৩১ জুল, ২০০৯

Images from Pilani






কু ঝিক ঝিক রেলের গাড়ি


কু ঝিক ঝিক রেলের গাড়ি, চলল ছেড়ে আমার বাড়ি,
নিয়ে চলল সুরের কড়ি, কু ঝিক ঝিক রেলের গাড়ি।
কু ঝিক ঝিক রেলের গাড়ি, দূরের পথে দিল পাড়ি,
র‌ইল পড়ে আমার শহর স্কুলের পথ আর মায়ের আদর,
কু ঝিক ঝিক অনেক দূরে, পা বাড়িয়ে গানের সুরে,
চলল সাথে কান্না হাসি স্মৃতির পাতায় গানের বাঁশি,
তারার আলোয় চাঁদের হাটে, নয়নতারার গানের মাঠে,
সুরের স্রোতে ভেসে ভেসে, ছন্দে তালে হেসে হেসে,
কু ঝিক ঝিক বাজনা বাজাই, গান গেয়ে যাই, গান নিয়ে যাই,
র‌ইলো পড়ে ছেলেবেলা, শীতের রোদে ক্রিকেট খেলা,
গরম দুপুর সাঁতার কেটে, বিকেল হাওয়ায় লেকের মাঠে,
ছুটির ঘন্টা বাজতো যখন, লং ড্রাইভে যখন তখন,
বৃষ্টি আকাশ ফুলেল বাতাস, মাটির কোলে আমার প্রকাশ |
মায়ের পাশে পাশে থাকা, আজকে আমার মা যে একা,
একরাশ মন খরাপ নিয়ে, বৃষ্টি এল ইলশেগুঁড়ি,
অনেক দিন পরে আবার ফিরবো আমি আমার বাড়ি |
একমুঠো শিউলি নিয়ে শিশির ভেজা পায়,
বহুদিন ধরে আমি থাকবো অপেক্ষায়,
সারাদিন আর সারাবেলা, মনখারাপের দুপুর বেলা,
চাঁপার বনে দুষ্টুমি আর আবোলতাবোল কিছু খেলা |
মায়ের চোখে বাদল কালো, মা আমি আর সবাই ভালো,
মেঘের কোলে নভোনীলে, রোদের আলোয় বৃষ্টি ভুলে,
"সব পেয়েছির দেশে" এলাম মাকে আমি দূরে ফেলে |

১ জুল, ২০০৯

চ্যানেল ৮ (Sony ৮) এ ব্রেকফাস্ট শো FM AT 8 আমি

এই কবিতা টি সাথে সাথে রচনা করে ফোনে আমি বেস্ট কলার হয়ে Channel 8 এ আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম |
আলো আর অন্ধকার
আলো আছে, আর আছে অন্ধকার,
আর আছে সুখ, সাথে দুঃখ নেই কার?
হাসি আছে, সাথে কান্না আছে তার,
নারী আছে, সাথে পুরুষ আছে তার ;
আছে খোলা আলোর জানালা,
আমি আছি অন্ধকারে একেলা,
দুঃখ নিয়ে বিলাস করি আমি,
সুখ যে বড় ক্ষণস্থায়ী তুমি,
তাই আলোর আশায় অন্ধকারে থাকি।
অন্ধকার কে একলা বসে ডাকি।

২৩ মে, ২০০৯

১৫ এপ্রি, ২০০৯

১লা বোশেখ : মল্লিকা, শুনতে পাচ্ছো ?

মল্লিকা, শুনতে পাচ্ছো ? আজ নতুন বোশেখের প্রভাতফেরী....তুমি একটা রামধনু রঙা নতুন শাড়িতে, আমি জ্যোত্স্না-রূপোলী জরি পাড়ে,  মৈত্রেয়ী অস্তরাগের লাল ঢাকাইতে। বসুন্ধরা কাঁচপোকা রং সালোয়ারে, নাজিয়া জলরঙা উড়নি গায়ে আর রেশমী একটা পাটভাঙা ময়ূরকণ্ঠী মাহেশ্বরীতে।  আর সবার আগে চলেছেন আমাদের সকলের ছন্দাদি একটা জলপাই রঙা জামদানিতে  | 
আমরা চলেছি ১৪১৬ কে স্বাগত জানাতে...সে কি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণের প্রয়াস  !!
জানো মাস কয়েক আগের কথা । আমার ছাদের আলসেতে হঠাত একটা পারাবত এসে মুখে করে একটা চিরকুট দিয়ে গেল... জানতে চাইল আমার নাম, ধাম... কি যেন মনে হোল লিখে দিলাম |  পৌঁছে গেল সে দরবারে । আবার দৌড়ে এসে দিয়ে গেল নিমন্ত্রণের ডাক । আমি হাজির হলাম ঠিক জায়গায় ঠিক সময়ে। পৌঁছে গিয়ে দেখি চেনা চেনা মুখ, রঙচঙে পোশাক ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ঘরে সাজানো মঞ্চ...অনেক আলোর মাঝে  ঠিক প্রদোষে, সে এক সব পেয়েছির দেশে।  আমায় কিন্তু চিনলোনা কেউ ..জানো? আমি দূর থেকে শুধু দেখলাম আর মুগ্ধ হয়ে চেয়ে রইলাম।  কত কথা হল, হল কত গান....
ঠিক যেমন সুরের ভেলায় ভাসতে ভাসতে পৌঁছে যাই সকালের আমন্ত্রণে,
ছন্দের দোলায় শুনতে গান ডাউন মেমারি লেনে 
 আবার মনদরিয়ায় উঠবে তুফান জলসাঘরের টানে
 গীতবিতানের বাতায়নে বসি মাটির গানে, হৃদয়ের টানে
 আবার নতুন করে পাবো বলে..
 নতুন বছরে পাবো তোমার নিমন্ত্রণ |
 ভালো থেকো বন্ধু, ভালো থেকো তারার সবাই।   

১১ এপ্রি, ২০০৯

আজ সকালের ভুলের মাশুল দিতে দিতে...

তুমি বন্ধু হয়েছ বলে, সেদিন তোমায় দেখেছিলাম বিকেলবেলায় |
তুমি ভোরেরবেলা হয়ে এসেছো আজ নলবনের পাশটিতে, কান দিতে আমার ভুলগুলোর লিস্টিতে |
তুমি আসবে বলে আজ আমার ধূমায়িত চায়ের পেয়ালা ঠাণ্ডা হয়ে গেল,
তোমায় দেখবো বলে ওদিকে আমার দুধ উথলে গেল,
তুমি আসবে বলে আমি পূজোর বাসি ফুল ফেলতে ভুলে গেলাম,
তোমায় দেখবো বলে অপরাজিতা ফুল তুলতে গিয়ে আমি ভুল করে জবার কুঁড়ি তুলে ফেললাম,
তোমার জন্য চায়ের জল ফুটে ফুটে মরে গেল,
টোষ্টারে পাঁউরুটি জ্বলে পুড়ে একেবারে খাক !
তোমার জন্য ফল কাটতে গিয়ে হাত কেটে ফেলেছি..
মন খারাপ করতে ভুলে যাই আজকাল |
খোলা জানলার ধারে বসেছিলাম আজ, আজকের খবরের কাগজের একটা পাতা উড়ে চলে গেল আমার চোখের সামনে দিয়ে,
সে ও আমার ভুলের জন্যে, কারণ আমার চোখ যে ছিল টিভির পর্দায়, তোমার চোখের দিকে..
কবি বলেছেন "যাহা পাই তাহা চাই না, আর যাহা চাই তাহা ভুল করে পাই"
ভুল করে অনেক কিছু পেলাম !!!!

....................................................................................................................


"তারা মিউজিক" চ্যানেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ breakfast show" আজ সকালের আমন্ত্রণে" র আমি একজন frequent caller১০ই এপ্রিল ঐ show এর anchor মৈত্রেয়ী "ভুল" টপিক সম্বন্ধে শ্রোতাদের কিছু বলার অনুরোধ করেছিল...তাই এই কবিতাটি আমি সাথে সাথে লিখি আর ফোনে এ পাঠ করি...

১ মার্চ, ২০০৯

"তারা"-- তাহাদের ক্লাবের নাম



আবার শুভদিনে তারার নিমন্ত্রণে যেতে চাই বারে বারে
রবির কিরণে ছন্দে ছন্দে দোলা দিয়ে আপনারে |
মল্লিকার সুগন্ধে আর মৈত্রেয়ীর মিষ্টতায়
ছন্দের তালে তালে আর ছন্দাদির আতিথেয়তায় |
তারায় তারায় জাগাও তোমার আলোক ভরা বাণী
তুমি সুন্দর আর সার্থক হও শুধু এইটুকু আমি জানি |
বিশ্বাস রেখো মানবতায় আর সহমর্মিতায়
তারার আলোয় আলোকিত করো জগতের সব কলুষতায় |
যা কিছু কপট কালিমালিপ্ত মুছিয়ে ধরাকে করো যে শান্ত
গানের বানীকে পাথেয় করে এগিয়ে চলো শির উন্নত করে ,
আমাদের পাশে রেখো যে তোমার এইটুকু আবদার
আকাশে বাতাসে ছোটো-বড় তারার হোক জয় জয়াকার |

৫ নভে, ২০০৮

অদ্রিজার দোলায় গমন

অদ্রিজা-জননীর দোলায় গমন করলেন। আশ্বিনের শারদপ্রাতের শঙ্খনিনাদ, ঢাকের বাদ্যি, শিউলির গন্ধ এ সব কিছু ধুইয়ে, মুছিয়ে তিনি চতুর্দোলায় গমন করলেন। জনগণের স্বাস্থ্যে লাগলো দোলা। ভেক্টরবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেল। ব্যাধিগ্রস্ত স্বাস্থ্য-পরিষেবার কবলে পড়ে কত প্রাণ অকালে চলে গেল। কৃষি না শিল্প এই টানাপোড়েনে মার খেল এ রাজ্য। রাজ্যের শিল্পায়নকে কাঁচকলা দেখিয়ে টা টা করে টাটার মত বড় সংস্থা সানন্দে বেরিয়ে গেল এই রাজ্য ছেড়ে। বাঙালির গৌরবের আইকন সৌরভ তাঁর ক্রিকেট জীবনের বৃত্ত সম্পূর্ণ করে যবনিকা টানলেন... হয়তো আরো কিছু আমরা পেতাম তাঁর কাছ থেকে। সারা বিশ্ব জুড়ে রিসেশনের ঢেউ এখন। ভারতের অর্থনীতির তটভূমিতেও সেই ঢেউ আছড়ে পড়েছে। শেয়ার-সূচকের ক্রমাগত পতন , টাকার মূল্যের হ্রাস এই সবকিছু আমাদের অর্থনীতিকে অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি-হামলা ,ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ ক্রমশঃ তাদের প্রকান্ড কালো থাবা দেশের অভ্যন্তরে বিস্তার করে অসহায় মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে প্রতিবার তারা সরকারি গোয়েন্দাদের নিরাপত্তার ঘেরাটোপ এড়িয়ে কার্যসিদ্ধি করে রক্ষা পেয়ে যাচ্ছে। অদ্রিজার পুনরাগমন হোল কার্ত্তিকের কৃষ্ণপক্ষে, করালবদনী ষোড়শ-উপাচারে পূজিতা হলেন ঘোর অমাবস্যার পুণ্যলগ্নে |মুক্তকেশী,মুণ্ডমালা-বিভূষিতা এসেছিলেন তাঁর লোলজিহ্বায় রাজ্যের তমসা,কালিমা লেহন করে আমাদের মুক্তি দিতে। কিন্তু অতি শীঘ্রই বিসর্জনের বাজনা বেজে উঠল। ক্রন্দনরত বাঙালী মাতৃমূর্ত্তিকে নিমজ্জিত করতে করতে ভাবছে, মায়ের সাথে তাদের সব কিছু বিসর্জন হয়ে গেল নাতো? যে দীপাবলী সাজিয়ে তারা দীপাণ্বিতার অমাবস্যাকে আলোকিত করেছিল তা কি সত্যি নাকি প্রহসন? আমাদের জীবনের সামাজিক,রাজনৈতিক, আর্থ-সামাজিক,, নৈতিক,অর্থনৈতিক প্রত্যেক ক্ষেত্রের গুপ্ত চোরা কুঠুরি আঁধারে মসীলিপ্ত হয়ে রইল। দীপাবলীর আলোক-রশ্মি প্রবেশ করলো না সেই পঙ্কিলতার গর্তে। শুধু হা-হুতাশ, আবেগ,আর অতিন্দ্রিয় সুখের আরাধনা করে, নেতিবাচক মানসিকতার উপাসনা করে আর পূর্বসুরীদের জ্বালাময়ী ভাষণ কে পাথেয় করে আমরা চলতে থাকবো যুগ যুগ ধরে। রাজনৈতিক অমাত্যগণ, আমলা, মন্ত্রীরা গণতন্ত্রের পূজা-প্রহসন নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন আর আমরা সাধারণ মানুষেরা থিয়োরি অফ নেগেটিভিটির আরাধনা করে যাবো। এই ভাবেই দেশের কাজ ও দশের কাজ চলবে। শিল্প-কলা-কৃষ্টি-ক্রীড়ার পীঠস্থান সনাতন ভারতভূমি এই ভাবেই ভৌগোলিক মানচিত্রের মর্যাদা বহন করে চলবে | সমস্যা সঙ্কুল বঙ্গবাসী তথা ভারতবাসীর জীবন বন্ধ-হরতাল-মিছিল-ধর্ণার ছন্দে আবার দুলবে একটা বছর... অদ্রিজা-মায়ের দোলায় গমন বলে কথা!!!

১৩ অক্টো, ২০০৮

তুমি আসবে বলে তাই ....

জিত্ , শুভায়ন , অরিজিত ,স্বাগত , ধুর্যটি , স্বাগতা , মহশ্বেতা , চেতা আর তনুশ্রী(রাকা)... এরা সোনার তরীর পরিবারের ক'জন | এরা নতুন যৌবনের দূত। এরা অকারণে চঞ্চল। এরা দামাল ,এরা অদ্ভুত। এরা নবীনতায় ভরা, সজীবতায় পূর্ণ। এদের মনে অসীম সাহস, মুখে সদা হাসি। এদের প্রাণে আছে বল যেন জোয়ার জলে ভাসি। নতুন প্রজন্মের এই ক'জন পাগলা হাওয়ায় মেতে উঠে গড়ে তুলেছে একটি দলছুট ব্যাণ্ড যার নাম "প্রান্তিকা" এরা পুরাতনকে ফেলে দেয় না, নতুনকে ও স্বাগত জানায় । শান্তিনিকেতনের অনতিদূরে ছোট্ট শহর প্রান্তিকের সোনারতরী আবাসনের দুর্গোত্সবে আমরা এদের প্রতিভার পরিস্ফূরণ লক্ষ্য করি। এদের চোখে সুরের ভাষা, মুখে স্বরের মূর্ছনা, এবং কন্ঠে সুর,ছন্দ,তাল ও লয়ের অপূর্ব মেল বন্ধন লক্ষ্য করা যায়।










১৬ সেপ, ২০০৮

দিদির দুঃখ

পশ্চিমবঙ্গে সহসা শিল্পায়নের হাইটেক জোয়ার এসেছে। বেশ ভাল কথা। অনেক বছর পিছনে হাঁটার পরে আমরা বিবেকানন্দের অমোঘবাণী "উত্তিষ্ঠিত, জাগ্রত" কে পাথেয় করে এগুতে সহস করেছিলাম। বুঝতাম সিঙ্গুরের আলু প্যাকেজিং হয়ে সি-আট্-ল্ পৌঁছে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে এল, তাহলেও হোত। সিঙ্গুরের চাষী একটু বেটার লাইফস্টাইলের মুখ দেখতো। কিন্তু কৃষিজমি, জীবিকা এসব নিয়ে এখন বিরোধীদল যা করছেন তা দেখে মনে হয় বাঙালির আত্মঘাতী নাম সার্থক। আসলে আমাদের মাননীয় দিদি নতুন করে কুড়ুল মারেন নি নিজের পায়ে। আবেগপ্রবণ দিদি বলতে চান পিছিয়ে গেছি ই যখন সুদীর্ঘ একত্রিশটা বছর তখন আর এগিয়েই বা কি হবে? "এমনি করেই যায় যদি দিন যাক্ না" এতদিন তোমাদের কথা যখন রইল, এবার আমার কথাই থাক্ না | "ভাবিতে উচিত ছিল প্রতিজ্ঞা যখন"| একদিন তোমরা টাটা-বিড়লার কালো হাত গুঁড়িয়ে নুলো করতে চেয়েছিলে , রক্ত দিয়ে অটোমেশন রুখেছিলে, প্রাথমিক স্তরে ইংরেজী উঠিয়ে দিয়েছিলে তখন ভাবো নি যে, বেশিদিন নেতিবাচক, বন্ধ্যা রাজনীতির বোরখা পরে বঙ্গবাসী অমানিশার মুখ দেখবে না একদিন তাদের বোধদয় হবেই তাই টাটার সাথে হাঁটা শিখলে! সালিমের কাছ থেকে ব্যবসার তালিম নিলে! অভিমানী দিদির মনের জ্বালা আমরা আর কি বুঝি। আমরা শিল্পায়নের জোয়ারে উদ্বেলিত হয়ে মনে মনে বলছি "বেটার লেট দ্যান নেভার"| কিন্তু দিদির মনের ব্যাথা অন্যখানে | তিনি যে নিজের চোখে দেখেছেন সত্তরের দশকের বাঙলার বেকারত্বের হাহাকার, শয়ে শয়ে বন্ধ কলকারখানার শ্রমিক ইউনিয়নের চিত্কার , আই.বি.এম, পেপসির মত মাল্টিন্যাশানালদের এ রাজ্য থেকে একদা মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া | এখন তেলের শিশি ভাঙলো বলে খুকুর পরে রাগ করলে কি করে হবে?

৪ সেপ, ২০০৮

সর্বশিক্ষাঅভিযানের ঢক্কানিনাদ ফক্কানিনাদে পরিনত হল!!


"সর্বশিক্ষা অভিযান(SSA)" নামে গালভরা একটি প্রকল্প চালু আছে যা শুরু হয়েছিল কেন্দ্রীয় ও রাজ্যসরকারের সহায়তায় ২০০১ সালে | সারা ভারত ব্যাপী শিক্ষাক্ষেত্রে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল । উদ্দেশ্য একটাই : ৬ থেকে ১৪ বছরের সকল শিশুর জন্য অবৈতনিক এবং আবশ্যিক শিক্ষা । এই কর্মসূচি রূপায়নের প্রথম ধাপ ছিল শিক্ষক - ছাত্র অনুপাত বৃদ্ধিকরে ১:৪০ করা | যার জন্য অস্থায়ী প্যারা টিচার নিয়োগ করা ছিল আবশ্যিক। এবার গ্রামে গঞ্জে, এমনকি শহরতলী সর্বত্র শিক্ষিত বেকার গ্র্যাজুয়েটরা আবেদন করে নিযুক্ত হোল প্যারা টিচার নামক পোষ্টটিতে। তাদের বেতন কত জানেন? মাসে ২০০০ টাকা। যা বৃদ্ধিপেয়ে ২০০৭ এ হোল ৩০০০ টাকায়। যে দেশে ক্রিকেটপ্রেমীরা ২০০ থেকে ১০০০ টাকা অবধি খরচা করে খেলার মাঠে যায়, যেখানে পড়ুয়ারা স্কুল পালিয়ে পকেটমানি জমিয়ে মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমা দেখে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা অবাধে খরচা করে, যেদেশে দুর্গাপুজোয় থিম পুজো নিয়ে এত মাতামাতি করে পুজোর কর্মকর্তারা ফান্ডরেজিং এর জন্য পারলে প্রাণ দিয়ে দেন, একটা "কুমার অমুক" কি "মিস তমুক" নাইটের জন্য লাখে লাখে টাকা খরচা হয়ে যায় সেখানে প্যারাটিচার মহাশয় কিন্তু দিনের পর দিন স্কুলে হাজির হয়েও মাস গেলে তার ঐ যত্সামান্য বেতন পান না অথবা বকেয়া বেতন আদায়ে তার কালঘাম ছুটে যায় । এত গেল প্রাথমিক শিক্ষকের দুরবস্থা | চুক্তিবদ্ধ, অস্থায়ী, প্যারা টিচার বহু স্কুলে স্থায়ী টিচারের পদ শূন্য পড়ে আছে। প্যারাটিচারগণকে বাধ্য করা হয় স্থায়ী টিচারের ক্লাস গুলি নিতে নতুবা তাকে শীঘ্রই বরখাস্তের হুমকি দেওযা হয়। এমনকি মধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক স্তরেও প্যারাটিচারদের এহেন এক্সপ্লয়টেশন চলছে। এদিকে ফুলটাইম স্থায়ী শিক্ষকেরা বহাল তবিয়তে গৃহশিক্ষকতা করে চলেছেন | তাদেরও উপায় নেই |আমাদের দেশের শিক্ষকদের সঠিক মূল্যায়ন কোনো কালে ছিল না ভবিষ্যতেও হবে বলে মনে হয় না | কে ঠিক করবে শিক্ষার মান? কে ঠিক করবে শিক্ষকের বেতনের পরিকাঠামো? এসব তুচ্ছ জিনিষ নিয়ে মাথাব্যাথা কারোর নেই | বহুদিন আগে এক প্রখ্যাত দক্ষিণী গায়িকা দুঃখ করে বলেছিলেন কত কষ্ট করে গুরুজির বেতন জোগাড় করে গান শিখেছি। আজ এত নামডাক আমার | কিন্তু ক্রিকেট খেলে বাচ্চাছেলেটি যা পাচ্ছে আমি একটা জলসাতে গান গেয়ে তার এক দশমাংশও পাই না | সেই গায়িকার সাথে সহমত পোষণ করে বলি শিক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করে একটা কিছু করা আমাদের দরকার | টিউশান রোধ করে কি হবে? শিক্ষকের বেতনের পরিকাঠামো বদলাতে হবে। তাঁদের প্রাপ্য বেতন সময়মত দিতে হবে। তবেই তাঁরা স্কুলে কোয়ালিটি টিউশান দেবেন |
মহামান্য শিক্ষামন্ত্রীরা কেন রামকৃষ্ণমিশনের কাছ থেকে শেখেন না? কেমন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালাতে হয় , কেমন করে সরকারী টাকা নয়ছয় না করে শিক্ষাখাতের জন্য বরাদ্দ টাকা শিক্ষাখতের উন্নয়নেই ব্যয় করতে। বিবেকানন্দ কবে বলেছিলেন অশিক্ষা আর কুশিক্ষাই আমাদের দেশের প্রধান শত্রু। তাই বিদেশের জেসুইট সোসাইটির অনুকরণে তিনি গড়ে তুলেছিলেন "রামকৃষ্ণ মিশন" যারা "শাকের টাকা শাকে আর মাছের টাকা মাছে " এই পন্থায় এখনো সুন্দর ভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষাকেন্দ্র গুলিকে ।
তাই "সর্বশিক্ষা অভিযান " নামে এই ঢক্কানিনাদ আজ ফক্কানিনাদে পর্যবাসিত হোল | neither অভিযান nor মিশন কোনোটিই পশ্চিমবাংলার প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য " Universal elementary education for all by 2010"এ রূপায়িত হতে পারল না গ্রামে গঞ্জে লক্ষ লক্ষ শিশু এখনো নিরক্ষর, মিড ডে মিলের প্রলোভন দেখিয়ে ও সরকার পারলেন না দরিদ্র পথশিশুদের স্বাক্ষর করতে , মহামান্য মন্ত্রী বলেন
" কেনরে ছেলে পড়িস না? ছাত্র বলে ," টিচার কেন আসেনা ? মন্ত্রী বলেন "কেনরে টিচার আসিস না ? শিক্ষক বলেন,” কেনরে তোরা আমার সঠিক বেতন দিস না ? আমি স্কুল পড়িয়ে যা পাব প্রাইভেটে ঢের বেশি পাবো , যেখানে বেশি পাবো সেখানে ভালো সার্ভিস দেবো।" তাই মন্ত্রীমশাই মিড-ডে-মিল এ ম্যাগি অথবা বিরিয়ানি চালু করেও সুরাহা হবে না| ছেলেরা চেটে পুটে খেয়ে মুখ মুছে ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়বে আর সর্বশিক্ষা অভিযানের ফ্রি পুস্তক পুড়িয়ে মিড -ডে-মিলের রান্না হবে |
এই ভাবেই আমার কথাটি ফুরোবে, নটেগাছটি মুড়োবে ,কিন্তু কেনরে নটে মুড়োলি তার গোড়ার গলদের কথা কেউ জানবেনা, কেউ চেষ্টাও করবে না তা জানার | শুধু ফি বছর ঢাক পিটিয়ে "শিক্ষক দিবস " পালন চলবে আর সর্বশিক্ষা অভিযানের আইকন হয়ে একটি বিশাল পেন্সিলের দুই প্রান্তে দুটি শিশু মস্তিতে আবহমান কাল ধরে বসে থাকবে।


২ সেপ, ২০০৮

শরণাগত, দীনার্ত, পরিত্রাণ প্রার্থী, পরীক্ষার্থী

জবাকুসুমসঙ্কাশন কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিং
এবারের মত ক্লাসে তুলে দাও, হয় নাকো যেন কোনো বড় সিন্।।
সরস্বতিমহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে
কেস যেন না খাই ক্যালকুলাসে, জয় হয় যেন মহারণে।।
জয় জয় দেবী চরাচরসারে কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে
ত্রিকোণমিতি আর পরিমিতি, দয়া যেন করে শুধু আমারে।।
সরস্বত্যৈ নমোনিত্যং ভদ্রকাল্যৈ নমোনমঃ
কেমিকাল-ইক্যুয়েশন ব্যালেন্সিং মোর আসে যেন শুধু কমোকমঃ।।
সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে
সল্ট-এনালিসিস পারি যেন মাগো, সার্কিট যেন পড়ে না বিপাকে।।
নমো ব্রহ্মণ্যদেবায় গো-ব্রাহ্মণ্যহিতায় চ
পদার্থবিদ্যায়, রসায়নায়, অঙ্কশাস্ত্রায়শ্চ নমো নমঃ।।
নমো মুখস্থবিদ্যায় প্র্যাক্টিসশ্চ পড়িলাম মহাসাগরে
অকুলস্রোতে হাবুডুবু খাই, সারাবছর আমি না পড়ে।।
ত্বমেব মাতা পিতা ত্বমেব, ত্বমেব বন্ধুশ্চ সখা ত্বমেব
এবারের মতো পাশ করিয়ে দাও, কান দেবো নাকো টিভি এফ্-এম্ এ ।।

৭ আগ, ২০০৮

A key e-ব্যাঙ্ কিং or g-বং যুদ্ধ ?

ইউনাইটেড স্টেটস্ এর অবতার যখন Y -2K'র ছড়ি ঘুরিয়ে সারাবিশ্বের দরবারে যাদু সৃষ্টি করল তখন আমাদের দেশেও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক ঢেউ এসে আছড়ে পড়েছিল প্রথমে বিদেশি ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় ও কিছু পরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কম্পিউটার স্ক্রীনে।তখন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির ষ্টাফ, অফিসার কেউই সানন্দে whole heartedly মেনে নিতে পারেন নি এই অট্যোমেশন | নতুন প্রজন্ম মহা আনন্দে এই কম্পিউটারাইজেশনকে welcome জানাল কিন্তু বয়স্করা এই নব্য প্রযুক্তির সংযোজনে Male-Menopause এর স্বীকার হলেন । স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে থমকে দাঁড়িয়ে গেলেন। কিং-কর্ত্যব্য-বিমূঢ় হয়ে সারাদিন অফিসে 'আসি যাই মাইনে পাই' এই মানসিকতা নিয়ে ম্লান বদনে গণক মেশিনের দিকে করুণপানে তাকিয়ে দিন যাপন করতে লাগলেন। একদিকে চাকুরীরক্ষার দায় অন্যদিকে কম্পিউটারে প্রশিক্ষণের আবশিক্যতা এই দুয়ের টানাপোড়নে কালাতিবাহিত করতে লাগলেন.. "একি জ্বালারে বাবা".... "আমাদের কি এই বয়সে কম্পিউটার না শিখলেই নয়"? "না" জানালেন ম্যানেজমেন্ট |" ভালো তো , না পারেন তো VRS নিয়ে বাড়িতে বসে পড়ুন , আপনারও শান্তি , আমাদেরও লাভ | অগত্যা, "এই বেশ ভাল" এই সত্যকে মেনে নিয়ে অনেকে স্বেচ্ছাবসর নিলেন , সঙ্গে থোক টাকা | কিছু ষ্টাফ দাঁতে দাঁত চেপে নতুন প্রযুক্তিতে "কাটাইনু সারাদিন সুখ পরিহরি, অনিদ্রায় অনাহারে সঁপিকায় মন" এই ভাবে দক্ষতা অর্জন করলেন | এবং দন্ত রুচি-কৌমুদী বিকশিত করে ,কাউণ্টারে কম্পিউটার স্ক্রীনের বিপরীতে বসে ঠান্ডা-যুদ্ধ চালিয়ে গেলেন | কিছু বছর পরেও সেই ট্র্যাডিশন এখনো চলছে .....

কলকাতার কোনো এক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কথোপকথনের ক্যানভাস থেকে একটি মজার চিত্র তুলে ধরলাম :
[diclaimer: কারুকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে নয় , just একটু মজা করার জন্য ]

সুমন: "সুপর্ণাদি ,ঐ ভদ্রলোককে FD certificate টা প্রিন্ট করে দিন না ,উনি দু দিন ঘুরে গেছেন |"
সুপর্ণাদি: "এই সুমনা তুমি কি মেশিনটা ছাড়বে? আমি তবে প্রিন্টাউট নিয়ে নি "
সুমনা: "আরে দাঁড়াও সুপর্ণাদি আমার মেশিন hang করে গেছে "
সুপর্ণ :আরে বাবা কতবার তো বলেছি, CAD মারো | মেরেছো?
সুমনা:এই যাঃ সব গেল! সারাদিন এত খেটে data গুলো entry করলাম! save করতে ভুলে গেছি। কি হবে এখন ?
সুপর্ণ: দেখি আপনার user-id,password টা দিন দেখি
সুপর্ণাদি : এই সুমন? দেখোনা ভাই, মিসেস বোসের একটা pay-order আছে
সুপর্ণ : দাঁড়ান তো আগে ঠিকমত logout করে বেরোই
জনৈক customer: দাদা আজও আপনাদের মেশিন খারাপ আমিএর আগে দু দিন এসে এই একই অবস্থা দেখে গেছি। আজও আমার passbook updation হবেনা? কত গুলো ECS হোল কিনা দেখার ছিল ....
সুপর্ণ: দাদা একটু বসুন না.. চা-কফি কিছু ? এই বিমল এনাকে চা দে | দাদা , দুধ চা ? না লেবু চা ? চিনি ছাড়া না চিনি দিয়ে ?
বিরক্ত customer:আরে মশাই রাখুন তো আপনার চা আমার কাজটাই হোলনা, ECSটা জেনে নিলে....আমার একটা payment ছিল।
সুমনা : এই বারে হয়েছে, যাক বাব্বা! বাঁচলাম। এই বিমল? আমাকে চা দিলি ,বিস্কুট দিলিনা ?
সুপর্ণাদি : তোমার শাড়ির রং টা খুব suit করেছে তোমার complexion এর সাথে |
সুমনা : এই দেখ সুপর্ণাদি আবার log-in করতে পারছিনা | কি যে হচ্ছে আজ!
সুপর্ণাদি : দাড়াও আমার printer এ cartridge শেষ , printout নিতে গিয়ে মাঝপথে error দিল | ওফ্! আর পারিনা ;
সুমন : হ্যাঁ, বলুন দাদা, আপনার জন্য কি করতে পারি ;
জনৈক customer : কি আর করবেন দাদা ? এই computerisation এক আপদ হোল দেখছি ... রোজ রোজ মেশিন খারাপ, প্রিন্টারে কালি নেই, নেট-ওয়ার্কে গন্ডগোল...
সুপর্ণাদি : হচ্ছে না সুমন, তুমি এস এখানে একবার please... একটু দেখোনা...
সুমন : আরে আগের প্রিন্টটা ক্যানসেল করেন নি এখন print করতে শুরু করলে মেশিন আবার hang করে যাবে।
সুমনা : সুপর্ণদা, আমার ফাইলটা আর edit করা যাচ্ছে না , read only তে চলে গেছে। কি হবে?
সুপর্ণ : ফাইলে গিয়ে 'save as' করে re-name করে আবার save করো।
সুপর্ণাদি : এই সুমন ছাড়ো না machine , বিমল কে cartridge লাগাতে বল |
সুমন : আগে reset করুন তারপরে print-option এ যান ...
সুমনা : এই যাঃ সব উড়ে গেল ...
সুপর্ণ :সুমনা, নাহলে machine টা shut-down করো,করে আবার restartকরো |

২৩ জুল, ২০০৮

মৌসুমী অধিবেশনের পর্যালোচনা

প্রথমে , ঝলক দিখলা যা...

  • নিউক্লিয়ার-ডিল কে সমর্থন করতে গিয়ে মুলায়ম-মনমোহনের মধুর-মিলন ।
  • পক্ক্ব-কেশ, প্রকাশ কারাট প্রচুর ক্যারট খেয়ে দৃষ্টিশক্তি বাড়িয়েছিলেন কিন্ত ইউ-পি-এ সরকার থেকে সাপোর্ট প্রত্যাহার দেখে মনে হয় তাঁর ক্যারাট-মিটারের রিডিংটা ভুল নেওয়া হয়েছে। এর চেয়ে ক্যারাটে প্রশিক্ষণ নিলে বোধ হয় ভাল হোত।
  • বিজেপির এই মূহুর্তে বামে রাম ও ডাইনে বাম।
  • সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম ইস্যু নিয়ে ক'দিন আগে আরএসপি নেতা ক্ষিতি ক্ষ্যেপে ব্যোম্ হয়েছিলেন তাঁর ওপরওলাদের উপর। তাতে অবিশ্যি কোনো মেজর ক্ষতি হয়নি। এখন কারাটের করাত চালনায় সোমনাথ ক্ষেপে ব্যোমনাথ । কেন তাকে স্পিকারপদ ছেড়ে দিতে হবে? তিনি সিপিএম পার্টির হতে পারেন কিন্তু তিনি লোকসভার মাননীয় স্পিকার মহাশয়--তিনি কি এদের হাতের ক্রীড়নক?
  • মমতা অবিশ্যি এখন খুশিতে ডগমগ। একে ব্যাপক লোডশেডিং এর দাপটে বুদ্ধের চোখে কালি , তাতে আবার বিকাশ জল-নিকাশ করতে পারছেন না | একেই শিল্পায়নের জোয়ারে মানুষ হাবুডুবু খাচ্ছে | তার ওপরে প্রতিনিয়তঃ মুদ্রাস্ফিতির চাপে সাধারণ মানুষ পিষ্ট।
  • এসব তো সারাদেশের প্রবলেম। অন্যবছর বৃষ্টি হলেই ইনফ্লেশন কমে,শেয়ার-সূচকের পারদ হৈ হৈ করে বাড়তে থাকে,সোনার দাম কমে ।
  • যত দোষ নন্দঘোষ হল পরিশোধিত,অপরিশোধিত তেল। বিশ্বের বাজারে তেলের দাম না বাড়লে , বিকল্প হিসেবে নিউক্লিয়ার পাওয়ার জেনারেশনের কথা কেউ ভাবতো না | আপামর-জনসাধারণ অবিশ্যি এসব নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না তাঁদের জিনিষপত্রের দাম কমলেই হোল।
  • এই সব সাতপাঁচ ভেবে বুদ্ধ বিপাকে।জল সরাবেন, না আলো জ্বালাবেন ? আম-ইলিশের দাম কমাবেন, না হাসপাতালের রোগীর পাশে কুকুর হটাবেন? বুদ্ধের বুদ্ধিতে সত্যিই কুলোচ্ছে না | মমতার ক্ষমতা দেখে এমনিতেই একটু দমে রয়েছেন তাঁরা সকলে।

  • পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলের সাফল্য দেখে এবারে সংখ্যালঘুদের তোষণ হবে কি না সেটাও বিচার্য্য ; বর্ষীয়ান বিরলকেশ মাননীয় জ্যোতিবাবু কি আর পারেন বুদ্ধি দিতে?
  • বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা আদবানি সদ্য আত্মজীবনী প্রকাশের আনন্দে আত্মহারা । তাতে আবার বামের সাথে ইউপি এর বিরুদ্ধে আস্থাভোট দিতে হোলে আসন্ন জন্মাষ্টমীর কি এজেন্ডা হবে? রামনবমীতেই বা কি হবে? রথে করে বিজেপির ভারত-পরিক্রমা হবেনা? নাকি আদবানি এবার মহরমের তাজিয়া নিয়ে বেরুবেন?
শেষে এখন উপায়?

সেবার এসেছিল ফিল্-গুড্-ফ্যাক্টরের টাইফুন। এবার কি সেই আনন্দধারা আর বহিবে না ভুবনে? সেবার শুনেছিলাম তৃতীয়বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে "ইন্ডিয়া শাইনিং"এর রূপোলী গল্প। এপাড়ার ভিখারি ওপাড়ার ভিখারিকে মোবাইলফোনে জিগেস করছে" আজ ভিক্ষের বাজার কেমন?” আমার কাজের মেয়েটি ছেলের স্কুলের টিফিনে ম্যাগি দিচ্ছে, আমাদের স্যুইপার রাস্তায় আঙ্কল্-চিপ্-স্ চিবোচ্ছে । সে বছর আমার মালী তার বৌ কে গানের স্কুলে ভর্তি করেছে ,অফিসের ড্রাইভার বৌ কে নিয়ে ধনতেরসের গয়না কিনছে,রাম-শ্যাম-যদু-মধু সকলেই এফ্-এম্-সি-জি'র ক্রেতা , গ্রামে গিয়ে দেখি বাচ্চারা বিগ্-বাব্-ল্- ফোলাচ্ছে। ট্যক্সিচালক নাইটে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিচ্ছে আরো ভালো লাইফ-স্টাইলের মুখ দেখবে বলে | দেশে কতো ফ্লাইওভার, কতো মাল্টিপ্লেক্স হয়েছে , কতো পাঁচতারা হোটেল,কতো শপিংমল হয়েছে ,কতো দেশি-বিদেশি গাড়ী এসেছে বাজারে কতো কল্-সেন্টার হয়েছে ,সত্তর-আশির দশকের মতো অর্ডিনারি বি.এ, বিএস্-সি , বি.কমরা বেকার হয়ে পাড়ার রোয়াকে বসে আড্ডা দিচ্ছেনা বা বস্তির নাবালক সিনেমা হলে টিকিট ব্ল্যাক করতে গিয়ে ধরাও পড়ছে না | বরং রাস্তার মোড়ে কি করে একটা ফাউন্টেন পেপসির গাড়ি অথবা আমূল দুধের ব্যবসা করা যায় তাই ভেবে বারাসাত থেকে বেন্টিঙ্কস্ট্রিট ছুটছে। দেশের আকাশে বাতাসে ফিল্-গুড্- ফ্যাক্টরের অনুরনণ। গেরস্তের হাতে টাকা , হিগ্-মিগ্-লিগ্ সকলেই রিয়েল-এস্টেটে লগ্নি করেছে । সকলের পাতেই মহার্ঘ্য ইলিশ, অগ্নিমূল্য বাজারদরে সকলেরই একটা "ডোন্ট-কেয়ার এটিচ্যুড "। কিন্তু এ কার নেক-নজরে পড়ে গেলাম আমরা ? রোজ সেনসেক্স নিম্নমুখী , তরলসোনা,ধাতবসোনা ঊর্দ্ধমুখী , মুদ্রাস্ফিতীও সর্বকালীন ঊর্দ্ধসীমা পেরিয়েছে, বাজারদর অগ্নিমূল্য, নিউক্লিয়ার-ডিল সাইন হলে কি এ সমস্যার সমাধান হবে ?

১৯ জুল, ২০০৮

More ভাবনারে ..... তৃতীয় পর্ব

আসলে কলকাতার বাঙালীর গতরে শুঁয়োপোকা, ভাবনায় উইপোকা, এবং মানসিকতায় ঘুণপোকা । এরা কুরে কুরে সর্বক্ষণ বাঙালী কে খেয়ে ফেলছে। বাঙালীর কর্মে আলস্য, আলস্যের পরিণামে নিদ্রা , এবং সর্বোপরি নিদ্রায় আতিশয্য এদের শ্রম-বিমুখতার কারণ। এ জাতি ভাঙ্গতে জানে বেশী, গড়তে জানে কম।

এ শহরের লোকের মজ্জায় মজ্জায় মত্স্যের ঘ্রাণ, হাড়ে হাড়ে হাওয়া বদলের জন্য সদা ব্যাকুলিত প্রাণ, রক্তের প্রতিটি কণায় কণায় নৃত্য-গীত-বাদ্যানুরাগ | এদের চোখের চাহনিতে চপলতা, চলনে চঞ্চলতা , গমনে গতিহীনতা , ব্যাক্তিত্বে ছদ্ম-গাম্ভীর্য্য ,ভোজনে ভুঁড়ি-বিলাসিতা , আর মুখে তর্কের ফুলকি ও যুক্তির ভেলকি। বাঙালী দিনের বেলায় মাছ-ভাত খেয়ে ভুঁড়ি উঁচিয়ে যত ঘুম দিতে পারে সন্ধ্যাবেলায় মুড়ি-তেলেভাজা সহযোগে ততধিক আড্ডার আরাধনা করে। এ শহরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অন্ধ ভালবাসা, যার গন্ধে গন্ধে বিজাতীয় মানুষ এখানে ভীড় করে | মানুষের চৌম্বকীয় আবেশে মানুষকে বশ করে কাছে টানে। সস্তার এ শহরে একবার কেউ এসে ব্যবসা ফাঁদলে ধনী হয়,পস্তায় না | বাঙালী কেবল শাড়ি,স্বর্ণ এবং শর্করাজাত অর্থাত্ মিষ্টান্ন --এই তিনটির ব্যবসায় যুগে যুগে হাত পাকিয়েছে। অধুনা বাঙালী রমণীদের গতিশীলতায় কলকাতার বুকে বিউটিপারলার তো পিঠে শাড়ির বুটিক ,ও হাতে হোম্-ডেলিভারি |

শত-সহস্র তারকাখচিত এ শহরের আকাশ। যার রূপে সুচিত্রা রসে ভানু, বর্ণে সৌমিত্র কন্ঠে শানু | এ শহর আমাদের উপহার দিয়েছে সৌরভকে তেমনি হারিয়েছে নিজের গৌরবকে। এখানকার মানুষের শয়নে উত্তমকুমার,স্বপনে হেমন্তকুমার আর জাগরণে কিশোরকুমার। এ কলকাতাবাসীর ছন্দে তনুশ্রী-আনন্দ, সুরে শচীনকর্তা-কৃষ্ণচন্দ্র, সঙ্গীতে নজরুল-রবীন্দ্র, রসে রাজশেখর-সঞ্জীবচন্দ্র, সাহিত্যে বঙ্কিম-শরত্চন্দ্র, স্পর্শে সিনিয়র-জুনিয়র প্রদীপচন্দ্র, শিল্পকলায় যামিনী-গগনেন্দ্র ,স্বর্ণে পিসিচন্দ্র আর সর্বোপরি মিষ্টান্নে কে.সি.দাস কিংবা যাদবচন্দ্র.....এদের নিয়েই বাঙালী বহাল তবিয়তে কাল যাপন করছে। যুগ যুগ ধরে এ শহর তৈরি করেছে ব্রান্ডেড-ব্যাক্তিত্ব । যেমন অফুরান হাসিতে ঘনাদা, রহস্যে ফেলুদা, রোমাঞ্চে টেনিদা ইত্যাদি।

এখনকার বহুতলে বর্ণময় কলকাতার তালতলা , বেলতলা , নাকতলার সাথে যুক্ত হয়েছে হাইতোলা ও হিলতোলা এক কালচার। এ কলকাতার হাওয়ায় হাঁপানি হয়, জলে জন্ডিস হয়,এবং মশায় ম্যালেরিয়া হয়।আধুনিক কলিকাতার দার্শনিক মানুষের জলে এখন আর্সেনিক, নবনির্মিত নর্দমার মুখে প্ল্যাসটিক ,যা কিনা পরিবেশবিদের উদ্বেগের কারণ। মিষ্টান্নে মেটানিল-ইয়েলো এবং সরবতে এলিজারিন-রেড রসায়নবিদের গবেষণার বিষয়।

পথে যেতে যেতে কলকাতা কে দেখে একখানা পুরভর্তি মচ্ মচে পরোটা মনে হয় যার কোথাও যাদবপুর,কোথাও সেলিমপুর; কোথাও আলিপুর তো কোথাও চিত্পুর। কখোনো আবার আলমবাজার, বড়বাজার, বাগবাজার, শ্যামবাজার, নাগেরবাজার শুদ্ধ এ শহরকে মনে হয় বাস্তবিকই আমরা প্রত্যেকে বিগ্-বাজারের ব্যাপারী। যে শহরের আকাশে বাতাসে মাছের আঁশটে গন্ধ কেন তার কাছে অ-বাঙালীর ভীড়্? চিংড়িহাটায় জ্যাম নিয়ে ,তপসিয়ায় তৃণমূলীদের নিয়ে, ট্যাংরার চাইনিজ নিয়ে আমরা আজও আছি ও থাকবো। ভেতো বাঙালীর বাজারের থলি থেকে সজনেডাঁটা আর পুঁইশাক উঁকি দেবে। বাঙালীর পোস্তোচচ্চড়ি ছাড়া কড়াই এর ডাল রুচবে না , বাঙালী যুত করে মাছের কাঁটা চচ্চড়ি চিবোবে, বাঙালী মজা করে মৌরলার টক খাবে আর সরষের তেল ছাড়া ইলিশমাছ রাঁধবে না । এই নিয়ে তারা শন্তিতে থাক না.. ক্ষতি তো নেই। তাতে যদি অন্যের ক্ষতি না হয় ... রোজ সন্ধ্যায় তুলসীতলায় আলো দিয়ে রেডিও খুলে অনুরোধের আসরে প্রতিমার আরতি শুনুক .. ...অথবা বিকেলে ভোরের শুকনো ফুল ফেলে শাঁখ বাজিয়ে বাড়ির মঙ্গল কামনা করুক .... নৈশাহারের পরে দিলখুশের জন্যে মন উস্-খুস্ করবে, নতুন প্রজন্ম লোডশেডিং এ অঙ্ক কষে বিদেশ যাবে, বাংলা ব্যান্ডের ফাজলামি আর নেতাদের পাগলামি নিয়েই পড়ে থাকবো...ক্ষতি কি? শুধু দফ্তরের ডেস্কে বসে ঘুমোব না আর নিজের পায়ে কুড়ুল মারব না। তাহলেই আমাদের মোক্ষলাভ হবে। সৃজনশীল বঙ্গসন্তান বুদ্ধি বেচে বড় হবে, অদূর ভবিষ্যতে কোলকাতা হবে "The entertainment hub for the world" যেথায় আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সৃষ্টি সুখের উল্লাসে উদ্দাম নৃত্য-গীত-বাদ্যের সমন্বয়ে জগতের মনোরঞ্জন করে "কলযুগ্-কি-কলিউডের" আখ্যা পাবে। এখানেই তার সার্থকতা। তথ্য-সংস্কৃতি-শিল্পকলার সেরা পীঠস্থানে বঙ্গ সন্তানদের শর্মিলা-জয়া-রাণী-রিয়ার মতো কিংবা রাহুল-কিশোর-শান-শানুর মতো মুম্বাই পাড়ি দিতে হবে না।কলকাতার মানুষ দোল-দুর্গোত্সবে দক্ষযজ্ঞ নিয়ে, বামে-ডানে দলাদলি করে, নন্দনে সত্যজিতের বন্দনা, রবীন্দ্রসদনে রবির আরাধনা আর রবীন্দ্র সরোবরে প্রেমের উপাসনা নিয়ে যদি কোনো এক দিন জগতের আনন্দ-যজ্ঞে নিমন্ত্রণ পায় ......শুধু ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি -hypocrisy এবং corruption এই মানিকজোড় যেন আমাদের জীবন থেকে বিদায় নেয়। পুনরায় আমাদের কল্লোলিনী কোলকাতা যেন ভারতবর্ষের রাজধানী হবার যোগ্যতা অর্জন করে। উপর থেকে নেতাজি-নেহেরু-গান্ধীরা দিল্লির মসনদের ঘাড় ধরে কোলকাতায় নিয়ে আসার আদেশ দেন। এ তো যেকেনো সময়েই সম্ভব। মহম্মদ-বিন্-তুঘ্-লক্- আমাদের সেই রূপ শিক্ষা দিয়েছেন।

সবশেষে বলি, কলকাতার কালিমা ,কলুষতা ,কপটতা আলোকের ঝর্ণাধারায় ধুয়ে মুছে সাফ হোক। এই জনমেই ঘটাতে চাই--- জন্ম-জনমান্তর........ সুন্দর,হে সুন্দর!!

(সমাপ্ত)