৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বাংলার প্রথম ছাপা বই এর নাম জানো?

 ওয়ারেন হেস্টিংস শিক্ষার অনুরাগী ছিলেন। খুব লেখাপড়া পছন্দ করতেন। বিশেষতঃ ইষ্টার্ণ ইন্ডিয়ার এই কলকাতার সম্বন্ধে ওনার জানার খুব আগ্রহ  ছিল। তিনি  নাথানিয়াল ব্রাসি হ্যালহেড সাহেব কে দিয়ে ইংরেজিতে বাংলাভাষার গ্রামার ব‌ই লিখিয়েছিলেন। সেটা ছিল ১৭৭৮ সাল। কেন লেখালেন? নিজেদের সুবিধে হবে তাই। বাংলা লিখতে পড়তে পারলে ওদেরই শাসনকার্যে সুবিধে তখন। আর হ্যালহেড সাহেব কী সুন্দর বাংলাভাষাটা সে যুগে রপ্ত করেছিলেন!  তাই তরতর করে বাংলা গ্রামারের ব‌ইখানি লিখে ফেলার সাহসও দেখিয়েছিলেন। ব‌ই তো লেখা হল। কিন্তু ছাপা হবে কি করে? বাংলা হরফ ক‌ই? হেস্টিংস অর্ডার করলেন উইলকিনস সাহেবকে । বাংলা হরফ বানাতে। প্রিন্টিং প্রেসে বাংলা ব‌ই ছাপা হবে। ব্যাস! এবার হ্যালহেডের সেই গ্রামার ব‌ইয়ের পাণ্ডুলিপি চার্লস উইলকিনস প্রিন্ট করিয়েছিলেন বাংলা হরফে। বাংলাদেশের প্রথম ছাপাখানা এই হেস্টিংসের ইচ্ছেতেই হয়েছিল কিন্তু। শুধু তাই নয় উইলকিনসকে দিয়ে তিনি প্রথম ইংরেজীতে অনুবাদ করিয়েছিলেন শ্রীমদ্ভাগবত্গীতা । 

কলকাতার কাছেই হুগলীতে ছাপাখানাটি খুললেন চার্লস উইলকিনস। তাঁকে সাহায্য  করলেন একজন বাঙ্গালী পন্ডিত মানুষ। নাম পঞ্চানন কর্মকার। এদের দুজনের প্রচেষ্টায় জন্ম নিল প্রথম বাংলা ব‌ইয়ের ছাপার হরফ। 

সে যুগে শিক্ষার প্রসারে সবচেয়ে বেশী সহায়ক হয়েছিল মুদ্রা যন্ত্র বা প্রিন্টিং প্রেস। বাংলা ভাষায় ছেপে বেরনো প্রথম বই হিসেবে প্রসিদ্ধি পাওয়া ‘আ গ্রামার অফ দ্য বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ’-এর সব কটা বাংলা হরফ এই পঞ্চানন কর্মকারের তৈরি। তাতে কালি লেপেই বাংলা অক্ষরের ছাপ তোলা হয়েছিল কাগজে। হুগলী তে সূত্রপাত আর তারপরেই কলকাতা শহর মুদ্রণের পীঠস্থান হয়ে ওঠে। সমাজের ওপর ছাপাখানার প্রভাব পড়ার শুরু তখন থেকেই। ছাপাখানা থেকে স্রোতের মত বই বেরুতে লাগল। ছাপা বই বেরিয়েছিল বলেই এদেশে শিক্ষার প্রসার সুগম হয়েছিল।

কোন মন্তব্য নেই: