১৮ সেপ, ২০১২

প্যাপিরাস পুজোসংখ্যা ২০১২ প্রকাশিত হল

 পটশিল্পীঃ আয়েষা ও বাবলু পটীদার
গ্রাম নানকারচক, পূর্ব মেদিনীপুর 

সেই বাংলা বছরের প্রথমদিনে প্যাপিরাসের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বন্ধুদের সাথে দেখা হয়েছিল ।

ততদিনে সুনীতা উইলিয়ামস ভেসে রয়েছেন এই মহাবিশ্বে, মহাকাশে । কিউরিয়োসিটি খোঁজ নিতে গেছে মঙ্গল গ্রহের জল-মৃত্তিকার খুঁটিনাটি কিম্বা একরত্তি জীবনের । এবারের অলিম্পিকও আমাদের একেবারে নিরাশ করেনি । স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রপতি হয়েছেন এক বাঙালি । উত্তরপ্রদেশের এক বাঙালী বৈজ্ঞানিক নোবেলের সমতুল্য সম্মানে ভূষিত হয়েছেন । “রিসেশন-ইনফ্লেশন” চাপানোতরের পাশাপাশি  সামাজিক দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় মাদুর্গাকে স্মরণ করেছি মনেমনে ।  আমাদের সকলের শুভকমনায় আর মাদুর্গার আশীর্বাদে ক্রিকেটের মাঠ আলো করে আবার যুবরাজ সিং ব্যাট হাতে ধরেছেন ।   অনেক গুণী মানুষকে আমরা হারিয়েছি এই কয়েকটা মাসে ।মনে মনে অনুভব করেছি..”একলা ঘরে হাতড়ে মরি, শিল্পী তোমার শূন্যতা” !



এই ছ’টি মাস প্যাপিরাসের নিরম্বু উপবাস । শুধু পাঠকমহলের আদর প্যাপিরাসের পাথেয় যুগিয়েছে । লেখক, কবি এবং সর্বোপরি পাঠকদের ভালোলাগা আর ভালোবাসাকে সাথে নিয়ে হৈ হৈ করে সেজেগুজে প্যাপিরাস সাজিয়েছে তার পুজোসংখ্যাটিকে ।
আমাদের এবারের সবচেয়ে বড়প্রাপ্তি হল চিলেকোঠার ঘর ঝেড়ে পাওয়া  স্বর্গতঃ শুভ্রেন্দু মুখোপাধ্যায়ের একখানি কবিতার খাতা । পাতার রঙটা বাদামী হয়েছে যার সময়ের সাথে সাথে কিন্তু পেন্সিলে লেখা খাতাভর্তি কিছু দুষ্প্রাপ্য কবিতা আজো অমলিন । ১৯৪৪ সালে ছাত্রাবস্থায় মাত্র ১৭ বছর বয়সে লেখা কবিতাগুলির মধ্যে থেকে দুটি কবিতা এবারের প্যাপিরাসকে সমৃদ্ধ করেছে ।


বেশকিছু রন্ধন পটিয়সী “হোমমেকার” স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে প্যাপিরাসকে উপহার দিয়েছেন তাঁদের কিছু সেরা পূজোর রেসিপি । একাকীত্বের অবসাদ কাটিয়ে অনেক বছর বাদে কলম ধরেছেন খড়গপুরের বিশ্বজিত সরকার । রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তাঁর চাক্ষুষ অনুভূতি ফুটিয়ে তুলেছেন একদা বাংলা সাহিত্যের এই ছাত্র।  আমাদের কবিবন্ধুদের  জানাই মুঠোমুঠো শিউলিঝরা অভিনন্দন । এবারের শব্দসীমা লঙ্ঘন না করে অনেকেই লিখেছেন সুন্দর অণুগল্প, ছোটগল্প এবং ভ্রমণ বৃত্তান্ত ।


পাঠকদের অনুরোধে এবার থেকে প্যাপিরাসে রাখলাম একটি বিষয়ের ওপর ফোরাম বা আলোচনা চক্র  যার নাম দিলাম “চক্রবৈঠক” ।   সমাজের বিভিন্ন পেশার, বিভিন্ন বয়সের মানুষের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছিল আমন্ত্রণ মূলক লেখা, বিষয়টি ছিল “ইন্টারনেট”  । তাদের সাড়া পেয়ে প্যাপিরাস আপ্লুত এবং অনুভূত । এত ব্যস্ততার মধ্যে সকলে যে সুচিন্তিত মতামত পাঠিয়েছেন সে জন্য আরো একবার তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই ।
এবার যেন “হেমন্তে শরত” এর পথ চাওয়া । তাই বুঝি অতিবৃষ্টি আর খরার টানাপোড়েনে আমরা কাবু না হয়ে একটু বেশি সময় হাতে পেয়েছি পুজোসংখ্যা প্রকাশের ।
জীবনের আলপথগুলো গুলো চলতে চলতে অনেক বন্ধু এল চারপাশে । একঘেয়েমি কাটল ফেসবুকের একচিলতে ব্যালকনিতে । চলতে থাকে জীবন। আলগোছে, আলতো পায়ে । মনের কার্ণিশ বেয়ে নিঃশব্দে উঁকি দেয়  এসেমেস। বেজে ওঠে মুঠোফোন ঝন্‌ঝন্‌ । আমার মনোবীণায় সে ঝঙ্কারে হয়ত সামিল হয় অচেনা কোনো পাখি ।   ইনবক্সে উড়ে আসে অচেনা মেল, হঠাত মেল । বলে প্যাপিরাসকে ভালোবাসার কথা ।
চলতেই থাকে জীবন ছেঁড়া ছেঁড়া কবিতার ঘ্রাণ নিয়ে.. অলস সময় পেরিয়ে যায় বৃষ্টিপথ, ভাবনার গদ্যেরা ভেসে যায় আপন খেয়ালিপথে, আলগোছে, আলতো পায়ে… প্যাপিরাসের হাত ধরে  ! মনে মনে বলে উঠি,তুমি মেঘ-রোদ-বৃষ্টি হলে আমার ড্র‌ইং বারান্দায়
তুমি আলো-আঁধারের খালপাড়ে, আমি ভরাবর্ষায় ।
বৃষ্টিফোঁটায় কবিতা হতে চেয়েছিলে তুমি
আর আমি তোমার কর্ণিকা ।
জড়িয়ে ছিলে দুচোখে, ভরেছিলে ভোরবেলা
দিয়েছিলে সন্ধ্যে, অনেক অনেক আনন্দে ।
তবু এখনো বর্ষা হতে পারলাম ক‌ই ?

কিন্তু “বর্ষা” হওয়ার চেষ্টা তো আমরা করতেই পারি তাই নয় কি ?  তাই তো গ্রামবংলার শিল্পকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার চেষ্টায়  প্যাপিরাসের পুজোসংখ্যার থিম  গ্রামবাংলার পটচিত্র । মেদিনীপুরের মেলায় এবছর আলাপ হয়েছিল এক পটু পটশিল্পী দম্পতির সাথে ।  খড়গপুরে তাদের আমরা আমন্ত্রণ করে নিয়ে এসে বেশ কিছু পটচিত্র আঁকিয়েছিলাম বাংলার এই শিল্পকে সম্মান জানানোর জন্য ।  বন্ধুবান্ধবের অনুরোধে তারা নানারকমের পটশিল্প সামনে বসে এঁকে  পট-ভিত্তিক আনুষাঙ্গিক ঘরসাজানো এবং ফ্যাশানের জিনিষ বিক্রি করে যারপরনেই খুশি হয়ে বাড়ি ফিরেছিল  তাদের লক্ষ্মীর ঝাঁপি নিয়ে  । সেই দম্পতিকে খুশি করতে পেরে আমরা, যারা  সেদিন তাদের পাশে  ছিলাম তারাও আপ্লুত হয়েছিলাম ।

এবারের প্যাপিরাস পুজোসংখ্যাতে সেই অভিনব লোক-শিল্পের ছোঁয়া লেগেছে । পূর্ব মেদিনীপুরের নানকারচক গ্রামের বাসিন্দা বাবলু পটিদার ও আয়েষা পটিদার অক্লেশে বাঁচিয়ে রেখেছেন তাদের ২৫০ বছরের পুরোণো বংশ পরম্পরার ঐতিহ্য ।  মাদুর্গার কাছে প্রার্থনা করি তাঁরা যেন আরো বেশি প্রচারের আলোয় আসতে সক্ষম হন !


সকলের পুজো আনন্দে কাটুক ! প্যাপিরাসের লেখক ও পাঠকদের জানাই শারদীয়া শুভেচ্ছা।

প্যাপিরাস পড়ুন এবং পড়ান আপনার মূল্যবান মন্তব্যটি ওখানে কমেন্ট ফোরামে লিখুন ।  

৮ সেপ, ২০১২

প্যাপিরাস পুজোসংখ্যা



প্যাপিরাস পুজোসংখ্যা আসছে !
এবারের প্যাপিরাস পুজোসংখ্যা ২০১২ আর কিছুদিনের মধ্যেই প্রকাশিত হতে চলেছে । 
একগুচ্ছ মন ভোলানো কবিতা, প্রবন্ধ, ভিন্নস্বাদের একরাশ অণুগল্প, ছ'টি  দুর্দান্ত  ছোটগল্প,  মনকাড়া একঝাঁক পুজোর রেসিপি, আর তিনটি অসামান্য ভ্রমণ বৃত্তান্ত নিয়ে  সেজেগুজে হাজির হবে প্যাপিরাস সকলের কাছে ।  
আর মাত্র কয়েক সপ্তাহের অপেক্ষা । 
বন্ধুদের লেখা পাঠানোর জন্য শিউলিভেজা শারদীয়া অভিনন্দন জানাই !  


২২ আগ, ২০১২

রুদ্ধসংগীতের লেখক-গায়ককে আমার প্রণাম !


দেবব্রত বিশ্বাসকে আরো জানতে দেখুন এই নাটক । পড়ুন ওনার লেখা এই ব‌ইখানি । অনেক না জানা কথা আছে ব‌ইটিতে অন্ত্ঃসলিলা ফল্গুনদীর মত বয়ে চলেছিলেন আপনমনে । শিল্পীর প্রতি আমার নীরব শ্রদ্ধা । 



 "কালিন্দী ব্রাত্যজন" নাট্যগোষ্ঠীর পরিবেশনায় ব্রাত্য বসু পরিচালিত "রুদ্ধসংগী" নাটকটি শেষমেশ দেখা হল । এটি তাদের ৮৫তম পরিবেশন ছিল । যখন বিগত কয়েকবছর ধরে সমগ্র বাঙালী এর রস আস্বাদন করে নিয়েছেন আমি অবশেষে সেই সুযোগের সদ্ব্যাবহার করলাম । আজ ৪ঠা নভেম্বর ক্যালকাটা ক্লাবে দেবব্রত বিশ্বাসের  শততম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে এই নাটক প্রদর্শন ছিল সঙ্গীতশিল্পীর উদ্দেশ্যে বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য । দেবব্রত বিশ্বাসের রচনায় " ব্রাত্যজনের রুদ্ধসংগীত" ব‌ইটি কিছুদিন আগেই পড়েছিলাম । তাই দেখবার ইচ্ছেটা প্রবল ছিল । ব‌ইটিতে দেবব্রত বিশ্বাসের সাবলীল স্মৃতিচারণা এবং ওনার সাঙ্গীতিক জীবনের টানাপোড়েন অত্যন্ত স্বতস্ফূর্ত ।   অনেক না জানা তথ্য এবং বিশেষত বিশ্বভারতী মিউজিক বোর্ডের কর্তৃত্ত এবং যারপরনাই ওনার মত প্রবাদপ্রতিম শিল্পীর প্রতি অযথা হম্বিতম্বি, ওনার রেকর্ডেড রবীন্দ্রসঙ্গীতের সমালোচনা এবং  ওনার সুর এবং স্বরপ্রক্ষেপনের প্রতি কটুক্তি, যন্ত্রানুষঙ্গের ব্যাবহার ...এ সবকিছুই আছে ব‌ইটির মধ্যে । যে কঠোর সমালোচনায় দগ্ধে দগ্ধে শেষ হয়ে গিয়েও উনি হাল ছেড়ে দেননি এবং শেষজীবনে রুদ্ধ হয়েও কন্ঠ তাঁর রুদ্ধ হয়নি । রুদ্ধসঙ্গীত নাটকটি কিন্তু শুধুই এই ব‌ইটি নয় । এতে আছে কিছু নাট্যব্যক্তিত্ত্ব, নৃত্যশিল্পী, কবি, সঙ্গীতকার ও সুরকার  এবং সর্বোপরি সঙ্গীত শিল্পীর সঙ্গে দেবব্রত বিশ্বাস ওরফে তাঁদের সকলের জর্জদার প্রতিনিয়ত ওঠাবসা এবং আলপাচারিতা । গণনাট্যকার হেমাঙ্গ বিশ্বাস্, সলিল চৌধুরী , ঋত্বিক ঘটক্, কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের মত ব্যাক্তিত্ত্বদের সাথে একদা বাম আন্দোলনের শরিক দেবব্রতের কেমন করে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া। উঠে আসে বেশ কিছু অজানা তথ্য এই সব ক্রিয়েটিভ মানুষদের জীবনে উঠে দাঁড়ানো নিয়ে । কেমন  করে বামপন্থী আন্দোলনে সামিল হয়েও এই সব মানুষ গুলি মেনে নিতে পারেননি তাঁদের ওপর দলের ছড়ি ঘোরানো বা ডিক্টেটরশিপ বা দলের মতে না চললে আননেসেসরি তাকে অপবাদ দিয়ে কোণঠাসা করে দেওয়া । 
জর্জদার স্নেহধন্যা নৃত্যশিল্পী মঞ্জুশ্রী চাকীর সহিত কথোপকথন, সুচিত্রা মিত্রের  জর্জ বিশ্বাসের গায়কীকে শেষ পর্যন্ত মেনে নেওয়া ইত্যাদি আরো অনেক কিছু । 
সব মিলিয়ে নো প্যানপ্যানানি, নো মেলোড্রামাটিক কচকচানি, নো প্রেমপ্রেম খেলা, নায়কের ঘাড়ে মাথা রেখে নায়িকার ফুঁতফুতানি  । রিয়েলিস্টিক  নাটক । সত্যি ঘটনা । নেই আলাদিনের প্রদীপের চমক কিন্তু আছে স্পষ্টভাষণ। রবীন্দ্রসঙ্গীতের পাশাপাশি হেমাঙ্গ বিশ্বাস এবং সলিল চৌধুরীর গান রচনার প্রেক্ষাপট  এবং সর্বোপরি দেবব্রত বিশ্বাসের বহু বিতর্কিত গান গুলির গায়কী নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি শুনতে পাওয়া গেল সেই এইচএমভির সেই ৭৮ আরপিএম রেকর্ডের গানের অংশবিশেষ । তাই এই নাটক না দেখলে অনেক কিছুই না দেখা থেকে যাবে বলে আমার বিশ্বাস । আর দেবব্রত বিশ্বাসের ভূমিকায় দেবশঙ্কর হালদার আবার প্রমাণ করেছেন যে তিনি কত বড় মাপের একজন শিল্পী ।     
http://www.youtube.com/watch?v=V7nJZjvfNA8

৬ আগ, ২০১২

ভূস্বর্গ কাশ্মীরে কয়েকদিন....

  ১৭ই মে ২০১২
প্রতিবার পাহাড় না সাগর এই বিতর্কে হেরে যাই আমি । গরমের ছুটির ফাঁদে পা দিলেই হিমালয় টেনে নিয়ে যায় তার কাছে । এবারেও তার ব্যতিক্রম হল না ।
আমরা তিনজনে দিল্লী থেকে আবার শ্রীনগরের উড়ানে ।

ভূস্বর্গ কাশ্মীর কে তুলনা করা হয় ইউরোপের সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে । কয়েকদিনের জন্যে না হয় তোলা থাক সে তুলনা । সুইস আলপ্‌সের স্মৃতি তোলা থাক এলবামে । ওরে হিমালয় যে আলপ্‌সের চেয়ে কিছু কম নয় ...এই বলতে বলতে এগিয়ে চললাম ফোটোশপড নীল আকাশের দেশে । এমন নীল যে কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি! এয়ারপোর্ট থেকে গাড়ি চলল হৃদয়পুরা দিয়ে । 
ঝাউগাছ আর লতানে গোলাপের গুল্মের মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে বারবার মনে পড়ছিল ওপি নায়ারের কাশ্মীর কি কলির গানের সিকোয়েন্স । 

স্লোপিং রুফের বাড়িগুলো দেখে মনে পড়ে গেল খবরের কাগজের তুষারপাতের কথা । পথে চাপদাড়ি যুবক, বোরখা ঢাকা যুবতী আর মোড়ে মোড়ে সিআর পিএফ জওয়ানদের ভ্যান গাড়ি দেখে অনুভব করলাম কাশ্মীরের প্রতিকূলতা । 

পথে পড়ল রাজবাগ পার্ক । ঝিলামকে দেখলাম একঝলক । একে বলে বিতস্তা । ড্রাইভার মুক্তেয়ার বলল "দরিয়া ঝালেম" । 
ঝিলাম সেতু পেরিয়ে ডাল ঝিলে এলাম আমরা । একদৃষ্টে চেয়ে থাকতে হয় কিছুক্ষণ । 

লেক যে এত বড় হয় আগে কখনো দেখিনি । শিলং এ বড়াপানি লেক দেখেছিলাম, সুইজারল্যান্ডের লুগানো লেক দেখেছিলাম । কিন্তু তাই বলে এত হৈ হৈ হাউসবোটের পসরা আর কূলে কূলে এত শিকারা
 শিকারার সারি বাঁধা ডাল লেকের ধারে.......

 ডালঝিলের মধ্যে ভাসমান পোষ্ট অফিস দেখে যারপরনেই অবাক আমরা !
নেহরুগার্ডেনে অবতরণ গোলাপের বাগানে । একটু ছবি তোলা । 


  নেহেরু গার্ডেন থেকে ডাললেকের প্যানোরমিক লুক  !!!
ডাললেকে ভোরের আলোয় একরকম । 

আবার ঝুপ করে নেমে আসা সন্ধ্যের ঝুলে তার রূপ অন্যরকম । আবার রাতের বেলা যেন পরী সেজে দাঁড়িয়ে রয়েছে রঙীন আলোর হাউসবোটের পসরা নিয়ে সেই একই ডাললেক সুন্দরী  ।  

আবার ভাসমান শিকারায় । মাছ খেগো বক, সারস আরো কত কি সেই ডাললেকের জলে ।  

 আশপাশে ভাসমান সবজী বাগানের মধ্যে দিয়ে লিলিপুলের মধ্যে দিয়ে । 

 হাউসবোটের রোয়াক ঘেঁষে । 
১৮ই মে ২০১২ 
শ্রীনগরের ডাললেকের ধারে হোটেলের কামরা থেকেই ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শব্দে ঘুম গেল ভেঙে । মেঘ না মৌসুমী ? কাঁচের জানলায় অন্ধকারের থাবা । ভূস্বর্গ বৃষ্টিস্বর্গে পৌঁছে গেল না কি ! মনখারাপের পার্টির শুরু । জানলার ভারী পর্দা সরিয়ে দেখি কালো মেঘে আকাশ ঢেকে গেছে । 

প্রথমে টুথব্রাশ তারপর চায়ের কাপ হাতে আমি চোখ রেখেছি পাহাড়ের মাথায় । কখনো মেঘ উড়ে গেলে তুষারশিখর মুখ বেরে করছে আবার মেঘের চাদর তার গায়ে । আমাদের মনের চাপা টেনশনে ঘরের তাপমাত্রা বেড়ে গেছে ততক্ষণে । রুম হিটার বন্ধ করলাম । হঠাত চানঘর থেকে এসে দেখি রোদ উঠেছে । পাহাড়ের চূড়ো হাসতে শুরু করেছে খিলখিল করে । সবজী পরোটা আর দৈ সহযোগে ব্রেকফাস্ট সেরে বেরিয়ে পড়া হল পহেলগামের উদ্দেশ্যে । হালকা ঠান্ডা তখন চিনার বনের মধ্যে । ঝিলামের ধারে ধারে চিনারের এই অভিভাবকত্ব মুঘল আমল থেকে । চিনারকে কেউ কুড়ুল মারতে পারবেনা । এই ইকোফ্রেন্ডলি চিনারকে নিয়ে কাশ্মীরিদের খুব গর্ব । 
এই সেই ঐতিহাসিক চিনার বৃক্ষ । সবুজতায় আর রাজকীয়তায় পূর্ণ !  চিনার পাতা কাশ্মীরের শিল্পকর্মের সাথে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত । 
পথে পড়ল পান্থচক । পাথরের সব কারখানা । কারিগরেরা সেখানে খুদে খুদে বানাচ্ছে শিল নোড়া, খলনুড়ি, হামান দিস্তা । কিনে ফেললাম একটা খলনুড়ি । বেশ অন্যরকম দেখতে । এটাই কাশ্মীরের ট্র্যাডিশানাল মশলা পেষার কল ।
লিডারভ্যালির ওপর দিয়ে চলেছি আমরা । মেঘ এসে ভাসিয়ে দিচ্ছে কখনো ।
টোলবুথে পয়সা ফেলে বেলাবেলি পহেলগামে প্রবেশ করলাম ।

 দাঁড়কাকের কর্কশ স্বর নির্জনতাকে ছাপিয়ে দিল । রাখাল ভেড়ার পাল লয়ে যায় মাঠে । ঘোড়া সওয়ারি নিয়ে ঘন্টি নেড়ে হাঁটে । হোটেলে পিটস্টপ । মালপত্র রেখেই বিলেটেড লাঞ্চ । তারপরই দরদস্তুর করে ঝিরিঝিরি ঝাউয়ের মাথায় টুপটাপ বৃষ্টি নিয়ে আমাদের ঘোড়ায় চেপে বৈশরণ এডভেঞ্চার । তিনটে জবরদোস্ত ঘোড়া , দুই সহিস আর আমরা তিন মূর্তি । ঘন বাদামী আট বছরের বুলডোজার্, হালকা বাদামী দশ বছরের চেতক আর আমার সফেদ ঘোড়া মাত্র তিন বছরের বাদল । 
বৈশরণ এল বুঝি । পাইনগাছের সারি দিয়ে ঘেরা সবুজ প্রান্তর । দূর দিগন্তে নীল আকাশের পৃথিবী । পৃথিবীর নীচে ঐ প্রান্তর যার নাম সুইত্জারল্যান্ড পয়েন্ট । ছবি তুলে তফাত করা যাবেনা আল্পসের বরফচূড়ো আর হিমালয়ের বরফচূড়োয়। ভিউপয়েন্টও বটে । নো প্লাস্টিক জোন । পরিচ্ছন্ন চা-কফির ঠেক । ঘোড়া থেকে নেমে গরম চায়ে চুমুক । ননস্টপ ডিজিটাল ক্লিকে বন্দী হল ভারতের সুইস পয়েন্ট । 
 পহেলগামে  টিপিক্যাল কাশ্মীরি ডিনার হল এক পথ-হোটেলে । অসাধারণ সুস্বাদু কাশ্মীরি খানা । গরগরে, মশলাদার মাটন গুস্তাবা আর রিস্তা । সাথে গরম রুটি । গ্যাস্ট্রোনমিক আনন্দে উদরপূর্তি । 
 
১৯শে মে ২০১২
পাহাড়চূড়োয় বরফ । বরফচূড়োয় রোদ পড়েছে । মেঘমুক্ত আকাশ । গরমজলে স্নান সেরে ব্রেকফাস্ট আর তারপরেই বেরিয়ে পড়া মেঘমুক্ত আকাশের উদ্দেশ্যে । কখন আবার বৃষ্টির কবলে পড়ে যাই । আজ আমরা গাড়ি নিয়ে আবার লিডার উপত্যকায় বেড়াব । নদীকে ছুঁয়ে দেখব ; তার উষ্ণতায় আজ গরমদেশের মানুষের আহ্লাদে আটখানা হবার । 
 
 ২০শে মে ২০১২
কাশ্মীর ভ্যালি এল ।

 পৃথিবীর সর্বোচ্চ গল্ফকোর্স । ঠুকঠাক গলফ বল মারছে কোনো খেলাড়ি । গাড়ী সেই গল্ফকোর্স কে পাশ কাটিয়ে আরো আরো পাইন আর দেওদারের মধ্যে দিয়ে এসে পৌঁছাল মস আর ফার্ণ ঘেরা কাঠের হোটেল ঘরে । 
গুলমার্গ এডভেঞ্চার  শুরু !
২১শে মে ২০১২
গন্ডোলা অভিযান @ গুলমার্গ    ! লাইন দিয়ে গন্ডোলা রাইডের টিকিট কাটা হল । 

 কেবল কার রোপওয়ে দিয়ে উঠবে পাহাড়ের মাথায় । এখানে তাকে বলে গন্ডোলা রাইড । 
২২শে মে ২০১২
সোনমার্গ অভিযান  ! ছুঁতে হবে বরফকে । টবোগানিং ! অনাস্বাদিত রোমাঞ্চকর অনুভূতি হল । বরফ থেকে গড়িয়ে পড়ার । সেই উঁচু থেকে নীচে ।  
 শ্রীনগর থেকে সোনমার্গের পথ.....

৪ঠা আগষ্ট ২০১২, শনিবার   আনন্দবাজার পত্রিকার "ব্যাগ গুছিয়ে" বিভাগে প্রকাশিত   
২৩শে মে ২০১২ 

ডাল লেকের এক হাউসবোটে বন্দী হলাম আপাততঃ দুদিন, দুরাতের জন্য ।  হাউসবোটের মালিক কাশ্মিরী । তার নিজস্ব হাউসবোটের নাম "হোটেল ক্যালিফোর্ণিয়া" !

 সেই হাউসবোটের ডাইনিং টেবিলে বসে গুগল ম্যাপে খোঁজা হচ্ছে আমাদের হাউসবোটের অস্তিত্ব ।
 রাহুল সেই গৃহ নৌকার মধ্যে ঢুকেই বসে পড়েছে ব্লগ লিখতে..
আমার অন্তরে তখন বাজছে সেই গিটারের সুর... বহুযুগ আগে ঈগলস্‌ এর সেই বিখ্যাত গান ।   
কেশর, আখরোট, শিলাজিত, উইলোকাঠের ক্রিকেট ব্যাট আর কাশ্মিরী কাঠের কারুকার্য , শাল-আলোয়ানের এম্ব্রয়ডারি,  আর পশমিনার সম্ভারে এখানকার মানুষজন অনেক প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে বেঁচে রয়েছে । তবে মনে মনে এদের খুব গুমর কাশ্মীর কে নিয়ে, তার ঐশ্বর্য নিয়ে । আর কেনই বা হবেনা ?   

 
 
 



 
 
 

 

 
 





৩০ জুল, ২০১২

উচাটন

আবার সেই উচাটন
আবার একলা আমার মন 
আবার সেই পথচাওয়াতেই 
কাটবে আমার  সর্বক্ষণ !
আবার সেই শিউলিঝরা
কাশফুলেতে মাতবে মন 
দেখতে দেখতে শুনতে পাব 
পুজো শেষের শীত কাহন!
আবার তখন আসবে ওরা   
দলবেঁধে সব রেলকামরা 
নতুন ধানের পরব যখন
সেই তো ওদের আসার ক্ষণ ।      

১০ জুল, ২০১২

কর‌ লো দুনিয়া মুঠ্‌ ঠি মে......

প্রথমে বেড়ানো ছিল রেলগাড়ি করে । কুঝিকঝিক করতে করতে বিশাল ট্রেনকে টেনে নিয়ে যেত স্টিম ইঞ্জিন । তারপর এল ইলেকট্রিক ট্রেন । ডিজেল থেকে বিদ্যুত উত্পাদন করে তা দিয়ে ট্রেন যা আমরা এখনো চড়ছি । তবে স্থান কাল পাত্রভেদে ট্রেনের জার্ণি বড্ড আরামদায়ক হয়ে ওঠে যখন রিজার্ভড আসন থাকে এবং ট্রেনটি পরিচ্ছন্ন থাকে । আশপাশের অনবরত বদলে যাওয়া দৃশ্যপট এই যাত্রার আনন্দকে আরো বাড়িয়ে তোলে । সেই সবুজ ধানক্ষেত বা গ্রামের চালাঘর কিম্বা দূরের সেই তালদীঘি কেমন যেন নস্ট্যালজিক করে তোলে । এখন সময়ের অভাবে ট্রেনে না গিয়ে হয়ত প্লেনে যেতে হয় আমাদের কিন্তু যে যাই বলুক ট্রেনে চলার সাথে সাথে কেমন যেন গ্রাম্যগন্ধ ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে থাকে আর ষ্টেশন এলেই সেই চা'ওয়ালার ডাক কিম্বা নিষিদ্ধ সব ডিপফ্রায়েডের হাতছানি ? এখন চা ওয়ালার সফিষ্টিকেশন লেভেল অনেক ওপরে । ফোটানো চায়ের পরিবর্তে টিব্যাগ এসেছে । জনগণের কল্যাণার্থে, চা-কফির পাশে জায়গা করে নিয়েছে ঠান্ডা পানীয়ের বোতল ও খনিজলবণ সমৃদ্ধ পানীয় জল । মনে মনে ভালোলেগেও যায় এই সব দেখেশুনে । নিজের দেশটাকে কে না ভালো দেখতে চায় !
প্লেনে কেমন যেন একটু বেশি শহর-শহর গন্ধ । চেনা শহরটা হুস করে পেরিয়ে যাবার আগেই একফালি বিকিনি জানলায় চোখ রেখে একচিলতে নীল নদীটাকে সি অফ করে চলা । শহরের আলুলায়িত নীলচে সবুজ নিকেল সালফেটের মত ল্যান্ডস্কেপটাকে টপকে টপকে মেঘের মধ্যে দিয়ে ভাসতে ভাসতে মনে হত এই যে নীচের শহরটাকে দেখছি সেখানে কোথাও একটা বিন্দুর মত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আমার বাড়ি । ভাবতে ভাবতেই নিমেষের মধ্যে হারিয়ে যেত আমার শহর, নীল নদী, সবুজ গড়ের মাঠ, সবুজ ঘেরা লেকের জল । মেঘের বাড়ির জানলা একে একে বন্ধ হয়ে যেত । পাইলট প্লেন ঘুরিয়ে দিত গন্তব্যের নিশানায় । আরবান ল্যান্ডস্কেপ, ব্যস্ত জীবনযাত্রা আমার চোখের আড়ালে তখন । প্রথম প্রথম প্লেনে উঠে মনে হ'ত সত্যি সত্যি এটা আমার শহর ছিল তো ! এছিল শেষ আশির দশকের ভাবনা ।
তারপর হাইরাইজ, শপিং মল আরো ঝকঝকে সবুজ ল্যান্ডস্কেপ্, ম্যানিকিওর্ড টাউনশিপের সবুজ, তারমধ্যে একরত্তি সুইমিংপুলের নীল প্লেনের জানলায় ধরা দিল । এরোপ্লেনে উঠে ককপিটে গিয়ে পাইলটের কেরামতি দেখা হত । দক্ষিণদিকে যাবার সময় পাইলট আর কেবিন ক্রু'কে রিকোয়েষ্ট করা হত বঙ্গোপসাগর এলেই জানান দিতে, যেন পুরীর মন্দিরকে ওপর থেকে একটা ঢিপ করে পেন্নাম করে নিতে পারি কিম্বা উত্তর দিকে গেলে বেনারসের কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরকে । তখন পাইলটের দুনিয়া, প্লেন চালানোর কেরামতি আর ঐ এক স্কোয়ার ফুট জানলার মধ্যে দিয়ে নিজের দেশের খুঁটিনাটি ঐশ্বর্য্যটাকে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করাটাই ছিল বিরাট আনন্দের । আর রোদঝলমলে দিনে হিমালয়ের মাথায় রূপোর ঝালর ? সেটা দেখলে মনে হ'ত প্লেনে চড়ার পয়সা উশুল । মনে মনে বিজ্ঞানকে ধন্যবাদ দিতাম ।
মুঠোফোনের দুনিয়াটা কেমন ধীরে ধীরে বদলে দিল জীবনকে ।
এল বেশ গোদামাপের মুঠোফোন । তখন এয়ারপোর্ট পৌঁছে বাড়িতে সংবাদ দেওয়াটা ছিল আরো রোমাঞ্চকর ব্যাপার । তারপর প্লেন ছাড়ার ঠিক আগের মূহুর্তে সেলফোন অফ করার আগে আরেকবার ফোন করে জানানো...  
এ কথাই শেষ কথা নয়তো!
তারপর সংক্ষিপ্ত বার্তাবিনিময় বা এসেমেস চালু হল । আরো সুবিধে হল । কম খরচে যোগাযোগ । মনে মনে বিজ্ঞানের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই ।
এবার রঙীন সেলফোন । স্লিম এন্ড ট্রিম । ক্যামেরাও আছে । ছবি তুলে এমএমএস পাঠানো যায় । অপব্যবহারে বেশী কাটতি হলনা এই এমএমএস প্রযুক্তির । মনে মনে বিজ্ঞানকে কটাক্ষ করলাম । 

টেলিফোনে সেলফোন প্রযুক্তির দুটি দিক আছে । একটি হল হ্যান্ডসেটের প্রযুক্তি আন্যটি হল সেলফোন পরিষেবার প্রযুক্তি । এই দুটি প্রযুক্তির মেলবন্ধনে গ্রাহক নানারকম সুযোগ সুবিধে পেয়ে থাকেন । গোড়ার দিকে সেলফোন পরিষেবার যে প্রযুক্তি ছিল সেটি ভয়েস বা কথা বহন করতে পারত । সেই যুগের হ্যান্ডসেটের প্রযুক্তি তা কেবল একটি রঙ ( মোনো ক্রোম্যাটিক) অক্ষর এবং সংখ্যা ( আলফা নিউমারিক তথ্য ) স্ক্রিনে দেখাতে পারত । এর পরে পরিষেবার প্রযুক্তি উন্নত হয়ে 2G বাঅ দ্বিতীয় জেনারেশনে পৌঁছল । এই 2G পরিষেবা (GSM বা CDMA)কথার সঙ্গে ডেটা বা তথ্য বহন করতে পারল ।


হাতের তালুতে সেলফোনটি নিয়ে কেন জানি বারবার মনে পড়ে যায়, কোনো এক টেলিকম কোম্পানির একদশকের পুরোণো সেই বিখ্যাত শ্লোগানটিকে.... "কর‌ লো দুনিয়া মুঠ্ঠি মে"
সত্যি তো এই মুঠোফোন পুরো দুনিয়াটাকে হাজির করেছে আজ আমাদের হাতের নাগালের মধ্যে । মোবাইলের জন্মলগ্নে তার আকৃতি ছিল বেশ বড়সড় । তারপর টেকনোলজির উন্নতির সাথে সাথে সেটিও স্লিম হতে শুরু করল ।
সেলফোন হল যন্ত্র । মোবাইল পরিষেবা তার যন্ত্রী । দুটিই উপচে পড়ছে কারিগরী কৌশলে । এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমাকে । এই দুটি প্রযুক্তির মেলবন্ধনে গ্রাহক নানারকম সুযোগ সুবিধে পেয়ে থাকেন ।
গোড়ার দিকে সেলফোন পরিষেবার যে প্রযুক্তি ছিল সেটি ভয়েস বা কথা বহন করত । পরিষেবাটি 1G বা প্রথম জেনারেশান । সেই যুগের হ্যান্ডসেটের প্রযুক্তি কেবল একটি রঙ ( মোনোক্রোম্যাটিক) অক্ষর এবং সংখ্যা ( আলফা নিউমারিক তথ্য ) স্ক্রিনে দেখাত । এরপরে পরিষেবার প্রযুক্তি উন্নত হয়ে 2G বা দ্বিতীয় জেনারেশনে পৌঁছল । এই 2G পরিষেবা কথার সঙ্গে ডেটা বা তথ্য বহন করল । সমতুল্য ভাবে হ্যান্ডসেট প্রযুক্তি একরঙা স্ক্রিন এবং অক্ষর ও অঙ্কের যুগপত গন্ডী পেরিয়ে কম্পিউটারের মতন গ্রাফিকাল আইকন ব্যবহার শুরু করল ।
কিন্তু যেহেতু পরিষেবা প্রযুক্তি তথ্য বহনে সক্ষম সেই কারণে কিছু নতুন সুযোগ সুবিধে পেল গ্রাহক । যেমন এসেমেস এবং সীমিতভাবে ইন্টারনেট ব্রাউসিং ।
এইভাবে আন্তর্জালের সাথে মোবাইল ফোনের গাঁটছড়া বাঁধা হল ; মুঠোফোন হ্যান্ডসেট নির্মাতারা নতুন সুযোগ সুবিধে দেওয়া শুরু করল যেমন ব্রাউসিং এর সাথে সাথে ইমেল বা সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং । অসুবিধে হল একটাই । এই সব আকর্ষণীয় সুযোগ সুবিধা ব্যবহার করতে গেলে যতটুকু তথ্য বিনিময় করতে হয় সেটি 2G পরিষেবা প্রযুক্তি সামাল দিতে পারল না । পরিষেবা প্রযুক্তি আরো একধাপ এগুলো ।
2G গন্ডী পেরিয়ে এইবার মাঠে নামল 3G বা তৃতীয় জেনারেশান মোবাইল পরিষেবা। 3G পরিষেবার বিশাল তথ্যবহনকারী ক্ষমতাকে উপযুক্ত কাজে লাগানোর জন্য হ্যান্ডসেট প্রযুক্তি উন্নত হল ; আইফোন এবং এন্ড্রয়েড ভিত্তিক মুঠোফোন বাজারে ছেয়ে গেল । এই আইফোন বা এন্ড্রয়েড ভিত্তিক স্মার্টফোনগুলি আদতে এক একটি ন্যানো কম্পিউটার যা ল্যাপটপ বা ডেস্কটপের তুলনায় কোনো অংশে কম নয় । 3G বা 2Gপরিষেবা ব্যবহার করে ইন্টারনেটের সমস্ত সুযোগ সুবিধে যেমন ফেসবুক, ইউটিউব, গুগল ম্যাপস, গুগল সার্চ , জি মেল, ট্যুইটার ও অসম্ভব মনোরঞ্জন কারক গেম গ্রাহকের হাতের মুঠোয় পৌঁছে গেল । 3G তথ্যবহনকারী ক্ষমতার পরিষেবা থাকলে সুবিধা বেশী কিন্তু পুরোণো 2G তেও কাজ চলতে লাগল । এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কম্পিউটারের দুটো অসুবিধে । তার ছোট স্ক্রিন আর ছোট কিবোর্ড । কিন্তু 'কুছ খোয়া কুছ পায়া' । কিন্তু কেয়া পায়া ?
যদি বলি "নখদর্পণ" ? কারণ কিবোর্ডের অভাবে এখন সমস্ত হ্যান্ড সেট নির্মাতারা অত্যাধুনিক টাচস্ক্রিন প্রযুক্তি এনে দিয়েছেন যার ফলে আঙুলের একটুকু ছোঁয়াতেই নদী-পাহাড়-সমুদ্র আমাদের নখদর্পণে ।
প্রাচীনকালে যে অলৌকিক বিদ্যার সাহায্য নিয়ে কোনো দূরের বস্তু বা ব্যক্তির প্রতিবিম্ব নিজের নখে প্রতিবিম্বিত করে দেখার গল্প শোনা যায় সেই কি এই প্রযুক্তি ?
তুফানি আড্ডার ফাঁকে, সেদিনের তিথি নক্ষত্র নিয়ে তুমুল তর্ক বেঁধে গেলে, সন্দেহ নিরসনের কায়দায় এই মুঠোফোনটি পঞ্জিকার ভূমিকাও পালন করতে পারেল হিন্দু ক্যালেন্ডার এপ্লিকেশনটির কৃপায় ।
"ইউরেকা" বলে জিতে গিয়ে বলেও দিতে পারেন "হাতে পাঁজি মঙ্গলবার" !
বেড়াতে গিয়ে সমুদ্রের ধারে সূর্যোদয় দেখার কাঙাল আমি । কিন্তু ভোরের ঘুমও যে ছাড়েনা দুচোখকে । তাই গুগল সার্চ করে টাইম এন্ড ডেট ডট কম থেকে সানরাইজ @ পুরী পেয়ে গেলাম আগের দিন রাতে । ঐ স্থানের সূর্যোদয়ের নির্ঘন্ট জেনে রেখে ঘড়িতে এলার্ম । ফলে সমুদ্রের ধারে গিয়ে ঘুমচোখে সূর্যদেবের আরাধনা করতে হ'লনা । আমি গেলাম সময়মত । উনিও টুক করে উঠে আমাকে দেখা দিলেন । রঙ ছড়াতে শুরু করলেন আকাশের ভাঁজে ভাঁজে । মনে মনে বললাম "ভাগ্যি স্মার্টফোন ছিলি আমার হাতে "!!!
কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়, দিন আগত ঐ ! যদি ভারত সরকার সৌভাগ্যক্রমে 2G আইনিজট খুলতে পারেন তবে 4Gকে আমাদের স্বাগত জানাতেই হবে !!!
 

৪ জুল, ২০১২

উত্তরাখণ্ডের পথে পথে


 আনন্দবাজার পত্রিকার ইন্টারনেট সংস্করণের ভ্রমণ কলম "হাওয়াবদলে"  প্রকাশিত ১লা জুলাই ২০১২ 

২৯ জুন, ২০১২

উল্টোরথের সোজাপথে



রথ চলেছে সোজাসাপটা
আবহাওয়াটাই উল্টোপাল্টা
জগাদা তুই জীবন পাল্টা 
বাঁচবে তবে ভারত দেশটা।

কতশত আসে ঝড় ও ঝাপটা 
রথের রশির সজোর টানটা 
তবুও জগা সোজাসাপটা 
দেশের লোকের যচ্ছে প্রাণটা।

জগাদার চোখ গোলটা গোলটা 
মধ্যিখানে ছোট্ট বোনটা  
লাঙল কাঁধে এখনো ভাইটা 
ঠিক রাস্তায় চলছে রথটা ।   

তবুও বর্ষা উল্টোপাল্টা 
রথটা চলেছে সোজাসাপটা ।   
জগাদা রাখিস আমার মানটা
বিষ্টি না এলে যাবে যে প্রাণটা  । 

পোলাও-পায়েস-পাটিসাপটা
দামী শাটিনের রাজবেশটা 
হীরে জহরত উষ্ণীষটা 
নেইকাজ শুধু ছুটির ঘন্টা ! 

তবুওতো যদি করতে কৃপাটা 
বরত মানুষ, ঝরাত ঘামটা 
চাষীবৌ টেনে মাথায় ঘোমটা 
ভালো যদি হত চাষ-আবাদটা ।

কমে যেত তবে বাজার দরটা 
প্রাণ পেত তবে পাড়ার বুড়োটা 
সারাতো কেবল ভাঙাবাড়িটা 
ফেলে দিত বুড়ি মাটির হাঁড়িটা । 

২১ জুন, ২০১২

রথের পথের টুকরো আখর

 জগার কেরামতি দেখলাম ভোররাতে । নিজের চলার পথ ধুয়ে শুনশান্! কি স্বার্থপর রে বাবা! তারপর আবার যে কে সেই! সাধে তুমি ঠুঁটো! তোমার দুপাশের মানুষজনেরা তো স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রপতির মত। তোমার ইচ্ছায় কর্ম তাদের । তুমি না চাইলে চলবেনা, না বললে বলবেওনা । একজন তো সোমরসে চুর! কাঁধের লাঙল কাঁধেই থাকে । কাজের বেলায় তুমি। আরেকজন তো অর্জুনের সাথে পালালো..তাও তোমার প্ররোচনায় ! বাব্বা পারেও বটে । হাত নেই তাতেই একাই ১০০ ! হাত থাকলে না জানি কি হত!!!

কিন্তু আমি জগুদার খোদ পাড়ায় এবার গিয়েছিলাম । সেখানে তারা আমাদের ছুঁতেই দেবেনা জগুদার গা!  ফেল কড়ি মাখো তেল্! তবে কড়ি ফেললে জগুদার চ্যালারা মহা খুশি । যা চাইবে তাই করতে দেবে । বললে জগুদার সাথে তোমার সিনেমার টিকিটও কেটে দেবে । ঘষ্টে ঘষ্টে জগুদা তোমাকে নিয়ে হলে পৌঁছে যাবে । গায়ে গা ঠেকিয়ে বসবে এসি হলে । মিষ্টি মিষ্টি রসালো কথা ক‌ইবে । পকেটে প্যাঁড়া,  নিমকি,  খাজা-গজা সব দেখিয়ে বলবে বের করে নিতে । জগুদা বেঁড়ে লোক । চোখে একটু কম দ্যাখে এই যা । বড় বড় গোল্লা গোল্লা চোখ হলে যা হয় আর কি ! দূরদৃষ্টি বেশি কিন্তু কাছের লোককে একটু কম দ্যাখে । তাই আমাদের দেখতে পায়না । otherwise ঠিকঠাক সব ! 

বুঝতাম তুমি তেমন একটা কেউকেটা তাহলে তো তোমার নিদেন ফেসবুকে একটা একাউন্ট থাকত! আমরা সেখানেই জয় জগন্নাথস্বামী নয়নপথগামী বলে চিত্কার করে মরতাম ! তাহলে আর তুমি কি জগদ্বিখ্যাত্! না আছে ফেসবুকে তোমার একটা সেলিব্রিটি পেজ, না আছে নিজস্ব প্রোফাইল ।সারাদিন নিজের স্নান্, ভৃঙ্গার্, শৃঙ্গার আর একশো আট রকমের মন্ডা মিঠাই, বত্রিশ রকমের ভাজাভুজি আর ছাপ্পান্ন ব্যঞ্জন খেতেই ব্যস্ত! দুনিয়াটা দ্যাখো জগাদা! কত দিন বলেছি তোমায়!  Go digital these days! নয়ত এতদিনের ব্র্যান্ডের ব্যান্ড বাজানোই বৃথা !  


ব্রহ্মসত্য জগত মিথ্যে !
সকাল সকাল উঠে সাজতে গুজতে দোল ফুরোল । সংসার, বিশ্ব ব্রহ্মান্ড রসাতলে গেল । আর তিনি কিনা ভাইবোনকে বগলে করে বেড়াতে চললেন্! আদিখ্যেতা যত্তসব্! আর আমি একলাটি র‌ইনু পড়ে ঘরের কোণে । মাসীর বাড়ি যাবার আর সময় পেলনা? শেষ  একমাস সেই চানযাত্রার দিন থেকে দরজা বন্ধ করে বসে আছেন বাবুরা সব্! মুখ দেখাদেখি বন্ধ দুনিয়ার সাথে ।    কি না জ্বর এয়েচে ওনার । জ্বর যেন কারো হয়না । ভালো ভালো সব খাবার খাব অথচ একটা প্যারাসিটামল বড়ি গিলবনা  ! কিনা ওষুধ খেতে বমি পায় । বোঝো ঠ্যালা । আসলে কাজে ফাঁকি দিয়ে দরজা বন্ধ করে একমাস ধরে এই প্যাকেজ ট্যুরের প্ল্যান করে তিনটিতে মিলে । ধড়িবাজ ননদ আমার । উনি নাকি সুভদ্রা । আদৌ ভদ্রতা জানে কি ? নয়ত প্রতিবার যাবার আগে আমাকে একটিবারও বলে না যে বৌদি এবারটা চলো আমাদের সাথে ।
আর  তেমনি চালাক আমার ভাসুরটাও । ভালো ভালো রান্না খেতে ইচ্ছে হলে বৌদি । আঙুরের রস করে দেবার বেলায় বৌদি । কাট্‌গ্লাসের সুরাপাত্র কিনে আনার বেলায় বৌদি । ফ্রিজে বরফ বসানোর বেলায় বৌদি । আর সেই বৌদিটাকে এখন মনে পড়েনা !
আসলে পালের গোদা তো ঐ ঠুঁটো বুড়োটা ।   তার কত্ত বায়না সামলাই এই আমি ঘেটো মড়া মেয়েছেলেটা ।  একশো আট রকমের হালুয়া, বত্রিশ রকমের মুচমুচে নিমকি , ছাপ্পান্ন রকমের পদ । সব ঠিকমত হচ্ছে কি না সব তদারকি করি সারাটি বছর ধরে ।
আর আমার বেলায় আমড়ার আঁটিও জোটে না একটা । পরের বছর থেকে আমার রথ চাই এই বলে দিলুম মিনসে!  নয়ত দেখব কে তোমাকে রথে চড়ায়!  আর মাসীটাও হয়েছে তেমন যত তেল দেয় এই বোনঝি-বোনপো তিনটেকে । সারাবছর তো এরা মাসীকে ঝিঙের বাড়ি মারলেনা তবুও বোকা মাসী শাশুড়িটা আমার এলাহি আয়োজন করবে এদের জন্যে সাতদিন ধরে ।

১১ জুন, ২০১২

বিপন্ন বাঁশবেড়িয়ায়

-->
কোলকাতা ছেড়ে আমরা তখন বিটি রোড ধরেছি । হুগলীর বাঁশবেড়িয়ায় আমার শ্বশুরমশাইয়ের পিতামহ শ্রী সত্যচরণ মুখোপাধ্যায়ের তৈরী বসতভিটে পরিদর্শনে । একে একে পেরোলাম বালি, উত্তরপাড়া, কোন্নগর, ভদ্রকালী, রিষঢ়া, শ্রীরামপুর পেরোতে পেরোতে জৈষ্ঠ্যের রোদ তখন প্রায় আলম্ব মাথার ওপর । তারমধ্যেই শহরতলীর বাজারে হৈ হৈ করে বিকোচ্ছে আম-কাঁঠাল-লিচু । রবিবারের সরগরম বাজারে ঠা ঠা রোদেও বিকিকিনির খামতি নেই ।
জিটি রোড ছেড়ে এবার পুরোণো দিল্লী রোড ধরে সোজা মগরা হয়ে বাঁশবেড়িয়া । হংসেশ্বরী রোড ধরে রঘুদেবপুরে থামা ।
দেড়শো বছরের পুরোণো মুখুজ্যে বাস্তুভিটে এখন জঙ্গলাকীর্ণ । লোকাল ক্লাব, লোকনাথ বাবার মন্দির গড়ে উঠেছে এই জমিতেই । 

দোতলাবাড়ি ভেঙে গেছে বহুদিন আগেই ।জানলা দরজা ভেঙে ভেঙে নিয়ে গেছে কেউ । কড়িবরগার ছাদের নীচে একতলায় বাস করছে তিনটি পরিবার । পাশে দুটো পুকুরে এখনো জল থৈ থৈ । সংলগ্ন বাড়ি উঠেছে আমাদের জমির ওপর দিয়েই । প্রকান্ড বাড়ির সামনে বারমহল এখনো কিছুটা ভগ্নাবস্থায় দাঁড়িয়ে । পাশে ছিল উঁচু করা খানিক জমি যেখানে প্রতিবছর জগাদ্ধাত্রী পুজো হত ।
এখন পরিত্যক্ত ভিটের কুলুঙ্গিতে চামচিকের আনাগোনা । ক্লান্ত দুপুরে এ ভিটে হয়ে ওঠে নিঃসঙ্গ কুবো-ঘুঘুদের ছায়াসাথী ।  পোড়া ইঁটের সুরকি নিয়ে রান্নাবাটি জমিয়ে দেয় পাড়ার ছোট ছেলেমেয়েরা ।  বারমহলের লবি চু-কিত্কিত প্রেমীদের অবারিত দ্বার ।  


 এরপর যাওয়া হল হংসেশ্বরী মন্দির ।  


পুরোণো হুগলীজেলার শিল্পনগরী ব্যান্ডেল এবং ত্রিবেণীর মাঝামাঝি অবস্থিত হংসেশ্বরী মন্দির । রাজা নৃসিংহদেব রায় এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীকালে ওনার বিধবা পত্নী রাণী শংকরী সেই কাজ সমাপ্ত করেন । হংসেশ্বরী মন্দিরের অদ্ভূত গড়ন । বাংলার অন্যান্য মন্দিরের থেকে ভিন্নরকমের । পঞ্চতল এই মন্দিরে তেরোটি উঁচু মিনার আছে যাকে বলে রত্ন । প্রতিটি মিনার যেন এক একটি প্রস্ফুটিত পদ্মের আকৃতিতে তৈরী । হংসেশ্বরী মন্দিরের গঠনশৈলীকে বলা হয় তান্ত্রিক সাতচক্রভেদ ।


 পাশেই অনন্ত বাসুদেবের মন্দিরটি ও নজর কাড়ে । সেটি বাংলার চালাঘরের আদতে পোড়ামাটির তৈরী । গায়ে টেরাকোটার অভিনব স্থাপত্য ।নিঁখুত কারুকার্য এই টেরাকোটার । কোনোটিতে রাধাকৃষ্ণ, কোনোটিতে দশাবতার, কোনোটিতে হনুমান । 


 এই দুই মন্দিরই এখন আরকিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অধীনে ।কাছেই ত্রিবেণী হল তিন নদী গঙ্গা, সরস্বতী ও বিদ্যাধরীর সঙ্গমস্থল । কিন্তু সরস্বতী নদী মজে যাওয়ায় দুটি নদী এখন দৃশ্যমান ।
মন্দির এবং সংলগ্ন জমিদার বাড়ীর পুরো চৌহর্দির সীমানা বরাবর পরিখা খনন করে সুরক্ষিত করা রয়েছে এখনো ।

২৭ মে, ২০১২

শ্রীমান তীর্থরাজ এবং জলপরি


  (আনন্দবাজার পত্রিকা, শনিবার, ২৬শে মে ২০১২, ওয়ানস্টপ ভ্রমণের কলমে প্রকাশিত)  
বিলাসপুর থেকে ভাড়ার গাড়িতে উঠে যাত্রা শুরু মধ্যপ্রদেশের অনুপপুর জেলার অমরকন্টকের উদ্দেশ্যে । মন্দিরময় পুরোণো শহর অমরকন্টক যার আরেক নাম তীর্থরাজ । যেখানে ভারতের দুই উল্লেখযোগ্য পর্বত বিন্ধ্য এবং সাতপুরা মিলিত হয়েছে মৈকাল পর্বতের সাথে । আর সেই অমরকন্টক হল নর্মদা এবং শোন নদীর উত্পত্তি স্থল ।
এই সেই নর্মদা নদী যে নাকি মৈকাল পর্বতের কন্যা । ভরা বর্ষায় তার জল থৈ থৈ রূপলাবণ্য নিয়ে পূব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হয়ে গাল্ফ অফ খাম্বাতে গিয়ে তার আত্ম সমর্পণ । তার এই যাত্রাপথের সঙ্গী হয়েছে কত কত উপনদী, মিলিত হয়েছে তার সাথে হিরণ, তিন্ডোনি, কোলার, হাথনী, গোয়ী, তাওয়া, এবং গাঞ্জাল.. বন্ধুনদী হয়ে তার কোলে এসে পড়েছে । স্থান দিয়েছে তার তীরে কত কত কোল-ভীল-কিরাট-ব্যাধ উপজাতিদের । যাদের লালনে শিবমহিমা ব্যাপ্ত হয়েছে নর্মদার তীরে তীরে । মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়েছে সেই অমরকন্টককে ঘিরে । নর্মদা যার উত্পত্তিস্থল । মহাকবি কালিদাসের রচনায় অমরকন্টককে "অমরকূট" বা যে পাহাড়ের শৃঙ্গের বিনাশ হয়না কিম্বা "আম্রকূট" বা যে পাহাড়ের চূড়া আমগাছের প্রাচুর্য্যে সমৃদ্ধ বলে আমরা জানি । নর্মদার একরাশ পাহাড়ী ঝোরায় মাঝেমাঝেই লুকিয়ে পড়া আর হঠাত হঠাত তার কলকল শব্দে গহিন জঙ্গলে বয়ে চলা দেখে মনে হল পাহাড় আর নদীর এই লুকোচুরি, নর্মদার তিরতির করে ঝরে পড়া কিম্বা দুধ-সাদা ফেনিল জলরাশির মধ্যে যে আনন্দ তা কিশোরী বালিকা বা যুবতীর হাসির মতই স্বতস্ফূর্ত এবং সাবলীল ।
অমরকন্টকের প্রাচীন মন্দিরগুলি পুরোণো ভারতীয় মন্দিরের ঐতিহ্য বহন করছে । অসাধারণ সুন্দর তার স্থাপত্য । কলচুরি মহারাজ কর্ণের আমলে তৈরী এই মন্দিরগুলি । সপ্তরথের আকৃতি বিশিষ্ট একটি শিব মন্দির রয়েছে যার তিনটি গর্ভগৃহ । একে বলে কর্ণ মন্দির । অমসৃণ লাল পাথরের তৈরী । কর্ণমন্দিরের উত্তরে ১৬টি স্তম্ভ বিশিষ্ট মাছেন্দ্র নাথ মন্দির । এছাড়া রয়েছে পঞ্চরথের আকৃতি বিশিষ্ট পাতালেশ্বর মহাদেও মন্দির । কেশব নারায়ণ মন্দির । ঠিক পাশেই রয়েছে সূর্যকুন্ড । কথিত আছে, একসময় নর্মদা এই স্থান থেকে উত্সারিত হত এবং তাই মহারাজ কর্ণদেব মহাভারতের ৩০০০বছর পর এই সূর্যকুন্ডটি এবং সংলগ্ন পাতালেশ্বর শিবমন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। কুমারী নর্মদাকে আশ্রয় দেবার জন্য একটি প্রাসাদ তৈরী করা হয় যার নাম রঙমহল ।
পুরোণো মন্দির দেখে এবার গন্তব্য নর্মদা উত্সস্থল বা নর্মদা-উদ্‌গম এবং যাকে ঘিরে রয়েছে একটি বিশাল কুন্ড ও তার আশেপাশে একরাশ নতুন মন্দির । রাজকীয় প্রবেশদ্বার এই মন্দিরের। এখন নর্মদার উত্সমুখ জলের ১২ফুট নীচে যেখানে নর্মদেশ্বর শিবলিঙ্গ রয়েছেন । মহাদেবের স্বেদগ্রন্থি থেকে সৃষ্ট এই নর্মদা । বছরে দু-একবার কুন্ডের পিছনে দরজা খুলে জল ছেঁচে ফেলে দিয়ে আবার কুন্ড ভর্তি করে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় । সেই সময় নর্মদেশ্বর এবং তার মন্দিরে প্রবেশ করা যায় ।
নর্মদার উত্তরতীরে কপিলধারা জলপ্রপাত যেখানে মহামুনি কপিল তপস্যা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন । কপিলধারা থেকে ১কিমি পশ্চিমে রয়েছে দুগধারা জলপ্রপাত । ঋষি দুর্বাসা এখানে তপস্যা করেছিলেন । এছাড়াও রযেছে ঘন জঙ্গলের মধ্যে শম্ভূধারা এবং দুর্গাধারা জলপ্রপাত । ঝরণার অবলীলায় ঝরে পড়া আর পাহাড়-মাটী-নদীর এত সুন্দর সখ্যতায় অমরকন্টক যেন হয়ে উঠেছে চির নবীন । নদীর উচ্ছলতায় পাহাড় যেন কথা বলে ওঠে এখানে ।
ভার্জিন নর্মদা সুন্দরীর যৌবনপ্রাপ্তি এই অমরকন্টকে । কুমারী নর্মদা তখনো মা নর্মদা হয়ে ওঠেনি । প্রাচীন মন্দিরের কিছু দূরেই পড়ে মাই-কি-বাগিয়া যেখানে রয়েছে চর্ণোদক কুন্ড । ঘন অরণ্যের মধ্যে ফল ও ফুলগাছের ছায়া সুনিবিড় ইকোসিস্টেমে কুমারী নর্মদা স‌ই পাতিয়েছিল গুল--বকোয়ালি ফুলের সাথে । অসাধারণ সুন্দর দেখতে এই ক্যাকটাসের ফুল । নর্মদার জোলো হাওয়ায় গভীর অরণ্যে ফুটে থাকে এই ফুল যার বৈজ্ঞানিক নাম এপিফাইলাম অক্সিপেটালাম। হিন্দীতে বলে নিশিগন্ধী বা গুল--বকোয়ালি । এটি একটি অত্যাশ্চর্য বনৌষধি ।
যাইহোক আমরা হলাম পরিদর্শক । কুমারী নর্মদা আর গুল--বকোয়ালির সখ্যতায় গড়ে ওঠা মা-কি বাগিয়া দেখে নিলাম চটপট । হোম, যজ্ঞ, পূজোপাঠ চলছে মহা ধূমধাম করে । খুব নাকি জাগ্র্ত এই স্থান ।
কিন্তু শীতে ফুলবন্ধুটির দেখা পেলাম না । মার্চমাসে আবির্ভাব হয় তার ।
মা কি বাগিচার ১ কিমি দক্ষিণে যাওয়া হল শোনমুডা বা শোন নদীর উত্সমুখ দেখতে । এটিকে অমরকন্টকের স্বর্গ বলা হয় । ব্রহ্মার বরপুত্র শোন । রাস্তা থেকে কিছুটা নেমে গিয়ে দেখা গেল একটি হনুমান মন্দিরের গায়ে শোনমুডা বা শোন নদীর উত্পত্তিস্থল । এখান থেকে অতি শীর্ণকায় শোন পাহাড়ের গা বেয়ে কিছুটা এগিয়ে তারপর প্রেসিপিসের ওপর দিয়ে পাহাড় থেকে লাফ মেরে নীচের উপত্যকায় জলপ্রপাত হয়ে ঝরে পড়ে বেরিয়ে চলে গেছে উত্তর দিকে সুদূর গঙ্গার সাথে মিলিত হবার জন্য । আশ্চর্যের ব্যাপার হল যে দুটি বড় নদী এত নিকটবর্তী স্থান থেকে উত্সারিত হয়ে দুটি দুদিকে বয়ে চলে গেছে । নর্মদা আরব্যসাগরের দিকে আর শোন উত্তরদিকে গঙ্গার মধ্যে দিয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে । প্রকৃতির এই ভৌগোলিক খেয়ালকে পুরাণে এক বেদনাদায়ক কাহিনীর মধ্যে লিপিবদ্ধ করা আছে । সেখানে বলা হয় নর্মদার সাথে শোনের বিবাহ নাকি কোনো কারণে বাঞ্চাল হয়ে যায় । আজীবনকাল এইভাবে নর্মদা ও শোন একে অপরের থেকে মুখ ঘুরিয়ে রয়েছে ।
ছোটবেলা থেকে যে মান্ধাতার কথা আমরা শুনে আসছি সেই পৌরাণিক সূর্যবংশীয় রাজা মান্ধাতা আনুমানিক ৬০০০ বছর পূর্বে অমরকন্টকের নিকটবর্তী ঋক পর্বতের গায়ে রাজত্ব করতেন । এও শোনা যায় যে মান্ধাতার পুত্র পুরুকুত্সার রাণী নদী নর্মদার নামকরণ করেছিলেন । তবে ইতিহাসে এর কোনো উল্লেখ নেই । 
 

১৩ মে, ২০১২

"রাজা লিয়র"



 "ভগবান আপনাদের কি বার্ধক্য আসেনা না আপনারা বৃদ্ধলোকেদের কষ্ট দেখতে পান না" ....রাজা লিয়র ( নাম ভূমিকায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় )
গতকাল, মধুসূদন মঞ্চে দেখে এলাম সুমন মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় শেকসপিয়ারের নাটক  "রাজা লিয়র" 

অনবদ্য অভিনয় এবং দেবজ্যোতি মিশ্রের vibrant যন্ত্রানুষঙ্গ শেক্সপিয়ারিয়ান নাটকের আবহ তৈরী করেছিল । মেতে উঠেছিল মধুসূদন মঞ্চের নাট্যমঞ্চ । বিশ্বজিত চক্রবর্তী এবং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়ের তারিফ না করে থাকা যায়না । সুমন মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় এই নাটক আরো চলুক বাংলা তথা ভারত তথা সারা বিশ্বের নাট্যমঞ্চে । টানটান সংলাপ । পোশাক-পরিচ্ছদে একশো শতাংশ ইউরোপিও ঘরাণা । যুদ্ধের বাতাবরণ সৃষ্টিতেও সমান পারঙ্গম পরিচালক । 
সর্বোপরি বৃদ্ধ পিতা রাজা লিয়রের সংলাপগুলি ভাবিয়ে তুলেছে আমাকেও । সত্যি কি বৃদ্ধ মানুষকে তাঁর সন্তানেরা শুধু চাটুকারিতার দ্বারা বশ করে যাবে চিরকাল পিতার সম্পত্তির লোভে? আর পিতার স্মৃতিভ্রম, বালখিল্য আচরণ , খিটখিটেপনা,মুড স্যুইং কি তাঁর রক্তের সম্পর্কের কাছেও  "ভীমরতি" বলে আখ্যা পাবে  ? এই চিন্তার জটগুলি আমাকেও কুরে কুরে খাচ্ছে প্রতিনিয়ত । 
"দাদাসাহেব" পুরষ্কার প্রাপ্ত সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের দীর্ঘ এবং সুস্থ জীবন কামনা করি ! তিনিও একজন পিতা বলেই  বোধহয় এত সুন্দর ফুটিয়ে তুলযে সক্ষম হলেন রাজা লিয়রের চরিত্রটি; 
" ভুল করোনা পিতাগণ , কেউ তোমাকে চিনবেনা , এমন কি তোমার নিজের সন্তান ও " এরূপ সংলাপ এত বাস্তবিক ! মনটাকে একটা ঝাঁকুনি দিল !  
আর সকল কলাকুশলী এবং সহশিল্পীদেরো অভিনয় চমতকার লেগেছে ।
আরো এগিয়ে চলো কিং লিয়র্! চরৈবেতি! বৃদ্ধ হয়েছ বলেই আমরা তোমাকে এখনো সেলাম জানাই ! তিনি আশি ছুঁই ছুঁই ! তবুও তাঁর দাপুটে অভিনয় অনেক তাবড় জোয়ানকেও হার মানাবে । তাই আবারো বলি বৃদ্ধ বলে কারোকে ঠাট্টা নয় । 

শেষের সেদিন কি ভয়ঙ্কর মনে কর !

৬ মে, ২০১২

"Hate Story"


"কাব্যকৃষ্ণা" ওরফে বাংলার পাওলি দামের ইনটেলেকচ্যুয়াল ব্যান্ড উইডথের ব্যাপ্তি টলিউড থেকে বলিউডে ছড়ানোর প্রয়োজন ছিল এবং "হেটস্টোরি" তা প্রমাণ করেছে । 
মূলচরিত্র কাব্যকৃষ্ণার উদীয়মান জার্নালিষ্ট থেকে কোম্পানির এক্সিকিউটিভ ও সেখান থেকে বিতাড়িত   হয়ে শহরের নামকরা কলগার্ল হয়ে সেই কোম্পানিরই বোর্ড অফ মেম্বারর্সএ উত্তরণ   --  সত্যি সত্যি নিখুঁত স্টোরিলাইনের প্রশংসা কুড়োতে সক্ষম ।
এই গল্পে কেউ কারোকে ভালোবাসেনা  বরং ঘৃণাই করে । কেবল কাব্যর ফোটোগ্রাফার বন্ধু ভিকি ছাড়া ।  একসময় সেও ঘৃণা করতে শুরু করেছিল কাব্যকে তার গতিবিধি দেখে ।কিন্তু ভিকিই শেষ পর্যন্ত কাব্যের সাথে থেকে যায় । তাকে সাহায্য করে ।   
কাব্য কেন ঘৃণার পাত্রী তা বুঝতে দেখতে হবে হেটস্টোরি । "হেট" করা তো দূরের কথা, দেখেই তাকে ভালোবাসতে ইচ্ছে হবে  ।  
একটি বুদ্ধিদীপ্ত মেয়ের বদলা নিতে নিতে সবশেষে জিতে যাওয়া দেখতে দেখতে বেশ পজিটিভ এটিটিউড প্রমাণ করে । প্রথম দিকে ঐ মেয়ে বেশ কয়েকবার ভুলও করে ঠকে যায় যেমন আমরাও মানুষকে বিশ্বাস করে ঠকি । 

মানুষ মাত্রেই ভুল করে । শুরুতে সেও ভুল করেছে । আর টানটান চিত্রনাট্যে একা পাওলি রক্ষা করে আসল ছবিঘর ! মাঝেমাঝে দু একটা আলগা সূতো থাকলেও টেনশানের পাল্লাই বেশি ।
  জেন-এক্স এর তুখোড় জার্নালিষ্ট কাব্যকৃষ্ণার  সিমেন্ট কোম্পানির করাপশানের ফর্দাফাঁস দিয়ে গল্পের শুরু । প্রশ্ন জাগে সেই তুখোড় মেয়ে কি করে আবার নিজেই সেই কোম্পানির ফাঁদে পা দিয়ে সেখানে চাকরি নেয় ! সেটাই আপত্তিকর । আবার বলি  টু আর ইজ হিউম্যান ! 
ফেঁসে যায় সেই চৌখশ মেয়ে অবাঞ্ছিত মাতৃত্বে? এত বোকা হয় এখনকার জার্নালিষ্ট? এমন দু একটা আলগা বল আছে । তারপর সেই অবাঞ্ছিত মাতৃত্বের বিনাশ হয় সেই কুকর্মের ভিলেনের দ্বারা যে পুরোপুরি তাকে সারাজীবনের মাতৃত্বের স্বাদ থেকে বঞ্চিত করে । তা জানতে পেরে কাব্যের আবার বদলা নেওয়া । সমাজ ও লোকলজ্জার ভয়ে কাব্যের বাবা মাও তাকে ঘৃণার চোখে দেখতে শুরু করে  । তাই আবার তা "হেট স্টোরি"  ।

 শিল্পপতি  বাবার ওপর ছেলের জড়সড় ভাব ।এহেন অপারগ ছেলের ওপর ভরসা করে কোম্পানির দায়িত্ত্ব দিয়ে কোম্পানিকে ডুবিয়ে দেওয়া দেখে  বাবার কাছে একমাত্র ছেলে ঘৃণার পাত্র । বাবা ঠকেছে ছেলেকে বিশ্বাস করে । তাই আবার "হেটস্টোরি" । বাবা বারবার ছেলেকে বোঝাতে চেষ্টা করে  যে বদলা নেওয়াই কোম্পানির উন্নতি নয় বা ভবিষ্যত লক্ষ্য নয় কিন্তু ছেলে ( সিদ্ধার্থ) কাব্যকৃষ্ণার ওপর প্রতিশোধ নেওয়াই জীবনের মূল উদ্দেশ্য । বিজনেস রসাতলে ততক্ষণে ।    
এদিকে কাব্যও তার সিদ্ধান্তে অটল । আর কেনই বা হবেনা ? উইমেন এমপাওয়ারমেন্টের যুগে বিদ্যা বালান কহানীতে যদি পারে পাওলিই বা পারবে না কেন? আর? এই উপমহাদেশের রাজনৈতিক মহলের সাথে শিল্পপতিদের ওঠাবসা -- কত কত  কোটিটাকার কেলেঙ্কারি! ঠিক যেমন হয়! আমাদের প্রতিদিনের "হেটস্টোরি"! খুব বাস্তব  চিত্র ।  
আবার কত কত কোম্পানির এজিএমএ আমন্ত্রিত শেয়ারহোল্ডারদের সামনে ডিভিডেন্ডের বড়সড় অঙ্ক দেখিয়ে, উপহারের প্রলোভন দেখিয়ে কোম্পানির উন্নতি দেখানোর চেষ্টা, আদপে যা ভুয়ো, আসলে যা মিথ্যের রূপোলী মোড়কে আবৃত । খাতায় কলমে সে কোম্পানির কোনো অস্তিত্ত্বই নেই । লাভের অঙ্ক খাতায় কলমে বেড়েই চলে ঠিক যেমনটি হয়ে থাকে । 
 ভিকির সাথে কাব্যকৃষ্ণার বন্ধুত্ব একবার কানে কানে বলে দেয় ট্রু লাভ স্টোরির কথা । 
তবে সবশেষে কাব্যর শরীর বুলেটে ঝাঁঝরা হ'ল কেন? তা জানতে হলে দেখতে হবে " হেটস্টোরি"!
 কাব্য মরিয়া প্রমাণ করিল যে সে মরে নাই । বঙ্গতনয়া বলিউডে বাঁচিয়া থাকিবেই !