২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

বেথুন জার্ণাল- পর্ব ৩

কলেজগেটের পাশে রোজ সকাল দশটা থেকে বিকেল সাতটা অবধি দাঁড়িয়ে থাকত মতিদা  ।

এ পাড়ার বিখ্যাত ফুচকাওয়ালা । তার ফুচকা যেমন বড়বড়, গোল্লা গোল্লা, ও মুচমুচে আর তেমনি সুস্বাদু তার যাবতীয় অনুপান। একদম ঠিকঠাক টক, ঝাল ও নুনের কম্বিনেশন । আমাদের অনেক গবেষণা হত সেই তেঁতুল জলের রসায়ন নিয়ে । বাড়িতে অনেক বকুনিও খেতাম রোজ রোজ ফুচকাখাওয়া নিয়ে । কিন্তু এক  মতিদা  মানুষটা আর দুই তার ফুচকার টানকে কিছুতেই এড়াতে পারতাম না ।  মতিদার ছিল একটাই শ্লোগান "ইয়ে ফুচকা খাইয়ো তো  মতিদাকা গুণ গাইও " "আমার ফুচকায় অসুখ করবে না । কলেজের ফিল্টারের জলে তৈরী এই তেঁতুলজল" । আমার দিদি তখন পড়ত অন্য কলেজে ।



দিদিকে বলতাম " একদিন তোকে  মতিদার ফুচকা খাওয়াব " তা সে আর হয়ে উঠত না । সেবার পয়লাবোশেখের ঠিক আগে মা নতুন জামাকাপড় কেনার টাকা দিলেন । আমরা দু'বোনে হাতিবাগান থেকে জামাকাপড় কিনে একটা চায়ের দোকানে এসে চা-জলখাবারের অর্ডার দিয়ে দেখি পার্সের সব টাকা শেষ। মাত্র একটা কয়েন পড়ে আছে । এদিকে প্রচন্ড খিদে পেয়েছে আর বাড়িও ফিরতে হবে । হাঁটা লাগালাম কলেজের দিকে| বাসে উঠব সে পয়সাও নেই কাছে । হাঁটতে হাঁটতে দুজনে পৌঁছলাম কলেজ অবধি । সেখানে  মতিদা  তখনো দাঁড়িয়ে । দিদিকে দেখামাত্রই  মতিদা  যথারীতি তার স্লোগান আওড়ালো "ইয়ে ফুচকা খাইয়ো তো  মতিদাকা গুণ গাইও "

 "আমার ফুচকায় অসুখ করবে না । কলেজের ফিল্টারের জলে তৈরী এই তেঁতুলজল"

 দিদিকে কথা দিয়েছিলাম একদিন ফুচকা খাওয়াব । মতিদা  শালপাতা ভাঁজ করে এগিয়ে দিল আমাদের সামনে ।

 আমি বললাম " না, মানে একটা কথা ছিল  মতিদা  ,"

 মতিদা  বলল " খাও খাও , কিচ্ছু হবে না "

 আমি বললাম " না না সে কথা নয় "

 মতিদা  বলল "মা বকবে ?” আমি বললাম " না না পয়সা ফুরিয়ে গেছে যে "

 মতিদা  বলল "কাল দিও, আগে তো খাও "

 আমি বললাম " বাড়িফেরার পয়সাও নেই "

 মতিদা  বলল " আমি দিচ্ছি, কাল দিও "

 আমরা পেট পুরে ফুচকা খেলাম । এত ভাল বোধ হয় আগেও লাগেনি কখনো । আরো যেন বড়বড়, গোল্লাগোল্লা, মুচমুচে ফুচকা ! আরো পার্ফেক্ট টক-ঝাল-নুনের কম্বিনেশন !

 দু'জনের বাসের ভাড়াও চেয়ে নিলাম  মতিদার কাছ থেকে ।



আমরা তখন বেথুন কলেজ, আমি তখন শাড়ি
কেমিষ্ট্রিল্যাব, লেকচার হল, আর মিনিবাসে বাড়ি ।।
কেমন যেন দিনগুলো সব হঠাত ফুরিয়ে এল
হেদোর ধারে ফুচকা-আচার সায়েন্স কলেজ গেল !!!

কোন মন্তব্য নেই: