৩০ জুলাই, ২০০৮

খাস ঝলক @ সোনার তরী

  • নদীপ্রেমী মেধা পাটকর অনেকদিন চুপচাপ কেন? তিনি এখন প্রায়ই কোলকাতায় আসেন আর সদ্য প্রকশিত হবে তাঁর লেখা বই "ল্যান্সডাউন একনদীর নাম "
  • তসলিমা নাসরিন কি করেন এখন? তিনি প্যারিসে পেন্টিংয়ের crash-course করছেন।
  • বয়ঃক্রমনুসারে সাজাও : বিরলকেশ জ্যোতিবাবু , পলিত কেশ বিমানবাবু , গুঢ়কেশ প্রকাশবাবু ,কুঞ্চিতকেশ সীতারামবাবু ,পক্ক্ব কেশ বুদ্ধবাবু
  • সোনিয়া, মায়া ও মমতা এই তিনকন্যার মিল কোথায়? সোনিয়া, মায়া ও মমতা প্রথমজন বিধবা দ্বিতীয়জন অধবা আর তৃতীয়জন হতবান্ধবা
এবার বিজ্ঞাপনের বিরতিঃ
...................
শ্রী মদন গুপ্তের সচিত্র ফুল পঞ্জিকায় এবছরের নতুন সংযোজন হল বারোমাসের তেরো পার্বণ বন্-ধ্- পুজা। সব বইয়ের দোকানে পাওয়া যাচ্ছে......
...................
ভর্তি চলছে ...পৌরহিত্যে ইন্টিগ্রেটেড পিএইচডি'র crash course এ । সত্ত্বর যোগাযোগ করুন , admission অবধারিত, কোনো কোটার গল্প নেই,সব আসন সংরক্ষিত।
...................

  • সর্ব-শিক্ষা-অভিযানে মিড্-ডে-মিল এ ম্যাগি চালু হবে
  • বৃদ্ধাশ্রমে বিউটিপার্লার চালু হবে
  • পেট্রোলের বদলে পেপসি তে গাড়ি চলবে
  • সরকারি হাসপাতালে যে কোনো অপারেশন এ "buy-one,get-one free"স্কিম চালু হবে
..........................

মনসুন ধামাকা : বাই ওয়াবাই ওয়ান গেট ওয়ান অফার
সর্দির সঙ্গে কাশি ফ্রি ম্যালেরিয়া হলে মশারি ফ্রি..

২৩ জুলাই, ২০০৮

মৌসুমী অধিবেশনের পর্যালোচনা

প্রথমে , ঝলক দিখলা যা...

  • নিউক্লিয়ার-ডিল কে সমর্থন করতে গিয়ে মুলায়ম-মনমোহনের মধুর-মিলন ।
  • পক্ক্ব-কেশ, প্রকাশ কারাট প্রচুর ক্যারট খেয়ে দৃষ্টিশক্তি বাড়িয়েছিলেন কিন্ত ইউ-পি-এ সরকার থেকে সাপোর্ট প্রত্যাহার দেখে মনে হয় তাঁর ক্যারাট-মিটারের রিডিংটা ভুল নেওয়া হয়েছে। এর চেয়ে ক্যারাটে প্রশিক্ষণ নিলে বোধ হয় ভাল হোত।
  • বিজেপির এই মূহুর্তে বামে রাম ও ডাইনে বাম।
  • সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম ইস্যু নিয়ে ক'দিন আগে আরএসপি নেতা ক্ষিতি ক্ষ্যেপে ব্যোম্ হয়েছিলেন তাঁর ওপরওলাদের উপর। তাতে অবিশ্যি কোনো মেজর ক্ষতি হয়নি। এখন কারাটের করাত চালনায় সোমনাথ ক্ষেপে ব্যোমনাথ । কেন তাকে স্পিকারপদ ছেড়ে দিতে হবে? তিনি সিপিএম পার্টির হতে পারেন কিন্তু তিনি লোকসভার মাননীয় স্পিকার মহাশয়--তিনি কি এদের হাতের ক্রীড়নক?
  • মমতা অবিশ্যি এখন খুশিতে ডগমগ। একে ব্যাপক লোডশেডিং এর দাপটে বুদ্ধের চোখে কালি , তাতে আবার বিকাশ জল-নিকাশ করতে পারছেন না | একেই শিল্পায়নের জোয়ারে মানুষ হাবুডুবু খাচ্ছে | তার ওপরে প্রতিনিয়তঃ মুদ্রাস্ফিতির চাপে সাধারণ মানুষ পিষ্ট।
  • এসব তো সারাদেশের প্রবলেম। অন্যবছর বৃষ্টি হলেই ইনফ্লেশন কমে,শেয়ার-সূচকের পারদ হৈ হৈ করে বাড়তে থাকে,সোনার দাম কমে ।
  • যত দোষ নন্দঘোষ হল পরিশোধিত,অপরিশোধিত তেল। বিশ্বের বাজারে তেলের দাম না বাড়লে , বিকল্প হিসেবে নিউক্লিয়ার পাওয়ার জেনারেশনের কথা কেউ ভাবতো না | আপামর-জনসাধারণ অবিশ্যি এসব নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না তাঁদের জিনিষপত্রের দাম কমলেই হোল।
  • এই সব সাতপাঁচ ভেবে বুদ্ধ বিপাকে।জল সরাবেন, না আলো জ্বালাবেন ? আম-ইলিশের দাম কমাবেন, না হাসপাতালের রোগীর পাশে কুকুর হটাবেন? বুদ্ধের বুদ্ধিতে সত্যিই কুলোচ্ছে না | মমতার ক্ষমতা দেখে এমনিতেই একটু দমে রয়েছেন তাঁরা সকলে।

  • পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলের সাফল্য দেখে এবারে সংখ্যালঘুদের তোষণ হবে কি না সেটাও বিচার্য্য ; বর্ষীয়ান বিরলকেশ মাননীয় জ্যোতিবাবু কি আর পারেন বুদ্ধি দিতে?
  • বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা আদবানি সদ্য আত্মজীবনী প্রকাশের আনন্দে আত্মহারা । তাতে আবার বামের সাথে ইউপি এর বিরুদ্ধে আস্থাভোট দিতে হোলে আসন্ন জন্মাষ্টমীর কি এজেন্ডা হবে? রামনবমীতেই বা কি হবে? রথে করে বিজেপির ভারত-পরিক্রমা হবেনা? নাকি আদবানি এবার মহরমের তাজিয়া নিয়ে বেরুবেন?
শেষে এখন উপায়?

সেবার এসেছিল ফিল্-গুড্-ফ্যাক্টরের টাইফুন। এবার কি সেই আনন্দধারা আর বহিবে না ভুবনে? সেবার শুনেছিলাম তৃতীয়বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে "ইন্ডিয়া শাইনিং"এর রূপোলী গল্প। এপাড়ার ভিখারি ওপাড়ার ভিখারিকে মোবাইলফোনে জিগেস করছে" আজ ভিক্ষের বাজার কেমন?” আমার কাজের মেয়েটি ছেলের স্কুলের টিফিনে ম্যাগি দিচ্ছে, আমাদের স্যুইপার রাস্তায় আঙ্কল্-চিপ্-স্ চিবোচ্ছে । সে বছর আমার মালী তার বৌ কে গানের স্কুলে ভর্তি করেছে ,অফিসের ড্রাইভার বৌ কে নিয়ে ধনতেরসের গয়না কিনছে,রাম-শ্যাম-যদু-মধু সকলেই এফ্-এম্-সি-জি'র ক্রেতা , গ্রামে গিয়ে দেখি বাচ্চারা বিগ্-বাব্-ল্- ফোলাচ্ছে। ট্যক্সিচালক নাইটে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিচ্ছে আরো ভালো লাইফ-স্টাইলের মুখ দেখবে বলে | দেশে কতো ফ্লাইওভার, কতো মাল্টিপ্লেক্স হয়েছে , কতো পাঁচতারা হোটেল,কতো শপিংমল হয়েছে ,কতো দেশি-বিদেশি গাড়ী এসেছে বাজারে কতো কল্-সেন্টার হয়েছে ,সত্তর-আশির দশকের মতো অর্ডিনারি বি.এ, বিএস্-সি , বি.কমরা বেকার হয়ে পাড়ার রোয়াকে বসে আড্ডা দিচ্ছেনা বা বস্তির নাবালক সিনেমা হলে টিকিট ব্ল্যাক করতে গিয়ে ধরাও পড়ছে না | বরং রাস্তার মোড়ে কি করে একটা ফাউন্টেন পেপসির গাড়ি অথবা আমূল দুধের ব্যবসা করা যায় তাই ভেবে বারাসাত থেকে বেন্টিঙ্কস্ট্রিট ছুটছে। দেশের আকাশে বাতাসে ফিল্-গুড্- ফ্যাক্টরের অনুরনণ। গেরস্তের হাতে টাকা , হিগ্-মিগ্-লিগ্ সকলেই রিয়েল-এস্টেটে লগ্নি করেছে । সকলের পাতেই মহার্ঘ্য ইলিশ, অগ্নিমূল্য বাজারদরে সকলেরই একটা "ডোন্ট-কেয়ার এটিচ্যুড "। কিন্তু এ কার নেক-নজরে পড়ে গেলাম আমরা ? রোজ সেনসেক্স নিম্নমুখী , তরলসোনা,ধাতবসোনা ঊর্দ্ধমুখী , মুদ্রাস্ফিতীও সর্বকালীন ঊর্দ্ধসীমা পেরিয়েছে, বাজারদর অগ্নিমূল্য, নিউক্লিয়ার-ডিল সাইন হলে কি এ সমস্যার সমাধান হবে ?

১৯ জুলাই, ২০০৮

More ভাবনারে ..... তৃতীয় পর্ব

আসলে কলকাতার বাঙালীর গতরে শুঁয়োপোকা, ভাবনায় উইপোকা, এবং মানসিকতায় ঘুণপোকা । এরা কুরে কুরে সর্বক্ষণ বাঙালী কে খেয়ে ফেলছে। বাঙালীর কর্মে আলস্য, আলস্যের পরিণামে নিদ্রা , এবং সর্বোপরি নিদ্রায় আতিশয্য এদের শ্রম-বিমুখতার কারণ। এ জাতি ভাঙ্গতে জানে বেশী, গড়তে জানে কম।

এ শহরের লোকের মজ্জায় মজ্জায় মত্স্যের ঘ্রাণ, হাড়ে হাড়ে হাওয়া বদলের জন্য সদা ব্যাকুলিত প্রাণ, রক্তের প্রতিটি কণায় কণায় নৃত্য-গীত-বাদ্যানুরাগ | এদের চোখের চাহনিতে চপলতা, চলনে চঞ্চলতা , গমনে গতিহীনতা , ব্যাক্তিত্বে ছদ্ম-গাম্ভীর্য্য ,ভোজনে ভুঁড়ি-বিলাসিতা , আর মুখে তর্কের ফুলকি ও যুক্তির ভেলকি। বাঙালী দিনের বেলায় মাছ-ভাত খেয়ে ভুঁড়ি উঁচিয়ে যত ঘুম দিতে পারে সন্ধ্যাবেলায় মুড়ি-তেলেভাজা সহযোগে ততধিক আড্ডার আরাধনা করে। এ শহরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অন্ধ ভালবাসা, যার গন্ধে গন্ধে বিজাতীয় মানুষ এখানে ভীড় করে | মানুষের চৌম্বকীয় আবেশে মানুষকে বশ করে কাছে টানে। সস্তার এ শহরে একবার কেউ এসে ব্যবসা ফাঁদলে ধনী হয়,পস্তায় না | বাঙালী কেবল শাড়ি,স্বর্ণ এবং শর্করাজাত অর্থাত্ মিষ্টান্ন --এই তিনটির ব্যবসায় যুগে যুগে হাত পাকিয়েছে। অধুনা বাঙালী রমণীদের গতিশীলতায় কলকাতার বুকে বিউটিপারলার তো পিঠে শাড়ির বুটিক ,ও হাতে হোম্-ডেলিভারি |

শত-সহস্র তারকাখচিত এ শহরের আকাশ। যার রূপে সুচিত্রা রসে ভানু, বর্ণে সৌমিত্র কন্ঠে শানু | এ শহর আমাদের উপহার দিয়েছে সৌরভকে তেমনি হারিয়েছে নিজের গৌরবকে। এখানকার মানুষের শয়নে উত্তমকুমার,স্বপনে হেমন্তকুমার আর জাগরণে কিশোরকুমার। এ কলকাতাবাসীর ছন্দে তনুশ্রী-আনন্দ, সুরে শচীনকর্তা-কৃষ্ণচন্দ্র, সঙ্গীতে নজরুল-রবীন্দ্র, রসে রাজশেখর-সঞ্জীবচন্দ্র, সাহিত্যে বঙ্কিম-শরত্চন্দ্র, স্পর্শে সিনিয়র-জুনিয়র প্রদীপচন্দ্র, শিল্পকলায় যামিনী-গগনেন্দ্র ,স্বর্ণে পিসিচন্দ্র আর সর্বোপরি মিষ্টান্নে কে.সি.দাস কিংবা যাদবচন্দ্র.....এদের নিয়েই বাঙালী বহাল তবিয়তে কাল যাপন করছে। যুগ যুগ ধরে এ শহর তৈরি করেছে ব্রান্ডেড-ব্যাক্তিত্ব । যেমন অফুরান হাসিতে ঘনাদা, রহস্যে ফেলুদা, রোমাঞ্চে টেনিদা ইত্যাদি।

এখনকার বহুতলে বর্ণময় কলকাতার তালতলা , বেলতলা , নাকতলার সাথে যুক্ত হয়েছে হাইতোলা ও হিলতোলা এক কালচার। এ কলকাতার হাওয়ায় হাঁপানি হয়, জলে জন্ডিস হয়,এবং মশায় ম্যালেরিয়া হয়।আধুনিক কলিকাতার দার্শনিক মানুষের জলে এখন আর্সেনিক, নবনির্মিত নর্দমার মুখে প্ল্যাসটিক ,যা কিনা পরিবেশবিদের উদ্বেগের কারণ। মিষ্টান্নে মেটানিল-ইয়েলো এবং সরবতে এলিজারিন-রেড রসায়নবিদের গবেষণার বিষয়।

পথে যেতে যেতে কলকাতা কে দেখে একখানা পুরভর্তি মচ্ মচে পরোটা মনে হয় যার কোথাও যাদবপুর,কোথাও সেলিমপুর; কোথাও আলিপুর তো কোথাও চিত্পুর। কখোনো আবার আলমবাজার, বড়বাজার, বাগবাজার, শ্যামবাজার, নাগেরবাজার শুদ্ধ এ শহরকে মনে হয় বাস্তবিকই আমরা প্রত্যেকে বিগ্-বাজারের ব্যাপারী। যে শহরের আকাশে বাতাসে মাছের আঁশটে গন্ধ কেন তার কাছে অ-বাঙালীর ভীড়্? চিংড়িহাটায় জ্যাম নিয়ে ,তপসিয়ায় তৃণমূলীদের নিয়ে, ট্যাংরার চাইনিজ নিয়ে আমরা আজও আছি ও থাকবো। ভেতো বাঙালীর বাজারের থলি থেকে সজনেডাঁটা আর পুঁইশাক উঁকি দেবে। বাঙালীর পোস্তোচচ্চড়ি ছাড়া কড়াই এর ডাল রুচবে না , বাঙালী যুত করে মাছের কাঁটা চচ্চড়ি চিবোবে, বাঙালী মজা করে মৌরলার টক খাবে আর সরষের তেল ছাড়া ইলিশমাছ রাঁধবে না । এই নিয়ে তারা শন্তিতে থাক না.. ক্ষতি তো নেই। তাতে যদি অন্যের ক্ষতি না হয় ... রোজ সন্ধ্যায় তুলসীতলায় আলো দিয়ে রেডিও খুলে অনুরোধের আসরে প্রতিমার আরতি শুনুক .. ...অথবা বিকেলে ভোরের শুকনো ফুল ফেলে শাঁখ বাজিয়ে বাড়ির মঙ্গল কামনা করুক .... নৈশাহারের পরে দিলখুশের জন্যে মন উস্-খুস্ করবে, নতুন প্রজন্ম লোডশেডিং এ অঙ্ক কষে বিদেশ যাবে, বাংলা ব্যান্ডের ফাজলামি আর নেতাদের পাগলামি নিয়েই পড়ে থাকবো...ক্ষতি কি? শুধু দফ্তরের ডেস্কে বসে ঘুমোব না আর নিজের পায়ে কুড়ুল মারব না। তাহলেই আমাদের মোক্ষলাভ হবে। সৃজনশীল বঙ্গসন্তান বুদ্ধি বেচে বড় হবে, অদূর ভবিষ্যতে কোলকাতা হবে "The entertainment hub for the world" যেথায় আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সৃষ্টি সুখের উল্লাসে উদ্দাম নৃত্য-গীত-বাদ্যের সমন্বয়ে জগতের মনোরঞ্জন করে "কলযুগ্-কি-কলিউডের" আখ্যা পাবে। এখানেই তার সার্থকতা। তথ্য-সংস্কৃতি-শিল্পকলার সেরা পীঠস্থানে বঙ্গ সন্তানদের শর্মিলা-জয়া-রাণী-রিয়ার মতো কিংবা রাহুল-কিশোর-শান-শানুর মতো মুম্বাই পাড়ি দিতে হবে না।কলকাতার মানুষ দোল-দুর্গোত্সবে দক্ষযজ্ঞ নিয়ে, বামে-ডানে দলাদলি করে, নন্দনে সত্যজিতের বন্দনা, রবীন্দ্রসদনে রবির আরাধনা আর রবীন্দ্র সরোবরে প্রেমের উপাসনা নিয়ে যদি কোনো এক দিন জগতের আনন্দ-যজ্ঞে নিমন্ত্রণ পায় ......শুধু ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি -hypocrisy এবং corruption এই মানিকজোড় যেন আমাদের জীবন থেকে বিদায় নেয়। পুনরায় আমাদের কল্লোলিনী কোলকাতা যেন ভারতবর্ষের রাজধানী হবার যোগ্যতা অর্জন করে। উপর থেকে নেতাজি-নেহেরু-গান্ধীরা দিল্লির মসনদের ঘাড় ধরে কোলকাতায় নিয়ে আসার আদেশ দেন। এ তো যেকেনো সময়েই সম্ভব। মহম্মদ-বিন্-তুঘ্-লক্- আমাদের সেই রূপ শিক্ষা দিয়েছেন।

সবশেষে বলি, কলকাতার কালিমা ,কলুষতা ,কপটতা আলোকের ঝর্ণাধারায় ধুয়ে মুছে সাফ হোক। এই জনমেই ঘটাতে চাই--- জন্ম-জনমান্তর........ সুন্দর,হে সুন্দর!!

(সমাপ্ত)

১৬ জুলাই, ২০০৮

More ভাবনারে ..... দ্বিতীয় পর্ব

প্রায় অর্ধ শত বত্সর পূর্বে দেশবরেণ্য চিকিত্সক বিধান রায় তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন তাঁর সুপরিকল্পিত স্বপ্ননগরী সল্টলেক। আজ কলিকাতার মহান ব্যক্তিরা ,আমলারা এবং সর্বোপরি নেতারা সেথায় সুখে-স্বচ্ছন্দে ঘরকন্না করছেন । কলিকাতার লবণহ্রদ আজকের বাংলার সিলিকন-ভ্যালি।আহা! বিধানচন্দ্র দেখে যেতে পারলেন না । তিনি আরো কিছু দেখে গেলেন না, নিজ হাতে গড়া তাঁর এ শহরের চিকিত্সা-ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। আধুনিক কলকাতার হাসপাতালের কি দশা আজ!! শল্যচিকিত্সকেরা একহস্তে শাণিত scalpelসহ বরাভয় এবং অন্যহস্তে স্টেরিলাইজড scissors সহ আশীর্বাদ নিয়ে হাসপাতালের operation theatre এ স্বাগত জানাতে সর্বদা অপেক্ষমান। এ কি মুখের কথা? বিধানচন্দ্র রাজারহাটে চাঁদের হাট বসেছে তাও দেখে যেতে পারলেন না । কেষ্টপুর ক্যানেলে গন্ডোলা চলল বলে!!

আজকের কলিকাতার উত্তরে, দক্ষিণে, পূর্বে, পশ্চিমে শুধু শপিং মল । কত বাজার , কত মল্টিপ্লেক্স, কত বহুতল |পশ্চিমে বিদ্যাসাগর সেতু ধরে কোনা এক্সপ্রেস ওয়ে ধরলে সোজা গিয়ে পড় পূর্বতন সরকারের সুচিন্তিত পরিকল্পনা 'স্বর্ণালী-চতুর্ভুজ-সড়ক- যোজনার'সার্থক রূপ দেখতে। কলিকাতা থেকে যেদিকে খুশি যাও। কোনো বাধা নেই। বম্বে রোড ,দিল্লি রোড যা খুশি ধরে জাহান্নাম,বেহেস্ত যেদিকে দুচোখ যায়...আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র সেই কবে বলেছিলেন"বাণিজ্যে,বসতে,লক্ষ্মী" আজকের কলিকাতা দেখলে তাঁর প্রাণ জুড়িয়ে যেত... একদা যারা বড় মুখ করে রক্ত দিয়ে রুখেছিল automation তারাই আজ automation এর গুণকীর্তন করছেন।অনেক বছর পিছনে চলার পরে কলকাতার মনুষ্যজন ঘুমের ঘোরে বিবেকানন্দের অমোঘ বাণী শুনতে পেয়েছে...."উত্তিষ্ঠিত ! জাগ্রত !"তাই পুনরায় চলতে শুরু করেছে। এ শহর পারে শুধু পরকে আপন করতে, নিজেকে পেছনে ফেলে পরকে এগিয়ে দিতে। নিজের ব্যবসায় ইতি টেনে ভিনদেশিদের স্বাগত জানাতে। এ শহরে এখন শিল্পের জোয়ার, হাইটেকের বান | নগরবাসী সালিমের কাছ থেকে ব্যাবসার তালিম নিচ্ছে। টাটার সাথে হাঁটা শিখছে। প্রফুল্ল-বিধান উপর থেকে আশীর্বাণী বর্ষণ করে বলছেন,"বেটার,লেট ; দ্যান নেভার ; "

আজকের কলিকাতা দেখে জোবচার্নক বোধ করি বলে উঠতেন এই কি ছিল সুতানটি ? আজকের কলিকাতা কোলকাতা তে যেতে যেতে থমকে দাঁড়িয়ে গেছে, সুতানটির লোকজন খুনসুটি করে ধমকে দিয়ে গেছে আমাদেরকে, আমরা চমকে উঠে দেখি কোলকাতায় ঘোর কলিযুগ। আজ কোলকাতা প্রাচ্যের ভেনিসের মর্যাদা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ভূমধ্য-সাগরীয় ভেনিস অপেক্ষা গাঙ্গেয় ভেনিস কোনো অংশে কম নয়। বন্ধ্যা রাজনীতির এই মিছিল নগরী পাশ্চাত্যের পর্যটককে আহ্বান করছে এ শহরে পা দেবার জন্য। কি দেখানোর জন্যে? উপছে পড়া জনস্রোতে এ নগরীর রাজপথে সদা কোলাহল, শত ব্যস্ততা | শুধু ভীড় আর মিছিল এই দেখাবে তাদের ? এ স্থানে বারোমাসে তেরোপার্বনের সঙ্গে চতুর্দশতম ব্রত হোল বন্-ধ্- উদ্-যাপন । এখানে বর্ষা নামলে জল নিষ্কাশনের সকল পথেও বন্-ধ্- । তাই গ্রীষ্মাবকাশের পরে বিদ্যালয়গুলিতে পুনরায় বর্ষাবকাশের ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ শহরে বিশ্বায়নের টারবাইন বোঁ বোঁ করে সর্বক্ষণ ঘুরছে । ফলে বিদ্যুতের চাহিদা ও শোঁ শোঁ করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু বিকৃত মানুষ দ্বারা পরিচালিত এবং বিকল যন্ত্রাদির দ্বারা উত্পাদিত বিদ্যুত চাহিদার যোগান দিতে পারছে না ফলে কলকাতাবাসীদের ভবিষ্যত সহ বর্তমান ও তমসাবৃত হয়ে গেছে। এ রাজ্যের মানুষের লোক-লৌকিকতা ,আতিথেয়তা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। কিন্তু বিশ্বের মানুষজন অতিথিরূপে আমাদের গৃহে পা দেবার পূর্বে জঞ্জালপূর্ণ পথ-ঘাট অবলোকন করে তাদের যেরূপ ব্রহ্মজ্ঞান হবে তার ফলে গৃহের অভ্যন্তরে প্রবেশের মানসিকতা লোপ পাবে।

স্বাধীনতার পূর্বে যে সব প্রাসাদোপম অট্টালিকা নির্মিত হয়েছিল তারাই কোলকাতার ঐতিহ্য আজীবন বহন করে চলবে। স্বাধীনতা-উত্তর যুগের বাবুরা নতুন কিছু গড়তে না পারলেও পুরানোগুলিকে ভেঙে-চুরে তাল গাছের সাথে পাল্লা দিয়ে নতুন নতুন লম্বা,লম্বা বসতভিটা বানাবে। ঐতিহ্যবাহী রাস্তাগুলির কেতাদুরস্ত নাম বদল করে নতুন গালভরা নাম রাখবে | অর্থাত্ বোঝা যাচ্ছে যে কাজ অতি সহজে সম্পন্ন করা যায় সে কাজ বাঙালী চটপট করে নাম কিনতে চায়।

যাদের জন্য দলে দলে মেধাবী ছাত্রেরা যখন প্রবেশিকা পরীক্ষা দিয়ে অন্য রাজ্যে পাড়ি দিল তখন ব্যাঙের ছাতার ন্যায় পোলট্রির ডিমের গুণমান সম্পন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ খোলা হল । একদা এ রাজ্যের নেতাজী,রবীন্দ্রনাথ, অরবিন্দ,বিবেকানন্দেরা বিদেশে গিয়ে ইংরেজিতে জ্বালামুখী ভাষণ দিয়েছেন | এখন সেই রাজ্যে প্রাথমিক স্তরে ইংরাজী পাঠ থাকবে না তুলে দেওয়া হবে সেই নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই।
(ক্রমশঃ)

১৩ জুলাই, ২০০৮

More ভাবনারে ..... প্রথম পর্ব

প্রথমে ছিল বেহুলার ভেলা, চাঁদ-সদাগরের সপ্তডিঙা, তারপরে দেবী-চৌধুরাণীর বজরা,পর্তুগীজ জলদস্যুদের ছিপ নৌকা, তার আরো পরে ক্লাইভের জাহজ । এ হল জলযানের ফিরিস্তি। তার সাথে ছিল কুলীনদের পালকি করে বৌ আনা , গ্রামের লোকের গো-যান ,জমিদারের অশ্বযান, সাহেব-বিবিদের ফিটন গাড়ি , ঘোড়ায় টানা ট্রাম ,হেনরি ফোর্ডের মডেল-টি , ক্রমে ইলেকট্রিক ট্রাম ,দেহাতিদের টানা রিকশো , বাস, মিনিবাস, মেট্রোরেল, দম আটকানো অটোরিক্সা ... তারপরে পাঁই পাঁই করে কেবল ফিয়াট আর আরাম করে এমবাস্যাডার চলত ... আর এখন? ম্যারাথনে মারুতির সাথে মার্সিডিজ , হৈ হৈ করে হুন্ডাই ,হা হা করে হন্ডা , শোঁ শোঁ করে শেভ্-রোলে আর ফুড়ুত্ করে ফোর্ড , টগ্-বগ্ করে টয়োটা ধূলামাটির শহরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এভাবে হল স্থলযানের বিবর্তন ।

কত ছোটাছুটি হ'ল ,পায়ে হেঁটে পাণিহাটি থেকে সুতানটি, পালকি চেপে ব্যারাকপুর থেকে গোবিন্দপুর, বজরায় চাঁদপালঘাট থেকে কুটিঘাট , বাসে করে খড়দা থেকে শিয়ালদা, ট্রামে চেপে শ্যামবাজার থেকে বড়বাজার, ট্রেনে করে খড়গপুর থেকে বারুইপুর ,আবার খানিক হেঁটে তালতলা থেকে তারাতলা ...ঠিক এমন করেই পায়ের তলায় সর্ষে নিয়ে কলিকাতার মানুষজন নিয়ে বেঁচে বরতে আজও কলিকাতা আছে কলিকাতাতেই। "কলিকাতা চলিয়াছে নড়িতে নড়িতে " এ যুক্তির যথার্থতা কলিকাতার সব বাঙলী না বুঝলেও অন্য প্রদেশের বাঙালী,অ-বাঙালী সকলেই বোঝে। ১৬৯০ সালে জোব্-চার্নক কলিকাতা মহানগরীর গোড়াপত্তন করেছিলেন । তখন শিয়ালদহে সত্যি সত্যি শৃগাল প্রতি সন্ধ্যায় সুর-সাধনা করতো, বাগবাজারে বাঘ বেরোতো, হাতীবাগানে হাতী না থাক, হায়ানা হা হা করে হাসতো, আর গোবিন্দপুরের জঙ্গলে নাগরাজ বাসুকির আধিপত্য ছিল। ৩১৮ বছর পূর্বে জোব চার্নক অনুধাবন করেছিলেন এ শহরের মাহাত্ম্য। এ শহরের মৃত্তিকার কনায় কনায় কণক-দানা ,যার প্রমাণস্বরূপ এখানে প্রোমোটার-কাম-ডেভালপার রাজ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। মহাপুরুষের বাণী কি বিফলে যাবে? শ্রীরামকৃষ্ণ সেই কবে বলেছিলেন "টাকা মাটি, মাটি টাকা"| আহা! ঠাকুর দেখে যেতে পারলেন না।

জোবচার্নক আড়িয়াদহ গঙ্গার ঘাটে পরিক্রমাকালে এক হিন্দুরমণীর প্রেমে পড়েন ও তাকে বিবাহ করেন। সেই মহিলা যদি জানতেন যে উত্তর কলিকাতার বিবেকানন্দ সেতুর পার্শ্বে নিবেদিতা সেতুর কি অপূর্ব মেলবন্ধন সৃষ্টি হয়েছে ,তা হ'লে সাহেব-সুবোর নিকট তার পিতৃগৃহের কদর আরো বৃদ্ধি পেত। কি কলা-কুশলী! কি দৃষ্টিনন্দন কারিগরী। কলিকাতা এই মূহুর্তে সেতু-নগরী । আগে ছিল হাওড়া ব্রীজ,ভারতবর্ষের প্রথম ফ্লাই-ওভার ব্র্যাবোর্ণ রোড ফ্লাই ওভার , শিয়ালদা'র উড়াল-পুল। পরে হেমন্তসেতু, বিজন সেতু, অরবিন্দ সেতু, আরো পরে শম্বুক-গতিতে তৈরী হল বিদ্যাসাগর সেতু । তার পরে আর চেয়ে দেখতে হয়নি। প্রয়োজনীয়,অপ্রয়োজনীয় সেতুতে সেতুতে ছয়লাপ। বেচারা রামচন্দ্র! কি কষ্ট করে সেতুবেঁধেছিলেন! তিনি বেঁচে থাকলে অবশ্যই রামেশ্বর স্টাইলের আরো দু চারটে সেতু গঙ্গাবক্ষে এত দিনে নির্মাণ হয়ে যেত। তফাত কেবল একটাই। বানরসেনার সেতুবন্ধে কোনো ক্যাপিটাল cost ছিলনা।

যোগাযোগ ব্যাবস্থায় কলিকাতার জন্মলগ্নেই বৃহস্পতি তুঙ্গে। ভৌগালিক সীমারেখা আদি অনন্তকাল থেকেই একে বর্গি,জলদস্যুর হাত থেকে যেমন রেহাই দেয়নি ,ঠিক তেমনি ইউরোপিয় বণিকদের আশ্রয় দিয়ে তাদের ব্যাবসা বাণিজ্যের পথ ও সুগম করে দিয়েছিল। সেই জন্যই সাহেব-সুবো বুঝতে পেরেছিল তাদের এই প্রাণের জায়গাটি অর্থাত 'ক্যালকাটা' সারা ভারতবর্ষের রাজধানী হবার যোগ্য। এর অন্যতম ও প্রধান কারণ হোল এ নগরীর যোগাযোগ ব্যাবস্থা |আর সহজলভ্য শ্রমিক,যারা অন্যের হাতে মার খেয়ে কাজ করতে প্রস্তুত,আর তার সাথে বিদেশি বণিকের মোসায়েবি করতে পিছপা নয় এরূপ উত্কোচলোভী বাঙালি-বাবু |

(ক্রমশঃ)

৩ জুলাই, ২০০৮

আজকের অরুণ,বরুণ,কিরণমালা

সন্টু,মন্টু,পিন্টু.....যে যেখানে আছিস শুনে যা বাছা, দেখে যা ,শিখে নে তোরা | গুপী আর গান শোনাবে না, বাঘা আর বাজাবে না। সবুজদ্বীপে রাজা নেইরে, হীরকরাজার দেশে আমরা যাবনা কক্ষোনো। ঠাকুমার ঝুলি পড়ে কি লাভ? কঠিন জ্যামিতি,পরিমিতি করেই বা কি হবে? ভূত-পেত্নী-দত্যি-দানব সত্যি সত্যি নেই রে ,রাম-রাবণের যুদ্ধ মিথ্যে। পক্ষীরাজ ঘোড়া কোনোদিনও ছিল না । আমরা সকলে তোদের এতদিন শৈশবকে আমাদের কাজে লাগিয়েছি।তোদের ঘুম পাড়াবার জন্য গল্প বলেছি। সব মিথ্যে...সব ঝুট হ্যায়.....

আমরা,হ্যাঁ আমরাই শিশুদের শৈশবের শ্রাদ্ধ করে, কিশোরের কৈশোরকে কেড়ে নিয়ে তাদের একটু আগে আগেই যৌবনের দায়ভার নিতে বাধ্য করলাম। শিশুরা আর ছোটো নয় এখন। সভ্যতার তরল-গরল গলায় ঢেলে তারা ছুটে চলেছে । তাদের পড়াশুনোর কি প্রয়োজন? তাদের বাঁয়ে কেব্ ল্ মামা তো ডাইনে এফ্-এম্- দাদা । মাথার ওপরে মোবাইল ম্যাজিক তো নীচে পর্ণোগ্রাফি। তারা শুনছে যেমন গান ,দেখছে তেমন নাচ । গানের যেমন ভাষা তেমন সুর | তারা "হাসছি মোরা হাসছি দেখ, হাসছি যেন আহ্লাদে" ভুলে(জরা) স্কোয়ার (টাচমি)কিউব অথবা ঝলক দিখলা যা ... খুল কে বাতা'র বাতাবরনে বড় হচ্ছে বাবা! টিভিতে রিয়েলিটি শো তে কোনোটিতে হয় শিশুদের নাচ,কোনোটিতে কিশোরীদের গান |যেমন তাদের অঙ্গ-সুষমা ,তেমন তাদের লাবণ্য-লালিমা । কখনো কিশোরীটি লাস্যময়ী যুবতী কখনো অপাঙ্গে দৃষ্টিহানা হাস্যময়ী সুন্দরী । প্রতিনিয়ত প্রচার মাধ্যমে শিশুর শৈশবের ও কৈশোরের এহেন অপহরণ আর সহ্য করতে পারছিনা। মনে হচ্ছে, এ কোন যুগে পদর্পণ করলাম? যেখানে কিছু অর্থলোলুপ,স্বার্থান্বেষী নরপিশাচ শিশু-কিশোরকে যৌবনের খুঁটি-নাটি টিপ্-স্- সহ আকর্ষনীয় শরীরি-বিভঙ্গ ,রগরগে পোশাক এর সোনালী মোড়কে আবৃত করে রূপোলী পর্দায় পেশ করছেন। শিশুটি একটি অকালপক্ক্ব যুবাকীটে রূপান্তরিত হচ্ছে। যেটি পিউপা থেকে লার্ভা না হয়ে ডাবল্ প্রোমোশান পাওয়া একটি প্রজাপতি। এই সব শিশুর কি ভবিষ্যত? এদের দেখে আর কি কখনো মনে হবে"ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে" ? কিই বা এদের জীবনাদর্শ?এরা হয়তো বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত অর্থ উপার্জন করবে কিন্তু এদের রুচিবোধ,শালীনতা নীতিবোধ কি কিছু অবশিষ্ট থাকবে? অথবা কৈশোরে এত অর্থের স্বাদ পেয়ে গেলে যৌবনে ধরা কে সরা জ্ঞান করবে। এত প্রাচুর্য্যের কি প্রয়োজন আছে?

"বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে" - এই উক্তির অবতারণা করে বলি,দোহাই,বিজ্ঞাপনদাতা! দয়া করে শিশুর যৌনতায় সুড়সুড়ি দিয়ে ,তাদের পণ্যরূপে বাজারে প্রোমোট করবেন না, তাতে আপনাদের বাসনা সিদ্ধি না হোক ,দর্শকের কামনা চরিতার্থ না হোক । একান্ত প্রয়োজন থাকলে অন্য উপায় খুঁজুন , মেনে নিলাম যে, ব্যাপক বিশ্বায়নের ঢেউতে সাঁতার কেটে আমাদের শিশুরা ইঁদুর-দৌড়ের সামিল আজ। কিন্তু সাঁতারের পূর্বে কিরূপে, কখন ডুব দিতে হয় , বা নিঃশ্বাস নিতে হয়, এই শিক্ষা না নিয়ে বিশ্বায়নের ঢেউয়ের সম্মুখীন হ'লে বিপদ বাড়বে বই কমবে না।