২৫ ডিসেম্বর, ২০০৯

"অবতার বরিষ্ঠায়"

২০০৯ শেষের মুখে... বিগত বছরের অনেক ঘটনার মত আরো একটি ঘটনা নাড়া দিল মনকে। ক্রিসমাস ইভ বর্নময় হয়ে উঠল,নতুন করে আবিষ্কার করলাম জেমস ক্যামেরুন কে। যখন টাইটানিকের ভরাডুবির মধ্যে যে মানুষটি বাঁচিয়ে তুলেছিলেন অনবদ্য এক প্রেমকাহিনী কে সেই মানুষটি আবার নতুন করে রচনা করলেন ইতিহাস। "অনেক কথা যাও যে বলে কোনো কথা না বলি" সেই রবীন্দ্র সঙ্গীতের সাহায্য নিয়ে বলি এক‌ই অঙ্গে এত রূপের মত অনেক কিছু পেলাম "অবতার " ছবিতে । নেই সস্তার মেলোড্রামা, নেই অহেতুক নাচাকোঁদা । নির্ভেজাল, সংক্ষিপ্ত, "একটুকু ছোঁয়া লাগা" প্রেমকাহিনী । অরণ্য-মঞ্জিলমাঝে একদল উপজাতির প্রকৃতির বুকে স্বাধীন ভাবে বাঁচা, প্রকৃতির অকৃপণ সম্পদকে আঁকড়ে ধরে স্বতন্ত্র অথচ সঙ্ঘবদ্ধভাবে জীবনযাপন এবং ঠিক তার পরেই ঘটমান বর্তমানে যা প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে অর্থাত কোথা থেকে তাদের সুস্থ জীবন যাপনে এল এক ঘূর্নিঝড় ...একদল শত্রুপক্ষ চাইলো তাদের শেষ করে উদ্ধার করবে তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ আর একদল মিত্রপক্ষ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার সাহায্যে একজন প্রতিবন্ধী মানুষের মধ্য দিয়ে অবিকল সেই উপজাতির মত অবতার তৈরী করে সেই জঙ্গলমহলে প্রেরণ করলো । রোবটের সাহায্য নিল শত্রুপক্ষ আর একধার থেকে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের সাহায্যে অরণ্যের সবকিছু শেষ করতে চাইলো। অন্যথায় মিত্রপক্ষ যে অবতার কে প্রেরণ করলো সে অতি অনায়সেই মন জয় করে নিল সেই উপজাতিগোষ্ঠীর ... সহজ কয়েকটি পরীক্ষায় রাজা বলে ঘোষিত হল সেই বীরপুরুষ, প্রেমেও পড়ে গেল একটি মেয়ের | নাতিদীর্ঘ অথচ মনছোঁয়া এক রোমান্স | তবে সব থেকে মনকে নাড়া দিল এই অবতারটিকে যেখানে সে একটি পূর্নাঙ্গ মানুষ, নেই তার কোনো প্রতিবন্ধকতা , তার হৃদয়ের সকল কোমল মনোবৃত্তি তে সাড়া দিল সেই অরণ্য-তনয়া । কিন্তু কি করে হল তার এই অবতারত্বে পদার্পণ? একি সত্যি সফটওয়ারের খেলা নাকি সনাতন ভারতের আদি অকৃত্তিম প্রবাদ পুরুষ শঙ্করাচার্যের "পরকায়া প্রবেশ" ? যা এই ব্রহ্মচারী প্রমাণ করে দেখিয়েছিলেন দক্ষিণের পন্ডিত মন্ডন মিশ্রের স্ত্রী উভয়াভারতী কে । নিজের আত্মিকসত্ত্বা কে এক রাজার দেহে ধারণ করেছিলেন এবং নাবালক, ব্রহ্মচারী শঙ্কর গৃহীর মত তাঁর অনভিজ্ঞ অনাবিষ্কৃত যৌনজীবনকে বুঝে সেই বিষয়ে সম্যক জ্ঞান লাভ করে মন্ডন মিশ্রের স্ত্রী উভয়াভারতীকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন | কারণ মাত্র বার বছর বয়সে সকল শাস্ত্রে তিনি পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন ঐ একটি বিষয় ছাড়া ; তিনি হার স্বীকার করতে রাজী নন অথচ সেক্স সম্বন্ধে কোনো জ্ঞান নেই ; তার উপায় বার করেছিলেন যা জেমস ক্যামেরুনের সফটওয়ারের ভাষায় "অবতার" আর শঙ্করাচার্যের "পরকায়া প্রবেশ" । শঙ্কর যা পেরেছিলেন ঐশ্বরিক মায়ার সাহায্য নিয়ে ক্যামেরুন তা প্রমাণ করেছেন বিজ্ঞানের সাহায্যে। মূল কথা "আত্মা অবিনশ্বর" ঠিক যেমন ছোট থেকে আমরা শুনে আসছি কৃষ্ণের দশ অবতারের গল্প । এক এক বার এক একটি কাজের জন্য এই ধরাধামে অবতীর্ণ হন তাঁরা । ভাগবত গীতার সেই বিখ্যাত উক্তি "পরিত্রাণায় সাধুনাম বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম ধর্ম সংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে" আবার মনে করিয়ে দিল স্থান-কাল-পাত্র ভেদে তার যৌক্তিকতা ।

৫টি মন্তব্য:

Sushanta Kar বলেছেন...

ছবিটা দেখতে হবে। রোবটকে প্রায় পুরো মানুষে পরিণত করাবার আরো কিছু ছবি আছে। একটা দুর্দান্ত ছবি আমি দেখেছিলাম, নাম মনে করতে পারছি না।

Ushnish Ghosh বলেছেন...

Dear Indira
Darun laglo PoD-e ..ager lyakhao PaDa Hoe gechhe.
Chhobi ta dekhar somoe tomar lekha ta abosso mon-e poD-e jab-e
SuBho BaDo din ( Merry Christmas Kor-te kor-te BaDo din katha ta bhule giyechhilam!!!
Bhalo theko

Roshmi Sinha বলেছেন...

Its an awesome movie. I watched it... once, and would like to watch it again.

The footprints of our great epics on this movie... is unmistakable. Its not just about ‘green message’. There are several layers and messages in this movie. Essentially about the ancient vedic way of life, of doing one’s ‘dharma’ (and not worrying too much about the consequences), and following the path of rightousness.

The movie conveys... subtly... that the only way forward is to embrace the ancient vedic way of life.

The Vedic way of life is not a ‘religion’. It is a ‘philosophy of life’ or a ‘way of life’. The Vedas are not restricted to some books or scriptures. It is an assimilation of the accumulated knowledge of the ancients... over a period of time... or rather, through the ages. It is the knowledge which will ultimately prevail.

The Red Indians or the Australian aboriginals or even some of the extinct civilisations/cultures like the Mohicans... too followed a way of life similar to this.

This movie also highlights albeit subtly... as to how our own planet has come to its present condition.

As time passes, people will realise that the true faiths are the so-called pagan faiths/way of life.

indira mukerjee (ইন্দিরা মুখার্জি) বলেছেন...

Good analysis ! thank u again for visiting my blog.

মোসতাকিম রাহী বলেছেন...

গুগলের কল্যাণে পেয়ে গেলাম আপনাকে। প্রিয় ব্লগতালিকায় টুকে রাখলাম, সময় নিয়ে পড়া হবে। শুভেচ্ছা!