৭ আগ, ২০০৮
A key e-ব্যাঙ্ কিং or g-বং যুদ্ধ ?
কলকাতার কোনো এক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কথোপকথনের ক্যানভাস থেকে একটি মজার চিত্র তুলে ধরলাম :
[diclaimer: কারুকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে নয় , just একটু মজা করার জন্য ]
সুমন: "সুপর্ণাদি ,ঐ ভদ্রলোককে FD certificate টা প্রিন্ট করে দিন না ,উনি দু দিন ঘুরে গেছেন |"
সুপর্ণাদি: "এই সুমনা তুমি কি মেশিনটা ছাড়বে? আমি তবে প্রিন্টাউট নিয়ে নি "
সুমনা: "আরে দাঁড়াও সুপর্ণাদি আমার মেশিন hang করে গেছে "
সুপর্ণ :আরে বাবা কতবার তো বলেছি, CAD মারো | মেরেছো?
সুমনা:এই যাঃ সব গেল! সারাদিন এত খেটে data গুলো entry করলাম! save করতে ভুলে গেছি। কি হবে এখন ?
সুপর্ণ: দেখি আপনার user-id,password টা দিন দেখি
সুপর্ণাদি : এই সুমন? দেখোনা ভাই, মিসেস বোসের একটা pay-order আছে
সুপর্ণ : দাঁড়ান তো আগে ঠিকমত logout করে বেরোই
জনৈক customer: দাদা আজও আপনাদের মেশিন খারাপ আমিএর আগে দু দিন এসে এই একই অবস্থা দেখে গেছি। আজও আমার passbook updation হবেনা? কত গুলো ECS হোল কিনা দেখার ছিল ....
সুপর্ণ: দাদা একটু বসুন না.. চা-কফি কিছু ? এই বিমল এনাকে চা দে | দাদা , দুধ চা ? না লেবু চা ? চিনি ছাড়া না চিনি দিয়ে ?
বিরক্ত customer:আরে মশাই রাখুন তো আপনার চা আমার কাজটাই হোলনা, ECSটা জেনে নিলে....আমার একটা payment ছিল।
সুমনা : এই বারে হয়েছে, যাক বাব্বা! বাঁচলাম। এই বিমল? আমাকে চা দিলি ,বিস্কুট দিলিনা ?
সুপর্ণাদি : তোমার শাড়ির রং টা খুব suit করেছে তোমার complexion এর সাথে |
সুমনা : এই দেখ সুপর্ণাদি আবার log-in করতে পারছিনা | কি যে হচ্ছে আজ!
সুপর্ণাদি : দাড়াও আমার printer এ cartridge শেষ , printout নিতে গিয়ে মাঝপথে error দিল | ওফ্! আর পারিনা ;
সুমন : হ্যাঁ, বলুন দাদা, আপনার জন্য কি করতে পারি ;
জনৈক customer : কি আর করবেন দাদা ? এই computerisation এক আপদ হোল দেখছি ... রোজ রোজ মেশিন খারাপ, প্রিন্টারে কালি নেই, নেট-ওয়ার্কে গন্ডগোল...
সুপর্ণাদি : হচ্ছে না সুমন, তুমি এস এখানে একবার please... একটু দেখোনা...
সুমন : আরে আগের প্রিন্টটা ক্যানসেল করেন নি এখন print করতে শুরু করলে মেশিন আবার hang করে যাবে।
সুমনা : সুপর্ণদা, আমার ফাইলটা আর edit করা যাচ্ছে না , read only তে চলে গেছে। কি হবে?
সুপর্ণ : ফাইলে গিয়ে 'save as' করে re-name করে আবার save করো।
সুপর্ণাদি : এই সুমন ছাড়ো না machine , বিমল কে cartridge লাগাতে বল |
সুমন : আগে reset করুন তারপরে print-option এ যান ...
সুমনা : এই যাঃ সব উড়ে গেল ...
সুপর্ণ :সুমনা, নাহলে machine টা shut-down করো,করে আবার restartকরো |
২৩ জুল, ২০০৮
মৌসুমী অধিবেশনের পর্যালোচনা
- নিউক্লিয়ার-ডিল কে সমর্থন করতে গিয়ে মুলায়ম-মনমোহনের মধুর-মিলন ।
- পক্ক্ব-কেশ, প্রকাশ কারাট প্রচুর ক্যারট খেয়ে দৃষ্টিশক্তি বাড়িয়েছিলেন কিন্ত ইউ-পি-এ সরকার থেকে সাপোর্ট প্রত্যাহার দেখে মনে হয় তাঁর ক্যারাট-মিটারের রিডিংটা ভুল নেওয়া হয়েছে। এর চেয়ে ক্যারাটে প্রশিক্ষণ নিলে বোধ হয় ভাল হোত।
- বিজেপির এই মূহুর্তে বামে রাম ও ডাইনে বাম।
- সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম ইস্যু নিয়ে ক'দিন আগে আরএসপি নেতা ক্ষিতি ক্ষ্যেপে ব্যোম্ হয়েছিলেন তাঁর ওপরওলাদের উপর। তাতে অবিশ্যি কোনো মেজর ক্ষতি হয়নি। এখন কারাটের করাত চালনায় সোমনাথ ক্ষেপে ব্যোমনাথ । কেন তাকে স্পিকারপদ ছেড়ে দিতে হবে? তিনি সিপিএম পার্টির হতে পারেন কিন্তু তিনি লোকসভার মাননীয় স্পিকার মহাশয়--তিনি কি এদের হাতের ক্রীড়নক?
- মমতা অবিশ্যি এখন খুশিতে ডগমগ। একে ব্যাপক লোডশেডিং এর দাপটে বুদ্ধের চোখে কালি , তাতে আবার বিকাশ জল-নিকাশ করতে পারছেন না | একেই শিল্পায়নের জোয়ারে মানুষ হাবুডুবু খাচ্ছে | তার ওপরে প্রতিনিয়তঃ মুদ্রাস্ফিতির চাপে সাধারণ মানুষ পিষ্ট।
- এসব তো সারাদেশের প্রবলেম। অন্যবছর বৃষ্টি হলেই ইনফ্লেশন কমে,শেয়ার-সূচকের পারদ হৈ হৈ করে বাড়তে থাকে,সোনার দাম কমে ।
- যত দোষ নন্দঘোষ হল পরিশোধিত,অপরিশোধিত তেল। বিশ্বের বাজারে তেলের দাম না বাড়লে , বিকল্প হিসেবে নিউক্লিয়ার পাওয়ার জেনারেশনের কথা কেউ ভাবতো না | আপামর-জনসাধারণ অবিশ্যি এসব নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না তাঁদের জিনিষপত্রের দাম কমলেই হোল।
- এই সব সাতপাঁচ ভেবে বুদ্ধ বিপাকে।জল সরাবেন, না আলো জ্বালাবেন ? আম-ইলিশের দাম কমাবেন, না হাসপাতালের রোগীর পাশে কুকুর হটাবেন? বুদ্ধের বুদ্ধিতে সত্যিই কুলোচ্ছে না | মমতার ক্ষমতা দেখে এমনিতেই একটু দমে রয়েছেন তাঁরা সকলে।
- পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলের সাফল্য দেখে এবারে সংখ্যালঘুদের তোষণ হবে কি না সেটাও বিচার্য্য ; বর্ষীয়ান বিরলকেশ মাননীয় জ্যোতিবাবু কি আর পারেন বুদ্ধি দিতে?
- বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা আদবানি সদ্য আত্মজীবনী প্রকাশের আনন্দে আত্মহারা । তাতে আবার বামের সাথে ইউপি এর বিরুদ্ধে আস্থাভোট দিতে হোলে আসন্ন জন্মাষ্টমীর কি এজেন্ডা হবে? রামনবমীতেই বা কি হবে? রথে করে বিজেপির ভারত-পরিক্রমা হবেনা? নাকি আদবানি এবার মহরমের তাজিয়া নিয়ে বেরুবেন?
১৯ জুল, ২০০৮
More ভাবনারে ..... তৃতীয় পর্ব
এ শহরের লোকের মজ্জায় মজ্জায় মত্স্যের ঘ্রাণ, হাড়ে হাড়ে হাওয়া বদলের জন্য সদা ব্যাকুলিত প্রাণ, রক্তের প্রতিটি কণায় কণায় নৃত্য-গীত-বাদ্যানুরাগ | এদের চোখের চাহনিতে চপলতা, চলনে চঞ্চলতা , গমনে গতিহীনতা , ব্যাক্তিত্বে ছদ্ম-গাম্ভীর্য্য ,ভোজনে ভুঁড়ি-বিলাসিতা , আর মুখে তর্কের ফুলকি ও যুক্তির ভেলকি। বাঙালী দিনের বেলায় মাছ-ভাত খেয়ে ভুঁড়ি উঁচিয়ে যত ঘুম দিতে পারে সন্ধ্যাবেলায় মুড়ি-তেলেভাজা সহযোগে ততধিক আড্ডার আরাধনা করে। এ শহরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অন্ধ ভালবাসা, যার গন্ধে গন্ধে বিজাতীয় মানুষ এখানে ভীড় করে | মানুষের চৌম্বকীয় আবেশে মানুষকে বশ করে কাছে টানে। সস্তার এ শহরে একবার কেউ এসে ব্যবসা ফাঁদলে ধনী হয়,পস্তায় না | বাঙালী কেবল শাড়ি,স্বর্ণ এবং শর্করাজাত অর্থাত্ মিষ্টান্ন --এই তিনটির ব্যবসায় যুগে যুগে হাত পাকিয়েছে। অধুনা বাঙালী রমণীদের গতিশীলতায় কলকাতার বুকে বিউটিপারলার তো পিঠে শাড়ির বুটিক ,ও হাতে হোম্-ডেলিভারি |
শত-সহস্র তারকাখচিত এ শহরের আকাশ। যার রূপে সুচিত্রা রসে ভানু, বর্ণে সৌমিত্র কন্ঠে শানু | এ শহর আমাদের উপহার দিয়েছে সৌরভকে তেমনি হারিয়েছে নিজের গৌরবকে। এখানকার মানুষের শয়নে উত্তমকুমার,স্বপনে হেমন্তকুমার আর জাগরণে কিশোরকুমার। এ কলকাতাবাসীর ছন্দে তনুশ্রী-আনন্দ, সুরে শচীনকর্তা-কৃষ্ণচন্দ্র, সঙ্গীতে নজরুল-রবীন্দ্র, রসে রাজশেখর-সঞ্জীবচন্দ্র, সাহিত্যে বঙ্কিম-শরত্চন্দ্র, স্পর্শে সিনিয়র-জুনিয়র প্রদীপচন্দ্র, শিল্পকলায় যামিনী-গগনেন্দ্র ,স্বর্ণে পিসিচন্দ্র আর সর্বোপরি মিষ্টান্নে কে.সি.দাস কিংবা যাদবচন্দ্র.....এদের নিয়েই বাঙালী বহাল তবিয়তে কাল যাপন করছে। যুগ যুগ ধরে এ শহর তৈরি করেছে ব্রান্ডেড-ব্যাক্তিত্ব । যেমন অফুরান হাসিতে ঘনাদা, রহস্যে ফেলুদা, রোমাঞ্চে টেনিদা ইত্যাদি।
এখনকার বহুতলে বর্ণময় কলকাতার তালতলা , বেলতলা , নাকতলার সাথে যুক্ত হয়েছে হাইতোলা ও হিলতোলা এক কালচার। এ কলকাতার হাওয়ায় হাঁপানি হয়, জলে জন্ডিস হয়,এবং মশায় ম্যালেরিয়া হয়।আধুনিক কলিকাতার দার্শনিক মানুষের জলে এখন আর্সেনিক, নবনির্মিত নর্দমার মুখে প্ল্যাসটিক ,যা কিনা পরিবেশবিদের উদ্বেগের কারণ। মিষ্টান্নে মেটানিল-ইয়েলো এবং সরবতে এলিজারিন-রেড রসায়নবিদের গবেষণার বিষয়।
পথে যেতে যেতে কলকাতা কে দেখে একখানা পুরভর্তি মচ্ মচে পরোটা মনে হয় যার কোথাও যাদবপুর,কোথাও সেলিমপুর; কোথাও আলিপুর তো কোথাও চিত্পুর। কখোনো আবার আলমবাজার, বড়বাজার, বাগবাজার, শ্যামবাজার, নাগেরবাজার শুদ্ধ এ শহরকে মনে হয় বাস্তবিকই আমরা প্রত্যেকে বিগ্-বাজারের ব্যাপারী। যে শহরের আকাশে বাতাসে মাছের আঁশটে গন্ধ কেন তার কাছে অ-বাঙালীর ভীড়্? চিংড়িহাটায় জ্যাম নিয়ে ,তপসিয়ায় তৃণমূলীদের নিয়ে, ট্যাংরার চাইনিজ নিয়ে আমরা আজও আছি ও থাকবো। ভেতো বাঙালীর বাজারের থলি থেকে সজনেডাঁটা আর পুঁইশাক উঁকি দেবে। বাঙালীর পোস্তোচচ্চড়ি ছাড়া কড়াই এর ডাল রুচবে না , বাঙালী যুত করে মাছের কাঁটা চচ্চড়ি চিবোবে, বাঙালী মজা করে মৌরলার টক খাবে আর সরষের তেল ছাড়া ইলিশমাছ রাঁধবে না । এই নিয়ে তারা শন্তিতে থাক না.. ক্ষতি তো নেই। তাতে যদি অন্যের ক্ষতি না হয় ... রোজ সন্ধ্যায় তুলসীতলায় আলো দিয়ে রেডিও খুলে অনুরোধের আসরে প্রতিমার আরতি শুনুক .. ...অথবা বিকেলে ভোরের শুকনো ফুল ফেলে শাঁখ বাজিয়ে বাড়ির মঙ্গল কামনা করুক .... নৈশাহারের পরে দিলখুশের জন্যে মন উস্-খুস্ করবে, নতুন প্রজন্ম লোডশেডিং এ অঙ্ক কষে বিদেশ যাবে, বাংলা ব্যান্ডের ফাজলামি আর নেতাদের পাগলামি নিয়েই পড়ে থাকবো...ক্ষতি কি? শুধু দফ্তরের ডেস্কে বসে ঘুমোব না আর নিজের পায়ে কুড়ুল মারব না। তাহলেই আমাদের মোক্ষলাভ হবে। সৃজনশীল বঙ্গসন্তান বুদ্ধি বেচে বড় হবে, অদূর ভবিষ্যতে কোলকাতা হবে "The entertainment hub for the world" যেথায় আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সৃষ্টি সুখের উল্লাসে উদ্দাম নৃত্য-গীত-বাদ্যের সমন্বয়ে জগতের মনোরঞ্জন করে "কলযুগ্-কি-কলিউডের" আখ্যা পাবে। এখানেই তার সার্থকতা। তথ্য-সংস্কৃতি-শিল্পকলার সেরা পীঠস্থানে বঙ্গ সন্তানদের শর্মিলা-জয়া-রাণী-রিয়ার মতো কিংবা রাহুল-কিশোর-শান-শানুর মতো মুম্বাই পাড়ি দিতে হবে না।কলকাতার মানুষ দোল-দুর্গোত্সবে দক্ষযজ্ঞ নিয়ে, বামে-ডানে দলাদলি করে, নন্দনে সত্যজিতের বন্দনা, রবীন্দ্রসদনে রবির আরাধনা আর রবীন্দ্র সরোবরে প্রেমের উপাসনা নিয়ে যদি কোনো এক দিন জগতের আনন্দ-যজ্ঞে নিমন্ত্রণ পায় ......শুধু ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি -hypocrisy এবং corruption এই মানিকজোড় যেন আমাদের জীবন থেকে বিদায় নেয়। পুনরায় আমাদের কল্লোলিনী কোলকাতা যেন ভারতবর্ষের রাজধানী হবার যোগ্যতা অর্জন করে। উপর থেকে নেতাজি-নেহেরু-গান্ধীরা দিল্লির মসনদের ঘাড় ধরে কোলকাতায় নিয়ে আসার আদেশ দেন। এ তো যেকেনো সময়েই সম্ভব। মহম্মদ-বিন্-তুঘ্-লক্- আমাদের সেই রূপ শিক্ষা দিয়েছেন।
সবশেষে বলি, কলকাতার কালিমা ,কলুষতা ,কপটতা আলোকের ঝর্ণাধারায় ধুয়ে মুছে সাফ হোক। এই জনমেই ঘটাতে চাই--- জন্ম-জনমান্তর........ সুন্দর,হে সুন্দর!!
১৬ জুল, ২০০৮
More ভাবনারে ..... দ্বিতীয় পর্ব
আজকের কলিকাতার উত্তরে, দক্ষিণে, পূর্বে, পশ্চিমে শুধু শপিং মল । কত বাজার , কত মল্টিপ্লেক্স, কত বহুতল |পশ্চিমে বিদ্যাসাগর সেতু ধরে কোনা এক্সপ্রেস ওয়ে ধরলে সোজা গিয়ে পড় পূর্বতন সরকারের সুচিন্তিত পরিকল্পনা 'স্বর্ণালী-চতুর্ভুজ-সড়ক- যোজনার'সার্থক রূপ দেখতে। কলিকাতা থেকে যেদিকে খুশি যাও। কোনো বাধা নেই। বম্বে রোড ,দিল্লি রোড যা খুশি ধরে জাহান্নাম,বেহেস্ত যেদিকে দুচোখ যায়...আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র সেই কবে বলেছিলেন"বাণিজ্যে,বসতে,লক্ষ্মী" আজকের কলিকাতা দেখলে তাঁর প্রাণ জুড়িয়ে যেত... একদা যারা বড় মুখ করে রক্ত দিয়ে রুখেছিল automation তারাই আজ automation এর গুণকীর্তন করছেন।অনেক বছর পিছনে চলার পরে কলকাতার মনুষ্যজন ঘুমের ঘোরে বিবেকানন্দের অমোঘ বাণী শুনতে পেয়েছে...."উত্তিষ্ঠিত ! জাগ্রত !"তাই পুনরায় চলতে শুরু করেছে। এ শহর পারে শুধু পরকে আপন করতে, নিজেকে পেছনে ফেলে পরকে এগিয়ে দিতে। নিজের ব্যবসায় ইতি টেনে ভিনদেশিদের স্বাগত জানাতে। এ শহরে এখন শিল্পের জোয়ার, হাইটেকের বান | নগরবাসী সালিমের কাছ থেকে ব্যাবসার তালিম নিচ্ছে। টাটার সাথে হাঁটা শিখছে। প্রফুল্ল-বিধান উপর থেকে আশীর্বাণী বর্ষণ করে বলছেন,"বেটার,লেট ; দ্যান নেভার ; "
আজকের কলিকাতা দেখে জোবচার্নক বোধ করি বলে উঠতেন এই কি ছিল সুতানটি ? আজকের কলিকাতা কোলকাতা তে যেতে যেতে থমকে দাঁড়িয়ে গেছে, সুতানটির লোকজন খুনসুটি করে ধমকে দিয়ে গেছে আমাদেরকে, আমরা চমকে উঠে দেখি কোলকাতায় ঘোর কলিযুগ। আজ কোলকাতা প্রাচ্যের ভেনিসের মর্যাদা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ভূমধ্য-সাগরীয় ভেনিস অপেক্ষা গাঙ্গেয় ভেনিস কোনো অংশে কম নয়। বন্ধ্যা রাজনীতির এই মিছিল নগরী পাশ্চাত্যের পর্যটককে আহ্বান করছে এ শহরে পা দেবার জন্য। কি দেখানোর জন্যে? উপছে পড়া জনস্রোতে এ নগরীর রাজপথে সদা কোলাহল, শত ব্যস্ততা | শুধু ভীড় আর মিছিল এই দেখাবে তাদের ? এ স্থানে বারোমাসে তেরোপার্বনের সঙ্গে চতুর্দশতম ব্রত হোল বন্-ধ্- উদ্-যাপন । এখানে বর্ষা নামলে জল নিষ্কাশনের সকল পথেও বন্-ধ্- । তাই গ্রীষ্মাবকাশের পরে বিদ্যালয়গুলিতে পুনরায় বর্ষাবকাশের ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ শহরে বিশ্বায়নের টারবাইন বোঁ বোঁ করে সর্বক্ষণ ঘুরছে । ফলে বিদ্যুতের চাহিদা ও শোঁ শোঁ করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু বিকৃত মানুষ দ্বারা পরিচালিত এবং বিকল যন্ত্রাদির দ্বারা উত্পাদিত বিদ্যুত চাহিদার যোগান দিতে পারছে না ফলে কলকাতাবাসীদের ভবিষ্যত সহ বর্তমান ও তমসাবৃত হয়ে গেছে। এ রাজ্যের মানুষের লোক-লৌকিকতা ,আতিথেয়তা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। কিন্তু বিশ্বের মানুষজন অতিথিরূপে আমাদের গৃহে পা দেবার পূর্বে জঞ্জালপূর্ণ পথ-ঘাট অবলোকন করে তাদের যেরূপ ব্রহ্মজ্ঞান হবে তার ফলে গৃহের অভ্যন্তরে প্রবেশের মানসিকতা লোপ পাবে।
স্বাধীনতার পূর্বে যে সব প্রাসাদোপম অট্টালিকা নির্মিত হয়েছিল তারাই কোলকাতার ঐতিহ্য আজীবন বহন করে চলবে। স্বাধীনতা-উত্তর যুগের বাবুরা নতুন কিছু গড়তে না পারলেও পুরানোগুলিকে ভেঙে-চুরে তাল গাছের সাথে পাল্লা দিয়ে নতুন নতুন লম্বা,লম্বা বসতভিটা বানাবে। ঐতিহ্যবাহী রাস্তাগুলির কেতাদুরস্ত নাম বদল করে নতুন গালভরা নাম রাখবে | অর্থাত্ বোঝা যাচ্ছে যে কাজ অতি সহজে সম্পন্ন করা যায় সে কাজ বাঙালী চটপট করে নাম কিনতে চায়।
যাদের জন্য দলে দলে মেধাবী ছাত্রেরা যখন প্রবেশিকা পরীক্ষা দিয়ে অন্য রাজ্যে পাড়ি দিল তখন ব্যাঙের ছাতার ন্যায় পোলট্রির ডিমের গুণমান সম্পন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ খোলা হল । একদা এ রাজ্যের নেতাজী,রবীন্দ্রনাথ, অরবিন্দ,বিবেকানন্দেরা বিদেশে গিয়ে ইংরেজিতে জ্বালামুখী ভাষণ দিয়েছেন | এখন সেই রাজ্যে প্রাথমিক স্তরে ইংরাজী পাঠ থাকবে না তুলে দেওয়া হবে সেই নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই।
(ক্রমশঃ)
১৩ জুল, ২০০৮
More ভাবনারে ..... প্রথম পর্ব
কত ছোটাছুটি হ'ল ,পায়ে হেঁটে পাণিহাটি থেকে সুতানটি, পালকি চেপে ব্যারাকপুর থেকে গোবিন্দপুর, বজরায় চাঁদপালঘাট থেকে কুটিঘাট , বাসে করে খড়দা থেকে শিয়ালদা, ট্রামে চেপে শ্যামবাজার থেকে বড়বাজার, ট্রেনে করে খড়গপুর থেকে বারুইপুর ,আবার খানিক হেঁটে তালতলা থেকে তারাতলা ...ঠিক এমন করেই পায়ের তলায় সর্ষে নিয়ে কলিকাতার মানুষজন নিয়ে বেঁচে বরতে আজও কলিকাতা আছে কলিকাতাতেই। "কলিকাতা চলিয়াছে নড়িতে নড়িতে " এ যুক্তির যথার্থতা কলিকাতার সব বাঙলী না বুঝলেও অন্য প্রদেশের বাঙালী,অ-বাঙালী সকলেই বোঝে। ১৬৯০ সালে জোব্-চার্নক কলিকাতা মহানগরীর গোড়াপত্তন করেছিলেন । তখন শিয়ালদহে সত্যি সত্যি শৃগাল প্রতি সন্ধ্যায় সুর-সাধনা করতো, বাগবাজারে বাঘ বেরোতো, হাতীবাগানে হাতী না থাক, হায়ানা হা হা করে হাসতো, আর গোবিন্দপুরের জঙ্গলে নাগরাজ বাসুকির আধিপত্য ছিল। ৩১৮ বছর পূর্বে জোব চার্নক অনুধাবন করেছিলেন এ শহরের মাহাত্ম্য। এ শহরের মৃত্তিকার কনায় কনায় কণক-দানা ,যার প্রমাণস্বরূপ এখানে প্রোমোটার-কাম-ডেভালপার রাজ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। মহাপুরুষের বাণী কি বিফলে যাবে? শ্রীরামকৃষ্ণ সেই কবে বলেছিলেন "টাকা মাটি, মাটি টাকা"| আহা! ঠাকুর দেখে যেতে পারলেন না।
জোবচার্নক আড়িয়াদহ গঙ্গার ঘাটে পরিক্রমাকালে এক হিন্দুরমণীর প্রেমে পড়েন ও তাকে বিবাহ করেন। সেই মহিলা যদি জানতেন যে উত্তর কলিকাতার বিবেকানন্দ সেতুর পার্শ্বে নিবেদিতা সেতুর কি অপূর্ব মেলবন্ধন সৃষ্টি হয়েছে ,তা হ'লে সাহেব-সুবোর নিকট তার পিতৃগৃহের কদর আরো বৃদ্ধি পেত। কি কলা-কুশলী! কি দৃষ্টিনন্দন কারিগরী। কলিকাতা এই মূহুর্তে সেতু-নগরী । আগে ছিল হাওড়া ব্রীজ,ভারতবর্ষের প্রথম ফ্লাই-ওভার ব্র্যাবোর্ণ রোড ফ্লাই ওভার , শিয়ালদা'র উড়াল-পুল। পরে হেমন্তসেতু, বিজন সেতু, অরবিন্দ সেতু, আরো পরে শম্বুক-গতিতে তৈরী হল বিদ্যাসাগর সেতু । তার পরে আর চেয়ে দেখতে হয়নি। প্রয়োজনীয়,অপ্রয়োজনীয় সেতুতে সেতুতে ছয়লাপ। বেচারা রামচন্দ্র! কি কষ্ট করে সেতুবেঁধেছিলেন! তিনি বেঁচে থাকলে অবশ্যই রামেশ্বর স্টাইলের আরো দু চারটে সেতু গঙ্গাবক্ষে এত দিনে নির্মাণ হয়ে যেত। তফাত কেবল একটাই। বানরসেনার সেতুবন্ধে কোনো ক্যাপিটাল cost ছিলনা।
যোগাযোগ ব্যাবস্থায় কলিকাতার জন্মলগ্নেই বৃহস্পতি তুঙ্গে। ভৌগালিক সীমারেখা আদি অনন্তকাল থেকেই একে বর্গি,জলদস্যুর হাত থেকে যেমন রেহাই দেয়নি ,ঠিক তেমনি ইউরোপিয় বণিকদের আশ্রয় দিয়ে তাদের ব্যাবসা বাণিজ্যের পথ ও সুগম করে দিয়েছিল। সেই জন্যই সাহেব-সুবো বুঝতে পেরেছিল তাদের এই প্রাণের জায়গাটি অর্থাত 'ক্যালকাটা' সারা ভারতবর্ষের রাজধানী হবার যোগ্য। এর অন্যতম ও প্রধান কারণ হোল এ নগরীর যোগাযোগ ব্যাবস্থা |আর সহজলভ্য শ্রমিক,যারা অন্যের হাতে মার খেয়ে কাজ করতে প্রস্তুত,আর তার সাথে বিদেশি বণিকের মোসায়েবি করতে পিছপা নয় এরূপ উত্কোচলোভী বাঙালি-বাবু |
(ক্রমশঃ)
৩ জুল, ২০০৮
আজকের অরুণ,বরুণ,কিরণমালা
আমরা,হ্যাঁ আমরাই শিশুদের শৈশবের শ্রাদ্ধ করে, কিশোরের কৈশোরকে কেড়ে নিয়ে তাদের একটু আগে আগেই যৌবনের দায়ভার নিতে বাধ্য করলাম। শিশুরা আর ছোটো নয় এখন। সভ্যতার তরল-গরল গলায় ঢেলে তারা ছুটে চলেছে । তাদের পড়াশুনোর কি প্রয়োজন? তাদের বাঁয়ে কেব্ ল্ মামা তো ডাইনে এফ্-এম্- দাদা । মাথার ওপরে মোবাইল ম্যাজিক তো নীচে পর্ণোগ্রাফি। তারা শুনছে যেমন গান ,দেখছে তেমন নাচ । গানের যেমন ভাষা তেমন সুর | তারা "হাসছি মোরা হাসছি দেখ, হাসছি যেন আহ্লাদে" ভুলে(জরা) স্কোয়ার (টাচমি)কিউব অথবা ঝলক দিখলা যা ... খুল কে বাতা'র বাতাবরনে বড় হচ্ছে বাবা! টিভিতে রিয়েলিটি শো তে কোনোটিতে হয় শিশুদের নাচ,কোনোটিতে কিশোরীদের গান |যেমন তাদের অঙ্গ-সুষমা ,তেমন তাদের লাবণ্য-লালিমা । কখনো কিশোরীটি লাস্যময়ী যুবতী কখনো অপাঙ্গে দৃষ্টিহানা হাস্যময়ী সুন্দরী । প্রতিনিয়ত প্রচার মাধ্যমে শিশুর শৈশবের ও কৈশোরের এহেন অপহরণ আর সহ্য করতে পারছিনা। মনে হচ্ছে, এ কোন যুগে পদর্পণ করলাম? যেখানে কিছু অর্থলোলুপ,স্বার্থান্বেষী নরপিশাচ শিশু-কিশোরকে যৌবনের খুঁটি-নাটি টিপ্-স্- সহ আকর্ষনীয় শরীরি-বিভঙ্গ ,রগরগে পোশাক এর সোনালী মোড়কে আবৃত করে রূপোলী পর্দায় পেশ করছেন। শিশুটি একটি অকালপক্ক্ব যুবাকীটে রূপান্তরিত হচ্ছে। যেটি পিউপা থেকে লার্ভা না হয়ে ডাবল্ প্রোমোশান পাওয়া একটি প্রজাপতি। এই সব শিশুর কি ভবিষ্যত? এদের দেখে আর কি কখনো মনে হবে"ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে" ? কিই বা এদের জীবনাদর্শ?এরা হয়তো বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত অর্থ উপার্জন করবে কিন্তু এদের রুচিবোধ,শালীনতা নীতিবোধ কি কিছু অবশিষ্ট থাকবে? অথবা কৈশোরে এত অর্থের স্বাদ পেয়ে গেলে যৌবনে ধরা কে সরা জ্ঞান করবে। এত প্রাচুর্য্যের কি প্রয়োজন আছে?
"বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে" - এই উক্তির অবতারণা করে বলি,দোহাই,বিজ্ঞাপনদাতা! দয়া করে শিশুর যৌনতায় সুড়সুড়ি দিয়ে ,তাদের পণ্যরূপে বাজারে প্রোমোট করবেন না, তাতে আপনাদের বাসনা সিদ্ধি না হোক ,দর্শকের কামনা চরিতার্থ না হোক । একান্ত প্রয়োজন থাকলে অন্য উপায় খুঁজুন , মেনে নিলাম যে, ব্যাপক বিশ্বায়নের ঢেউতে সাঁতার কেটে আমাদের শিশুরা ইঁদুর-দৌড়ের সামিল আজ। কিন্তু সাঁতারের পূর্বে কিরূপে, কখন ডুব দিতে হয় , বা নিঃশ্বাস নিতে হয়, এই শিক্ষা না নিয়ে বিশ্বায়নের ঢেউয়ের সম্মুখীন হ'লে বিপদ বাড়বে বই কমবে না।
২২ জুন, ২০০৮
ব্-বা-বু উপাখ্যান
ছাত্রাবস্থায় ,আমেরিকাতে থাকাকালীন 'রেড-লবস্টার' রেস্তোরাঁতে কিং সাইজ জাম্বো-মাম্বো গলদার রংচঙে ছবি দেখে বাবুর মনে হ'ত,"ইস ! কলকাতার জঞ্জালের ভ্যাটে যদি এর খোলা পড়ে থাকে তবে কুকুর-ছানা তার মধ্যে দিয়ে ঢুকবে আর বেরুবে।" আমেরিকায় ছাত্রাবস্থায় এই লবস্টার affordকরা কি মুখের কথা? হতো যদি লেক-বাজার থেকে কিনে এনে কমলার মাকে বলতে পারতাম মালাইকারি বানাতে। কিন্তু দশ ডলার দিয়ে একটা মাছ খেতে বুকে বড় ব্যাথা হয়,হাঁটুতে খঞ্জনি বাজতে শুরু করে। কারন বাবা আসবার সময় বলে দিয়েছেন,ছাত্রাবস্থায় ডলার একদম নষ্ট না করতে, আগে চাকরী পাবে তার পর । তাই লবেস্টার-কো-বাবালোগ দের নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হোত। কোনদিন বাবু তার শালাবাবুর সাথে জমিয়ে বিয়ার খেতে খেতে প্যাসিফিকের তীরে বসে শ্যাম্পেন উইথ ক্যাভেয়ার সেবনের গল্প করেন। সদ্য কাটা স্টার্জন মাছের ডিম কে দু-ফোঁটা লেবুর রস আর সস দিয়ে শ্যাম্পেনের সাথে পরিবেশন করা হয়। "কোনদিন দেখবে, বর্ষায় থৈ থৈ লেকের জল থেকে কৈ মাছ ধরে ,হৈ হৈ করে তার পেট থেকে দুষ্প্রাপ্য কৈ-ডিম্ব কে বার করে ঐ ভাবে বিক্রি করা হচ্ছে"বাবু বললেন।
এ তো গেল বাবুর ভোজনবিলাসিতা। বাবু যখন প্রথম মায়ের আঁচল ছেড়ে হোস্টেলে গেলেন ইঞ্জিনীয়ারিং পড়তে, ragging ধাক্কায় মিশমিশে কলো,সুললিত গোঁফজোড়ার একদিকটি ছেলেরা কামিয়ে দিয়েছিল|পরের বার বাড়ি আসার পরে মা তো তাঁর শ্বশ্রুগুম্ফহীন পুত্রকে দেখে তো মাথায় হাত! বাবু আসলে বাঁশবেড়িয়ার বাঁড়ুজ্যে । নাম বংশগোপাল। বাবু বরাবর ই বিস্তর বুদ্ধিমান। বিদ্বানবাবু বিজ্ঞানশাস্ত্রে ব্যুত্পত্তি লাভ করে,বিদেশ থেকে বড় বড় ডিগ্রী নিয়ে পুনরায় স্বদেশে প্রত্যাগমন করেছিলেন; সেইখানেই বাবুর সাথে আর পাঁচজন বৈজ্ঞানিকের তফাত। বাবু বইয়ের পোকা। লেখনীর জোর ও বাগ্মী হিসেবে বিদ্বজনমহলে বাবুর কদর আছে। বাবু বিগব্যাং থেকে বিশ্বযুদ্ধ,থিয়োরি অফ রিলেটিভিটি থেকে গোদেল'স থিয়োরেম ম্যালথাস থেকে মুদ্রাস্ফিতী নিউটন থেকে নেতাজী, এমন কি বদ্রীবিশাল থেকে বিবেকনন্দের মাহাত্ম্য-- এ সব কিছু নিয়েই বহুক্ষণ আলোচনা চালাতে পারতেন। বাবু খেলাধূলায় বিমুখ কিন্তু প্রত্যেক খেলার নিয়মাবলী বা সাজ-সরঞ্জাম বিষয়ে তাঁর জ্ঞানের পরিধি যেকোনো ক্রীড়াসাংবাদিককেও হার মানিয়ে দেবে। কোন পোশাকে বিলিয়ার্ড রুমে ঢুকতে হয়্,গল্ফকোর্সের কোথায় গর্ত থাকে,পোলো খেলাতে কখন বিরতি হয় বা ফর্মুলা ওয়ান রেসিং এ কখন কটা পিটস্টপ হবে,এ সব তার নখদর্পণে।
বাবু বেজায় কাবু হয়ে যান একটি ব্যাপারে,যখন তাকে গান নিয়ে কোনোও প্রশ্ন করা হয়। সঙ্গীত ও আনুষাঙ্গিকের ওপর তার নেই কোনো টান-টুন। এ জন্মে তার কন্ঠে গুপীর মতো বেসুর আর হস্তে বাঘার মতো বেতাল,তাই পরের জন্মে কোকিলের মাংসের বার্-বি-কিউ খাবার বাসনা আছে তার। তাহলে যদি নারদমুনি একটু কৃপা করেন। জগতের বুকে প্রতিনিয়ত কত ই না সুরসাধনা চলেছে, তাতে বাবুর কোনো হেলদোল নেই।
বাবুর কাছে যাহাই সঙ্গীত তাহাই শব্দ,যাহাই শব্দ তাহাই দুষণ রূপে পরিগণিত হয়।কে হেমন্ত,কে বসন্ত, কে আশা আর কে নিরাশা, কে রাঘব কে বোয়াল ,কে সোনু আর সে কি হনু, এসব নিতান্ত ই তুচ্ছ। দাদরা,কাহারবা,কিম্বা jazz, rock, pop, reggae....মানেই "শব্দ-কল্প-দ্রুম্"|কেবল নিজের গালে পটাপট থাপ্পড় কষিয়ে আধুনিক তবলায় লহরী তোলার কড়া সমালোচক তিনি।
বিদ্যাসাগর-বঙ্কিমের যুগে আমরা যে বাবুচরিত্রের পরিচয় পাই সেই তথাকথিত বাবুদের থেকে আমাদের বংশের মুখ উজ্জ্বলকরা বংশগোপাল বাবু সম্পূর্ণ আলাদা। ইনি বাপ-ঠাকুরদার পয়সায় ফুটানি না মারা বাবু।ইনি হেড অফিসের বড়বাবুর মতো ঘুষ না নেওয়া শান্তবাবু। কখনো তার অকালপক্ক কেশরাজিকে রঞ্জিতকুন্তলে পরিণত না করা বাবু। বিদেশের ভালটুকু নিয়ে ,আর বাঙালীয়ানাকে বিসর্জন ন দিয়ে বিদেশ থেকে ফিরে আসা বাবু। বাবু ভোজন-পানীয়-নিদ্রা বিলাসী কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত নয়। তিনি পূর্বসুরীদের পয়সায় ফোতোকাপ্তেনি করা বাবু নন যিনি দুর্গাপুজোর শেষে নীলকন্ঠ পাখী না উড়িয়ে উত্তরসুরীদের জন্য সঞ্চয় করেন। আধুনিক সমাজে যে বেগুণ সম্পন্ন বাবু উত্পন্ন হচ্ছে তা দেখলে মনে হয় এরূপ বাবুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে বাঙালীর ভবিষ্যতে হাতে হ্যারিকেন,গলায় গামছা।
হঠাত্ বড়লোক বাবু তার্কিক বাবু ,অধুনা বড়লোক বাবু 'মিস্-ড্-কল্-কালচারে' অভ্যস্ত বাবু হালেরশাইন করা বাবু ' blue-arrows 'চড়া বাবু |সদ্য বড়লোক হওয়া বাবুর বাড়ীর মাছ-ভাত রোচেনা | বেশীবড় বিদ্বান বাবু বিদেশে গিয়ে দেশের কথা ভুলে যান। বেঁড়ে পাকা আজকের বাবুদের ছদ্মগাম্ভীর্য ই সার । বিশ্বায়নের প্রবল গতিতে তাদের বিচার,বুদ্ধি,বিবেক প্রায় লোপ পেতে বসেছে |
২ জুন, ২০০৮
বিষয় - একটি একাঙ্ক নাটক
নাটক - "গ্রামের মেয়ের ক্ষমতা" ।
নির্দেশনা - পাওলি মিত্র।
অভিনয়ে -সুবর্ণ সেন, শৌভিক সেন এবং অন্যান্য ।
শিল্পনির্দেশনা - বরদাপ্রসন্ন।
স্থান - খেজুরি, মুক্তমঞ্চ।
[ স্থানীয় চাষী উপেন মালিক হাত জোড় করে জমিদার বাবুর নিকট হাঁটু গেড়ে বসে আছে।]
বাবু বলিলেন "বুঝেচো উপেন! এ জমি লইব কিনে"।
উপেন বলিল "আপনি ভূস্বামী ভূমির অন্ত নাই, চেয়ে দেখো মোর আছে বড় জোর মরিবার মত ঠাঁই"।
বাবু - "পেলে দুই বিঘে প্রস্থে ও দীর্ঘে, গড়ি রসায়ন কারখানা"।
উপেন (কাঁদিতে কাঁদিতে) - "শুধু বিঘা দুই ছিল মোর ভূঁই ..."।
বাবু - "ন্যায্য মূল্যের বিনিময়েও দেবে না জমি?"
তাপস - "বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনি(পুর)" ।
উপেনের পৌত্র, তাপসের পুত্র ভূপেন ও তার বন্ধু খগেনের প্রবেশ।
ভূপেন - "এমন মানব জমিন রইল পতিত আবাদ করলে ফলত সোনা"।
খগেন - "আর আবাদ না করলে তোমার বৌএর গায়ে উঠত সোনা"।
ভূপেন - "বেশ ত ছিলাম, খাচ্ছিল চাষী ধান বুনে"।
খগেন - "আরো ভাল হত , জমি বেচে , ন্যানো গাড়ী কিনে ..."।
ভূপেন - "আমরা চাষ করি আনন্দে ... আয় রে মোরা ফসল কাটি ফসল কাটি"।
খগেন - "না ভাই, ফসল নয়, খাল কাটি জাহাজ আনি ..." ।
..............
বিবেকের প্রবেশ - "যে আছে মাটির কাছাকাছি সে কবির বাণী লাগি কান পেতে আছি"।
বাউল (গান ধরে) "গ্রাম ছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ, আমার মন ভুলায় রে "।
বিবেক - "আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি"।
সমবেত কণ্ঠে - "ধন ধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা। তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা ও সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ মাটি দিয়ে গড়া!"
৩১ মে, ২০০৮
পরিবেশের দম্ভ বেজায় - বাড়ির গরম, গাড়ীর গরম, হাওয়া গরম, মাথা গরম।
২৪ মে, ২০০৮
হারিয়ে যাওয়া ছেলেবেলা
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর মনখারাপের সারাদুপুর ,
আবার কবে শুনতে পাব কাজলাদিদির পায়ের নূপুর?
লেবু গাছের ছায়ায় ছায়ায় , চাঁপার বনে দুষ্টুমিতে ,
হারিয়ে গেছে ছেলেবেলা বইয়ের ভারে ব্যাগ বইতে ;
মায়ের সাথে ছাদের কোণে, বৃষ্টিভেজা বিকেলবেলা ,
শিল কুড়িয়ে মুখেপুরে ,কুকুর নিয়ে কত খেলা,
কৃষ্ণচূড়ার পাতার ফাঁকে,টুনটুনিটা আজও ডাকে,
কেমন করে সেলাই কোরে পাতার সংগে পাতা জোড়ায়।
জামগাছটায় এক ই সময়, রোজ ই আসে কুটুমপাখি
মাছরাঙাতে মাছ ধরে খায় কাজলকালো তার যে আঁখি ।
উড়ে আসা তালপাতাতে মা বানাতো বাহারীফুল,
কখনো বা মাটি দিয়ে আমার জন্য রকম পুতুল।
আজ ও সেথায় তালগছেরা দাঁড়িয়ে আছে সবাইমিলে,
আমি ই শুধু চলে এলাম বিয়ের পরে তাদের ফেলে।
২১ মে, ২০০৮
জানেন কি ?
রবীন্দ্রনাথ এক উপন্যাসের সূচনায় লিখেছেনঃ "আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে, সন্ধ্যাবেলায় দীপ জ্বালানোর আগে সকালবেলায় সলতে পাকানো।" ঠাকুর পরিবারের আদিপুরুষ জগন্নাথ কুশারী, পীরালি ব্রাহ্মণ অর্থাত মুসলমানের অন্নগ্রহণের দোষযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি শুকদেব রায়চৌধুরীর এক কন্যাকে বিবাহ করে বাংলা দেশের খুলনা গ্রামের ভূসম্পত্তি পেয়ে সেখানেই বাস করতে শুরু করেন। পিরালী বামুনরা তদানীন্তন সমাজে এক ধাপ নীচের শ্রেণীর ব্রাহ্মণ বলে পরিগনিত হতেন। সেই কারণে জগন্নাথ হলেন 'পতিত'। জগন্নাথের কয়েক পুরুষ পরে তাঁর উত্তরসূরী পারিবারিক মনোমালিন্য হেতু খুলনা থেকে নৌকা কোরে চলে এলেন কলকাতায়।ততদিনে রাজধানী কলকাতায় ইংরাজ বণিকদের মৌরসীপাট্টা। অতএব জীবিকার জন্য চিন্তা নেই।কুশারীরা এসে ঘর বাঁধলেন গোবিন্দপুর গ্রামে,দরিদ্র হিন্দুসমাজের হরিজন পল্লীতে। সেখানে এতদিন একঘরও ব্রাহ্মণ ছিল না। লোকেরা তাদের মধ্যে ব্রাহ্মণ পেয়ে খুব খুশী।। খুলনায় যারা ছিলেন পতিত-পিরালী ,এখানে তারা হলেন "ঠাকুর-মশাই "। মুখে,মুখে চলল ঠাকুর-মশাই | তাঁরা ইংরাজদের মালপত্র ও সরবরাহ করতেন। ইংরাজদের মুখে মুখে "ঠাকুর-মশাই "শব্দটি অপভ্রংশ হতে হতে ট্যাগোর বা টেগোর হল। এইরূপে কুশারী পদবী উঠে গেল এবং তাঁরা নিজেরাই ঠাকুর পদবী ব্যবহার শুরু করলেন।
১৭ মে, ২০০৮
উত্তিষ্ঠিত! জাগ্রত !
১৪ মে, ২০০৮
সেদিন বোশেখ মাস, গাঁধীর চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ!
পাখা নাহি ঘোরে মাথার ওপর, ভালো নাহি মোরা আজ।
একদা তাঁরা যে বড় মুখ করে বলেছিলেন আমাদেরকে,
উদ্বৃত্ত বিদ্যুত আছে বাংলায়, দিতে পারি অন্য রাজ্যকে।
দিনের মধ্যে কতবার সে যে আসে আর চলে যায়,
অভিমানী গাঁধী তাই দেখে শুনে বার করেন এক উপায়।
বিদ্যুত বিনা দু ঘন্টা প্রায় রাজ ভবন অন্ধকার,
যেথা রাখাল রাজা গোপালের আমার কষ্ট করাই সার!
কেউ বা বলেন "শিশু সুলভ" আর কেউ হন "মৌনীবাবা",
সবে মিলে কন রাজ্যপালের পোস্টকে কর না হাবা।
৯ মে, ২০০৮
হিন্দু কলেজের ঠাট-ঠমকের বাকি কি রাখলে বাঙলী?
কোথায় হারাইলাম ঐতিহ্যপূর্ণ সেই এডমিশন টেস্ট? একে তো প্রাথমিক স্তর হইতে ইংরাজী তুলিয়া দিয়া, মাধ্যমিক স্তরে এম-সি-কিউ চালু করিয়া, উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ঢালাও নম্বর পরিবেশন করিয়া আপনার পায়ে কুড়ুল মারিলাম। একদা বিদেশের সঙ্গে তুলনীয়। ঐতিহ্যবাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ দুটিতে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘুণ ধরাইয়া পচন শুরু হইল প্রায়; সে দুটিকে রক্ষা করিতে পারিলাম না, অন্যথায় ব্যঙের ছাতার ন্যায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ খুলিয়া শয়ে শয়ে ইঞ্জিনিয়ার উত্পাদন করিতেছি, যাহাদের গুণমান পোলট্রির ডিমের ন্যায়। যা ও বা প্রেসিডেন্সীর অনার্সের এডমিশন টেস্টটি ছিল বাঙলার তথাকথিত সেরা ছাঁকনি যার দ্বারা ভবিষ্যতের মৌলিক গবেষকদের বীজ বপন হইতে পারিত সে পথও আজ বন্ধ করিলাম আনন্দে। "কি আনন্দে করিলে একাজ? নিজের পায়ে কুড়ুল মারিয়া লুকাইবে কোথা আজ?"
৩০ এপ্রি, ২০০৮
ঈশানী পামেলা লাবণী (IPL) এর জন্য প্রেমের গান
যাকে ভোরের রাতে চাওয়া (BRC)
তোমায় দুদিন দেখিনি (DD)
যেন কোন দুপুরের ছায়া (DC)
কবে শোনাও রাগ-রঞ্জনী (RR)
রূপে তুমি মেয়ে ইরাণী (MI)
কিংবা একা পাপিয়া (KEP)
তবু মনের মধ্যে তুমি আছো চির স্বপনের কায়া (CSK)
.........................................................................
রবীন্দ্রনাথের 'তুমি কোন কাননের ফুল' গানটি অবলম্বনে