২৮ আগ, ২০০৯

আমার তুমি


আমি বৃষ্টিভেজা বিকেল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম জেনো,
তুমি শিশির ভেজা পায়ে এসে আমার শব্দ শোনো,
আমি আগমনীর সুর তুলেছি শরত্‌ আলোর প্রাতে,
তুমি সেই সুরে যে সুর মেলালে আমার সাথে সাথে।
আমি অস্তরাগের রাগ-রাগিনী তোমার কান্না হাসি,
তুমিই আমার ইমন-বেহাগ তোমার কাছে আসি,
আমি তোমার দুখে দুখী, সুখের নতুন পাখী,
তুমিই আমার সুখের দোসর দুখ ভোলাতে ডাকি।
আমি অবাক হয়ে ভাবছি বসে আসছো তুমি রাণী,
তুমি সাজো নিজে, সাজাও আমায় ওগো আগমনী !
আমি তোমার আধফোটা ফুল, তোমার জন্য ফুটি,

তুমি আমায় নাও যে কোলে, তোমার পায়ে লুটি ।
আমি তোমার চঞ্চল গান, উচ্ছল প্রাণ-বীণা,
তুমি আমার সুরের ছন্দে গানের উপাসনা ।

২৬ আগ, ২০০৯

পূজো আসছে


পূজো পূজো গন্ধ নিয়ে শিউলি ভেজা শরত্‌রাণী,
নীল আকাশে মেঘের ভেলায় ভাসছে সুরে আগমনী
কুমোরপাড়ায় ঠাকুর গড়া, সাজো সাজো রব সারা পাড়া ,
পাড়ার পূজো, পূজো বাড়ীর, চাঁদা তোলা, যোগাড় শাড়ির,
ও পাড়ার ঐ অমুক বাড়ির, পূজো এবার তাড়াতাড়ি
মন বসে না ধারাপাতে, ইতিহাস আর ভূগোলেতে,
লাল জরিপাড় হলদে শাড়ি, ব্যোমকাই বা বালুচরী,
হাল ফ্যাশনের রকমারী, কুর্তা, কামিজ আর কেপরি,
পূজোর সেল চলছে অনেক, কেনাকাটির ঝামেলা শতেক,
ভীড় ভাট্টায় পকেট কাটা, ছিঁচকে চোরের মজা লোটা,
হৈ চৈ পড়ে গৃহিনী মহলে, পূজোবার্ষিকী কোনটা কি বলে,
চটি জুতোর কত বাহার ! রেশমি-রঙীন কি মজাদার !
কেউ বা কাটায় পূজোর ছুটি, আয়েষে, আরামে বেড়িয়ে উটি,
হয়তো আবু কিম্বা পুরী, নাকি প্যান্ডেল হপিং আর হুড়োহুড়ি,

খোয়াই হাটের বিকিকিনি, কাঁথার কাজের পসরা আনি,
ছোট্ট ছেলে আদুড় গায়ে, মায়ের পাশে ব্যস্ত পায়ে,
ঢাকের আওয়াজ শুনতে পেল, কাশের ঝালর বুলিয়ে গায়ে, রাঙামাটির পথে গেল!

২১ আগ, ২০০৯

বাড়ি বদল


আজ বড় কষ্ট হল । বুকের মধ্যে কেন জানি তোলপাড় হতে থাকল । গলার কাছে কিছু জমা কথা দলা পাকাতে লাগল ।কি জানি আজ কেন যেন চোখের কোণে জল এসে গেল । চোখের জল নিয়ে বিয়ের কনে হয়ে এসেছিলাম এই বাড়ি, আজ এই বাড়ির সাথে আমার কেন যে হল আড়ি! পুরোণো বাড়ির প্রতিটি ইঁট-কাঠ, শান বাঁধানো রোয়াক, গন্ধরাজ,করবী,কামিনী ফুলের মায়া, টুকটুকে লাল মেঝে, আমার ঘরের পাশে একফালি ছাদ, আমার তুলসীতলা, বটের বনসাইয়ের কোলে শিবলিঙ্গ, দক্ষিণের বারান্দা ....সবকিছুর জন্যে বড় কষ্ট হল আজ।
বাড়ির অনেক বয়স হল যেমন অনেক সুবিধে ছিল, অনেক অসুবিধে ও ছিল। আমাদের ছোট্ট গ্যারাজের ছোট্ট গাড়িটাও আর রাখা গেল না.. নিয়ম হয়েছে ..আমি মাঝখান থেকে বড় কষ্টে র‌ইলাম। লাল মেঝের চওড়া চওড়া দালান ,করিডোর, পেল্লায় বৈঠকখানা, লম্বা সিঁড়ি ...কিছুই রাখা যাবে না..কাজের বৌ মুছতে চায়না, বেশি পয়সা পেলেও না। তারাও সুখী আজকাল ।
অল্প কষ্ট করে বেশি রোজগারের অনেক পথ হয়েছে যে । তাই আমার বড় কষ্ট হত।
বিয়ের আগে দূর থেকে বাড়িটা দেখেছিলাম..বিয়ের বেনারসী কিনতে গিয়ে। বিয়ের পরদিন সকালে এসে পা দিয়েই মনে হয়েছিল "আমাকে এই বাড়ির যোগ্য বৌ হতে হবে " বাবা ও তাই বলেছিলেন । একতলা থেকে দুধে-আলতা পায়ে তিনতলা অবধি গুরুজনদের প্রণাম করতে করতে কোমর ব্যথা হয়ে গেছিল। ফুলশয্যার রাতে খড়খড়ির দরজায় আড়ি পেতেছিল সব জায়েরা, আজও লজ্জায় মুখ ফুটে জিগেস করতে পারিনি। ফিস্‌ফিস্‌ করে সেই রাতে ওকে বলেছিলাম, খড়খড়িতে চাদর জড়াতে ...অনেক ফাঁক থাকে যে...সকলে যে আমাদের কথবার্তা শুনতে পাবে ।
বাড়ি পুরোণো হতে লাগল। যে কোনো দিকে তাকালেই মনে হয় সারানো দরকার .. ওদিকে ছাদ ফেটে জল পড়া তো এদিকে কার্নিশ ফেটে যাওয়া । আমার তিনতলার ঘর প্রচন্ড গরম .. সব মিলিয়ে কিসের যেন তাড়নায় চলে এলাম বাড়িকে ছেড়ে।
ফ্ল্যাট বাড়ি, ভালো আবার খারাপ ও
কত পাওয়া, না পাওয়ার স্মৃতি,
কত শিখে নেওয়া রীতি ।
কত বেগ-আবেগের টানাপোড়েন,
কত হাসি-কান্নার লেনদেন ।
কত আলো-আঁধারের খেলা,
কত আনন্দ-উতসবের মেলা ।
কিছু দেনা-পাওনার হিসেব নিয়ে চললাম আমার নতুন বাড়ি,
পুরোণো ইঁট পুরোণো সেই ঘরের সাথে, আমার হল আড়ি ।
দুপুর বেলা পিওন এসে চিঠি দেবেনা আর,
তরতরিয়ে সিঁড়ি ভাঙার নেই কোনো দরকার ।
বাজবে নাকো কলিংবেল আমার দরজায়,
ক্লান্ত দুপুর বসে থাকবে আমার অপেক্ষায়।
আমার বাড়ি, আমার গরম কাল,
দখিনখোলা লেকের হাওয়া, সন্ধ্যেবেলায় হারিয়ে যাওয়া
শীতের দুপুর, রোদের মেলা, দেখবো নাকো আর,
আমি চলে এলাম বলে কি ই বা হল হাল !!

৬ আগ, ২০০৯

রাখী রাখিও না হাতে !!

বাঙলার মাটি, বাঙলার জল, বাঙলার বায়ু, বাঙলার ফল 
রাখী বাঁধি হাতে, ছোরা নিয়ে সাথে, রাখি হাতে হাত, চলি দলে দল |
 আকাশের বুকে কালো ধোঁয়া ছায়, বারুদের ঘ্রাণে বায়ু বিষময় 
হাতে রাখি হাত, বাঁধি রাখী তায়, পাছে প্রাণ যায়, মনে ভয় হয় | 
মানুষে মানুষে শুধু হানাহানি, হিংসা-কলহে বড় টানাটানি 
বাঁধি রাখি আমি বন্ধুর এক হাতে বিষ দিই তার অন্য আরেক হাতে | 
মিছরির কুচি পুরে নিয়ে মুখে, ছুরি খানা গুঁজি বন্ধুর বুকে 
ভয় হয় যদি কেউ দেখে ফেলে , জরিময় রাখী বেঁধে দিই সুখে।  
কত শত রাখী বাজারে এসেছে রাখি না কো তার খোঁজ
 শুধু ভাবি মনে রাখী বাঁধবার কি এ প্রহসন রোজ?

৩ আগ, ২০০৯

ভালো থেকো বন্ধু

বন্ধু হয়ে বন্ধু থেকো হাত বাড়িয়ে হাতটি ধরে,
যেমন করে লতায়-পাতায় মিলেমিশে আছে দূরে,
ঠিক এমনি করে থেকো পাশে,
যেমন করে নদীর জলে নৌকো ভেসে দূর থেকে দূর ঐ যে আসে,
ঠিক এমনি করে এসো কাছে, যেমন করে মৌমাছিরা ফুলের পাশে পাশে আছে|
এমনি করেই থাকো তুমি, যেমনটি ঠিক সূর্য ওঠে, চাঁদ হাসে আর তারা ফোটে।
যেমন খুশি এসো পাশে, ফুলের কাছে প্রজাপতি হয়ে এসে ভলোবেসে।
ভালো থেকো তুমি বৃষ্টি ফোঁটায়,
ভালো থেকো তুমি শিউলি ঝরায়,
আর ভালো থেকো তুমি আলোয়-আঁধারে,
ভালো থেকো কুয়াশা ঘেরা দূরের ঐ পাহাড়ে।
ভালো থেকো স্বপ্ন নিয়ে, ভালো থেকো সুরে ছন্দ নিয়ে,
ভালো থেকো আকাশের নীলে, ভালো থেকো সাগরের জলে।

৩১ জুল, ২০০৯

Images from Pilani






কু ঝিক ঝিক রেলের গাড়ি


কু ঝিক ঝিক রেলের গাড়ি, চলল ছেড়ে আমার বাড়ি,
নিয়ে চলল সুরের কড়ি, কু ঝিক ঝিক রেলের গাড়ি।
কু ঝিক ঝিক রেলের গাড়ি, দূরের পথে দিল পাড়ি,
র‌ইল পড়ে আমার শহর স্কুলের পথ আর মায়ের আদর,
কু ঝিক ঝিক অনেক দূরে, পা বাড়িয়ে গানের সুরে,
চলল সাথে কান্না হাসি স্মৃতির পাতায় গানের বাঁশি,
তারার আলোয় চাঁদের হাটে, নয়নতারার গানের মাঠে,
সুরের স্রোতে ভেসে ভেসে, ছন্দে তালে হেসে হেসে,
কু ঝিক ঝিক বাজনা বাজাই, গান গেয়ে যাই, গান নিয়ে যাই,
র‌ইলো পড়ে ছেলেবেলা, শীতের রোদে ক্রিকেট খেলা,
গরম দুপুর সাঁতার কেটে, বিকেল হাওয়ায় লেকের মাঠে,
ছুটির ঘন্টা বাজতো যখন, লং ড্রাইভে যখন তখন,
বৃষ্টি আকাশ ফুলেল বাতাস, মাটির কোলে আমার প্রকাশ |
মায়ের পাশে পাশে থাকা, আজকে আমার মা যে একা,
একরাশ মন খরাপ নিয়ে, বৃষ্টি এল ইলশেগুঁড়ি,
অনেক দিন পরে আবার ফিরবো আমি আমার বাড়ি |
একমুঠো শিউলি নিয়ে শিশির ভেজা পায়,
বহুদিন ধরে আমি থাকবো অপেক্ষায়,
সারাদিন আর সারাবেলা, মনখারাপের দুপুর বেলা,
চাঁপার বনে দুষ্টুমি আর আবোলতাবোল কিছু খেলা |
মায়ের চোখে বাদল কালো, মা আমি আর সবাই ভালো,
মেঘের কোলে নভোনীলে, রোদের আলোয় বৃষ্টি ভুলে,
"সব পেয়েছির দেশে" এলাম মাকে আমি দূরে ফেলে |

১ জুল, ২০০৯

চ্যানেল ৮ (Sony ৮) এ ব্রেকফাস্ট শো FM AT 8 আমি

এই কবিতা টি সাথে সাথে রচনা করে ফোনে আমি বেস্ট কলার হয়ে Channel 8 এ আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম |
আলো আর অন্ধকার
আলো আছে, আর আছে অন্ধকার,
আর আছে সুখ, সাথে দুঃখ নেই কার?
হাসি আছে, সাথে কান্না আছে তার,
নারী আছে, সাথে পুরুষ আছে তার ;
আছে খোলা আলোর জানালা,
আমি আছি অন্ধকারে একেলা,
দুঃখ নিয়ে বিলাস করি আমি,
সুখ যে বড় ক্ষণস্থায়ী তুমি,
তাই আলোর আশায় অন্ধকারে থাকি।
অন্ধকার কে একলা বসে ডাকি।

২৩ মে, ২০০৯

১৫ এপ্রি, ২০০৯

১লা বোশেখ : মল্লিকা, শুনতে পাচ্ছো ?

মল্লিকা, শুনতে পাচ্ছো ? আজ নতুন বোশেখের প্রভাতফেরী....তুমি একটা রামধনু রঙা নতুন শাড়িতে, আমি জ্যোত্স্না-রূপোলী জরি পাড়ে,  মৈত্রেয়ী অস্তরাগের লাল ঢাকাইতে। বসুন্ধরা কাঁচপোকা রং সালোয়ারে, নাজিয়া জলরঙা উড়নি গায়ে আর রেশমী একটা পাটভাঙা ময়ূরকণ্ঠী মাহেশ্বরীতে।  আর সবার আগে চলেছেন আমাদের সকলের ছন্দাদি একটা জলপাই রঙা জামদানিতে  | 
আমরা চলেছি ১৪১৬ কে স্বাগত জানাতে...সে কি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণের প্রয়াস  !!
জানো মাস কয়েক আগের কথা । আমার ছাদের আলসেতে হঠাত একটা পারাবত এসে মুখে করে একটা চিরকুট দিয়ে গেল... জানতে চাইল আমার নাম, ধাম... কি যেন মনে হোল লিখে দিলাম |  পৌঁছে গেল সে দরবারে । আবার দৌড়ে এসে দিয়ে গেল নিমন্ত্রণের ডাক । আমি হাজির হলাম ঠিক জায়গায় ঠিক সময়ে। পৌঁছে গিয়ে দেখি চেনা চেনা মুখ, রঙচঙে পোশাক ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ঘরে সাজানো মঞ্চ...অনেক আলোর মাঝে  ঠিক প্রদোষে, সে এক সব পেয়েছির দেশে।  আমায় কিন্তু চিনলোনা কেউ ..জানো? আমি দূর থেকে শুধু দেখলাম আর মুগ্ধ হয়ে চেয়ে রইলাম।  কত কথা হল, হল কত গান....
ঠিক যেমন সুরের ভেলায় ভাসতে ভাসতে পৌঁছে যাই সকালের আমন্ত্রণে,
ছন্দের দোলায় শুনতে গান ডাউন মেমারি লেনে 
 আবার মনদরিয়ায় উঠবে তুফান জলসাঘরের টানে
 গীতবিতানের বাতায়নে বসি মাটির গানে, হৃদয়ের টানে
 আবার নতুন করে পাবো বলে..
 নতুন বছরে পাবো তোমার নিমন্ত্রণ |
 ভালো থেকো বন্ধু, ভালো থেকো তারার সবাই।   

১১ এপ্রি, ২০০৯

আজ সকালের ভুলের মাশুল দিতে দিতে...

তুমি বন্ধু হয়েছ বলে, সেদিন তোমায় দেখেছিলাম বিকেলবেলায় |
তুমি ভোরেরবেলা হয়ে এসেছো আজ নলবনের পাশটিতে, কান দিতে আমার ভুলগুলোর লিস্টিতে |
তুমি আসবে বলে আজ আমার ধূমায়িত চায়ের পেয়ালা ঠাণ্ডা হয়ে গেল,
তোমায় দেখবো বলে ওদিকে আমার দুধ উথলে গেল,
তুমি আসবে বলে আমি পূজোর বাসি ফুল ফেলতে ভুলে গেলাম,
তোমায় দেখবো বলে অপরাজিতা ফুল তুলতে গিয়ে আমি ভুল করে জবার কুঁড়ি তুলে ফেললাম,
তোমার জন্য চায়ের জল ফুটে ফুটে মরে গেল,
টোষ্টারে পাঁউরুটি জ্বলে পুড়ে একেবারে খাক !
তোমার জন্য ফল কাটতে গিয়ে হাত কেটে ফেলেছি..
মন খারাপ করতে ভুলে যাই আজকাল |
খোলা জানলার ধারে বসেছিলাম আজ, আজকের খবরের কাগজের একটা পাতা উড়ে চলে গেল আমার চোখের সামনে দিয়ে,
সে ও আমার ভুলের জন্যে, কারণ আমার চোখ যে ছিল টিভির পর্দায়, তোমার চোখের দিকে..
কবি বলেছেন "যাহা পাই তাহা চাই না, আর যাহা চাই তাহা ভুল করে পাই"
ভুল করে অনেক কিছু পেলাম !!!!

....................................................................................................................


"তারা মিউজিক" চ্যানেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ breakfast show" আজ সকালের আমন্ত্রণে" র আমি একজন frequent caller১০ই এপ্রিল ঐ show এর anchor মৈত্রেয়ী "ভুল" টপিক সম্বন্ধে শ্রোতাদের কিছু বলার অনুরোধ করেছিল...তাই এই কবিতাটি আমি সাথে সাথে লিখি আর ফোনে এ পাঠ করি...

১ মার্চ, ২০০৯

"তারা"-- তাহাদের ক্লাবের নাম



আবার শুভদিনে তারার নিমন্ত্রণে যেতে চাই বারে বারে
রবির কিরণে ছন্দে ছন্দে দোলা দিয়ে আপনারে |
মল্লিকার সুগন্ধে আর মৈত্রেয়ীর মিষ্টতায়
ছন্দের তালে তালে আর ছন্দাদির আতিথেয়তায় |
তারায় তারায় জাগাও তোমার আলোক ভরা বাণী
তুমি সুন্দর আর সার্থক হও শুধু এইটুকু আমি জানি |
বিশ্বাস রেখো মানবতায় আর সহমর্মিতায়
তারার আলোয় আলোকিত করো জগতের সব কলুষতায় |
যা কিছু কপট কালিমালিপ্ত মুছিয়ে ধরাকে করো যে শান্ত
গানের বানীকে পাথেয় করে এগিয়ে চলো শির উন্নত করে ,
আমাদের পাশে রেখো যে তোমার এইটুকু আবদার
আকাশে বাতাসে ছোটো-বড় তারার হোক জয় জয়াকার |

৫ নভে, ২০০৮

অদ্রিজার দোলায় গমন

অদ্রিজা-জননীর দোলায় গমন করলেন আশ্বিনের শারদপ্রাতের শঙ্খনিনাদ, ঢাকের বাদ্যি, শিউলির গন্ধ এ সব কিছু ধুইয়ে, মুছিয়ে তিনি চতুর্দোলায় গমন করলেন জনগণের স্বাস্থ্যে লাগলো দোলা ভেক্টরবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেল ব্যাধিগ্রস্ত স্বাস্থ্য-পরিষেবার কবলে পড়ে কত প্রাণ অকালে চলে গেল কৃষি না শিল্প এই টানাপোড়েনে মার খেল এ রাজ্য রাজ্যের শিল্পায়নকে কাঁচকলা দেখিয়ে টা টা করে টাটার মত বড় সংস্থা সানন্দে বেরিয়ে গেল এই রাজ্য ছেড়ে বাঙালির গৌরবের আইকন সৌরভ তাঁর ক্রিকেট জীবনের বৃত্ত সম্পূর্ণ করে যবনিকা টানলেন... হয়তো আরো কিছু আমরা পেতাম তাঁর কাছ থেকে সারা বিশ্ব জুড়ে রিসেশনের ঢেউ এখন ভারতের অর্থনীতির তটভূমিতেও সেই ঢেউ আছড়ে পড়েছে শেয়ার-সূচকের ক্রমাগত পতন , টাকার মূল্যের হ্রাস এই সবকিছু আমাদের অর্থনীতিকে অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করেছেসন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি-হামলা ,ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ ক্রমশঃ তাদের প্রকান্ড কালো থাবা দেশের অভ্যন্তরে বিস্তার করে অসহায় মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে প্রতিবার তারা সরকারি গোয়েন্দাদের নিরাপত্তার ঘেরাটোপ এড়িয়ে কার্যসিদ্ধি করে রক্ষা পেয়ে যাচ্ছে অদ্রিজার পুনরাগমন হোল কার্ত্তিকের কৃষ্ণপক্ষে, করালবদনী ষোড়শ-উপাচারে পূজিতা হলেন ঘোর অমাবস্যার পুণ্যলগ্নে |মুক্তকেশী,মুণ্ডমালা-বিভূষিতা এসেছিলেন তাঁর লোলজিহ্বায় রাজ্যের তমসা,কালিমা লেহন করে আমাদের মুক্তি দিতে কিন্তু অতি শীঘ্রই বিসর্জনের বাজনা বেজে উঠল ক্রন্দনরত বাঙালী মাতৃমূর্ত্তিকে নিমজ্জিত করতে করতে ভাবছে, মায়ের সাথে তাদের সব কিছু বিসর্জন হয়ে গেল নাতো? যে দীপাবলী সাজিয়ে তারা দীপাণ্বিতার অমাবস্যাকে আলোকিত করেছিল তা কি সত্যি নাকি প্রহসন? আমাদের জীবনের সামাজিক,রাজনৈতিক, আর্থ-সামাজিক,, নৈতিক,অর্থনৈতিক প্রত্যেক ক্ষেত্রের গুপ্ত চোরা কুঠুরি আঁধারে মসীলিপ্ত হয়ে রইল দীপাবলীর আলোক-রশ্মি প্রবেশ করলো না সেই পঙ্কিলতার গর্তে শুধু হা-হুতাশ, আবেগ,আর অতিন্দ্রিয় সুখের আরাধনা করে, নেতিবাচক মানসিকতার উপাসনা করে আর পূর্বসুরীদের জ্বালাময়ী ভাষণ কে পাথেয় করে আমরা চলতে থাকবো যুগ যুগ ধরে রাজনৈতিক অমাত্যগণ, আমলা, মন্ত্রীরা গণতন্ত্রের পূজা-প্রহসন নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন আর আমরা সাধারণ মানুষেরা থিয়োরি অফ নেগেটিভিটির আরাধনা করে যাবো এই ভাবেই দেশের কাজ ও দশের কাজ চলবেশিল্প-কলা-কৃষ্টি-ক্রীড়ার পীঠস্থান সনাতন ভারতভূমি এই ভাবেই ভৌগোলিক মানচিত্রের মর্যাদা বহন করে চলবে | সমস্যা সঙ্কুল বঙ্গবাসী তথা ভারতবাসীর জীবন বন্ধ-হরতাল-মিছিল-ধর্ণার ছন্দে আবার দুলবে একটা বছর... অদ্রিজা-মায়ের দোলায় গমন বলে কথা!!!

১৩ অক্টো, ২০০৮

তুমি আসবে বলে তাই ....

জিত্ , শুভায়ন , অরিজিত ,স্বাগত , ধুর্যটি , স্বাগতা , মহশ্বেতা , চেতা আর তনুশ্রী(রাকা)... এরা সোনার তরীর পরিবারের ক'জন | এরা নতুন যৌবনের দূত। এরা অকারণে চঞ্চল। এরা দামাল ,এরা অদ্ভুত। এরা নবীনতায় ভরা, সজীবতায় পূর্ণ। এদের মনে অসীম সাহস, মুখে সদা হাসি। এদের প্রাণে আছে বল যেন জোয়ার জলে ভাসি। নতুন প্রজন্মের এই ক'জন পাগলা হাওয়ায় মেতে উঠে গড়ে তুলেছে একটি দলছুট ব্যাণ্ড যার নাম "প্রান্তিকা" এরা পুরাতনকে ফেলে দেয় না, নতুনকে ও স্বাগত জানায় । শান্তিনিকেতনের অনতিদূরে ছোট্ট শহর প্রান্তিকের সোনারতরী আবাসনের দুর্গোত্সবে আমরা এদের প্রতিভার পরিস্ফূরণ লক্ষ্য করি। এদের চোখে সুরের ভাষা, মুখে স্বরের মূর্ছনা, এবং কন্ঠে সুর,ছন্দ,তাল ও লয়ের অপূর্ব মেল বন্ধন লক্ষ্য করা যায়।










১৬ সেপ, ২০০৮

দিদির দুঃখ

পশ্চিমবঙ্গে সহসা শিল্পায়নের হাইটেক জোয়ার এসেছে। বেশ ভাল কথা। অনেক বছর পিছনে হাঁটার পরে আমরা বিবেকানন্দের অমোঘবাণী "উত্তিষ্ঠিত, জাগ্রত" কে পাথেয় করে এগুতে সহস করেছিলাম। বুঝতাম সিঙ্গুরের আলু প্যাকেজিং হয়ে সি-আট্-ল্ পৌঁছে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে এল, তাহলেও হোত। সিঙ্গুরের চাষী একটু বেটার লাইফস্টাইলের মুখ দেখতো। কিন্তু কৃষিজমি, জীবিকা এসব নিয়ে এখন বিরোধীদল যা করছেন তা দেখে মনে হয় বাঙালির আত্মঘাতী নাম সার্থক। আসলে আমাদের মাননীয় দিদি নতুন করে কুড়ুল মারেন নি নিজের পায়ে। আবেগপ্রবণ দিদি বলতে চান পিছিয়ে গেছি ই যখন সুদীর্ঘ একত্রিশটা বছর তখন আর এগিয়েই বা কি হবে? "এমনি করেই যায় যদি দিন যাক্ না" এতদিন তোমাদের কথা যখন রইল, এবার আমার কথাই থাক্ না | "ভাবিতে উচিত ছিল প্রতিজ্ঞা যখন"| একদিন তোমরা টাটা-বিড়লার কালো হাত গুঁড়িয়ে নুলো করতে চেয়েছিলে , রক্ত দিয়ে অটোমেশন রুখেছিলে, প্রাথমিক স্তরে ইংরেজী উঠিয়ে দিয়েছিলে তখন ভাবো নি যে, বেশিদিন নেতিবাচক, বন্ধ্যা রাজনীতির বোরখা পরে বঙ্গবাসী অমানিশার মুখ দেখবে না একদিন তাদের বোধদয় হবেই তাই টাটার সাথে হাঁটা শিখলে! সালিমের কাছ থেকে ব্যবসার তালিম নিলে! অভিমানী দিদির মনের জ্বালা আমরা আর কি বুঝি। আমরা শিল্পায়নের জোয়ারে উদ্বেলিত হয়ে মনে মনে বলছি "বেটার লেট দ্যান নেভার"| কিন্তু দিদির মনের ব্যাথা অন্যখানে | তিনি যে নিজের চোখে দেখেছেন সত্তরের দশকের বাঙলার বেকারত্বের হাহাকার, শয়ে শয়ে বন্ধ কলকারখানার শ্রমিক ইউনিয়নের চিত্কার , আই.বি.এম, পেপসির মত মাল্টিন্যাশানালদের এ রাজ্য থেকে একদা মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া | এখন তেলের শিশি ভাঙলো বলে খুকুর পরে রাগ করলে কি করে হবে?