৩১ মে, ২০০৮
পরিবেশের দম্ভ বেজায় - বাড়ির গরম, গাড়ীর গরম, হাওয়া গরম, মাথা গরম।
২৪ মে, ২০০৮
হারিয়ে যাওয়া ছেলেবেলা
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর মনখারাপের সারাদুপুর ,
আবার কবে শুনতে পাব কাজলাদিদির পায়ের নূপুর?
লেবু গাছের ছায়ায় ছায়ায় , চাঁপার বনে দুষ্টুমিতে ,
হারিয়ে গেছে ছেলেবেলা বইয়ের ভারে ব্যাগ বইতে ;
মায়ের সাথে ছাদের কোণে, বৃষ্টিভেজা বিকেলবেলা ,
শিল কুড়িয়ে মুখেপুরে ,কুকুর নিয়ে কত খেলা,
কৃষ্ণচূড়ার পাতার ফাঁকে,টুনটুনিটা আজও ডাকে,
কেমন করে সেলাই কোরে পাতার সংগে পাতা জোড়ায়।
জামগাছটায় এক ই সময়, রোজ ই আসে কুটুমপাখি
মাছরাঙাতে মাছ ধরে খায় কাজলকালো তার যে আঁখি ।
উড়ে আসা তালপাতাতে মা বানাতো বাহারীফুল,
কখনো বা মাটি দিয়ে আমার জন্য রকম পুতুল।
আজ ও সেথায় তালগছেরা দাঁড়িয়ে আছে সবাইমিলে,
আমি ই শুধু চলে এলাম বিয়ের পরে তাদের ফেলে।
২১ মে, ২০০৮
জানেন কি ?
রবীন্দ্রনাথ এক উপন্যাসের সূচনায় লিখেছেনঃ "আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে, সন্ধ্যাবেলায় দীপ জ্বালানোর আগে সকালবেলায় সলতে পাকানো।" ঠাকুর পরিবারের আদিপুরুষ জগন্নাথ কুশারী, পীরালি ব্রাহ্মণ অর্থাত মুসলমানের অন্নগ্রহণের দোষযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি শুকদেব রায়চৌধুরীর এক কন্যাকে বিবাহ করে বাংলা দেশের খুলনা গ্রামের ভূসম্পত্তি পেয়ে সেখানেই বাস করতে শুরু করেন। পিরালী বামুনরা তদানীন্তন সমাজে এক ধাপ নীচের শ্রেণীর ব্রাহ্মণ বলে পরিগনিত হতেন। সেই কারণে জগন্নাথ হলেন 'পতিত'। জগন্নাথের কয়েক পুরুষ পরে তাঁর উত্তরসূরী পারিবারিক মনোমালিন্য হেতু খুলনা থেকে নৌকা কোরে চলে এলেন কলকাতায়।ততদিনে রাজধানী কলকাতায় ইংরাজ বণিকদের মৌরসীপাট্টা। অতএব জীবিকার জন্য চিন্তা নেই।কুশারীরা এসে ঘর বাঁধলেন গোবিন্দপুর গ্রামে,দরিদ্র হিন্দুসমাজের হরিজন পল্লীতে। সেখানে এতদিন একঘরও ব্রাহ্মণ ছিল না। লোকেরা তাদের মধ্যে ব্রাহ্মণ পেয়ে খুব খুশী।। খুলনায় যারা ছিলেন পতিত-পিরালী ,এখানে তারা হলেন "ঠাকুর-মশাই "। মুখে,মুখে চলল ঠাকুর-মশাই | তাঁরা ইংরাজদের মালপত্র ও সরবরাহ করতেন। ইংরাজদের মুখে মুখে "ঠাকুর-মশাই "শব্দটি অপভ্রংশ হতে হতে ট্যাগোর বা টেগোর হল। এইরূপে কুশারী পদবী উঠে গেল এবং তাঁরা নিজেরাই ঠাকুর পদবী ব্যবহার শুরু করলেন।
১৭ মে, ২০০৮
উত্তিষ্ঠিত! জাগ্রত !
১৪ মে, ২০০৮
সেদিন বোশেখ মাস, গাঁধীর চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ!
পাখা নাহি ঘোরে মাথার ওপর, ভালো নাহি মোরা আজ।
একদা তাঁরা যে বড় মুখ করে বলেছিলেন আমাদেরকে,
উদ্বৃত্ত বিদ্যুত আছে বাংলায়, দিতে পারি অন্য রাজ্যকে।
দিনের মধ্যে কতবার সে যে আসে আর চলে যায়,
অভিমানী গাঁধী তাই দেখে শুনে বার করেন এক উপায়।
বিদ্যুত বিনা দু ঘন্টা প্রায় রাজ ভবন অন্ধকার,
যেথা রাখাল রাজা গোপালের আমার কষ্ট করাই সার!
কেউ বা বলেন "শিশু সুলভ" আর কেউ হন "মৌনীবাবা",
সবে মিলে কন রাজ্যপালের পোস্টকে কর না হাবা।
৯ মে, ২০০৮
হিন্দু কলেজের ঠাট-ঠমকের বাকি কি রাখলে বাঙলী?
কোথায় হারাইলাম ঐতিহ্যপূর্ণ সেই এডমিশন টেস্ট? একে তো প্রাথমিক স্তর হইতে ইংরাজী তুলিয়া দিয়া, মাধ্যমিক স্তরে এম-সি-কিউ চালু করিয়া, উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ঢালাও নম্বর পরিবেশন করিয়া আপনার পায়ে কুড়ুল মারিলাম। একদা বিদেশের সঙ্গে তুলনীয়। ঐতিহ্যবাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ দুটিতে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘুণ ধরাইয়া পচন শুরু হইল প্রায়; সে দুটিকে রক্ষা করিতে পারিলাম না, অন্যথায় ব্যঙের ছাতার ন্যায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ খুলিয়া শয়ে শয়ে ইঞ্জিনিয়ার উত্পাদন করিতেছি, যাহাদের গুণমান পোলট্রির ডিমের ন্যায়। যা ও বা প্রেসিডেন্সীর অনার্সের এডমিশন টেস্টটি ছিল বাঙলার তথাকথিত সেরা ছাঁকনি যার দ্বারা ভবিষ্যতের মৌলিক গবেষকদের বীজ বপন হইতে পারিত সে পথও আজ বন্ধ করিলাম আনন্দে। "কি আনন্দে করিলে একাজ? নিজের পায়ে কুড়ুল মারিয়া লুকাইবে কোথা আজ?"
৩০ এপ্রি, ২০০৮
ঈশানী পামেলা লাবণী (IPL) এর জন্য প্রেমের গান
যাকে ভোরের রাতে চাওয়া (BRC)
তোমায় দুদিন দেখিনি (DD)
যেন কোন দুপুরের ছায়া (DC)
কবে শোনাও রাগ-রঞ্জনী (RR)
রূপে তুমি মেয়ে ইরাণী (MI)
কিংবা একা পাপিয়া (KEP)
তবু মনের মধ্যে তুমি আছো চির স্বপনের কায়া (CSK)
.........................................................................
রবীন্দ্রনাথের 'তুমি কোন কাননের ফুল' গানটি অবলম্বনে
২৯ এপ্রি, ২০০৮
বাঙলা নামের নতুন অভিধান
- ঊর্মিলা : Wavi-la
- দীপা : Lamp-a
- চন্দনা : Sandal-ina
- উত্তরা : Answer-a or North-era
- ঝর্ণা : Torrent-ia
- দুর্গা : Castle-a
- কালী : Ink-i
- চন্দ্রাণী : Moon-ani
- সর্বাণী : All-ani
- রাণী : Queen-i
- অসীমা : A-Limit-a
- কাকলি : Crow-koli
আনন্দের আড্ডা হল শুরু!!
স্টার্-আনন্দে আনন্দ-আড্ডা জুড়িয়ে দিল মোর পরাণডা।
e-চ্চে হলেই বস নেটে, লেখ দুকলম মাথা খেটে।
অচল স্কোর-বোর্ড কেবল কাটা, তাপ্পি-আঁটা পিচের ফাটা।
শ্রীসন্তের ফুঁতফুঁতানি, হরভজনের রামপ্যাঁদানি।
কে-কে-আর্-এ ওমর গুল , আনন্দের e-ডেনে আমি মশগুল।
ইন্দিরা পাঠাই চিরকুট্, বেঁচে থাকে যেন এই ব্লগকূট।
posted at Star Ananda Discussion Board
২৩ মার্চ, ২০০৮
এখানে বাঙলা লিখুন
আপনি যদি এই লেখা পড়তে পারেন তাহলে আপনার মেশিনে unicode font আছে । তাই আপনার লেখার কোন অসুবিধা হবে না । "Dont Panic" লেখাটির তলায় যে text box আছে তার ভেতরে cursor নিয়ে গিয়ে roman হরফে লিখুন "aami baaGalaa likhachhi" । দেখবেন নিচের সাদা জায়গায় এসে গেল "আমি বাঙলা লিখছি "। . লেখা শেষ হলে সাদা জায়গা থেকে text copy করুন -- highlight করে ctrl+c টিপে। তারপর যেখানে দরকার সেখানে গিয়ে paste করুন । কোন কঠিন বাঙলা অক্ষরে আটকে গেলে "Dont Panic"এর উপর cursor নিয়ে দেখুন সেটা "Read the guide" button হয়ে গেছে, তখন সেটা Press করুন। একটা Help screen খুলবে।
২৪ ফেব, ২০০৮
বাংলা ভাষায় ব্লগ লিখুন !
২৩ ফেব, ২০০৮
ইন্দি-পেন্ডেন্স !!!
স্বাধীনদেশের রক্ষণশীল, একান্নবর্তী পরিবারের কন্যা সন্তানের স্বাধীনতা ছোটথেকেই ছেঁটেকেটে রাখা হয়। আমার বেলাতেও তার ব্যাতিক্রম হয়নি । ছাঁটা-কাটা স্বাধীনতার ঘেরাটোপে, শুল্ক বসানো সাজপোশাক, কর চাপানো বন্ধুনির্বাচন, আর খাজনা আরোপিত বাইরে বেরোনো মেনে নিয়ে কি ভাগ্যি একটা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিলাভ করে,যথাসময়ে গুরুজনদের নির্বাচিত পাত্রের গলায় মাল্যদান । দস্তুরমতো বিদেশগমন এবং বেশ কিছুদিন পরে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন । এই ভাবে দেখতে দেখতে প্রায় উনিশটা বছর পার করেছি, একমাত্র পুত্রবধূ,স্ত্রী, মা এবং রসায়নের গৃহশিক্ষিকা রূপে। লক্ষ্মণের মত আদর্শ ভাই, রামের মত আদর্শ ছেলে, সীতার মত আদর্শ কন্যা, যুধিষ্ঠিরের মত আদর্শবানের সততা....এইসব আদর্শবান দের গল্প তো মাথার মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেই ছোটবেলা থেকে। তাই ছেড়েছিলাম অনেকটাই। তারপর একটা সময় এল, ভাবলাম, আর নয়। অনেক ছেড়েছি এ জীবনে। এবার নিজের জন্য ভাব রে মন। নিজের জন্য কিছু কর হে বঙ্গের আদর্শ হোমমেকার। অতএব রোজ রাতে শুতে যাবার আগে, সব কাজ সেরে শুরু হল ডায়েরী লেখা। সেটা কাগজে কলমে নয়। ডিজিটাল ডায়েরীতে মানে ব্লগে। কিন্তু স্বাধীন হতে পারিনি।
বিজ্ঞানের ছাত্রী হয়েও মাঝেমাঝে বাংলা সাহিত্যচর্চার স্বাদ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করিনি। স্বামী পুত্র মাথা খেতে লাগল। বলল যা লিখছ সব আর জীবনে খুঁজে পাবেনা। হারিয়ে যাবে।
ভাবলাম স্বাধীনভাবে যখন লিখতে পারি মনের কথা ,প্রকাশ করতে পারি বাংলাভাষায় তখন... । কিন্তু সকলের উদ্দেশ্যে এই কথা,এই ভাষা ছড়িয়ে দেবার স্বাধীনতা নেই। বুঝলাম "এ কেবল দিনে রাত্রে ,জল ঢেলে ফুটা পাত্রে ,বৃথা চেষ্টা তৃষ্ণা মেটাবার।" হাল ছাড়লাম না। অবশেষে ইন্টারনেটের গোলকধাঁধায় হারিয়ে গেলাম ফাগুনের আগুনে রেঙে ওঠা এক পড়ন্ত বিকেলবেলায়। দিনটা ছিল ২৩ শে ফেব্রুয়ারি,শনিবার,২০০৮ .... আমার যাত্রা হোল শুরু।
খুলে ফেললাম নিজস্ব 'ব্লগ' । অসাধারণ আইডিয়া! অভিনব টেকনোলজি, স্বাধীনভাবে যা খুশী লেখো সেখানে। অব্যক্ত মনের কথা, অপ্রকাশিত প্রাণের ব্যাথা, বাংলা হরফে টাইপ করা আর কোনো বাধাই নয়। ইউসারফ্রেন্ডলি ফন্টের দৌলতে খটাখট টাইপ করে,আপলোড করে দাও ব্লগে। সারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের লোক পড়ছে আমার লেখা,মন্তব্য পাঠাচ্ছে ই-মেলে--এই বা কি কম কথা। আমি আজ স্বাধীন লেখক হলাম। এতদিনে প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পেলাম। যেখানে আমার হারিয়ে যেতে নেই মানা। যেখানে আমার লেখনীর ঝর্ণাকলমের মুক্ত হরফ, স্বাধীন ভাষার ছন্দে উদ্দাম নৃত্যের তালে তালে স্বাধীনভাবে সৃষ্টি করে চলেছে অবিরত। সব শাসনের লক্ষণরেখাকে মুছে দিয়ে স্বাধীন আমিই আমার একমাত্র সম্পাদক, প্রকাশক এবং সর্বোপরি মুদ্রাকর।
"সোনার তরীর রূপোর পালে ব্লগের হাওয়া লাগলো বলে, ঘুচল শিকল মুক্ত পাখির ফুটল বুলি যন্ত্রজালে।"
