনা নতুন ধরনের । যেমন "ভীমপলশ্রীর মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, পৌঁছবো পুরিয়া ধ্যানেশ্রীতে " এর থেকে আমরা পাই সঙ্গীতানুরাগী জয় গোস্বামীকে।

"চিহ্ননাম" শুরু একটি মনছুঁয়ে যাওয়া কবিতা দিয়ে শেষ কিছুটা গদ্যে । আবার আবিষ্কার করি কবিকে...মনে মনে বলি, "তুমি নব নব রূপে এসো প্রাণে" চিহ্ননামের ঘুড়ির সুতো ধরে পৌঁছে যাই গল্পগদ্যে। ব্যর্থপ্রেমের ভার বয়ে চলেছে কেউ একজন ; তার প্রেমিকা আজ বিবাহিতা। আর স্মৃতির ক্যানভাসের একটি করে পাতা ওলটায় সেই ব্যক্তিটি । রোমন্থন করে প্রেমিকার সাথে তার প্রথম প্রেমের সুখস্মৃতি । শালীনতা, রক্ষণশীলতার লক্ষণরেখা কে মুছে দিয়ে কেন তাদের প্রেম প্রকাশ্যে আসবে না সেই নিয়ে বিষাদসিন্ধুতে ভাসিয়ে দিলেন প্রেমিকাকে লেখা কবিতা ।

"কড়ি ও কোমল" গল্পে আমরা শান্তিনিকেতনের ভুবনডাঙা পেরিয়ে শান্তিনিকেতনের চেনা পথঘাট দিয়ে সাইকেলে দুই যুবক-যুবতীর আলাপচারিতা বেশ লাগে। রুদ্রপলাশ, পূর্বপল্লীর গেষ্টহাউস, রাঙামাটি হোটেল, গোয়ালপাড়ার পথ ধরে খোয়াই নদীর ধারে এসে খোয়াই কে নিজের করে চাওয়া ঠিক যেন আমার চাওয়ার মত । তবে মেয়েটির খোঁপাতে ধনেপাতা গোঁজাটা একটু অন্যকিছু হলে ভালো হ'ত। কারণ শক্তডাঁটি না হলে পাতা গুঁজবে কি করে? প্রান্তিকের ক্যানালের ধারে, তাদের প্রেমালাপ, অজয়নদরূপী উদাস বাউলের সাথে মেয়েটির ফ্যান্টাসি ভালো। তবে শুদ্ধ-কোমল স্বরের ব্যঞ্জনা খানিকটা একঘেয়েমি এনে দেয়। শান্তিনির সব নৈসর্গিক সম্পত্তি এমন কি গোয়াল পাড়ার ঢোলকলমি থেকে শুরু করে সোনাঝুরির সব পাতা তিনি দিতে চেয়েছেন প্রেমিকাটিকে উজাড় করে সেখানে মেয়েটির শুদ্ধাশুদ্ধ না আনলেও চলত। ভালোবাসা যদি নিখাদ হয় সেখানে শুদ্ধতা যাচাইয়ের তো প্রয়োজন নেই। অবশ্য এখানে তাঁর পোয়েটিক লাইসেন্সকে আমি অস্বীকার করি না ।

"কাঁটাতার" পড়ে মনে হ'ল এক অপূর্ব বাস্তবতার চিত্র এঁকেছেন কবি, লেখক শিল্পী জয় গোস্বামী । সব সম্পর্কের মধ্যে তিনফুট ছাড় রাখাটা যে কতটা জরুরী সেটা নিজের জীবন দিয়ে উপলব্ধি করেছি আমি। দুটি মানুষের মধ্যে যেকোনো সম্পর্কের ইতি ঘটে কাঁটাতারের বেড়া লঙ্ঘনের জন্য..এই জীবন দর্শন অনবদ্য। সীমান্ত লঙ্ঘনের পরিণতি সম্পর্কে আমরা সকলেই সচেতন এবং অবৈধ সংসর্গের ক্ষেত্রে তার পরিসমপ্তি ঘটে আত্মহনন, বিচ্ছেদ ইত্যাদিতে । কৌতুহলের এবং জ্ঞান-উপদেশের তীর বিদ্ধ হয়ে, সমাজবৃত্তে থেকে একঘরে হয়ে হীনমন্যতার স্বীকার হতে হয়। তাঁর মতে এই সব পরকীয়া প্রেম কাঁটাতারের বেড়া লঙ্ঘন না করে "নো ম্যানস ল্যান্ডে" থেকে ও চলতে পারে ; দুদেশের সীমান্তের মধ্যবর্তী জায়গায় দুদন্ড দাঁড়িয়ে মনের কথা বলে আবার যদি ধীরে ধীরে ফিরে যাওয়া যায় অর্থাত দুপক্ষের কেউ জানালো না কথাটা, কেবল সেই সম্পর্কের টানাপোড়েনে জর্জরিত মানুষদুটি ছাড়া। তাহলেও কিন্তু আমার মনে হয় "এই কুলে আমি আর ঐ কুলে তুমি"র মত মাঝখানে বিশ্বাসের সূতোটা আলগা হয়ে যাবে। তবে হ্যাঁ, একথা স্বীকার না করে পারা যায় না, নিখুঁত লেখনীর বুনোটে "নো ম্যানস ল্যান্ডে" ডিঙি নৌকায় বসে কথা বলে চলে আসাটা নি:সন্দেহে উপভোগ্য।

"বিরহ" গদ্যে আমরা আবার নতুন করে আবিষ্কার করি প্রেমের বিরহ যন্ত্রণাকে, যা নাড়িয়ে দেয় পাঠকমন কে। সংসার কটাহ তলে জ্বলতে জ্বলতে প্রৌঢ়ত্বে পৌঁছে ঘুমিয়ে পড়া প্রেমের মধ্যে থেকে নিভে যাওয়া বিরহের অবসর.. এ ধারণাও অসাধারণ ।।

জলঝারির অনবদ্য রঙীন প্রচ্ছদ অলংকরণের পুরো কৃতিত্বটুকু প্রাপ্য কৃষ্ণেন্দু চাকীর । ব‌ইটি সত্যি সত্যি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। জয় গোস্বামী আরও লিখুন আর আমাদের পাঠকমনকে নাড়িয়ে দিন এই কামনা করি ।
কিন্তু তিনি তো আজীবন শিল্পী, অবিসংবাদী কবি তাই তাঁর শেষ গদ্যের এই স্বীকরোক্তি "মধ্যবয়সের বিদ্বেষ চর্চার জ্বালা, প্রতিহিংসা বহন ও তার দাহ এসবের চেয়ে প্রেমের অভিশাপ বরং শ্রেয় " এই কথাটি মনে রাখার মত

১৩ নভেম্বর, ২০০৯

কালোমেয়ে

আমার উপন্যাসের নায়িকা শেষের কবিতার লাবণ্যের মত নয়,
আমার গল্পের নারী চরিত্র প্রথম প্রতিশ্রুতির সত্যবতীর মতও নয়,
আমার কল্পনার নারী অমরাবতীর ঊর্বশীরমত ওড়নায় মুখঢাকা কোনো দেহপসারিণী নয়,
কিম্বা রাঙামাটির পথ ধরে হেঁটে চলা আলুথালু বেশ, শুকনো কেশ কোনো নিষ্পাপ গ্রাম্যবালিকা নয় ;
কালবেলার মাধবীলতা নয়.. নয় সে নষ্টনীড়ের কুড়ানি।
আমি স্বপ্নের ফেরিওয়ালা ; স্বপ্ন বেচি কাব্য লিখে। ঘুমের মাঝে গল্প লিখে ...
আমার রঙীন নেশার স্বপ্নের নায়িকা কৃষ্ণকলি ..
সে কালোমেয়ে তাই কৃষ্ণকলি বলি আমি তাকে।
জানো ? সে আমার মনের গহন বনে, লুকিয়ে থাকে আপনমনে,
রাত্রি শেষে ঘুমের মাঝে, ঘুমপাড়ানি গানের সুরে,
আমার কাছে দেয় সে ধরা, কোলে তোলে আপন করে ।
কৃষ্ণকলি পাশে বসে। আমায় দেখে মুচকি হাসে।
নয় সে কোনো বিম্ববতী, সুরধুনীতীরের কোনো বিরহিণী রাধারাণি ।
গাছ তলার নীচে চুঁইয়ে পড়া ক্ষীণ ঝোরার জলের শ্যাওলা পড়া পাথরের নীচে বসা,
কোনো আধফোটা কিশোরী নয়,
প্রকান্ড সোনাঝুরির ফ্যাকাসে কাঠের গুঁড়ির গায়ে হেলান দেওয়া প্রেমিকের জন্য প্রতীক্ষারত,
কোনো সদ্যকুসুমিত যুবতী নয় ।
সে একপিঠ কালোচুল এলো করে, সাঁঝের বাতি করে সাথী, চলে আসে রাতারাতি ।
কখোনো পূবের আলোর কনকোজ্জ্বল রক্তিমাভা দু কপোলে মেখে, কপালে মস্ত লাল সিঁদুরের টিপ এঁকে,
শোনায় ভোরের আগমনী ।
কম্বুকণ্ঠী কৃষ্ণকলি আমায় কবিতা শোনায়,
কাজলনয়না কৃষ্ণকলি আমাকে গান শোনায় ।
কখনো চাঁদের রূপোলী জ্যোত্‌স্না গায়ে মেখে, ছাদ আলো করে আমার পাশে এসে দাঁড়ায় ।
মিষ্টি হাসি হেসে আমায় বলে, আমি যে তোমায় বড্ড ভলোবাসি, তাই তো তোমার কাছে ছুটে ছুটে আসি।

২১ অক্টোবর, ২০০৯

মরুভ্রমণ যদিও অধরা তবুও মধুর!!!


আসলে সেই অর্থে মরুভ্রমণ হয়নি এবার। আমার ছেলে রাজস্থানের একটি কলেজে এই বছর ভর্ত্তি হয়েছে...তাই সে তো আসতে পারবে না ...তাই আমাদের যাওয়া..তবে কলকাতার ভীড় ছেড়ে পালিয়ে কিছু খারাপ লাগেনি..বরং একটু অন্যরকম দীপাবলী হল এবছর । ময়ূর, টিয়াপাখি, বকের সারি, নিম গাছের এভিনিউ, ঊটের সঙ্গে পথ হাঁটা, কাঠবেড়ালির পায়ে পায়ে লুকিয়ে পড়া, এই সব আর কি ...মাটি থেকে ২৫০ মিটার উঁচুতে সংকটমোচন মন্দির দেখতে গেলাম । বাজিপোড়ানো দেখলাম কলেজের ক্যাম্পাসে । প্রচুর আলো দিয়ে সাজানো কলেজের ঘড়ি-স্তম্ভ...আলো আলো আর শুধু আলোর রোশনাই ..কিন্তু সাথে নীরবতা..এক অপূর্ব নৈসর্গিক শান্ত প্রকৃতি। সকাল হলেই নতুন ঠান্ডা হাওয়ার ছোঁয়া আর কর্কশ কেকাধ্বনি যেন মনে করিয়ে দিচ্ছিল আলস-লালস পসরা সাজিয়ে শীতের আগমনবার্তা । আমার ছোটবেলায় বাবা মায়ের সাথে রাজস্থান ঘোরা কিন্তু এই বয়সে স্বামী-পুত্রের সাথে ছোট্ট এই গ্রামের মাঝে দিন কয়েক ঘুরে এসে ...কত পাখির কলরব শুনে, কত বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে মনে পড়ে গেল..আমি বিন্দুতে সিন্ধুদর্শন করলাম !

দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া,
একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু!!!!

১৮ অক্টোবর, ২০০৯

আমার দীপাণ্বিতা


আকাশ-প্রদীপ জ্বলছিল কার্ত্তিকের কলকাতার কালো আকাশে। ভূত-চতুর্দশির রাতে চোদ্দ-প্রদীপ জ্বালিনি সেবার।
বিয়ের আগে আমার দীপাবলী ছিল এক রকমের ।
দীপাণ্বিতার পূজো, অলক্ষী বিদায় করে ধনতেরসের লক্ষীবরণ, কত জাঁকজমক করে মায়ের ভোগরান্না, কলাপাতার থালায় প্রসাদ বিতরণ, মজা করে ভাই বোনেদের সাথে ঘিয়ের সাদা সাদা লুচি, নতুনশীতের ফুলকপির ডালনা খাওয়া। তারপরে অন্ধকার ছাদে উঠে বাজি পোড়ানো, আর ছাদের প্যারাপেটে সার সার মোমবাতি দেওয়া। আমার দীপাবলী আমার ঘরের দীপাণ্বিতার আলোয় আলোকিত হয় প্রতিবারে।
বিয়ের পরে আমার দীপাবলী এক এক বার এক এক রকমের হয়েছে। কোনো বার কেটেছে শুধু বারান্দায় বসে আলো দেখে, বাজির মালা দেখে, বাজির আওয়াজ শুনে। কোনোও বারে শুধু ঘুরে বড় বড় প্যান্ডেলে কালীঠাকুর দর্শন করে খেয়ে দেয়ে হুল্লোড় করে।
এবছর মরুপ্রদেশের সীমান্ত ঘেঁষে আরাবল্লী ঘেরা ময়ূরের দেশে দেখে এলেম তারে, রেখে এলেম তারে। অনেক দূরে, মরুশহরের পাশে, ছোট্ট গাঁয়ের দেশে, যেথায় ক্লান্ত মরুজাহাজ চলেছে বালির পথের ধূলো উড়িয়ে, গজগামিনী ময়ূর চলে দুলে দুলে মরুসাহারার বাগান দিয়ে, পেখম ঝুলিয়ে, পুচ্ছ দুলিয়ে..
ঝিঁঝিঁর ডাকে, রাতের আকাশে দেওয়ালির আলোয় এ গ্রামের মানুষ আমাকে অনেক কিছু দেখিয়েছে এবার। আতসবাজির কলরব, আকাশের বুকে আলোর রোশনাই, কত রকমের, কত রঙয়ের বাজি! বড় কষ্ট হল হস্টেলের ছেলেদের জন্যে, যারা এবারে দেওয়ালীতে বাড়ি যেতে পারলোনা, যাদের মায়েরা কত রকম খাবার বানিয়ে, থালা সাজিয়ে বসেছিল ..

১২ অক্টোবর, ২০০৯

দীপালিকায় জ্বালাও আলো!


দীপান্বিতার দীপাবলী, আঁধার রাতে প্রদীপ জ্বালি,
অমানিশায় তোমায় পূজি, মনের মাঝে তোমায় খুঁজি,
তোমার রূপের কালোর আলোয়, মনের আশায় সকল ভালোয়
ত্রিনয়নের জ্যোতির ছটা, দূর করো সব অঘটন ঘটা
লোলজিহ্বায় গ্রাস করে নাও, কপট-কলুষ-কালিমালিপ্ত,
অপারকরুণা বর্ষিয়ে তুমি মুছিয়ে ধরা কে করো যে শান্ত

১ অক্টোবর, ২০০৯

সোনার তরীর পাঠকদের আমার শুভ বিজয়ার প্র্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাই

শান্তিনিকেতনের প্রান্তিকের দুর্গাপূজার বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা পাঠে আমি এবং সুমন দাস বাঁশীতে

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০০৯

আজ মহানবমী



নবমী নিশি যেন আর না পোহায়,
তোকে পাবার ইচ্ছা মাগো কভু না ফুরায়,
রাত পোহালেই জানি আবার হবে দশমীর ভোর,
আবার তোকে পাবো মোরা একটি বছর পর |
মহা মায়ের মহামায়া, সোনার আলোয় কত পাওয়া
চারটি দিনের কত চাওয়া, ঊমাশশীর উতল হওয়া
কাঁদিস নে মা, আবার তোরে আসবো নিয়ে বছর পরে

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০০৯

আজ মহাষ্টমী


অষ্টমীতিথি সাঁঝের বাতিতে,
আলোকিত হল তোমারি আলোতে,
আজ হলে তুমি আরো সুন্দরী, !
ঘামতেল মাখা মুখপানে চাই,
আলোর পথেতে যেন পা বাড়াই,
তুই যেন মাগো আমাদের সাথে,
থাকিস পাশেতে প্রতি দিনেরাতে,
এইটুকু চাওয়া আর কিছু পাওয়া,
অষ্টমী পুজো শেষের বেলায়,
ভালো আরো বাসি পূজোর হাওয়া ।

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০০৯

আজ মহাসপ্তমী

সূর্যস্নাত সপ্তমী তিথি, নবপত্রিকায় তোমার আরতি,
ধন-ধান্যে বিপুলা প্রকৃতি, সবুজ ধরার পুন জাগৃতি,
নন্দিত তব চরণ পরশে, শস্যশ্যামলা সারাটি বরষে,
পূজি মাগো তোরে মনেরি হরষে, শুক্লা সপ্তমী তিথিতে
|

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০০৯

আজ মহাষষ্ঠী


মহা ষষ্ঠীর বোধন লগনে, ঢাকের বাদ্যি শুনি ক্ষণে ক্ষণে,
উদ্ভাসিত মৃন্ময়ী রূপ সোনার প্রতিমা বরণে,
চিন্ময়ী মাগো আনন্দরূপীণী, স্থল-জল শোনে বোধনের ধ্বনি,
আকাশ-বাতাস মুখরিত আজি বন্দিত তব শুভ আগমনী |

২১ সেপ্টেম্বর, ২০০৯

আবার নতুন করে পাবো তোকে...


মাগো এসে আদর করে, বল্‌ না আবার নতুন করে,
সোনার হাসি ঝরবে মুখে, আলোর বাঁশি বাজবে সুখে,
সুহৃদ- মিতে থাকবে পাশে, যেন আবার শরত্‌ আসে ।
পূজোর ডালি সাজিয়ে নিয়ে, ফুলের রেণু মেখে গায়ে,
সুগন্ধী ফুল-চন্দন-আবীর ঢালি মোরা তোর দুপায়ে।
তর সয়না আর যে আমার, ঢাকে কাঠি পড়বে আবার,
আনবো তোকে শাঁখ বাজিয়ে, বোধন হবে উলু দিয়ে,
তুই যে মোদের সদাই সহায়, পাঁচ দিনের এই মজার আশায়,
ঘুচিয়ে দে মা আঁধার-কালো, সারা বছর দেখব আলো,
হিংসা-দ্বন্দ দে ঘুচিয়ে, মিথ্যা-কালি দে মুছিয়ে,
আকুল মোরা ব্যাকুল সবাই, (যেন) রাত পোহালেই তোর দেখা পাই ।

৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৯

একালের স্বনামধন্য কবি জয় গোস্বামীর হাতে "মোর ভাবনারে" প্রকাশিত হল মহালয়ার পুন্য লগ্নে




জীর্ণ পাতাঝরার বেলায়, তোমাদের এই হাসিখেলায়, হঠাত্‌ মনে হল একটি কবিতার ব‌ই লেখাই যায়। অনেক কবিতা জমে ছিল। বন্ধু, হিতাকাঙ্খীদের প্রশ্রয়ে, আর সর্বোপরি আমার বাবা শ্রী নরেন্দ্রলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্‌সাহে আজ আমার এই ব‌ই প্রকাশিত হল।
বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই তাঁদের যাঁরা আমার পাশে এসেছেন, ভালবেসেছেন, আমার লেখার কদর করেছেন। কৃতজ্ঞতা জানাই সেই সকল শুভানুধ্যায়ীদের, যাদের উতসাহে আমি আবেগ তাড়িত হয়ে, মোর ভাবনাগুলিকে একসূতোয় গাঁথতে সক্ষম হলাম।
বহুদিন ধরেই কাগজে কলমে বাংলা লিখি কিন্তু কম্পিউটারে সহজ, সাবলীলভাবে বাংলা লেখার প্রযুক্তির জন্য বেশ কয়েক বছর ধরে হাতড়ে মরেছি। খোঁজ পেয়েছি softwareএর, কিন্তু সেগুলি কোনোটাই সেই অর্থে খুব user-friendly নয়। অবশেষে ইন্টারনেটের মাধ্যমে খোঁজ পেলাম দীপায়ন সরকারের। তাঁর ইউনিকোড-ভিত্তিক বাংলা লেখার softwareএ অতি সহজে বাংলা লিখতে শুরু করলাম এবং আমার বাংলায় ব্লগ লেখার সূচনা হোল। আমি দীপায়নের সহজ প্রযুক্তির সাহায্যে এই ব‌ইটি সম্পূর্ণ নিজে টাইপ করেছি আর সব টেকনিক্যাল দিকগুলি দেখেছেন আমার স্বামী ডঃ পৃথ্বীশ মুখার্জি। আমার পুত্র শুভায়ন আমার ব‌ইটি অলংকৃত করতে সাহায্য করেছে। সুন্দর প্রচ্ছদের জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই আমাদের পরম সুহৃদ আর্ট কলেজের কৃতী ছাত্র শুভেন্দু দাস কে।
এদের সহযোগিতায় আমার কাব্যমালিকা "মোর ভাবনারে" আজ সফল রূপে রূপায়িত করতে পেরে আমি সত্যি আনন্দিত ।


To purchase this book please use the following form to send me an email

Price is Rs 60 plus postage [ Rs 15 by DTDC within Calcutta ]

৬ সেপ্টেম্বর, ২০০৯

"MAHUL"abrittir Band....an experience!!


"মহুল" নাচল বলে, মাদল বাজা,
মহুয়া ফুটল বনে, মঞ্চ সাজা,
"মহুল" গাইছে সুরে সেন্স্-ননসেন্স্‌,
ছন্দে ও তালে তালে কথায় এসেন্স।
"আবোল-তাবোলে" বকে,
"হ-য-ব-র-ল"'র ঝোঁকে,
মাতাল "মহুলের" শাঁওলি-পলাশ
কি-বোর্ড-গিটারে সুরে,
অক্টোপ্যাডে তাল ধরে,
আরো তিন শিল্পীর পূর্ণ প্রয়াস।
হুঁকো-মুখো-হ্যাংলায়, যে আছিস বাংলায়,
শব্দ-কল্প-দ্রুমে বাজা তোরা ব্যান্ড |
"মহুল' বলছে কথা, সেরে যাবে মাথা ব্যথা,
গোঁফচুরি ভুলে গিয়ে দাঁড়ে বসে যা |
"মহুলের" কথা-গান, ছড়া বিগলিত প্রাণ,
দাঁড়ে-দাঁড়ে-দ্রুম্‌ শুনে জুড়ো তোর কান |

৫ সেপ্টেম্বর, ২০০৯

কলকাতা


ওগো কলকাতা মহনগরী ! সিটি we N joy!

আছে আবেগের স্মৃতি বিজড়িত, “সিটি অফ জয় ” নামে বিখ্যাত ,

বেগের জোয়ারে মানুষের স্রোতে মিছিল নগরী নামে প্রচলিত,

তোমার আমার সবার শহর সিটি we N joy !

কল্লোলিনীর রূপে কেন ভুলি, বারবার সেথা মন দিয়ে ফেলি,

কেন সে বোঝে না ভুলের বশেতে, সে আছে যে জুড়ে আমার মনেতে,

তোমার শহর, আমার নগর, সিটি we N joy !

শৈশবে শীতে আলিপুর জু তে ,কৈশোরে জাদুঘরে ,

কলেজ পাড়ায়, কফি হাউসে ,বানভাসি মোরা জোয়ারে |

ভিক্টোরিয়ার পরী পাখা মেলে ,চড়ি ট্রামে বাসে পাতাল রেলে ,

আমার শহর মেট্রো নগরী সিটি we N joy !

প্ল্যনেটেরিয়াম মন ছুঁয়ে যায় ,হর্টিকালচার হাতছানি দেয়,

গঙ্গাবক্ষে রিভার ক্রুজে, নৌকা, সাঁতারে, স্টীমারে |

আহা সুন্দরী ! বড় রূপসিনী সিটি we N joy!

মেলার শহরে গান মেলা শুনি, ব‌ই মেলা হতে ব‌ই কিনে আনি,

সিনেমা নাটকে ভরপুর তুমি মুখরিত মেলা নগরী,

কল কল্লোলিনী দেয় হাতছানি সিটি we N joy!

হুগলী ব্রীজের মমতায় মাখা এক্সপ্রেস ওয়ে ধরি ,

যেদিকে দুচোখ চলে যায় মোর স্টিয়ারিং হাতে করি,

জনস্রোতের ভীড় উপছনো রাস্তায় ট্রাম গাড়ি ,

কোলাহল আর আড্ডার মাঝে আছে আমাদের ই বাড়ি,

তার‌ই মাঝে তুমি বাড়িয়েছো হাত, দিয়েছো যে বরাভয় ,

তোমার আমার সকলের রাণী সিটি we N joy!

মশা মাছি আছে আছে কত রোগ, তোমার এখানে কত দুর্ভোগ,

তবু কেন ছুটে আসি বারবার ,এ শহর প্রিয় তুমি যে আমার,

তোমার আমার ভীড়ের নগরী, সিটি we N joy !

গ্রীষ্মে তোমার প্যাচপ্যাচে ঘামে, লোডশেডিং আম লিচু কালোজামে,

বর্ষায় আছে কত জল জমা দেখি আমি বসে তাই,

ওগো সুন্দরী ভেনিস নগরী সিটি we N joy!

শরতে শিশিরে শিউলির ঘ্রাণে, দুর্গামায়ের আগমনী গানে,

মেতে উঠি মোরা ঢাকের বাদ্যে, আলোর বেণু বাজাই।

রূপসিনী তুমি ভুলিয়েছো মোরে সিটি we N joy !

টানা রিক্সায়, অটো রিক্সায়, বাইপাসে গাড়ি স্পিড না নামায়,

রেসকোর্স রেডরোডের মোহেতে, পেরেছি যে ভাল তোমায় বাসতে,

প্রেয়সী তোমার যাদুতে ভুলেছি, সিটি we N joy!

দূষণ ভূষণ হয়েছে তোমারি, কালো ছাপ সারা শরীরে,

বলিরেখা পড়ে বয়সের ভারে, ভুলে গেছ তুমি আমারে,

ওগো সুন্দরী ! চির আদৃতা, ধর্ণা- মিছিলে হয়ো মুখরিতা,

তবু তুমি জানি আমাদের রাণী সিটি we N joy!

২৮ আগস্ট, ২০০৯

আমার তুমি


আমি বৃষ্টিভেজা বিকেল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম জেনো,
তুমি শিশির ভেজা পায়ে এসে আমার শব্দ শোনো,
আমি আগমনীর সুর তুলেছি শরত্‌ আলোর প্রাতে,
তুমি সেই সুরে যে সুর মেলালে আমার সাথে সাথে।
আমি অস্তরাগের রাগ-রাগিনী তোমার কান্না হাসি,
তুমিই আমার ইমন-বেহাগ তোমার কাছে আসি,
আমি তোমার দুখে দুখী, সুখের নতুন পাখী,
তুমিই আমার সুখের দোসর দুখ ভোলাতে ডাকি।
আমি অবাক হয়ে ভাবছি বসে আসছো তুমি রাণী,
তুমি সাজো নিজে, সাজাও আমায় ওগো আগমনী !
আমি তোমার আধফোটা ফুল, তোমার জন্য ফুটি,

তুমি আমায় নাও যে কোলে, তোমার পায়ে লুটি ।
আমি তোমার চঞ্চল গান, উচ্ছল প্রাণ-বীণা,
তুমি আমার সুরের ছন্দে গানের উপাসনা ।

২৬ আগস্ট, ২০০৯

পূজো আসছে


পূজো পূজো গন্ধ নিয়ে শিউলি ভেজা শরত্‌রাণী,
নীল আকাশে মেঘের ভেলায় ভাসছে সুরে আগমনী
কুমোরপাড়ায় ঠাকুর গড়া, সাজো সাজো রব সারা পাড়া ,
পাড়ার পূজো, পূজো বাড়ীর, চাঁদা তোলা, যোগাড় শাড়ির,
ও পাড়ার ঐ অমুক বাড়ির, পূজো এবার তাড়াতাড়ি
মন বসে না ধারাপাতে, ইতিহাস আর ভূগোলেতে,
লাল জরিপাড় হলদে শাড়ি, ব্যোমকাই বা বালুচরী,
হাল ফ্যাশনের রকমারী, কুর্তা, কামিজ আর কেপরি,
পূজোর সেল চলছে অনেক, কেনাকাটির ঝামেলা শতেক,
ভীড় ভাট্টায় পকেট কাটা, ছিঁচকে চোরের মজা লোটা,
হৈ চৈ পড়ে গৃহিনী মহলে, পূজোবার্ষিকী কোনটা কি বলে,
চটি জুতোর কত বাহার ! রেশমি-রঙীন কি মজাদার !
কেউ বা কাটায় পূজোর ছুটি, আয়েষে, আরামে বেড়িয়ে উটি,
হয়তো আবু কিম্বা পুরী, নাকি প্যান্ডেল হপিং আর হুড়োহুড়ি,

খোয়াই হাটের বিকিকিনি, কাঁথার কাজের পসরা আনি,
ছোট্ট ছেলে আদুড় গায়ে, মায়ের পাশে ব্যস্ত পায়ে,
ঢাকের আওয়াজ শুনতে পেল, কাশের ঝালর বুলিয়ে গায়ে, রাঙামাটির পথে গেল!

২১ আগস্ট, ২০০৯

বাড়ি বদল


আজ বড় কষ্ট হল । বুকের মধ্যে কেন জানি তোলপাড় হতে থাকল । গলার কাছে কিছু জমা কথা দলা পাকাতে লাগল ।কি জানি আজ কেন যেন চোখের কোণে জল এসে গেল । চোখের জল নিয়ে বিয়ের কনে হয়ে এসেছিলাম এই বাড়ি, আজ এই বাড়ির সাথে আমার কেন যে হল আড়ি! পুরোণো বাড়ির প্রতিটি ইঁট-কাঠ, শান বাঁধানো রোয়াক, গন্ধরাজ,করবী,কামিনী ফুলের মায়া, টুকটুকে লাল মেঝে, আমার ঘরের পাশে একফালি ছাদ, আমার তুলসীতলা, বটের বনসাইয়ের কোলে শিবলিঙ্গ, দক্ষিণের বারান্দা ....সবকিছুর জন্যে বড় কষ্ট হল আজ।
বাড়ির অনেক বয়স হল যেমন অনেক সুবিধে ছিল, অনেক অসুবিধে ও ছিল। আমাদের ছোট্ট গ্যারাজের ছোট্ট গাড়িটাও আর রাখা গেল না.. নিয়ম হয়েছে ..আমি মাঝখান থেকে বড় কষ্টে র‌ইলাম। লাল মেঝের চওড়া চওড়া দালান ,করিডোর, পেল্লায় বৈঠকখানা, লম্বা সিঁড়ি ...কিছুই রাখা যাবে না..কাজের বৌ মুছতে চায়না, বেশি পয়সা পেলেও না। তারাও সুখী আজকাল ।
অল্প কষ্ট করে বেশি রোজগারের অনেক পথ হয়েছে যে । তাই আমার বড় কষ্ট হত।
বিয়ের আগে দূর থেকে বাড়িটা দেখেছিলাম..বিয়ের বেনারসী কিনতে গিয়ে। বিয়ের পরদিন সকালে এসে পা দিয়েই মনে হয়েছিল "আমাকে এই বাড়ির যোগ্য বৌ হতে হবে " বাবা ও তাই বলেছিলেন । একতলা থেকে দুধে-আলতা পায়ে তিনতলা অবধি গুরুজনদের প্রণাম করতে করতে কোমর ব্যথা হয়ে গেছিল। ফুলশয্যার রাতে খড়খড়ির দরজায় আড়ি পেতেছিল সব জায়েরা, আজও লজ্জায় মুখ ফুটে জিগেস করতে পারিনি। ফিস্‌ফিস্‌ করে সেই রাতে ওকে বলেছিলাম, খড়খড়িতে চাদর জড়াতে ...অনেক ফাঁক থাকে যে...সকলে যে আমাদের কথবার্তা শুনতে পাবে ।
বাড়ি পুরোণো হতে লাগল। যে কোনো দিকে তাকালেই মনে হয় সারানো দরকার .. ওদিকে ছাদ ফেটে জল পড়া তো এদিকে কার্নিশ ফেটে যাওয়া । আমার তিনতলার ঘর প্রচন্ড গরম .. সব মিলিয়ে কিসের যেন তাড়নায় চলে এলাম বাড়িকে ছেড়ে।
ফ্ল্যাট বাড়ি, ভালো আবার খারাপ ও
কত পাওয়া, না পাওয়ার স্মৃতি,
কত শিখে নেওয়া রীতি ।
কত বেগ-আবেগের টানাপোড়েন,
কত হাসি-কান্নার লেনদেন ।
কত আলো-আঁধারের খেলা,
কত আনন্দ-উতসবের মেলা ।
কিছু দেনা-পাওনার হিসেব নিয়ে চললাম আমার নতুন বাড়ি,
পুরোণো ইঁট পুরোণো সেই ঘরের সাথে, আমার হল আড়ি ।
দুপুর বেলা পিওন এসে চিঠি দেবেনা আর,
তরতরিয়ে সিঁড়ি ভাঙার নেই কোনো দরকার ।
বাজবে নাকো কলিংবেল আমার দরজায়,
ক্লান্ত দুপুর বসে থাকবে আমার অপেক্ষায়।
আমার বাড়ি, আমার গরম কাল,
দখিনখোলা লেকের হাওয়া, সন্ধ্যেবেলায় হারিয়ে যাওয়া
শীতের দুপুর, রোদের মেলা, দেখবো নাকো আর,
আমি চলে এলাম বলে কি ই বা হল হাল !!

৬ আগস্ট, ২০০৯

রাখী রাখিও না হাতে !!

বাঙলার মাটি, বাঙলার জল, বাঙলার বায়ু, বাঙলার ফল 
রাখী বাঁধি হাতে, ছোরা নিয়ে সাথে, রাখি হাতে হাত, চলি দলে দল |
 আকাশের বুকে কালো ধোঁয়া ছায়, বারুদের ঘ্রাণে বায়ু বিষময় 
হাতে রাখি হাত, বাঁধি রাখী তায়, পাছে প্রাণ যায়, মনে ভয় হয় | 
মানুষে মানুষে শুধু হানাহানি, হিংসা-কলহে বড় টানাটানি 
বাঁধি রাখি আমি বন্ধুর এক হাতে বিষ দিই তার অন্য আরেক হাতে | 
মিছরির কুচি পুরে নিয়ে মুখে, ছুরি খানা গুঁজি বন্ধুর বুকে 
ভয় হয় যদি কেউ দেখে ফেলে , জরিময় রাখী বেঁধে দিই সুখে।  
কত শত রাখী বাজারে এসেছে রাখি না কো তার খোঁজ
 শুধু ভাবি মনে রাখী বাঁধবার কি এ প্রহসন রোজ?

৩ আগস্ট, ২০০৯

ভালো থেকো বন্ধু

বন্ধু হয়ে বন্ধু থেকো হাত বাড়িয়ে হাতটি ধরে,
যেমন করে লতায়-পাতায় মিলেমিশে আছে দূরে,
ঠিক এমনি করে থেকো পাশে,
যেমন করে নদীর জলে নৌকো ভেসে দূর থেকে দূর ঐ যে আসে,
ঠিক এমনি করে এসো কাছে, যেমন করে মৌমাছিরা ফুলের পাশে পাশে আছে|
এমনি করেই থাকো তুমি, যেমনটি ঠিক সূর্য ওঠে, চাঁদ হাসে আর তারা ফোটে।
যেমন খুশি এসো পাশে, ফুলের কাছে প্রজাপতি হয়ে এসে ভলোবেসে।
ভালো থেকো তুমি বৃষ্টি ফোঁটায়,
ভালো থেকো তুমি শিউলি ঝরায়,
আর ভালো থেকো তুমি আলোয়-আঁধারে,
ভালো থেকো কুয়াশা ঘেরা দূরের ঐ পাহাড়ে।
ভালো থেকো স্বপ্ন নিয়ে, ভালো থেকো সুরে ছন্দ নিয়ে,
ভালো থেকো আকাশের নীলে, ভালো থেকো সাগরের জলে।

৩১ জুলাই, ২০০৯

Images from Pilani






কু ঝিক ঝিক রেলের গাড়ি


কু ঝিক ঝিক রেলের গাড়ি, চলল ছেড়ে আমার বাড়ি,
নিয়ে চলল সুরের কড়ি, কু ঝিক ঝিক রেলের গাড়ি।
কু ঝিক ঝিক রেলের গাড়ি, দূরের পথে দিল পাড়ি,
র‌ইল পড়ে আমার শহর স্কুলের পথ আর মায়ের আদর,
কু ঝিক ঝিক অনেক দূরে, পা বাড়িয়ে গানের সুরে,
চলল সাথে কান্না হাসি স্মৃতির পাতায় গানের বাঁশি,
তারার আলোয় চাঁদের হাটে, নয়নতারার গানের মাঠে,
সুরের স্রোতে ভেসে ভেসে, ছন্দে তালে হেসে হেসে,
কু ঝিক ঝিক বাজনা বাজাই, গান গেয়ে যাই, গান নিয়ে যাই,
র‌ইলো পড়ে ছেলেবেলা, শীতের রোদে ক্রিকেট খেলা,
গরম দুপুর সাঁতার কেটে, বিকেল হাওয়ায় লেকের মাঠে,
ছুটির ঘন্টা বাজতো যখন, লং ড্রাইভে যখন তখন,
বৃষ্টি আকাশ ফুলেল বাতাস, মাটির কোলে আমার প্রকাশ |
মায়ের পাশে পাশে থাকা, আজকে আমার মা যে একা,
একরাশ মন খরাপ নিয়ে, বৃষ্টি এল ইলশেগুঁড়ি,
অনেক দিন পরে আবার ফিরবো আমি আমার বাড়ি |
একমুঠো শিউলি নিয়ে শিশির ভেজা পায়,
বহুদিন ধরে আমি থাকবো অপেক্ষায়,
সারাদিন আর সারাবেলা, মনখারাপের দুপুর বেলা,
চাঁপার বনে দুষ্টুমি আর আবোলতাবোল কিছু খেলা |
মায়ের চোখে বাদল কালো, মা আমি আর সবাই ভালো,
মেঘের কোলে নভোনীলে, রোদের আলোয় বৃষ্টি ভুলে,
"সব পেয়েছির দেশে" এলাম মাকে আমি দূরে ফেলে |

১১ জুলাই, ২০০৯

সেরা বাঙালি আমাদেরই তারা, বাঙলায় তথা বিশ্বের সেরা ...


আমাদের এক বিশেষ ভালো বন্ধুর কাছ থেকে পেয়েছিলাম নিমন্ত্রণ,
সায়েন্সসিটির প্রধান প্রেক্ষাগৃহে, সেরা বাঙালির নির্বাচনের যখন এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ!
হাজির হয়ে সপরিবারে, যোগ দিলাম ষ্টার আনন্দের মহা কর্মকান্ডে,
জগতের আনন্দ যজ্ঞে সেরা বাঙালির নির্বাচনে,আমাদের নিমন্ত্রণে,
প্রতিবার দেখি টিভির পর্দায়, এবার সপরিবারে, সশরীরে খাঁটি বাঙালিয়ানায়!!
দন্ডমুন্ডের কর্তা শ্রী অভীক সরকার এককথায় সর্বশুভ্র-শান্ত- সৌম্য বাঙালিয়ানার আইকন ...
তাঁর সাবলীল বাচন ভঙিমায়, সামান্য কথায়, কিছুক্ষণ !!
দেখে এলেম তাঁরে..আমার মনে এতক্ষণে "সেরা বাঙালির "সেরা পুরস্কারে, সেদিনের সন্ধ্যায়, আমি তাঁকে জানাই পরম শ্রদ্ধায় !ঠান্ডা ঠান্ডা ঘর, সাজানো মঞ্চ, সুমন-স্বস্তিকার সঞ্চালনায় পরিপূর্ণ হয়ে আছে, সহসা এ.আর রহমানের বিখ্যাত সুরের অণুরণন ঝঙ্কৃত হল ...প্রেক্ষাগৃহ "বাঙলা মা তুঝে সালাম !! বন্দে বিশ্ব বাঙালির তরে বন্দেমাতরম্‌ !!!বর্ণালির বিচ্ছুরণ! তেরঙার আলোক কিরণ ...এ কি কম্পন ! এ কি শিহরণ !
বাঙালিয়ানার গন্ধ নিয়ে আপ্লুত আমরা মানুষজন!!

এক নজরে সেরার আসনে অলঙ্কৃত বাঙালিরা হলেন :
চলচিত্রের রাহুল বোস, সংগীতের শান্তনু মৈত্র, ক্রিকটের ঝুলন গোস্বামি, সাহিত্যের কেতকী কুশারী ডাইসন, বাণিজ্যে সুমিত বন্দ্যোপাধ্যায়,
অভিনয়ে পাওলি দাম, শিল্পকলায় আবির কর্মকার, সেরার সেরা মুকুট মাথায় রণেন সেন এবং লাইফ টাইম পুরষ্কারে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ।

সাথে উপরি পাওনা : ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের নৃত্যশৈলি,অভিজিত্‌ আর শ্রেয়া ঘোষালের অনবদ্য সুর-ছন্দ-তাল-লয়ের মেলবন্ধনে ,বাঙলা এবং হিন্দিগানের ভান্ডার থেকে উন্মোচিত হল একে একে....

এই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায় ...বাঙালি হয়ে বাঙালির দরবারে শুধু হাজির হয়েই ধন্য আমি !



১ জুলাই, ২০০৯

চ্যানেল ৮ (Sony ৮) এ ব্রেকফাস্ট শো FM AT 8 আমি

এই কবিতা টি সাথে সাথে রচনা করে ফোনে আমি বেস্ট কলার হয়ে Channel 8 এ আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম |
আলো আর অন্ধকার
আলো আছে, আর আছে অন্ধকার,
আর আছে সুখ, সাথে দুঃখ নেই কার?
হাসি আছে, সাথে কান্না আছে তার,
নারী আছে, সাথে পুরুষ আছে তার ;
আছে খোলা আলোর জানালা,
আমি আছি অন্ধকারে একেলা,
দুঃখ নিয়ে বিলাস করি আমি,
সুখ যে বড় ক্ষণস্থায়ী তুমি,
তাই আলোর আশায় অন্ধকারে থাকি।
অন্ধকার কে একলা বসে ডাকি।

২৩ মে, ২০০৯

১৫ এপ্রিল, ২০০৯

১লা বোশেখ : মল্লিকা, শুনতে পাচ্ছো ?

মল্লিকা, শুনতে পাচ্ছো ? আজ নতুন বোশেখের প্রভাতফেরী....তুমি একটা রামধনু রঙা নতুন শাড়িতে, আমি জ্যোত্স্না-রূপোলী জরি পাড়ে,  মৈত্রেয়ী অস্তরাগের লাল ঢাকাইতে। বসুন্ধরা কাঁচপোকা রং সালোয়ারে, নাজিয়া জলরঙা উড়নি গায়ে আর রেশমী একটা পাটভাঙা ময়ূরকণ্ঠী মাহেশ্বরীতে।  আর সবার আগে চলেছেন আমাদের সকলের ছন্দাদি একটা জলপাই রঙা জামদানিতে  | 
আমরা চলেছি ১৪১৬ কে স্বাগত জানাতে...সে কি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণের প্রয়াস  !!
জানো মাস কয়েক আগের কথা । আমার ছাদের আলসেতে হঠাত একটা পারাবত এসে মুখে করে একটা চিরকুট দিয়ে গেল... জানতে চাইল আমার নাম, ধাম... কি যেন মনে হোল লিখে দিলাম |  পৌঁছে গেল সে দরবারে । আবার দৌড়ে এসে দিয়ে গেল নিমন্ত্রণের ডাক । আমি হাজির হলাম ঠিক জায়গায় ঠিক সময়ে। পৌঁছে গিয়ে দেখি চেনা চেনা মুখ, রঙচঙে পোশাক ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ঘরে সাজানো মঞ্চ...অনেক আলোর মাঝে  ঠিক প্রদোষে, সে এক সব পেয়েছির দেশে।  আমায় কিন্তু চিনলোনা কেউ ..জানো? আমি দূর থেকে শুধু দেখলাম আর মুগ্ধ হয়ে চেয়ে রইলাম।  কত কথা হল, হল কত গান....
ঠিক যেমন সুরের ভেলায় ভাসতে ভাসতে পৌঁছে যাই সকালের আমন্ত্রণে,
ছন্দের দোলায় শুনতে গান ডাউন মেমারি লেনে 
 আবার মনদরিয়ায় উঠবে তুফান জলসাঘরের টানে
 গীতবিতানের বাতায়নে বসি মাটির গানে, হৃদয়ের টানে
 আবার নতুন করে পাবো বলে..
 নতুন বছরে পাবো তোমার নিমন্ত্রণ |
 ভালো থেকো বন্ধু, ভালো থেকো তারার সবাই।   

১১ এপ্রিল, ২০০৯

আজ সকালের ভুলের মাশুল দিতে দিতে...

তুমি বন্ধু হয়েছ বলে, সেদিন তোমায় দেখেছিলাম বিকেলবেলায় |
তুমি ভোরেরবেলা হয়ে এসেছো আজ নলবনের পাশটিতে, কান দিতে আমার ভুলগুলোর লিস্টিতে |
তুমি আসবে বলে আজ আমার ধূমায়িত চায়ের পেয়ালা ঠাণ্ডা হয়ে গেল,
তোমায় দেখবো বলে ওদিকে আমার দুধ উথলে গেল,
তুমি আসবে বলে আমি পূজোর বাসি ফুল ফেলতে ভুলে গেলাম,
তোমায় দেখবো বলে অপরাজিতা ফুল তুলতে গিয়ে আমি ভুল করে জবার কুঁড়ি তুলে ফেললাম,
তোমার জন্য চায়ের জল ফুটে ফুটে মরে গেল,
টোষ্টারে পাঁউরুটি জ্বলে পুড়ে একেবারে খাক !
তোমার জন্য ফল কাটতে গিয়ে হাত কেটে ফেলেছি..
মন খারাপ করতে ভুলে যাই আজকাল |
খোলা জানলার ধারে বসেছিলাম আজ, আজকের খবরের কাগজের একটা পাতা উড়ে চলে গেল আমার চোখের সামনে দিয়ে,
সে ও আমার ভুলের জন্যে, কারণ আমার চোখ যে ছিল টিভির পর্দায়, তোমার চোখের দিকে..
কবি বলেছেন "যাহা পাই তাহা চাই না, আর যাহা চাই তাহা ভুল করে পাই"
ভুল করে অনেক কিছু পেলাম !!!!

....................................................................................................................


"তারা মিউজিক" চ্যানেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ breakfast show" আজ সকালের আমন্ত্রণে" র আমি একজন frequent caller১০ই এপ্রিল ঐ show এর anchor মৈত্রেয়ী "ভুল" টপিক সম্বন্ধে শ্রোতাদের কিছু বলার অনুরোধ করেছিল...তাই এই কবিতাটি আমি সাথে সাথে লিখি আর ফোনে এ পাঠ করি...

১ মার্চ, ২০০৯

"তারা"-- তাহাদের ক্লাবের নাম



আবার শুভদিনে তারার নিমন্ত্রণে যেতে চাই বারে বারে
রবির কিরণে ছন্দে ছন্দে দোলা দিয়ে আপনারে |
মল্লিকার সুগন্ধে আর মৈত্রেয়ীর মিষ্টতায়
ছন্দের তালে তালে আর ছন্দাদির আতিথেয়তায় |
তারায় তারায় জাগাও তোমার আলোক ভরা বাণী
তুমি সুন্দর আর সার্থক হও শুধু এইটুকু আমি জানি |
বিশ্বাস রেখো মানবতায় আর সহমর্মিতায়
তারার আলোয় আলোকিত করো জগতের সব কলুষতায় |
যা কিছু কপট কালিমালিপ্ত মুছিয়ে ধরাকে করো যে শান্ত
গানের বানীকে পাথেয় করে এগিয়ে চলো শির উন্নত করে ,
আমাদের পাশে রেখো যে তোমার এইটুকু আবদার
আকাশে বাতাসে ছোটো-বড় তারার হোক জয় জয়াকার |