২৬ সেপ্টেম্বর, ২০০৮

অদ্রিজার আগমনী


যা চন্ডী মধুকৈটভাদিদৈত্যদলনী যা মাহিষোন্মূলিনী
যা ধূম্রেক্ষণচন্ডমুন্ডমথনী যা রক্তবীজাশনী |
শক্তিশুম্ভনিশুম্ভদৈত্যদলনী যা সিদ্ধিদাত্রী পরা
সা দেবী নবকোটীমূর্তিসহিতা মাং পাতু বিশ্বেশ্বরী || (২)

যে চন্ডিকা মধু-কৈটভাদি দৈত্যনাশিনী, যিনি মহিষাসুরমর্দিনী, এবং চন্ড-মুন্ডাসুর সংহারিণী, নিশুম্ভ-শুম্ভ বিনাশিনী সেই সিদ্ধিদাত্রী জগদীশ্বরী দেবী কে বন্দনা করি | এই দেবীই কখনো দুর্গা দুর্গতিনাশিনী কখনো সচ্চিদানন্দরূপিণী মহামায়া কখনো ভূতাপহারিণী চামুন্ডা, কখনো আবার সর্বসংহারিণী কালিকা |হে মঙ্গলময়ী দেবি! তুমি আমাদের সকলপ্রকার কল্যান সাধন কর! আমাদের আনন্দ প্রদান কর! আমাদের শত্রু বিনাশ কর! হে সর্বব্যাপিনি দেবি তোমাকে নমস্কার! হে ব্রহ্মবরদায়িনি দেবি তোমাকে প্রণাম জানাই ! তুমি আমাদের সকল দুঃখ হরণ কর ! জগতের সকল পাপ নাশ করো মা! হে গিরিরাজ নন্দিনী ! তোমার জয় হোক ! হে অপরাজিতা দেবেশি ! তোমার জয় হোক ! হে মহারুদ্ররূপিণি দেবি ! তোমার জয় হোক! আলোর বেণু বাজিয়ে আমরা মাকে বরণ করছি, মা! আমাদের জীবন আলোয় পূর্ণ করো ..



বাজলো তোমার আলোর বেণু, মাতলো রে ভুবন, বাজলো তোমার আলোর বেণু,
আজ প্রভাতে সে সুর শুনে খুলে দিনু মন বাজলো বাজলো...বাজলো তোমার ...
অন্তরে যার লুকিয়ে রাজে ,অরুণ বীণায় সে সুর বাজে,
সেই আনন্দযজ্ঞে সবার মধুর আমন্ত্রণ | মাতলো রে ........
আজ সমীরণ আলোয় পাগল, নবীন সুরের লীলায় ,
আজ শরতে আকাশবীণায়, গানের মালা বিলোয়
তোমায় হারা জীবন মম , তোমারই আলোয় নিরূপম
ভোরের পাখী উঠে গাহি তোমারই বন্দনায় |

প্রতিবছরের মতো আমরা এবারেও মহাশক্তির আরাধনায় ব্রতী হয়েছি। আবার শুনতে পেয়েছি শারদোত্সবের শঙ্খনিনাদ , স্থলে জলে অন্তরীক্ষ্যে ঢাকের বাদ্যির অনুরণন | মহাযজ্ঞের আমন্ত্রণের আনন্দধারায় অবগাহন করছি সম্মিলিতভাবে | শিউলীস্নাতা শরতরাণী সেজে উঠেছে চিত্রনেত্রা অদ্রিজার আগমনী বার্তায় :



ওগো আমার আগমনীর আলো , জ্বালো প্রদীপ জ্বালো জ্বালো
ওগো আমার আগমনীর আলো।
এই শরতের ঝঞ্ঝাবাতে , নিশার শেষে রুদ্রবাতে এ.. (২)
নিভলো আমার আ..পথের বাতি , নিভলো প্রাণের আলো ও.. |
ওগো আমার ও..পথদেখানো আলোও জীবন জ্যোতিরূপের সুধা ঢালো ও..
দিক হারানো শঙ্কাপথে আসবে এ..অরুণরথে আসবে কখন আসবে
টুটবে পথেরও নিবিড়ও আঁধারো সকলো বিষাদ-কালো
বাজাও আলোর কন্ঠবীণা ,ওগো পরম ভালো করো মা ভালো |

মর্ত্যলোকে দেবীর আগমনবার্তায় যেমন শঙ্খে শঙ্খে মঙ্গলধ্বনি ঘোষিত হচ্ছে ,ঠিক তেমনই গিরিরাজের রাজমহলেও প্রাণের ঊমার আগমনে সাজোসাজো রব পড়ে গেছে

এলি কিগো ঊমা হর-মনোরমা,কৈলাসচন্দ্রমা হলি কি উদয়।
মা বলে একবার, আয় কোলে আমার
না হেরে সংসার হেরি শূন্যময়।
একবার আয় আয় দেখি, ঊমা চন্দ্র-মুখি!
তুই যে আমার সর্ব সুখের নিলয়।

মেনকার মনের দুঃখ তার একমাত্র জামাই শ্মশানচারী মহাদেবকে নিয়ে। পাগল জামাই ঊমাকে কত কষ্টেই না রেখেছে ! মায়ের প্রাণে সহস্র প্রশ্ন জাগে :

কেমন করে হরের ঘরে ছিলি ঊমা বল মা তাই
কত লোকে কত কি বলে শুনে প্রাণে মরে যাই |
মার প্রাণে কি ধৈর্য্য ধরে, জামাই নাকি ভিক্ষা করে
এবার নিতে এলে পরে (বলব) ঊমা আমার ঘরে নাই |

গিরিরাজপুরী আনন্দে মেতে উঠেছে। সেখানে বইছে আনন্দধারা । মেনকার অন্তরে আজ সপ্তসুরের নবজাগরণ। সপ্তসিন্ধুর স্বতঃউত্সারিত কল্লোল রোলে আপ্লুত অদ্রিজা-জননী | মেয়ে আসছে বছর পরে, মায়ের দুঃখে সুখের প্রলেপ পড়ে :



আনন্দে মাতে গিরিরাজ পুরী(২) বরষপরে ঊমা এল ফিরি
আনন্দে মাতে গিরিরাজ পুরী(২)
সঙ্গে এল লক্ষী-সরস্বতী , কার্ত্তিক এল আর গণপতি
সবে গিরিরাণী পদে করে নতি , উলুধ্বনি দিল পুরনারী |
হরষে আদরে নিয়ে বুকে রাণী বলেন মা ছিলি তো সুখে?
মোরা ভেবে মরি সারা মনোদুঃখে, পাঠায়ে তোমারে হরের বাড়ি ,
আনন্দে মাতে গিরিরাজ পুরী(২)
লোকে কয় মহামায়া কন্যা ভগ্নি কভুজায়া ,তাই তুমি মায়ায় ভোলাইয়ে আজ তুমি মহামায়া ,
মা হয়ে মায়ের বোঝোনা মন জগজ্জননী না জানি কেমন,
বুঝি শিবের হাতে তুমি হলে এমন সে চির বৈরাগী শ্মশানচারী !

মায়ের মনের জ্বালা মেটাতে ঊমা হেসে বলছেন:

জয়া হেসে কয় কি কথা মা, পাষাণের মেয়ে পাষাণী ঊমা
তুমি মিছে ভোলানাথে দূষনা মা, যার যেমন ভাগ্য তার তেমন স্বামী !
গণপতি কয় দুলায়ে মাথা অসময়ে কেন বাজে কথা ?
মোদের ক্ষিদে পেল কেন বোঝো না তা ?
আনো মন্ডা-মিঠাই সন্দেশের ঝুড়ি |

মায়ের আগমনের এই প্রতিধ্বনি শুনি নজরুলের কবিতায় :
....
এসেছে রে সাথে উত্পলাক্ষি চপলা কুমারী কমলা ঐ
সরোসিজনিভ শুভ্র বালিকা এলো বীণাপাণি অমলা ঐ
এসেছে গণেশ এসেছে মহেশ ,বাস্ রে বাস্ জোর উচ্ছ্বাস |
এলো সুন্দর সুর সেনাপতি , মুখ এযে চেনা চেনা অতি
বাস্ রে বাস্ জোর উচ্ছ্বাস , বাস্ রে বাস্ জোর উচ্ছ্বাস |




অয়ি গিরিনন্দিনি নন্দিতমেদিনি বিশ্ববিনোদিনি নন্দনুতে
গিরিবরবিন্ধ্যশিরোহধিনিবাসিনি বিষ্ণুবিলাসিনি জিষ্ণুনুতে ||
ভগবতি হে শিতিকন্ঠকুটুম্বিনি ভূরিকুটুম্বিনি ভূরিকৃতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে || (2)
সুরবরবর্ষিণি দুর্ধরধর্ষিণি দুর্মুখমর্ষিণি হর্ষরতে
ত্রিভুবনপোষিণি শংকরতোষিণি কিল্বিষমোষিণি ঘোষরতে
দনুজনরোষিণি দিতিসুতরোষিণি দুর্মদশোষিণি সিন্ধুসুতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে || (1)
জয় জয় জপ্যজয়ে জয়শব্দ পরম্ভতি-তত্পর-বিশ্বনুতে
ঝণ-ঝণ-ঝিংঝিমি-ঝিংকৃতনূপুর-সিঞ্জিতমোহিত-ভূতপতে।
নটিত-নটার্ধ-নটী-নট-নায়ক-নাটিত-নাট্য-সুগানরতে।
শ্রিতরজনী-রজনী-রজনী-রজনী-রজনীকর-বক্ত্রবৃতে।
সুনয়নবিভ্রমর-ভ্রমর-ভ্রমর-ভ্রমর-ভ্রমরাধিপতে।
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে ||
জয়ন্তী মঙ্গলা কালী ভদ্রকালী কপালিনী | দুর্গা শিবা ক্ষমাধাত্রী স্বাহা স্বধা নমোহস্তু তে ||
মধুকৈটভবিধ্বংসি বিধাতৃ-বরদে নমঃ
রূপং দেহি জয়ং দেহি যশো দেহি দ্বিষো জহি ||
মহিষাসুরনির্নাশি ভক্তানাংসুখদে নমঃ
রূপং দেহি জয়ং দেহি যশো দেহি দ্বিষো জহি ||
ধূম্রনেত্রবধেদেবি ধর্মকামার্থদায়িনি
রূপং দেহি জয়ং দেহি যশো দেহি দ্বিষো জহি ||
রক্তবীজবধেদেবি চণ্ডমুণ্ডবিনাশিনি
রূপং দেহি জয়ং দেহি যশো দেহি দ্বিষো জহি ||

1 টি মন্তব্য:

Amal Kr. Bandyopadhyay বলেছেন...

সোনার তরীতে জে বান্গ্লা বনদ শুরু হোঅচে তার সাফল্য কামনা করি পরের বছোরের অপেখাতে থাক্বো অমল ব্যনার্জি