১০ আগস্ট, ২০১১

শীতল-লতা

ওকে রোজ দেখা যায়না । যেদিনই ভাবি ওর কথা, ওর চালচলন, ওর সাজগোজ আর রূপের কথা সেদিনই ও আমাকে দেখা দিয়েই চলে যায় । ঠিক কেমন যেন আমার সাথে টেলিপ্যাথি আছে ওর । ওকে প্রথম দেখেছিলাম বসন্তের শেষে একটা অকাল বোশেখের বিকেলে । ঝিরঝির বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যে দিয়ে ঢুকে গেছিল ঘরের মধ্যে । একটু দেখতে না দেখতেই সেই চলে যাওয়াটা আমাকে আরো যেন উদাস করে দিয়েছিল । আবার অপেক্ষা সেই থেকে । পরদিন বৃষ্টি ভোরের ভেজা সকালে আবার দেখতে পেয়েই মনের মধ্যে সেই পাগলা হাওয়ার উদ্দাম নাচ অনুভব করলাম । হৃদয় অলিন্দে ধুকপুকুনিতে বুঝে গেলাম আমি ওকে ভালোবেসে ফেলেছি । ভোরের হলুদ রোদের আলো তখন চুঁইয়ে এসে পড়েছে গাছের ডালপালার মধ্যে দিয়ে । সোজা এসে সেই আলো পড়েছে ওর চিকনকাজের শিফনে। ভোরের আলোর লালিত্যে ওর লাবণ্য যেন আরো বেড়ে গেল মনে হল । আমার শরীরের গোপন রহস্যে তখন কিসের যেন আলোড়ন । চোখ মুখ ধুয়ে এসে আবার দাঁড়ালাম বারান্দায় ততক্ষণে ও চলে গেছে ঘরের মধ্যে । এবার ভাবলাম ওকে বলতেই হবে আমার মনের কথাগুলো। আর এমনটি মানায় না । অসহনীয় এই অপেক্ষা। আমার ইহকাল, পরকাল সবকিছু ওকে দিয়ে দেব একদিন। আর পারছিনা এই এড্রিনালিনের যন্ত্রণা ব‌ইতে । হয় আমি এখান থেকে চলে যাব যাতে আমার আর ওকে দেখতে না হয় । কারণ আমার সংসারে ওর কোনোদিনো আসা সম্ভব নয় । সেকথা যেমন ও জানত তেমনি আমিও জানতাম । কিন্তু বলা হল না । এড্র্নালিনের টানাপোড়েনে বিপর্যস্ত আমি তখন বাক্সপ্যাঁটরা গুছিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছি বাড়ি থেকে । সে এসে আমার পথে বাধা দিল । আবার ওর রূপ দেখলাম । যথারীতি ভালো লেগে গেল । ইচ্ছে হল আমার সবটুকুনি দিয়ে ওকে আমার করে নি। একটু আদর করে ঘরে তুলি । একসাথে থাকি আমরা দুটিতে । ওকে জড়িয়ে ধরতে গেলাম । মনে হল ওর ঠান্ডা মসৃণ ঠোঁট দুটো আমাকে চায় । পরেই মনে হল নাঃ এ আমার ভুল । হয়ত ও অন্য কারোকে ভালবাসে । ছোঁয়া হয়ে উঠলনা ওকে। ঠোঁট রাখাও হলনা ওর শরীরে । ভাবতে ভাবতে দেখি ও অনেক দূর এগিয়ে চলে গেছে । কেমন যেন একটা আওয়াজ করতে করতে । ঠান্ডা ঠান্ডা শরীরটার লালিত্য বয়ে নিয়ে । কি জানি উষ্ণতা ছিলনা বলেই আর ওকে পাওয়া হল না আমার ।

1 টি মন্তব্য:

Mahasweta বলেছেন...

বর্ষার দুপুরের আধোঘুম স্বপ্নের মত...