৩০ এপ্রিল, ২০১৬

ভোটের আমি, ভোটের তুমি

 কি মজা! কি মজা! আজ পরীক্ষা শেষ হল। আবার সারাবছর পড়বনা। মা মন্দিরে ফুল চড়াবে আর বলবে, এবারটার মত পাস করিয়ে দিও ঠাকুর। পরেরবার থেকে আমি নিজে দেখব ওর পড়াশুনো। মা অমন হামেশাই বলে। মা তো নিজেই জানে। তিনি নিজেও কখনো পড়াশুনো করতেন না। আমি এবারেও মা'কে প্রমিস করে বলব, আর ফাঁকি দেবনা। বাবা যখন প্রতিমাসে তার কষ্টার্জিত নোটগুলো দিয়ে টিউশান-ফি দেবে তখন বলব, এবার দেখো আমি ঠিক মন দিয়ে পড়াশুনো করব। তারপর? তারপর একবার যদি আমি টিচারের চোখের মণি হয়ে যাই, আমাকে আর কে পায়? না পড়েই পাস করে আসছি এ যাবত। তাই সেটাই আমার স্বভাবটা খারাপ করে দিয়েছে। নয়ত বিশ্বাস করুন, মা-বাবা কারোকে বলতে হত না পড়, পড়। কোশ্চেনগুলো কমন এসেচে। কিন্তু তবুও অনেক ছেলেরা টুকলি করার চেষ্টা করেছে জানেন্? আমি অবিশ্যি ভালো ছেলে। অনেক আটঘাট বেঁধে রেখেছিলাম। তাই মনে হয় উতরে যাব এবারেও। বেশ খেয়ে, পরে, ঘুমিয়ে, ছবি এঁকে, কবিতা লিখে, সিনেমা দেখে, ব‌ই পড়ে থাকি। পরীক্ষার চাপ থাকেনা। ভাল্লাগেনা এই পরীক্ষার সময়টা। বড্ড চাপ হয়ে যায়। মা-বাবার টেনশান বেড়ে যায়। তবুও পরীক্ষা দিতেই হয়। নয়ত মানুষ হব কি করে?    

......

কাল সকাল চান সেরে উপোস করে অঞ্জলি দি প্রতিবার। আমার আবার ধম্মেকম্মে খু‌উব মতি কিনা! নির্জ্জলা উপোস করে পুজো না দিতি পারলে মনটা যেন সাফসুতরো হয়না। যবে থেকে নাবালিকা নাম ঘুচেছে তবে থেকে এইপুজোর ব্রত করছি। তবে কিছু পাবার আশায় নয়। পেত্থম পেত্থম ভাবতি কত অদলবদল হবে নাজানি। দেশটা আমার ফুলছোঁড়াতেই আমূল বদলে যাবে! ও হরি! এতো ঢপের চপ! রাস্তার ফুটপাথে রোজ পা মচকায় তবুও এই পুজো করি আমি। ছেলেগুলো কত্ত পড়ে এসেও চাকরী পায়না এখানে তবুও এই পুজো করে মরি আমি। মায়ের চিকিত্‌সা করতে ভেলোরে যাই আমি তবুও নাকটিপে পুজো করব । আমার বাড়ির সামনের রাস্তায় টাইমকলের জল উপচে পড়ে তবুও আবাসনে ডিপ টিউবওয়েল। তাও আমার শিক্ষে হয়নি, এই পুজো আমি করে ছাড়ব‌ই। রাস্তাঘাট আলোয় আলোয় ছয়লাপ তবুও শিল্পের হাহাকার। তো কি? লোডশেডিং তো নেই! কাল সারা রাত ধরে সব ভেবে দেখনু, এই পুজো করেই ছাড়ব কারণ এ পুজোয় আমার জন্মগত অধিকার।
আর এবার বাপু উপোস করিনি। দিব্যি চা-টা খেয়ে টেয়ে, সেজে আর গুজে গেনু।  
আম্মো এই গরমে পাট ভেঙে একখান মলমলি ছাপাশাড়ী পরে দিয়ে এনু । তবে শাড়ির রং সম্বন্ধে খুউব সন্দিহান সকলে । কমলা নয়, লাল নয়, নীল নয়, সবুজ নয়। স্রেফ সাদা পরে। কানে গুঁজে  ফুল। তবে পদ্ম, ঘাসফুল নৈব নৈব চ! পিঠে বেঁধে  কুলো। থুড়ি হাতে বেঁধে কুলো, পড়শীরা সব দেখে আমায় বলল এ কি হল? 
আর? ছোট্ট টিপ, হালকা লিপিস্টিক আর? চোখের চারপাশের কমনীয় ত্বক ঢাকিনি রোদচশমাতে। কারণ অত সকালে দরকার নেই। পোষাক তো হালকা রংয়ের আছেই। ছাতা শুনলাম অনেকেই ফোকটে পেয়েছে। শুনলাম SPF 15 সমেত সানস্ক্রিন লোশানও দিচ্ছে মহিলা ভোটারদের । আর যে যাচ্ছে বিরিয়ানিও পাচ্ছে অতএব দুপুরের খাওয়ায় নো চাপ!কারণ সাথে আছে চিকেন চাপ।  সব মিলিয়ে its Vote time! party time! long weekend celebration ahead ! ভোটপুজো বলে কতা!    

...
 

ভোলা/ভুলু/? শুনতে পাচ্ছিস্‌? রাত পুইলেই পরীক্ষে না? তা না পড়ে পড়ে শুধু ঘুম আর ঘুম। যে গুলো পরীক্ষেয় ইম্পটেন্ট সেগুলো ভুলিসনি যেন বাপ্‌ আমার।  এই গরমে তোর মাথার ঘিলুতে শুধু যে কোশ্চেনগুলো গেঁথে দিলুম সেগুলোই আসবে কিন্তু। ঠিকমত পোশ্নের উত্তর দিস বাপ্‌ আমার। আর রাতে হালকাপুলকা খাবার খেয়ে নে বাপ্‌। বেশী খেলে বদহজম হবে। তাপ্পর সব ভুল করে আসবি তুই। আর শোন্‌ আরেকটা কথা। আজ এট্টু তাড়াতাড়ি খেয়ে নিয়ে শুয়ে পড়িস বাপধন! হক্কাল হক্কাল উইঠ্যা, চিঁড়া-গুড় খাইয়্যা, হাওয়াই চটি পৈরে পরীক্ষে দিতে যাস বাপ্‌। বেশী অন্ধকারে যাস্‌না ভুলু/ভোলা।  পুলিশেরা নাকি পুছতাছ করতে পারে। কপালে দৈয়ের ফোঁটাটা পরিয়ে দেব আমি। হলুদ-সিঁদুরে চাল দিয়ে দৈয়ের ফোঁটা খুব শুভ। কিন্তু তুই মুছে নিস বাপ্‌। পেন্সিলবাক্স নিস্‌না যেন। পকেটের মধ্যেই পেন রাখিস। ওরা নিয়ে নিতে পারে। রঙীন জামা পরিসনি যেন ভোলা/ভুলু। ওরা সন্দেহ কত্তে পারে। মোবাইলটা বাড়িতে রেখে যাস। ওরা নিয়ে নিতে পারে। ঐ যে কোন্‌ পার্টির থেকে ছাতা দেছিল, ওটাও নিয়ে যাস্‌নি বাবা। কি দরকার? কোত্থেকে কি হয়ে যায়? ভোলা বললে, আমাকে হাওয়াই চটি পরতি বলছ আর নিজে তো কপালে ইয়া বড় কালোজামের মত টিপ প‌ইরেছো। রাতেই টিপটা খুলে রাকো দিকিনি। নয়ত ওরা সন্দেহ করবে।

 .......

কোন মন্তব্য নেই: