১৪ এপ্রিল, ২০১১

এক বৃদ্ধ ও এক যুবক : আমিনুল ইসলাম মামুন


এক গাঁয়ে ছিল এক মোটা বৃদ্ধ। সে সব সময় লোকজনের নিকট একটি যুবকের দোষ বর্ণনা করতো, অথচ যুবকটি ছিল নির্দোষ ও পরোপকারী। কোথাও কেউ বিপদে পড়লে সে তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতো। একদিন একটি মেয়ে স্কুল থেকে বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফিরছিলো। যুবক তার ছাতা দিয়ে মেয়েটিকে বাড়িতে পৌঁছে দিলো। মোটা বৃদ্ধটি গাঁয়ের অনেককে বিষয়টি জানালো এবং এ-থেকেও যুবকের দোষ আবিষ্কার করলো। তারপর লোকগুলো যুবককে ডেকে জিজ্ঞেস করলে যুবকটি বললো, তার কাছ থেকে শুনেছেন? লোকগুলো মোটা বৃদ্ধ লোকটির কথা বললে যুবক সত্যতা স্বীকার করলো এবং বৃদ্ধ লোকটির অনেক গুণ বর্ণনা করলো।

  আবার একদিন এক ক্ষুধার্ত অমুসলিম ক্ষুধা নিবারণের জন্য অনেকের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা না পেয়ে এ যুবকের কাছে এলো। যুবকটি ওই অমুসলিমকে কিছু টাকা দিয়ে সাহায্য করলো। বৃদ্ধ দূর থেকে তা দেখলো। এতে সে রেগে গিয়ে এলাকার অনেককে বললো, এসব অমুসলিমকে সাহায্য দিলে কোনো সওয়াবতো হবেই না, বরং আজাব হবে। যাদের কাছে বলা হলো, তারা এসে যুবককে জিজ্ঞেস করলে যুবকটি যুবকটি বললো, সে বিধর্মী হলেও আল্লাহরই সৃষ্টি। আল্লাহর সৃষ্টি যে কোনো প্রাণীকে যদি বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা না হয়, তাহলে আল্লাহর সৃষ্টিকে অবহেলা করা হয়। এরপরও  বৃদ্ধ লোকটি বিভিন্ন সময় বিভিন্নজনের কাছে যুবকের দোষ গাইতে থাকলো। যুবকটি দেখা হলে বৃদ্ধকে সালাম দিয়ে কুশলাদি বিনিময়ের চেষ্টা করতো এবং অন্যদের কাছে বৃদ্ধকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করতো। এতেও বৃদ্ধ যুবকটিকে ভেংচি কাটতো। একদিন একটি লম্বা বাঁশের সাঁকো পার হবার সময় বৃদ্ধ লোকটি সাঁকো ভেঙ্গে খালে পড়ে গেলো। বৃদ্ধ বলে তার গায়ে তেমন শক্তি ছিল না। তাছাড়া মোটা দেহ। তাই সে উঠতে পারছিল না। সাঁকোর দুই ধারের লোকজন পার হতে না-পেরে বৃদ্ধকে গালাগাল করতে লাগলো। এমন সময় যুবকটি এসে বৃদ্ধকে ওপরে তুললো এবং সাঁকোটি ঠিক করে দিল। বৃদ্ধ যুবককে বুকে জড়িয়ে ধরে বললো, আমি তোমার দোষ গাইতাম আর তুমি সব সময় আমার গুণগুলো বর্ণনা করতে এবং আজ আমাকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচালে। তুমি মানুষ নয়, মানুষরূপী এক ফেরাস্তা।

আমিনুল ইসলাম মামুন
সেক্রেটরি-জেনারেল, ইয়ং রাইটার্স ফোরাম, বাংলাদেশ









[ ১ম পাতায় ফেরত ]

কোন মন্তব্য নেই: