২৮ নভেম্বর, ২০১৬

বনভোজন @ বনের হাট



জায়গাটা কলকাতার খুব কাছেই। নাম "বনের হাট'। আর এটা বারুইপুরে একটি ছোট ঘরোয়া বনভোজনের স্পট।সবুজ গাছগাছালি ঘেরা, একটুকরো জলের ঠাণ্ডা ধার, তক্তপোশে শীতলপাটি বিছানো একটা ছোট্ট বিশ্রামের কুঁড়ে, রান্নাবাটির জন্য টালির শেড, বাথরুম সব আছে তবে নেই ইলেকট্রিক। তাতে অবিশ্যি অসুবিধেও নেই। দিনে দিনেই ফিরে এসেছি আমরা। 
কলকাতা থেকে  সোজা বাইপাস দিয়ে বারুইপুর স্টেশন। তারপর ফ্লাইওভার পেরিয়ে ওপারে গিয়ে নেমে সোজা যে রাস্তা ক্যানিং এর দিকে গেছে সেটা ধরা। পেরুবে ফুলতলা, রামনগর হাইস্কুল তারপরেই রাস্তার ওপরেই ডানদিকে পড়বে ঝাঁ চকচকে রেসর্ট যার নাম বনের হাট। যাবার রাস্তা খুব ভাল (টাচ্‌ উড্‌) । ভোরবেলা গড়িয়াহাট থেকে সময় লাগল মাত্র ৫০-৫৫ মিনিট। বেলা বাড়লে বাজারের ভীড় পড়ে তাই বেশী সময় লাগে। এহেন বনভোজন @ বনের হাট ছিল গতকাল  অর্থাত অঘ্রাণের অলস ছুটির দিনে।  শীত পড়তে না পড়তেই বাঙালীর কফি আর স্যুপ প্রেম যেমন উথলে ওঠে তেমনি আর কি পিকনিক প্রেমেও ভেসে যায় অমৃত কমলার ভোর। প্রতি শীতের অবশ্যকরণীয় দায়িত্ব রূপে আমাদের দক্ষিণ কলকাতা পাঠচক্রের সব বরিষ্ঠ নাগরিক মাসীমাদের এই বাত্সরিক ভ্রমণের আনন্দদানটাও যেন সর্বকনিষ্ঠা এহেন আমির ওপরে বর্তায়।  বেশী শীতের দাপুটে বৃদ্ধারা আবার একটু কাতরে পড়েন তাই এবার অঘ্রাণেই পালন করলাম সেই দায়িত্ত্বটি। সর্বসাকুল্যে ৩০-৩৫ জন, কিছু গেষ্ট আর সকলের বাহনচালক। সেই সাথে ছিল পাঠচক্রের সেক্রেটারী মাসীমা মনীষা দের ৫০ তম বিয়ের তারিখ। অসুস্থ মেশোমশাই ও সামিল ছিলেন এই পিকনিকে।কেক কাটা, মোমবাতি জ্বালা, কোনো অনুষ্ঠানের ত্রুটি ছিল না কাল। ওনাদের ৫০ বছর টিকে থাকার অভিনন্দন জ্ঞাপনে কবিতা থেকে শুরু করে হালকা হাসি, জোকস, অন্ত্যাক্ষরী, রবীন্দ্রগানের সাথে নাচ, আরো আরো কবিতাপাঠ, নাটকের নির্বাচিত অংশ, চিরকূট তুলে "যে যেমন খুশি পারো" এইসব নিয়ে কেটে গেল দুপুর। সকালের ব্রেকফাস্ট থেকে দুপুরের চাইনিজ লাঞ্চ সব কিছুই হল ঠিকঠাক। কেউ ভুললেন হাঁফের টান, কেউ আরথাইটিস, কেউ বা COPDর কষ্ট, কেউ ডিপ্রেশান, কেউ আবার পিকনিকের এক্সাইটমেন্টে রাতের ঘুমটুকুনিও।
আর যে ছাড়া "বনের হাট' আমাদের কাছে অজানা থেকে যেত সে হল আমার পাড়ার, আমার স্কুলের বন্ধু, আমার প্রতিদিনের অঙ্ক কষার সাথী, রোজ স্কুল যাওয়ার দুই বিরুণীর সঙ্গী চুনচুন ।


আর এহেন আমি এনাদের প্রতিবছর এভাবে বেড়াতে নিয়ে যেতে পারি বলে বেশ লাগে আমারো। কারোর জন্যে কিছু বেশী ভাল কিছু করতে না পারি, মন্দ তো করিনা তাই মনটা বেশ লাগল সারাদিন। এই মাসীমাদের মধ্যে একজন আমার শাশুড়িমাও। তিনিও সারাদিন বেশ ফুরফুরে ছিলেন গতকাল। এভাবেই বেঁচে থাকেন কলকাতার কিছু সিনিয়ার সিটিজেনরা আমাদের সঙ্গে। এঁদের ছেলেপুলেরাও তো বেশীরভাগ বাইরে। জেরিয়াট্রিক এই মহানগরের ফ্ল্যাটবন্দী এঁরাও একটু মুক্তির আলো দেখেন। আর ব্লগ লেখার মত ঘরের খেয়ে বনের হাটে বনের মোষ তাড়িয়ে আমিও নির্মল আনন্দ পাই কারণ আমার প্রাপ্তি মাসীমাদের নির্ভেজাল হাসিটুকুনি আর তাঁদের অকুণ্ঠ আশীর্বাদ।

১৮ নভেম্বর, ২০১৬

সাম্প্রতিক কালের হাবুডুবু এবং ধামাচাপা

  • (১) মিষ্টার ঝুনঝুনওয়ালার স্ত্রী বলছেন তাঁর ড্রাইভারকেঃ
"তুম তো আপনা প‌ইসা জমা করোগে, হমারা ভি জমা দে দো না বাবা! “
  • (২) এক নামকরা ডাক্তারবাবু ব্যাঙ্কে এসেছেন । প্রাইভেট ব্যাংকের পার্সোনাল রিলেশানশিপ ম্যানেজারকে বলতে শুনলাম ফিসফিস করে,” বস্‌, কিছু একটা উপায় তো করো! মারা পড়ে যাব যে।"
ম্যানেজার বললেন, আপনার নার্সিংহোমের নামে জমা করে দিন। ব্যাস্! ট্যাক্স দিয়ে দেবেন আবার কি! আপনার টাকার ব্যবস্থা করতে গিয়ে আমার চাকরীটা আর খোয়াতে পারিনা স্যার!
  • (৩) ছবির দোকানে ছবি বাঁধাতে গেছি, মালিক বলছে, "দিদি জানেন? প্রতি হাজারে ৮টি ১০০ দিলে আমাকে ২০০ দেবে বলছে, এমন ২৬ লক্ষ টাকা দিতে চাইছেন একজন নিজের লস করে"
বেচারা ছবির দোকানের মালিকের অত টাকা কোথায়? সে বলল, "লোভ লাগছিল , জানেন তো? ২৬ লাখ একশোর নোট দিতে পারলে আমার লাভ থাকত নেট ৫লাখ কুড়ি হাজার। একটা মালতী গাড়িও হয়ে যেত"
  • (৪) বড় বড় সব আবাসনের বাসিন্দারা ইলেকট্রিক বিল, মাসিক মেন্টেনেন্স বাকী রেখে দেন। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর। তারা সব ছুটে গিয়ে নোটের তাড়া জমা করছে। ইলেকট্রিক সাপ্লাই বলেছে, "আলবাত নেব, না নিলে আমাদেরি লস তো!"
  • (৫) "হামারা রুপয়া জমা কর দো দিদি, তুমহারা একাউন্ট মে। হর দশহাজার রুপয়া মে ১০০০ তুমহরা"
  • রান্নার মাসীর অবাঙালী কাজের বাড়ির গিন্নী বলল তাকে। সে বলল, উসকে বাদ? তুমহরা রুপয়া ক্যায়সে তুমহরে পাস যায় গা? গিন্নীর সপ্রতিভ উত্তর কুছ দিনো কে বাদ, তুম থোড়া থোড়া করকে হামকো বাপাস কর দোগে। রান্নার মাসী বলল, আমার একাউন্ট একলাখ টাকা চোখে দেখেনি। আর আমি সেখানে গিয়ে গিয়ে ১০ লাখ টাকা জমা দেব? মাফ করো আমাকে!
  • (৬) স্থানীয় বস্তিতে থাকে রামের মা। লোকের বাড়ি কাজ করে মাসিক আয় প্রায় ৭-৮ হাজার। সেদিন তাড়াহুড়ো করে ব্যাঙ্কে গিয়ে জমানো হাজার পনের টাকা দিয়ে বদল করে এনেছে তার কষ্টের রোজগার। এবার তাদের বস্তিতে যেই রটে গেল রামের মায়ের অনেক একশো টাকা তখন প্রত্যেকে রামের মা'কে বলতে লাগল, মাসী ৫০০ নোটের বদলে ৪টে ১০০ দাও। তোমারি তো লাভ । রামের মা কাজে যায়নি সারাদিন ঘরে বসে এই ব্যবসায় মন দিল। স্বল্প পুঁজিতেও ব্যবসা হয় তবে। অভাবের সংসারে যা আসে তাই ভাল। সে তো আর ভুল কিছু করছে না। মানুষের উপকার করেছে মাত্র।
  • (৭)অগ্রবালবাবুরা পঞ্জাবের লোক। সেখানকার প্রত্যন্ত গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর জনধন একাউন্ট খুলে এসেছিল ভাগ্যিস! ১০ জনের নামে থাকা এমন একাউন্টে ব্রিফকেস, এটাচি ভরে টাকা নিয়ে রাখতে গেছে রেলভাড়া করে। অগ্রবাল পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের হাতে এমন ব্রিফকেস।
  • (৮) আবাসনের এক অবাঙালী ব্যাবসাদার তার কাজের মাসী সহ সকল স্টাফদের বাধ্য করেছেন সচিত্র পরিচয়পত্র দিতে। সেই পরিচয়পত্র তিনি খান কুড়ি করে জেরক্স করিয়ে প্রত্যেকের হাতে নোটের তাড়া গুঁজে দিয়ে ব্যাঙ্কে গিয়ে জমা দিতে বলছেন। ভিন্নভিন্ন একাউন্টে বেচারা স্টাফেরা জমা দিয়েই চলেছে, দিয়েই চলেছে...আর তিনি বলেছেন, যা সময় লাগে লাগুক, কাজে না আসলেও চলবে আর এর জন্য আলাদা বখশিস‌ও দিব্যি মিলবে।
  • (৯) পুরণো কাগজওয়ালাদের খুব মজা। প্রচুর লোকজন বাড়ি সাফাই যজ্ঞে মেতে উঠেছে। কোথায় কি পাওয়া যায় সেই লক্ষ্যে। এবার তাকের ওপরে, তাকিয়ার নীচে, গদির তলায়, কাগজের বান্ডিলে পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য ৫০০-১০০০। অতএব অঘ্রাণেই কাগজওয়ালাদের পোষমাস চলিতেছে।

১৭ নভেম্বর, ২০১৬

টুনটুনির নতুন গল্প


লি গেল গেল রব উঠল ৫০০/১০০০ বাতিল হল বলে কিন্তু সত্যি তো বাতিল কেউ নয়। এ কথা আমাদের সকলেরি জানা। রাস্তায় ঘাটে সবাই ঊর্ধ্বমুখে জোড় হাত তুলে কয় নমো নমোহ! যে আদার ব্যাপারী সে এদ্দিন পাত্তা দেয়নি নরেনকে। আর এই নরেনই রক্ষে করল তাদের। হোয়াটস্যাপে ঠাট্টার ঝড়। রামকৃষ্ণ বলেছিলেন টাকা মাটি, মাটি টাকা। আর তাঁর প্রিয় নরেনই প্রমাণ করেছেন এদ্দিনে। আমি বলি টাচ উড! আগে শেষ রক্ষে হোক বাপু
 
এইবার শুরু খেলা। রাজার ঘরে যে ধন আছে, টুনির ঘরেও সে ধন আছে। শুধু রাজার ঘরে বেশী আছে, টুনির বাসায় অনেক কম আছে। রাজা হলেন জাহাজের কারবারি আর টুনি বেচারা আদার ব্যাপারী। কিন্তু যে ৫০০/১০০০ এর নোট টুনির আছে সেটাই রাজার ভল্টেও আছে। সেই এক, অবিনশ্বর গান্ধীর ছবি ওলা। রাজার কত উপায়ে সেই প্রাচুর্য লাভ হয়। আর টুনি বেচারা দিনাতিপাত করে কোনোক্রমে একটা নোট মুখে করে এনে বাসার মধ্যে রাখে। রাজার অনেক আছে তাই টাকা শুকোতে দিতে হয়। আর টুনি বেচারা একটা এনেই কি ঝামেলা হল সেবার। কিন্তু এবারে টুনি মুখ্য নয়। উলুখাগড়ার মত ব্রাত্য টুনি দিব্যি আছে মনের সুখে। এখন রাজারাজড়ার পরাণ যায়।

টুনি এখন মগডালে বসে মনের সুখে গাইছে বেহাগ

" কালো টাকা, সাদা টাকা, টাকা নানান জাতের,
এত টাকার মধ্যে শুয়ে ঘুম গেল তার বাপের"

টুনির মা তাই শুনে ধরে

"বুঝলেন, বুঝলেন, বুঝলেন বাবুমশাই?
টাকা গোনে, কেন গোনে, কিসের এত টাকা?
আশেপাশে সবাই গোনে, আমার বাসাই ফাঁকা"

টুনি বলে, ও মা? আজ চলো যাই উড়ে, রাজার বাড়ির বারান্দার দিকে আরেকবার। যদি পেয়ে যাই একটা ৫০০ কিম্বা ১০০০ ? টুনির মা বলল, অতি লোভ ভাল নয় টুনি। টাকা থাকার অনেক জ্বালা। দেখলি তো ? টুনি বলল, মা তবে যে ৫০০ টাকার নোটটা আমাদের বাসায় পড়ে রয়েছে সেটা গিয়ে রাজার বারান্দার কোণে রেখে আসিগে, কি বলো?
টাকা এমনি জিনিস! মায়া বাড়ায়। আর টুনির মা টুনির চেয়ে বয়স্ক, দুঁধে, পোড় খাওয়া এক পাখী। সে বলে, পাগল না মাথাখারাপ? ওটা রেখে দে, কাজে আসবে। টুনি বলে, ওটা ক'দিন বাদে চলবে নি গো, বাতিল হবে। তখন ভাঙাবে কি করে?
টুনি ফুড়ুত করে উড়ে গিয়ে বসে মাছ বাজারে। সেখানে জলের দরে মাছ বিকোচ্ছে । আর দোকানি বলছে, মাছ নিয়ে যান, পয়সা পরে দেবেন। ৫০০, ১০০০ নেবনা। অন্য আরেকটা বাজারে গিয়ে টুনি দেখল সেখানে দিব্যি নিচ্ছে ৫০০-১০০০। ক্রেতা বিক্রেতাকে বলছে, মশাই, টাকা হল টাকা। আপনার হোক কিম্বা আমার । ব্যাঙ্কে দিয়ে দিলে সবই এক জায়গায় যাবে। টাকা আটকে থাকলে ব্যাবসা করব কিভাবে? আরেকটা বাজারে গিয়ে শোনে সেখানে দোকানি বলছে, আগের ধার শোধেনি এখনো। ধারবাকীতে কি মাছ বেচা যায়?
বিভ্রান্ত টুনি এবার উড়ে যায় শহরের এক ব্যস্ত পেট্রোল পাম্পে। রাতে তোপ দাগার পরেও মাথায় আসেনি কারোর। এবার মাথায় হাত। এমন লাইন কেন সেখানে? তারপরেই বচসা শুনে বুঝতে পারল, ভোর হতেই সবাই তেল কিনে গাড়িতে ভরছে, কেউ বাড়িতেও মজুত রাখছে। তেলের তো অনেক দাম। সোনার মতোই প্রায়। তাই কিছু ৫০০-১০০০ সরকারের ঘরে চালান করে দেওয়াই শ্রেয়। ও মা গো
 
এখানে তো সকলে জেরিক্যান ভরে পেট্রোল নিচ্চে গো! এ আবার কেমন তর? পেট্রোলের গন্ধে ম ম করছে আশপাশ। সেই তেলের গন্ধ নিয়ে আবার ফুড়ুত টুনি রেলের স্টেশনে। নিচ্ছে, নিচ্ছে, নিচ্ছে, এখানেও নিচ্ছে বড় নোট। তবে ছোট টিকিটের জন্য বড় নোট কেন নেবে তারা? আগেও নিতনা এখনো নেবেনা। প্যান্ট্রিকার, টিকিট কাউন্টার সবজায়গায় নিচ্ছেই তো । এবার টুনি চলল বিমানবন্দরে। সেখানে যারা যাওয়া আসা করে তাদের পার্সে, ওয়ালেটে ক্রেডিট কার্ড থাকে, ডেবিট কার্ডও থাকে অতএব নো ঝঞ্জাট। কিন্তু প্রিপেইড ট্যাক্সিবুথে একটু বাকবিতন্ডা চলছে। ওরা অমনি। চিরকাল। নমো-ই হোক, মম-ই হোক। এরা আর বদলাবেনা। টুনি তো আর আজকের লোক নয়। এ শহর তার অতি পরিচিত। টুনি ভাবে, বিদেশীদের সামনে না লজ্জায় পড়তে হয়। অতিথি দেব ভব। তাদের সামনে এমন ঝগড়াঝাটি না করলেই নয়? সেই এক কথা। আরে মশাই নিন না বাবা। আপনি বা আমি যে কেউ কাল গিয়ে এই নোট তো ব্যাঙ্কেই জমা করে আসব।
তার চেয়ে শেখো তোমরা ভলভো বাস সার্ভিস, ওলা, উবেরের কাছ থেকে। এরা কেমন ব্যাওসাপাতি বোঝে বাপু! টুনির মনে হয় ঘাড় ধরে শিখিয়ে দিক ওদের। 
 
টুনি যায় গুটি গুটি। একটু ফুড়ুত তো একটু মজা লুটি। যারা নেই উত্তর-পুব, তার মনে সদাই সুখ। এবার গন্তব্য শপিংমলে। বিশাল কাঁচের দরজার সামনে চুপটি করে ঘাপটি মেরে বসে থাকে সে। এই বাগানে তার প্রবেশ মানা। সময়ে অসময়ে সে পিচিক করে পটি করে ফ্যালে। তখন রামপেয়াদা এসে তাড়া করে মেরেও ফেলতে পারে একরত্তি টুনিকে। মানুষের তাড়া খেলে যা বুক ধুকপুকুনি হয়! তার চেয়ে দরজার বাইরে থাকাই ভাল।
এ বাবা, এখানেও হোঁচট কেন? কার্ড না থাকলে জিনিস কেনা যাবেনা? নো বড় নোট লেনদেন। প্রবেশের মুখেই জিগেস করে নিচ্ছে সিকিউরিটি। আচ্ছা এর নামই কি "অচ্ছে দিন"? এর নামই কি "গো ডিজিটাল"? টুনি ভাবে বসে বসে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শপিং মলের দরজা খুলে মানুষ ঢোকে আবার কেউ কেউ ঢুকেই পত্রপাঠ বেরিয়ে যায়। ঠান্ডা হাওয়ায় শীত করে টুনির। সেদিন সকালেই টুনি খবরের কাগজের প্রথম পাতায় জোরালো বিজ্ঞাপন দেখেছে বটে। অব এ.টি.এম ছাড়ো, পে.টি.এম করো। এটাই কি তবে ডিজিটাল দেশ গড়ার পূর্বলক্ষণ?

টুনি সেদিন বাসায় ফিরে গিয়ে মা কে বলল
 
- মা, ঐ টাকার নোটটা রেখেই আসি রাজার ঘরেতে। টাকা থাকার অনেক হ্যাপা। এই বেশ খুঁটে খাই আমরা। দিব্য চলে যায় আমাদের।
টুনির মা সেই শুনে বলল,
- মার খেয়ে মরবি এবারে। আমি কত কায়দা করে সেই উপেনবাবুর আমল থেকে যত্ন করে টাকাটা বাসায় সামলিয়ে আসছি আর তুই কিনা এদ্দিনের সঞ্চিত ধন বিকিয়ে দিবি? নানা টুনি যাসনা। আমি মরে গেলে ঐ টাকাটাই তোকে দেখবে।
- কিন্তু মা, ওই টাকাটা এখুনি ফেরত না দিলে আর কোনও কাজে আসবেনা আমাদের। ওটা বাতিল হয়ে যাবে।
- রাজার বাড়ী ঢুকবি আবারো? জানিস না? রাজাকে রাগিয়ে দিয়ে কি বিপত্তি হয়েছিল আর তারপরেই তরোয়াল থেকে শুরু করে ব্যাঙ ভাজার কাহিনী কে না জানে?
- আর সেই বেচারা সাতরাণীর গল্প তুমি যে ফলাও করে বলতে ! শুধু একটা নোটের জন্যে ওদের নাকগুলো যখন কেটে দিল তরোয়াল দিয়ে? সে কি দৃশ্য! রক্তারক্তি কাণ্ড!
- বেচারা রাণীরা কিন্তু আমাকে খুব আদর যত্ন করেছিল জানিস ? ওমা কি সুন্দর পাখী ! কত মিষ্টি পাখীটা!
টুনি সেই শুনে বলল,
- মা আবার যাবে নাকি রাজার বাড়ি গিয়ে সেই পুরণো কাসুন্দি ঘাঁটতে?