৪ আগস্ট, ২০১৭

সেজোমাসী

 তোমার এয়োস্ত্রী ছবিতে মালা পরাতে হবে স্বপ্নেও ভাবিনি গো। আজ তোমার রঙীন ছবির দিকে তাকিয়ে মনে পড়ে যাচ্ছিল ছোটবেলার কত সাদাকালো কথা। গরমের ছুটি হলেই মায়ের হাত ধরে তিন নম্বর বাসে চড়ে তোমার বাড়ি। আর  তোমার হাতে কত কত তৈরী মুখরোচক। রন্ধনে দ্রৌপদী ছিলে তুমি। আমার মা সেবার লেবার পেনে কাতরাচ্ছে উত্তর কলকাতার বনেদী প্রসূতিসদন, নর্থ ক্যালকাটা নর্সিংহোমে। ডাক্তারবাবু বলেছিলেন, এখনো দেরী আছে অনেক। বাড়ি থেকে মাছের কচুরী বানিয়ে এনে আসন্ন প্রসবার মুখে দিয়ে তবে তোমার শান্তি হয়েছিল। আমি জন্মেছিলাম তার কিছু পরেই। তুমি মায়ের দিদি অথচ মায়ের কোলে আগে এসে গেল সন্তান । তখনো তোমার সন্তান হয়নি তাই আমার জন্যে  সারাজীবন তোমার চোখে খুশি দেখেছিলাম গো। তারপর আমায় কোলে নিয়ে মা চলল মামার বাড়ি। তোমার অদিখ্যেতা শুরু হল তখন। একুশ দিনের ষষ্ঠীপুজোয় লোকে ছেলের জন্যে একুশটা ক্ষীরের পুতুল গড়ে ষষ্ঠীবুড়ির চুপড়ি সাজায় আর তুমি কিনা ক্ষীরের পুতুল বানিয়েছিলে এই একরত্তি মেয়ে সন্তানের জন্যে!  দেখো, প্রকৃতির কি খেয়াল! তারপরেই তোমার দুটি ছেলে হল কোল আলো করে। আমার ভাই হবার আগে বেশ মনে পড়ে, তুমি নিয়ম করে মা'কে দেখতে আসতে। আর যাবার সময় মা'কে বলে যেতে, প্রথমটি কে অযত্ন কোরো না। বলেই আমার হাতে পুতুল, চকোলেট  কেনার টাকা গুঁজে দিতে। আমি কি করে ভুলব এসব??? 
তুমি কথায় কথায় বলতে দেখিস, আমি এয়োস্ত্রী মরব। আমি রাজরাণীর মত চলে যাব। সত্যি‌ই তাই হল। তোমার ভরভরন্ত সংসার, পাশে দুই ছেলে বৌ, নাতি, নাতনী...জমজমাট সংসারের সব দেখে শুনে সত্যিই তুমি রাণীর মত চলে গেলে! এমন ভাগ্য কজনের হয় আজকের যুগে?
যেখানেই থাকো, ভালো থেকো সেজোমাসী!

শ্মশান অনলে দগ্ধসি পরিত্যক্তোসি বান্ধবৈঃ
ইদং নীরং, ইদংক্ষীরং অত্র স্নাহি ইদং পিব
আকাশস্থ নিরালম্ব বায়ুভূত নিরাশ্রয়
অত্র স্নাত্বা, ইদং পীত্বা স্নাত্বা, পীত্বা সুখি ভব।

কোন মন্তব্য নেই: